বই আর সিনেমায় ডুবে কেটে যায় ছেলেবেলা



ছেলেবেলা কেটেছিলো বরিশালে। বরিশালের জজ কোর্টে চাকরি করতেন বাবা মা। ২ ভাই ২ বোনের মধ্যে মেজো ছিলেন ইমরান। বাবা খুব ভালো ইংলিশ বলতে পারতেন। বাবাকে দেখে খুব শখ হতো ভালো ইংলিশ বলার। সেই থেকে গড়গড় করে পড়া শুরু করলেন ইংলিশ লিটারেচার। একদম বাচ্চাকালেই সাবাড় করলেন চার্লস ডিকেন্স, অলিভার এর বইগুলো।

তবে বই পড়ার শুরুটা ক্লাস টু এর সুকুমার রায়ের রচনাসমগ্র দিয়ে। এরপরেই বাসায় খুঁজে পেলেন ইমদাদুল হক মিলনের বই। সেটাও গোগ্রাসে গেলা হলো। খোঁজ পেলেন বাসার খুব কাছের এক দোকানের। আজ আর সেই দোকানের নাম অবশ্য মনে পড়ে না। ছেলেবেলায় এতো এতো বই পড়ার শতভাগ ক্রেডিট ঐ দোকানের। মাত্র তিন থেকে চার টাকা দিয়ে ভারি ভারি বইগুলো ভাড়া নেওয়া যেত, ফিরিয়ে দেবার সময় আবার ১ টাকা ফেরতও পাওয়া যেত। এভাবেই টাকা জমিয়ে জমিয়ে স্কুল শেষে বইয়ের সঙ্গে জমতে লাগল ছেলেবেলা।

বই পড়ার পাশাপাশি শুরু হলো মুভি দেখা। সেই ছেলেবেলার বিটিভি এর “মুভি অব দি উইক” প্রোগ্রামে দেখা হয়ে গেলো মাজিদ মাজিদির মুভি “চিলড্রেন অফ হেভেন”। এভাবেই বই আর মুভি দিয়েই খুব শক্তপোক্ত সংস্কৃতিমনস্ক মন গড়ে উঠেছিলো ছেলেবেলাতেই

২০০৬ সালে নটরডেম কলেজে পড়ার সুবাদে ঢাকায় আসা হলো ইমরানের। বরিশালের অত ছোট গন্ডির মধ্যে ইমরান তার ভালোলাগা কাজগুলো বড় পরিসরে করতে পারতেন না। কিন্তু নটরডেমে এসেই শুরু হলো তার সমস্ত এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস।

নটরডেম সায়েন্স ক্লাবের গোল্ড টিমে লিডার হলেন। পাশাপাশি বনে গেলেন টপ কুইজার। বিটিভিতে কুইজ অনুষ্ঠানের রেগুলার অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি, এনটিভি, সেন্টজোসেফ কলেজ, হলিক্রস কলেজ, ঢাকা কলেজের প্রায় সব কুইজ প্রতিযোগিতায় চেনা মুখ ছিলো ইমরানগাদা গাদা বই পড়া আর মুভি দেখার সুফল পাচ্ছিলেন এই কুইজে এসেই। এর পাশাপাশি গণিত অলিম্পিয়াডে পরপর ২ বার পেয়েছিলেন বিভাগীয় এ্যাওয়ার্ড।

নটরডেমে পড়ার সময়েই প্রায় প্রতিদিনই দেখা হতো একাধিক সিনেমা। আর সেই থেকে অভিনয়ের ভুত ঢুকল মাথায়। কিন্তু অভিনয় করা? সে আরেকটু পরের গল্প!

ইমরানসাদাসিধে ছেলেটির অভিনেতা হবার গল্প!

বই আর সিনেমায় ডুবে কেটে যায় ছেলেবেলা


অভিনয়টা শুরু হলো NSU ক্যাম্পাস থেকে


অভিনয়কে সাথে করেই বাকি জীবন


নিজস্ব প্রতিবেদক, ছবিঃ ইমরানের ফেসবুক টাইমলাইন

More news