জাবির বাপ্পি: জীবনের সাথে সংগীতের প্রণয়



জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজবিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র বাপ্পি সুরের মূর্ছনায় জায়গা করে নিয়েছেন সবার হৃদয়ে পুরো নাম নবিউল ইসলাম বাপ্পি বাপ্পি নামেই পরিচিত সবার কাছে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে বাপ্পি আর্থিক অস্বচ্ছলতার সাথে সংগ্রাম করে আজ এখানে

ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি তার তীব্র ভালবাসা বড় ভাইয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়ন করা অবস্থায় গান শেখার জন্য সংগীত বিদ্যালয়ে ভর্তি হন স্কুল-কলেজে থাকাকালীন নানা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতেন বেশিরভাগ সময়ই প্রথম স্থান অধিকার করতেন বাপ্পি এত সবকিছুর মাঝেও মেধা অধ্যবসায় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন তিনি

বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার আগে হারমোনিয়াম বাজিয়ে, গান গেয়ে মাতিয়ে রাখতেন সবাইকে কিন্তু গিটারের প্রতি ছিল তার অকৃত্রিম ভালবাসা এই ভালোবাসার টানেই হারমোনিয়ামের পাশাপাশি গিটার বাজানোর চেষ্টাও চালিয়ে যান তিনি

পরিবারের কারো সংগীতের প্রতি তেমন কোন অনুরাগ ছিল না বড় ভাই বেশি দূর পড়াশুনা করতে পারেননি তাই নিজের উচ্চ শিক্ষার পুরো আকাঙ্ক্ষাটি ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে অর্জন করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি বড় ভাইয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পাশাপাশি একজন বড় শিল্পী হওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে বাপ্পির পথ চলা

বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনে দিনে বড় আয়োজন গুলোতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার পরিচিতি বাড়তে থাকে এছাড়া বিভিন্ন জেলায় অতিথি শিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন করে জনপ্রিয়তাও লাভ করতে থাকেন

গানকে বুকে লালন করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি যে অবস্থান থেকে এসেছি, সেই অবস্থানে গানকে ধারণ করা কষ্টসাধ্য কিন্তু বিধাতা আমায় তিনজন আদর্শবান ভাই দিয়েছেন তাদের অনুপ্রেরণা এবং সহযোগিতায় আমি পড়াশুনার পাশাপাশি সুর সাধনা করার সুযোগ পেয়েছি তারা সব সময় আমার কাছ থেকে ভাল রেজাল্ট আশা করতেন তাদের চাওয়া পুরণ করে পেয়েছি গান করার জন্য হারমোনিয়াম, গিটার এবং সব ধরনের মানসিক সহযোগিতা


ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার পাশাপাশি সাংবাদিকতা এবং সংগীত চর্চায় নিয়োজিত রয়েছেন তিনি পুরো ক্যাম্পাসে বাপ্পি তার সুর সাধনা দিয়ে সংগীত প্রিয় শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি শক্ত অবস্থান করে নিয়েছেন আধুনিক এবং ফোক গানের জন্য তার জনপ্রিয়তা বেশি

তার বিশ্বাস, “পুরাতন গানগুলো এখনও সব ধরনের শ্রোতাদের মন জয় করার মত কিন্তু নতুন জেনারেশনের কাছে গানগুলোর মিউজিক কম্পোজিশন পরিবর্তন করে তাদের মতো উপস্থাপন করলে গানগুলো সব জেনারেশনের কাছেই টিকে থাকবে আমি মনে করি পুরাতন গানগুলোর মৌলিক বিষয় ঠিক রেখে নতুনত্ব প্রদান নতুন কিছুর আবির্ভাব ঘটাবে৷



গান নিয়ে ভবিষ্যৎ চিন্তা ধারা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আধুনিকতার সাথে মিল রেখে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ফোক গানগুলোকে নতুনত্ব প্রদান করে শ্রোতাদের কাছে চিরঅম্লান করে রাখার ইচ্ছা আমার সংগীতকে আরও ভালভাবে বুঝে এগিয়ে যাবে আমার পথচলা

এভাবেই পড়াশুনা, সাংবাদিকতা এবং সংগীতকে ধারণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি


More news