অভিনয়টা শুরু হলো NSU ক্যাম্পাস থেকে



এইচএসসি পাশ করেই ভর্তি হয়ে গেলেন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার পড়তে। এতো ভালোবাসেন সিনেমা, এতো ভালোবাসেন বই পড়তে! কিন্তু পড়াশুনা ক্ষেত্রে কেন প্রকৌশল? ইমরানের সহজ সরল উত্তর, তিনি অভিনেতা এবং প্রকৌশলী দুটোই হতে চেয়েছিলেন।

North South University Cine and Drama Club থেকেই ইমরানের অভিনয়ের হাতেখড়ি। ২০১০ এর জানুয়ারি এর দিকে অভিনয়ের প্রশিক্ষণের জন্য ডাক দেওয়া হলো নোটিশবোর্ডে। সেটা দেখেই ওয়ার্কশপে হাজির। গিয়ে দেখেন কি! ওয়ার্কশপে অভিনয় করার বদলে সবাই হাঁটছেন। একটু দেরিতে উপস্থিত ছিলেন বলে কিছুই বুঝছিলেন না। কেন হাঁটছেন সবাই?

একজনকে জিজ্ঞেস করলেন! তিনি ইমরানকে হাঁটতেই বললেন। বিস্মিত ইমরান হাঁটা শুরু করলেন। পরে জানতে পারলেন তিনি যাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন হাঁটার কথা, তিনিই আসলে ওয়ার্কশপটা করাচ্ছেন। ঢাকা ইউনিভার্সিটির শামিম ভাই। এখনো প্রথমদিনের বেকুব বনে যাওয়ার কথা মনে পড়লে হাসি চাপাতে পারেন না ইমরান।

বাইরের মঞ্চে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকতে হয় কাস্টিং এর জন্য। সেসব এর ঝামেলা ছিলো না নর্থ সাউথের ড্রামা ক্লাবে। তাই খুব শীঘ্রই অভিনয় করার সুযোগ পান। ২০১০ সালের ওয়ার্কশপে improvisation সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জ্ঞানলাভ করেন। একজন অভিনেতাকে improvisational অভিনয় সম্পর্কে জানতেই হবে। কোন স্ক্রিপ্ট ছাড়াই ইনস্ট্যান্ট অনস্টেজে অভিনয় করে কাহিনীকে ঠিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নামই improvisational

মঞ্চ অভিনেতাদের জন্য এই হুট করে পরিস্থিতি মানিয়ে নেওয়াটা খুব জরুরী। শুধু Improvisational এর উপরেই প্রথম অভিনয় করেন “অপেক্ষা” নাটকে।

এরপর ২০১০ সালেই স্যামুয়েল বেকেটের “Waiting for Godot” এ অভিনয় করেন।  ২০১১ সালে অভিনয় করেন অস্কার ওয়াইল্ডের লেখা “The importance of being Earnest” নাটকে। মনোজ মিত্রের “কিনু কাহারের থেটার” এ অভিনয় করেন ২০১২ সালে। ২০১৪ সালে শেক্সপিয়র এর লেখা “A midsummer Night’s Dream” নাটকে অভিনয় করেন।

শুধু নর্থ সাউথের ড্রামা ক্লাব নয়, প্রাচ্য নাট্য দলের এ গ্রেডের মঞ্চ অভিনেতাও ছিলেন ইমরান। মঞ্চে অভিনয়ের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন বিভিন্ন নাটকে। এর মধ্যে মেজবাউর রহমান পরিচালিত “সুপারম্যান” নাটকটি বেশ উল্লেখযোগ্য। কাজ করেছেন পরিচালক  মাসুদ হাসান উজ্জলের সঙ্গেও।

মঞ্চের বাইরে ক্যামেরার সামনে আসা মূলত আবু সায়ীদ এর “সংযোগ” চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। ছবির কাজ প্রায় শেষ। মুক্তির অপেক্ষায় আছে ছবিটি

এর ফাঁকেই গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে যোগদান দিয়েছেন প্রীতি গ্রুপে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। প্রাণের টিভিসির জন্য এর পরেই ডাক। বন্ধু সুমনের ডাকেই সাড়া দিতে এই টিভিসিতে অভিনয়। এক ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যার পকেটে মাত্র বিশ টাকাই আছে অথচ নিজে না খেয়ে সে ক্ষুধার্থ এক বৃদ্ধকে খাওয়ান।

এই অভিনয়ের সঙ্গে অনেকে নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন বলে প্রায় এক মাসে অনলাইনে এই বিজ্ঞাপনের দর্শক দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ ৪৪ হাজার। যারাই বিজ্ঞাপনটি দেখেছেন, তারাই ইমরানের অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন মন ভরে। সাদাসিধে ছেলেটাই যে অভিনয়ের মধ্যে  থাকলে হয়ে উঠে অসাধারণ!

ইমরানসাদাসিধে ছেলেটির অভিনেতা হবার গল্প!

বই আর সিনেমায় ডুবে কেটে যায় ছেলেবেলা


অভিনয়টা শুরু হলো NSU ক্যাম্পাস থেকে


অভিনয়কে সাথে করেই বাকি জীবন


নিজস্ব প্রতিবেদক, ছবিঃ ইমরানের ফেসবুক টাইমলাইন

More news