বায়োকেমিস্ট থেকে উদ্যোক্তা হয়ে উঠা!!



স্কুল লাইফ থেকেই ভীষণ অ্যাকটিভ ছন্দা। ভিকারুন্নেসা স্কুল এবং কলেজের ছাত্রী ছন্দা মানেই ছিলো স্পোর্টস কম্পিটিশনে একগাদা প্রাইজ। প্যারেড, লং জাম্প, রেস সবকিছুতেই তার ছিলো দারুণ দক্ষতা। আর পারতেন দারুণ আঁকতেঅথচ ড্রয়িং এর জন্য কোনদিন স্পেশাল কোন কোচিং করেননি ছন্দা।

যাত্রাবাড়ী থেকে ডেইলি বেইলি রোডে আসা যাওয়াতে এত সময় যেত যে, ড্রয়িং কম্পিটিশনে অ্যাটেন্ড করা তার জন্য কষ্টসাধ্যই ছিলো। বাবা চাকরি করতেন ফার্মাসিউটিক্যালসেসেই দেখেই কি না, মেয়েও HSC পাশ করার পর ভর্তি হলেন ঢাবিতে। মজার বিষয়, বায়োকেমেস্ট্রির কোন কোর্সের কোন লেকচার খাতাই ছন্দার অত্যাচার থেকে রেহাই পেত না। পুরো খাতা জুড়েই থাকত আঁকাআঁকি। ঢাবি থেকে পাশ করার শেষে ইন্টার্নশিপ করেন একটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতে। সেখানে এক বছর চাকরি।

ব্যক্তিগত জীবনে ছন্দা ভীষণ স্বাধীনচেতা মানুষ। পাখির মত ঘুরে বেড়ানোর এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা খুঁজে পান নিজের মধ্যে। তাই চাকরির বাঁধাধরা জীবন তাকে বাঁধতে পারলো না। ছেড়ে দিলেন চাকরি।

এর মধ্যেই একদিন নিজের ফোনের ব্যাক কভারে দারুণ একটা ছবি embedded করে পোস্ট দিলেন ফেসবুকে। স্মার্টফোনের ব্যাক কভারে এতো সুন্দর ছবি যে হতে পারে! সেটা যেন অনেকে ভাবতেই পারছিলো না তখন।

প্রথম ছবি পোস্টের পরপরই প্রায় ১৫-২০টা স্মার্টফোন ব্যাক কভার ডিজাইনের অর্ডার চলে এলো তার কাছে। এভাবেই ২০১৫ এর দিকে শুরু হলো “ফিনিক্সের ছবির দোকান” এর কাজ।

দোকানের নাম কেন ফিনিক্স?এমন একটা প্রশ্ন ছিলো ছন্দার কাছে। তিনি বলেন, “ফেসবুকে আমি ফিনিক্স বলেই বেশি পরিচিত ছিলাম। গ্রিক মিথোলোজির ফিনিক্স চরিত্রটি আমার ভীষণ পছন্দের। ফিনিক্স এক মৃত্যুঞ্জয়ী পাখি। জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়েও সে আবার reborn করে। আমার কাজ আর স্বপ্নগুলো যেন ফিনিক্সের মতই মৃত্যুঞ্জয়ী হবে বলে আশা করি। এক ফিনিক্সের মৃত্যু হোক, সেখান থেকেই জন্ম নেবে হাজার হাজার ফিনিক্স”।


মোবাইলের ব্যাক কভার বলতেই আমাদের চোখে ভেসে উঠে স্টিকার কিংবা বিভিন্ন কার্টুনের ছবি। সেই জায়গায় আপনার স্মার্টফোনে থাকতে পারে আপনার ছবি যা কিনা হতে পারে নদীর ধারে বসে আছেন কিংবা হেঁটে যাচ্ছেন এমন কিছুওএমন ধরনের ব্যাক কভারই অফার করছে “ফিনিক্সের ছবির দোকান”।

সবচেয়ে দারুণ বিষয় হচ্ছে, কোন রেডিমেড ডিজাইন নয়। আপনি চাইলে আপনার পছন্দের ডিজাইনেই বানিয়ে দেওয়া হবে স্মার্টফোনের ব্যাক কভার। প্রতি ডিজাইনে খরচ পড়বে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মত। মাঝে মাঝে ডিস্কাউন্টের অফারও থাকে। অর্ডার দেওয়ার ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই সার্ভিস পৌঁছে যায় কাস্টমারের হাতে। এখন অবধি ১০০ এর বেশি ডিজাইনের স্মার্টফোন ব্যাক কভার সার্ভিস দিয়েছেন ছন্দা।

হাত আর মেশিন। এই দুয়ের মিশেলে তৈরি হয় ব্যাক কভারগুলো। হ্যান্ড মেইড বেইজের পরে কভারে ছবি embedded করা হয়। ছন্দার এই স্মার্টফোনের ব্যাক কভারের অনন্যতা হচ্ছে এগুলো water and scratch resistanceকাস্টমারের হাত ঘামতে পারে, ধুম করে স্মার্টফোনটা পড়ে যেতে পারে! এই সবকিছুর জন্যই এই বিকল্প ব্যবস্থা। ছন্দা হাসতে হাসতে জানান, “বায়কেমেস্ট্রিতে পড়ার জ্ঞান এইখানে কাজে লাগাতে পেরেছি”

নিজের করা স্মার্টফোনের একটি ব্যাক কভার ভীষণ পছন্দ ছিলোক্লায়েন্টের চাওয়া অনুযায়ী সেই ব্যাক কভারের দৃশ্যে ছিলো একজন নীল শাড়ি পরা মেয়ে আর একজন হলুদ পাঞ্জাবী পরা ছেলে। তারা হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছিল রেললাইনের উপর দিয়ে। ব্যাক কভারটি বানানো শেষ হলে ছন্দার ইচ্ছা হচ্ছিল নিজের কাছেই রেখে দেবার। কিন্তু উদ্যোক্তা হতে চাইলে একটু আবেগকে সংবরণ করতে হয় বৈকি! তাই যথাসময়ে ব্যাক কভারটি পৌঁছে গেল ক্লায়েন্টের হাতে!

ছন্দা: সৃজনশীলতাই তাকে করেছে উদ্যোক্তা!!

বায়োকেমিস্ট থেকে উদ্যোক্তা হয়ে উঠা!!



Artista এবং ছন্দার ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হয়ে উঠা



উদ্যোক্তা ছন্দার আমার আমি!



নিজস্ব প্রতিবেদক, ছবিছন্দার ফেসবুক টাইমলাইন থেকে নেয়া

More news