প্রথমবার বিসিএস: প্রস্তুতি শুরুর ডুস অ্যান্ড ডোন্টস



বিসিএস নিয়ে মিথ প্রচলিত আছে যে, প্রথমবারে বিসিএস হয় না!! হ্যাঁ, বিসিএসের বিশাল সিলেবাস এবং উপযুক্ত দিক নির্দেশনার অভাবে অনেকেই প্রথমবারে স্বপ্নের বিসিএস অর্জনে ব্যর্থ হয়।

তবে এটা সত্যি যে আপনি যদি প্রথমবারে বিসিএস হয় না, এই ভেবে চুপ করে বসে থাকেন তবে আপনার কোনোবারেই বিসিএস হবে না। প্রথমবারের বিসিএসে প্রস্তুতি নেয়া ধাপগুলোই আপনাকে সাহায্য করবে পরবর্তীতে বিসিএসের সাফল্যের সিড়িতে চড়তে।

কিন্তু এটা মিথ নয় বাস্তব যে, আপনি যদি একটু নিয়মানুবর্তী হন আর আপনার বেসিক জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিয়মমাফিক পড়াশোনা করেন তবে আপনিও হতে পারেন প্রথমাবারেই বিসিএস ক্যাডার!!

যখন ঠিক করে ফেলেছেন বিসিএস-ই লক্ষ্য!!

আপনি যখন নিজেকে জানিয়ে দিয়েছেন, বিসিএস-ই আপনার লক্ষ্য তখন কোন প্রকার বাক্য বিনিময় ছাড়াই নিচের পাঁচটি বিষয় ঠিকঠাক করে ফেলুন।  

১. বিসিএসের ফরমটা পূরণ করতে হবে নিখুঁত ভাবে। ফরম পূরণে কোন ভুল ধরা পড়ে গেলে আপনার মনে যে খুঁতখুঁতে ভাব জন্মাবে তা থেকে আপনার সম্পূর্ণ বিসিএস প্রস্তুতিতেই ভাটা পড়তে পারে।

২. বিসিএসের ক্যাডার চয়েস করবেন নিজের ইচ্ছানুযায়ী, নিজের মনের মত। পরিবার বা কারো চাপে পড়ে ক্যাডার চয়েস করলে আপনার বিসিএস বা বিসিএসের পড়াশোনা দুইয়ের প্রতিই অনীহা জন্মাবে।

৩. বিসিএস দেয়ার মানসিকতা ঠিক করে ফেলবার পরেই আপনাকে ঠিক করে ফেলতে হবে প্রয়োজনীয় বইয়ের তালিকা। বিসিএসের জন্য আপনাকে সংগ্রহ করে ফেলতে হবে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো থেকে শুরু করে ৮ম, ৯ম, ১০ম শ্রেণীর স্কুলের বোর্ড বইসমূহ।

৪. পত্রিকা হবে আপনার নিত্যসঙ্গী। প্রতিদিন ১-২ ঘন্টা সময় নিয়ে সমগ্র পত্রিকাটা পড়ে ফেলতে হবে। তবে বিনোদন আর খেলাধুলা নয়, আপনাকে জোর দিতে হবে সাম্প্রতিক সব খবরের উপর। প্রতিদিনের পত্রিকা পড়ার অভ্যাস একবার হয়ে গেলে আপনাকে আর কষ্ট করে গাদাগাদা কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স মুখস্থ করতে হবে না।

৫. ইদানীং অনলাইনে বিসিএসের পড়াশোনার বেশ ভালো রিসোর্স পাওয়া যায়। সেখানে রিডিং ম্যাটেরিয়াল থেকে শুরু করে পাবেন নিয়মিত মডেল টেস্ট, যা দিয়ে ঝালাই করে নিতে পারবেন নিজেকে। আমাদের ওয়েবসাইটের BCS STUDY আয়োজনটি বিশেষভাবে সাহায্য করবে ।

বিসিএসে মেধাবীরা নয়, পরিশ্রমীরা টিকে!!

প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ হলে এবার নেমে পড়ুন যুদ্ধক্ষেত্রে। একদম ভাব ভাবনা বাদ দিয়ে সোজাসাপ্টা কাজে নেমে পড়ুন…

১. বাংলা সাহিত্য, ইংরেজি সাহিত্য থেকে শুরু করে নৈতিকতা পর্যন্ত বিসিএসের সিলেবাসে রয়েছে ১১টি ভাগ। আপনাকে শুরুতেই নিজেকে যাচাই করে নিতে হবে যে, কোন কোন বিষয়ে আপনি পারদর্শী আর কোন কোন বিষয়ে দুর্বল। যেসব বিষয়ে আপনি মোটামুটি পারেন সেগুলার জন্য নিতে হবে এক রকম প্রস্তুতি আর যেসব বিষয়ে আপনি দুর্বল সেগুলোর জন্য দিতে হবে বাড়তি সময়।

২. একবার ঘুম ভেঙ্গে যাবার সাথে সাথে একটি স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়। পরবর্তীতে আপনি যতই ঘুমান সেই একই স্বপ্ন আর আসবে না। তেমনি বিসিএসের প্রস্তুতিতে যদি আপনি নিয়মিত থেকে একবার অনিয়মিত হয়ে যান তাহলে আপনার প্রস্তুতিতে অপূরণীয় ছন্দপতন ঘটবে।

তাই যে কোনো অবস্থাতেই যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন আপনাকে প্রতিদিন নিয়ম করে ৩-৪ ঘন্টা পড়াশোনা করতে হবে।

৩. আপনার একবার বিসিএস প্রিলিমিনারি হয়ে গেলে আপনি রিটেন বা লিখিত পরীক্ষার জন্য সময় পাবেন খুবই কম। তাই আপনাকে শুরু থেকেই প্রিলির জন্য নয়, রিটেনের জন্যও প্রস্তুত করতে হবে নিজেকে।

এর জন্য আপনাকে খুব বেশি কিছু করতে হবে না, শুধুমাত্র টিক চিহ্ন দেখে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন মুখস্থ করার অভ্যাসটা বাদ দিতে হবে। যে বিষয় নিয়ে পড়বেন সেই টপিকস আর তার রেফারেন্সের উপর সম্যক জ্ঞান রাখলে দেখবেন বিসিএসটা খুব বেশি সহজ হয়ে যাচ্ছে আপনার কাছে।

আপনার বেশি বেশি বই পড়ার অভ্যাস থাকলে সেটা আপনার জন্য বাংলা সাহিত্যে ও ইংরেজি সাহিত্যে প্লাস পয়েন্ট। এক্ষেত্রে আপনাকে খুব বেশি জোর দিতে হবে না সাহিত্যের উপর।

৪. অতিরিক্ত সিনেমা দেখার অভ্যাস এবং টিভি সিরিজ দেখার অভ্যাসটা সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে। কারণ, একটি সিনেমার রেশ আপনার মগজে থেকে যায় অনেকক্ষণ যা স্লো পয়জনের কাজ করবে আপনার বিসিএস প্রস্তুতিতে!!

৫. সবশেষে, বিসিএস ফরম পূরণ থেকে শুরু করে ভাইভা পর্যন্ত দুই বছর আপনাকে বাদ দিতে হবে নিজের একান্ত ব্যক্তিগত অনেক বিলাসিতাগুলো। হতে হবে আরেকটু বেশি পরিশ্রমী কারণ বিসিএসে মেধাবীরা নয়, পরিশ্রমীরা টিকে!!

নিজস্ব প্রতিনিধি