ফারহানের কাজের জগৎ ও অর্জন



সমসাময়িক সময়ে ই-কমার্স, আইসিটি এক্সপো, বাংলালিংক ইত্যাদি বিভিন্ন প্রমোশনাল কাজের চাপে আমরা শর্টফিল্ম থেকে দূরে সরে এসেছি মনে হচ্ছে। তাই এবার বেশ কিছু স্ক্রিপটিং করেছি। বেশ কিছু শর্টফিল্ম নিয়ে আসছি সামনে।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই অগাস্টে আসছে শর্টফিল্ম গুলজার অ্যাকশন থ্রিলার নির্ভর শর্টফিল্ম এই শর্টফিল্ম করতে গিয়ে অনেক বেশি ঝামেলায় পড়তে হয়েছে শ্যুট এর প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি

নায়িকার লিভারে ইনফেকশন হয় শ্যুট এর মাঝে প্রায় ২৩-২৪ দিনের মত শুটিং বন্ধ থাকে শেষের দিকে টানা ৩ দিন বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করা হয় এতে নায়ক সোহান ভাই খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে হাসপাতালেও নেয়া হয়

আমার জীবনের সবচাইতে কঠিন আর কষ্টের কাজ এটি কোন টিম নিয়ে কাজ করিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ছিল স্বয়ং নায়িকা নিকি ফাহমিয়া আর চিত্রনাট্য, পরিচালনা, সিনেমাটোগ্রাফি, এডিটিং সব আমিই দেখছি

তাছাড়া হার নেম ওয়াজ মানিতা’, ‘ফেরাশর্টফিল্মগুলোর কিছু কাজ বাকি রয়েছে। অতি শীঘ্রই আমরা এগুলো রিলিজ দেয়ার চেষ্টা করবো আগের কিছু প্রোডাকশনের পোস্ট প্রোডাকশন নিয়ে এখন কিছুটা ব্যস্ত। আর নাফিস সালিম ভাই এর ন্যাফ ব্রোচ্যানেলের জন্য আজ গরিব বলে’-শিরোনামের একটা মজার ভিডিও বানিয়েছি।

আরেকটি সফল শর্টফিল্ম পায়রা যার ডিরেক্টর জাহিদ প্রীতম, সে আমার ভার্সিটি বন্ধুআমার প্রোডাকশনের প্রায় সব কাজেই প্রীতম আমাকে সাহায্য করেছে। আমিও ওর কাজে সাহায্য করি। আসলে আমাদের মধ্যে বোঝাপড়াটা খুব ভালোকাজটা করে আনন্দ পেয়েছি।

আপনাদের সবচেয়ে জনপ্রিয়জান ও বেবির প্যারোডি ভিডিওটি নিয়ে কিছু জানতে চাইলে ফারহান জানালেন,আসলে কোন প্ল্যানই ছিল না। একদিন সৌরভ ভাই আমাকে বললেন, ‘ফারহান গানটা তো ব্যাপক আলোচিত হয়েছে, চল একে নিয়ে কিছু করি’

এটাকে প্যারোডি বলব না আমি, আমরা জাস্ট মজার জন্যেই বানাতে চেয়েছিলাম। সোহান বাবু ভাই ও সৌরভ ভাই যে পার্ফরমেন্স দিয়েছিল তারপর আর কিছুই বলার থাকে না। এতো রেসপন্স পাবো ভাবতেই পারিনি।

ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ-২০১৪শিরোনামের একটা প্রমোশনালে আপনি প্রতিবন্ধীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন যা খুবই মর্মস্পর্শী ছিল প্রমোশনালটা নিয়ে জানতে চাইলে ফারহান জানালেন, “আমি সব সময় প্রতিবন্ধীদের নিয়ে ভাবতাম। চেষ্টা ছিল নিজের অভিনয় দিয়ে তাদের কষ্টকে কিছুটা ছুঁয়ে দেখার। তাই ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই এই প্রমোশনাল নির্মাণের প্ল্যান করি।”

“প্রথমেই ভার্সিটি ফ্রেন্ড প্রীতমের সাথে বসি। এরপর আরো কিছু বন্ধুদের সাথে আলোচনা করি। সবাই বেশ পছন্দ করলোএতে আমি ছাড়াও প্রীতম, জনি, সারা, ফয়সাল, সঞ্জয় ও আনোয়ার ভাই অভিনয় করেছিল। আর সিনেমাটোগ্রাফিতে বন্ধু অর্নব ছিল আর সম্পাদনায় ছিল অর্পন ভাই।”

প্রথম অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত কাজ:

প্রজন্ম দুর্বার এই প্রজেক্টের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রোডাকশনে একজন ছায়াও পাই, যে কিনা সবসময় পজিটিভ কথা বলে আমাদের সাহস দিতোসবসময় উনি বলতেন, তোরা কাজ কর, ভাইয়া তো আছিইতিনি সৌরভ ভাই, এই একজন মানুষের এইটুকু কথাতে যে কত শক্তি তা বলে বোঝাতে পারবো না।

এই প্রথম আমরা খুব ডিসিপ্লিন আর মনোযোগ দিয়ে কাজ করলাম। যেহেতু কনসেপ্টটা দেশপ্রেম, তাই সবার উৎসাহ আর উদ্দীপনা যেন দ্বিগুণ হয়ে গেলোসবাই খুব পজিটিভলি কাজটা করেছিলপোস্ট প্রোডাকশনে বিশেষ অবদানের জন্য সাইফ রাসেল, সায়ান তারেক আর অন্তর দার প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ।

যাই হোক, যদিও একে নিয়ে আমার কোন ফেস্টিভালে যাওয়ার প্ল্যান ছিল না কিন্তু সুজিত ভাইয়ের কথায় আমি চট্টগ্রামের একটি ফেস্টিভালে দেই পরে আমাকে অবাক করে দিয়ে শত শত ভাল ফিল্মের মাঝে পিপলস চয়েজে বেস্ট শর্ট ফিল্মের অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয় প্রজন্ম দুর্বার

এটা আমাদের প্রথম কোন অ্যাওয়ার্ড যা আমাদের টিমের সবার আজীবন মনে থাকবে। আমার হয়ে অ্যাওয়ার্ডটি এনেছিল আমার বন্ধু পিয়াস।

ফরহানের টিম সম্পর্কে জানতে চাইলে ফারহান জানালেন,আমার টিমে সৌরভ ভাই, ফারাবী ভাইয়ের মত উদার কিছু বড় ভাই পেয়েছি, যারা সত্যিই এই টিমটার ছায়ার মত। তাদের নিয়ে যাই বলি কম বলা হবে। এছাড়াও ফয়সাল ভাই, বান্নাহ ভাই,  রাহা ভাই, নিয়াজ ভাই, আসিফ ভাই, ফয়সাল, রিজভি, জনি, প্রীতম, রাহি, ফটিক আমরা প্রত্যেকেই একটা প্যাশনের জায়গা থেকে ফিল্মটা বানাতে চাই।

আমার বিশ্বাস এই প্রোডাকশনটা একদিন এমন ফিল্ম বানাবে যা আমাদের স্বপ্নকে ও আমাদের প্রত্যাশাকে পূরণের পাশাপাশি এদেশের দর্শকদেরও প্রত্যাশা পূরণ করবে।

AUST’র ফারহান: একটি ফিল্মি জীবনের গল্প!!

স্পাইডারম্যান- 'ম ব্যাক’ বানাতেই ফিল্মে আসা!!



প্রথম ফিল্মি অভিযানটা কেমন ছিল?



ব্যর্থ অভিযানের পরের অনুপ্রেরণাসিনেমা পিপলস’!



‘FAR. U Motions Pictures’র যাত্রা শুরু



প্যারা বাবাফরহান!!



ফারহানের কাজের জগৎ ও অর্জন



তরুণ নির্মাতারা অস্কার আনবে!!



ক্যাম্পাস প্রতিনিধি


More news