বাংলাদেশের সীমান্তে গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরসমূহ



বিসিএসের বিগত বছরের প্রশ্নগুলো যারা বিশ্লেষণ করেছেন তাদের কাছে তামাবিল, আখাউড়া, হিলি এসব খুবই পরিচিত নাম। প্রতি বছরই এসব সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থান নিয়ে প্রশ্ন এসেই থাকে।

তাই আপনার বিসিএস প্রস্তুতিকে সহজ করতে আমাদের আজকের আয়োজন বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তে তাদের ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় নিয়ে।

ভোমরা:

ভোমরা সীমান্তটি বাংলাদেশের সাতক্ষীরার সদর উপজেলায়  অবস্থিত। অপরদিকে ভারতে এই সীমান্তটি অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণায় অবস্থিত।

বেনাপোল:

বাংলাদেশ থেকে যারা বাসে কলকাতা যান তাদের কাছে বেনাপোল একটি পরিচিত নাম। গুরুত্বপূর্ণ এই স্থল বন্দরটি বাংলাদেশের মধ্যে যশোরে অবস্থিত। এবং এর উল্টো পাশেই আছে ভারতে চব্বিশ পরগণা জেলা বাংলাদেশে এটি বেনাপোল নামে পরিচিত হলেও ভারতে এর নাম পেট্রাপোল।

দর্শনা:

দর্শনা সীমান্তটি বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায় অবস্থিত। অপরদিকে ভারতে এই সীমান্তটি পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরে অবস্থিত।

সোনামসজিদ:

সোনামসজিদ সীমান্তটি বাংলাদেশের শিবগঞ্জ, চাপাইনবাবগঞ্জে অবস্থিত। অপরদিকে ভারতে এই সীমান্তটি পশ্চিমবঙ্গের মালদাহ’য় অবস্থিত।

হিলি:

আমাদের অতি পরিচিত দিনাজপুর কিন্তু বাংলাদেশ এবং ভারত দুদেশেই আছে বাংলাদেশের দিনাজপুরে থাকা স্থল বন্দরটিই হচ্ছে হিলি আর হিলির ওপারেই ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর ভারতেও এই বন্দরটিকে সবাই হিলি নামেই চিনে।

বিরল:

বিরল সীমান্তটি বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার বিরলে অবস্থিত অবস্থিত। অপরদিকে ভারতে এই সীমান্তটি পশ্চিমবঙ্গের রাধিকাপুরে অবস্থিত।

বাংলাবান্ধা:

বাংলাদেশের সর্ব উত্তর প্রান্তে রয়েছে বাংলাবান্ধা। এই সীমান্ত অঞ্চলটি বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার শেষপ্রান্তে অবস্থিত। আর বাংলাবান্ধার ঠিক অপর প্রান্তেই ভারতের জলপাইগুড়ি যারা দার্জিলিং যান তাদের কাছে এই সীমান্তটি বেশ পরিচিত ভারতে এই বন্দরটিকে ফু্লবাড়ি নামে ডাকা হয়।

চিলাহাটি:

চিলাহাটি সীমান্তটি বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার ডুমুরে  অবস্থিত। অপরদিকে ভারতে এই সীমান্তটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুচবিহারের হলদিবাড়িতে অবস্থিত।

বুড়িমারী:

বুড়িমারী সীমান্তটি বাংলাদেশের পাটগ্রাম, লালমনিরহাটে অবস্থিত। অপরদিকে ভারতে এই সীমান্তটি চেংড়াবান্ধা, মিখাইলগঞ্জ, পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত।

সোনাহাট:

সোনাহাট সীমান্তটি বাংলাদেশের কুড়িগ্রামের ভুড়ুঙ্গামারিতে অবস্থিত। অপরদিকে ভারতে এই সীমান্তটি আসামের ধুবরি জেলার সোনাহাটে অবস্থিত।

নাকুগাঁও:

নাকুগাঁও সীমান্তটি শেরপুর জেলার নাইলতাবাড়িতে বাংলাদেশের অবস্থিত। অপরদিকে ভারতে এই সীমান্তটি মেঘালয় রাজ্যের বরাঙ্গপাড়ার দালুতে অবস্থিত।

তামাবিল:

তামাবিল বর্ডার দিয়ে ভারতের শিলং, গোয়াহাটি এই অঞ্চল গুলোতে যাওয়া হয়। তামাবিল বর্ডারটি, বাংলাদেশের সিলেট জেলার জাফলং এর পাশে অবস্থিত। আর এর অপরপ্রান্তে ভারতে শিলং তামাবিল বন্দরটি ভারতে দাউকি নামে পরিচিত।

বিলোনিয়া:

বাংলাদেশের ফেনী জেলার, পরশুরাম উপজেলার সীমান্তে, অবস্থিত, এই স্থলবন্দরটি। এই বন্দরের অপরপ্রান্ত ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিলোনিয়ার সাথে মিশে আছে। ভারতের বিলোনিয়ার নামানুসারেই কিন্তু এই স্থলবন্দরটির নাম বিলোনিয়া।

আখাউড়া:

বীরশ্রেষ্ঠ  সিপাহী মোস্তফা কামাল শহীদ হয়েছিলেন এই আখাউড়ায় এই সীমান্ত অঞ্চলটি বাংলাদেশের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত আর সীমান্তের ওপারে আছে ভারতে আগরতলা। এই বন্দরটি ভারতে রামনগর নামেও পরিচিত। 

টেকনাফ:

এই সীমান্ত অঞ্চলটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী। এই স্থানটি বাংলাদেশের মধ্যে কক্সবাজার জেলার সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত। আর টেকনাফের বিপরীতেই আছে মিয়ানমারের মংডু জেলা।

বিবিরবাজার:

বিবিবাজার সীমান্তটি বাংলাদেশের কুমিল্লা সদর উপজেলায় অবস্থিত। অপরদিকে ভারতে এই সীমান্তটি ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় অবস্থিত।

গোবরাকুলা এবং কড়ইতলি:

এই সীমান্ত দুইটি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের হালুয়াঘাটে অবস্থিত। অপরদিকে ভারতে এই সীমান্ত দুইটি মেঘালয় রাজ্যের তুরায়  অবস্থিত।

রামগড়:

রামগড়  সীমান্তটি বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত। অপরদিকে ভারতে এই  সীমান্তটি ত্রিপুরা জেলার সাবরুমে অবস্থিত।

তেগামুখ:

তেগামুখ সীমান্তটি বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বরকালে  অবস্থিত। অপরদিকে ভারতে এই সীমান্তটি মিজোরামের দেমাগাড়িতে অবস্থিত।

দৌলতগঞ্জ:

দৌলতগঞ্জ সীমান্তটি বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগরে অবস্থিত। অপরদিকে ভারতে এই  সীমান্তটি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ার মাইজদি গ্রামে অবস্থিত।