Unspecified ব্যান্ড এবং উপমার সঙ্গে তন্ময়ের যাত্রা



স্কুলের বন্ধুরা মিলে ২০১২ সালের দিকে ‘Unspecified’ নামে ব্যান্ডের দল খুলেনআসিফ, জাহাঙ্গীর, অন্বয়, মুস্তাফিজরা ছিলেন এই ব্যান্ডে। ২০১৪ সালে পিয়ানিস্ট হিসেবে ব্যান্ডে যোগদান করেন তন্ময়। ব্যান্ডের সঙ্গে তন্ময়ের প্রথম বাজানো ‘মুক্তির গান’ এ। গানটির লিরিকের মূল থিম ছিল, ‘আমরা এখনও পুরোপুরি স্বাধীনতা পাইনি’এরপর ব্যান্ডের ‘পাখির গান’এ কম্পোজার হিসেবে ছিলেন তন্ময়।

ব্যান্ডের সাথে তন্ময় বিভিন্ন কনসার্ট এবং লাইভ শো’তে পারফর্ম করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রেডিওতে শো, ঢাকা ইউনিভার্সিটির টিএসসিতে কনসার্ট, এনএসইউ সামার আনপ্লাগড শো প্রভৃতি।

শুধু ব্যান্ড বা আর্টিস্টের সাথে বাজানোতেই সীমাবদ্ধ নেই তার প্রতিভা! বিভিন্ন রবীন্দ্রসংগীত এবং ব্যান্ডসংগীত নতুন করে কাভারের মাধ্যমে মিউজিক কম্পোজার হিসেবেও বিস্তর পরিচিতি লাভ করছেন তন্ময়। তন্ময়ের কাভার করা গানের মূল দিক হচ্ছে, তার গানগুলোতে পিয়ানোর আবহ থাকবেই!

গান কাভার করার সুত্রেই উপমার সঙ্গে তন্ময়ের পরিচয়, বন্ধু মাথুরের মাধ্যমে। উপমা কিন্তু বাংলাদেশি আইডলে সেরা ২৪ জনের মধ্যে ছিলেন। তিনি একজন ভারসাটাইল সঙ্গীতশিল্পী। নজরুল সংগীত শিখলেও সংগীতের সব শাখায় তার বিচরণ। তাদের তিনজনের একসঙ্গে মিলে বিভিন্ন গান কাভার করার কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত উপমা এবং তন্ময় কন্টিনিউ করেনদুজনে মিলে কাভার করে বিখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত “যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে”।

কীবোর্ডের সুরের আবহে সফট মোডের এই রবীন্দ্রসংগীত অনলাইনে দারুণ শ্রোতাপ্রিয়তা পায়তবে রবীন্দ্রসংগীতে নতুন করে সংগীতায়োজন সবসময় চ্যালেঞ্জের! তন্ময় সেটা কি করে দেখেছিলেন?

“আমি কম্পোজ করার আগে সবসময় চিন্তা করে রাখি, কি পরিমাণ গালি খাব গানটি প্রকাশ হলে। আমি কখনোই সুর পরিবর্তন করার ধৃষ্টতা দেখাইনি। পিয়ানো কম্পোজিশন করে শুধু আলাদা একটা ফ্লেভার এনেছি। বরং রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে কাজ করার আগে ১০ জন শিল্পীর গাওয়া গান ১০০ থেকে ২০০ বার শুনেছি।”

তন্ময়ের মতে ফিউশন এইসময়ের জন্য অবশ্যই গ্রহণযোগ্য। রবীন্দ্রনাথ নিজেও অনেক স্কটিশ গান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলা গানে সুর করেছেন। তিনি এত বড় মাপের সংগীতশিল্পী হয়ে যদি সুর নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে পারেন, তাহলে তার গান নিয়েও নতুন কিছু করা সম্ভব।

রবীন্দ্রসংগীতের গান নিয়ে তার আরও অনেক কাজ করার ইচ্ছা। কতগুলো প্রার্থনা এবং প্রেম পর্যায়ের গান একত্রে করে মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির যে সম্পর্ক তা ফুটিয়ে তুলতে চান। রবীন্দ্রসংগীত ছাড়াও চিরকুটের জাদুর শহর, একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ভাষার গান, অ্যাডেলের হ্যালো গানের নতুন সংগীতায়োজন করেন তন্ময়। সঙ্গে মিষ্টি সুরের মেয়ে উপমা তো আছেনই! 

এছাড়া এমআইএসটি’র বন্ধুরা মিলে খুলেছেন ব্রাদার্স ব্যান্ড। যতদিন তারা এমআইএসটি’তে আছেন ততদিন ক্যাম্পাসের প্রতিটা অনুষ্ঠানে তারা গান গাইবেন।

 এমআইএসটি’র “দি পিয়ানিস্ট” তন্ময়

   তন্ময়ের পিয়ানোতে হাতেখড়ি


    Unspecified ব্যান্ড এবং উপমার সঙ্গে তন্ময়ের যাত্রা


      এমআইএসটির পড়াশুনারচাপ, টিউশনি আর গান


  নিজস্ব প্রতিবেদক


More news