এক ভবঘুরের গল্প



ছড়ি হাতে ঘুরে বেড়ান এক ভবঘুরে! বলছে সে “হাসতে চাও, যন্ত্রণা নিয়ে খেল”। পর্দায় লোকে তার ভাঁড়ামি দেখে হেসে লুটোপুটি খেতকিন্তু পর্দার পিছনে মানুষটার জীবন  ছিল দুঃখ দুর্দশায় দারিদ্র্যতে জর্জরিত চার্লি চ্যাপলিন! আঠারো শতকে জন্ম নেওয়া এক বিস্ময়!

শুরু হয়েছিল ১৫০ ডলার দিয়ে জনপ্রিয়তা যখন উর্ধ্বগামী, তখন সেই বেতন প্রতি সপ্তাহে দশ লক্ষ ডলারআজকের রুই-কাতলা অভিনেতাদের আয়ের  লিস্ট করলেও, চার্লি চ্যাপলিন থাকবেন  সবার প্রথমে। জীবনে কোনদিন আমেরিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি! নিজেকে সারা  বিশ্বের নাগরিক মনে করতেনকিন্তু এই নাগরিকত্ব না গ্রহণ করার জন্য সংবাদপত্র তাঁকে “নিমকহারাম” বলতেও পিছপা হয়নি!

মদ্যপ বাবার মৃত্যু, খুব ছোটবেলা থেকেই অনাথ আশ্রমে থাকা চার্লি চ্যাপলিন জীবনের অন্ধকার দিকগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাই হয়ত তার মুখেই মানায় “ জীবনে কোন কিছুই স্থায়ী না, এমনকি আমাদের সমস্যাগুলো নয়”।

আজকে চার্লি চ্যাপলিনের এমন অজানা ১০ টি তথ্য বলব, যা তোমরা আগে কখনই শুননি।

১) টাইম ম্যাগাজিনের কভারে প্রথম অভিনেতা হিসেবে মডেল হয়েছিলেন চার্লি চ্যাপলিন


২) ১৯২৯ সালে প্রথম অস্কার পুরস্কার দেওয়া চালু হয়। চার্লি চ্যাপলিন কয়েক ক্যাটাগরিতে মনোয়ন পেলেও, তার নাম বাতিল করে স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। ১৯৭২ সালেও স্পেশাল ক্যাটাগরিতে অস্কার পান চ্যাপলিন। এর পরের বছর “লাইমলাইট” এর জন্য অস্কারে বেষ্ট মিউজিক অ্যাওয়ার্ড পান তিনি। কিন্তু মজার বিষয় হল “লাইমলাইট” পুরস্কার পান ১৯৭৩ সালে, কিন্তু ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ২১ বছর আগে , ১৯৫২ সালে।

৩) নির্বাক যুগের জাদুকর চার্লি চ্যাপলিন সবাক ছবি আসার পর দুটি ছবি করেছিলেন। কিন্তু একটি ছবিতেও কথা বলেন নি, পুরো ছবি জুড়ে অসাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক তার হয়ে কথা বলেছিল।

৪) একবার যুক্তরাষ্ট্রের এক মেলাতে প্রতিযোগিতা হয় “ কে সেরা  চার্লি চ্যাপলিন?”। অনেকের মধ্যে চার্লি চ্যাপলিনও সশরীরে উপস্থিত হন প্রতিযোগিতায়। মজার ব্যাপার চার্লি চ্যাপলিন নিজে এই প্রতিযোগিতায় হেরে যান ১২ তম স্থান দখল করেন তিনি

৫) চার্লি চ্যাপলিনের জন্মের ঠিক ৪ দিন পর জন্ম নেন এডলফ হিটলার।

৬) চার্লি চ্যাপলিনের চোখের রং ছিল নীলাভ।

৭) চার্লি চ্যাপলিনের মৃত্যুর চার বছর পর বিশিষ্ট জ্যোতির্বিদ মিস কারাচিকনা একটি উপগ্রহের নামকরণ করেন চ্যাপলিনের নামে। মঙ্গল ও বৃহস্পতিবারের মাঝখানে একটি গ্রহাণুর নাম দেওয়া হয় ৩৬২৩ চ্যাপলিন।

৮) আমেরিকার নাগরিকত্ব তিনি কখনও গ্রহণ করেননি। এবং আমেরিকার  নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তাকে ১৯৫৩ সালে আমেরিকা থেকে নির্বাসন দেওয়া হয়। এই নির্বাসিত বছরগুলো তিনি কাটান সুইজারল্যান্ডে এবং সেখানেই ১৯৭৭ সালে ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

৯) মৃত্যুর তিন মাস পর তার কবর থেকে মৃতদেহ চুরি করা হয় পরিবারের কাছে মুক্তিপণ আদায় করার লক্ষ্যে১১ সপ্তাহ পর সেই মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, তারপর ৬ ফিট কনক্রিটের নিচে শক্ত বাঁধাই করে মৃতদেহ রাখা হয়। এখন সেভাবেই আছে তার মৃতদেহ।

১০)  তাঁর আত্মজীবনী নিয়ে নির্মিত চলচিত্র চ্যাপলিন মুক্তি পায় ১৯৯২ সালে। মজার বিষয় এই ছবিতে  চ্যাপলিনের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে চ্যাপলিন কন্যা গেরালডিন চ্যাপলিন।


সূত্রঃ গ্র্যাবহাউজ, ওয়েস্টারটাইম এবং স্ট্যাম্পসফটডিস্টিনশন ডটকমচার্ট


More news