খেলছে খেলা ডার্কফরেস্ট, আর খেলাচ্ছে জুকারবার্গ!



রোবট খেলছে গেম! আর সেই গেম খেলাচ্ছে জুকারবার্গের ফেসবুক! ফেসবুকই বা কেন রোবট বানানোর চিন্তা করল হঠাৎ!

“GO”একটি গেমের নাম! খুব সহজেই মানুষ এই গেমটিতে জিততে পারে। ধরুন, কোন মানুষ নয় রোবট জিতছে সেই গেমে! জয়ী মানুষের মস্তিষ্ক আর জয়ী রোবটের বুদ্ধিমত্তা কি এক? এই আইডিয়া  থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ফেসবুক তৈরি করছে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্ট একটি রোবট। মার্ক জুকারবার্গ সম্প্রতি একটি রিসার্চ লিঙ্ক শেয়ার করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ফেসবুক কোম্পানি যে  রোবটটি  বানাচ্ছে তা দিনদিন “GO” খেলায় পারদর্শী হয়ে উঠছে। গো হচ্ছে চাইনিজদের তৈরি একটি বোর্ড গেম। যেখানে দুইজন খেলোয়াড় থাকবে এবং ১৯x১৯ ঘর থাকবে। এই ঘরগুলোতে পাথর রাখতে হবে। যত বেশী পাথর রাখা যাবে, তত প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসকে দমন করা যাবে। এই গেম খেলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে একটা বিশাল এলাকা জুড়ে পাথর রাখা। যে যত বেশী পাথর রাখতে পারবে সেই জয়ী।

সুপার কম্পিউটাররা অতীতে বড় বড় দাবা খেলোয়াড়দের মাত করে দিত। কিন্তু যখন থেকে চাইনিজ গেম “গো” এল, তখন থেকে মানুষই হল সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়। তারা আবার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট খেলোয়াড়কে মাত করতেও সক্ষম। মার্ক জুকারবার্গ ২০১৬ সালে ২৭ জানুয়ারিতে লিঙ্কটি শেয়ার করে বুঝাতে চেয়েছেন, কোম্পানির রোবট তৈরি প্রক্রিয়া দ্রুতগামী। ০.১ সেকেন্ড রোবটটি নড়াচড়া করতে পারে এবং দারুণভাবে “GO” খেলতে পারে। তিনি লিখেছেন, “আমাদের আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্টে সার্চ বেসড পদ্ধতি রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে আমাদের মডেল রোবট গেমের সাথে সাথে নিজেকে সব দিকে নড়াচড়া করাতে পারে। প্যাটার্ন মিল করে এই অসাধারণ কাজটি সফলভাবে উদ্ভাবন করেছেন আমাদের কম্পিউটার ভিশন টিম”।

রিসার্চ পেপারের শিরোনাম হচ্ছে “Better Computer Go Player with Neural Network and Long-term Predictionমার্ক জুকারবার্গের কলিগ এবং ফেসবুকের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কর্মকর্তা ইয়ানডং তিয়ান এই রিসার্চ পেপারটি প্রকাশ করেছেন।  ফেসবুকের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টিম এই বছরের জানুয়ারিতে কেজিএস “GO” টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। এই বোটের জয়ী হবার রেট ৯৯ থেকে ১০০ পর্যন্ত। বটটি ১০০ গেমের ২ সেট গেম খেলতে সক্ষম।

পেপারে বলা আছে “ ডার্কফরেস্ট সব সময়ই জিতে”।

হ্যাঁ, বটটির নাম রাখা হয়েছে ডার্কফরেস্ট। ডার্কফরেস্টের মস্তিস্ক হিসেবে কাজ করে DCNN (Deep Convolutional Neural Network)তাছাড়াও রোবটের এই “সবসময় জেতার” পিছনে মূল কারিগর হচ্ছে MCTS (Monte Carlo Tree Search) মেথড। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ডার্কফরেস্টের দ্বিতীয় ভার্সন, ডার্কফরেস্ট ২ বটটি কেজিএস “GO” সার্ভারে মানুষের সঙ্গে খেলেও জিতে গেছে। র‍্যাঙ্কিংয়ে তিন নাম্বারে রয়েছে, যেখানে অন্য মেশিন প্লেয়াররা র‍্যাঙ্কে ৪০০০ কিংবা ৫০০০ এ আছে। এই র‍্যাঙ্কিং কিন্তু জাপানিজ র‍্যাঙ্ক অনুযায়ী হয়েছে। যেখানে একদম শুরুর খেলোয়াড়দের র‍্যাঙ্ক থাকে ৩০ কিউ থেকে ১ কিউতে। যত কিউ কম, তত ভাল খেলোয়াড়। এর পর খেলোয়াড়দের র‍্যাঙ্ক হয় ‘ডান’ অনুযায়ী, ১ থেকে ৭ ডান। যত ডান বেশী, তত ভাল। প্রোফেশনাল খেলোয়াড়দের র‍্যাঙ্কিং হয় ১ থেকে ৯ “প্রো ডান”। 

ফেসবুকের রোবট ‘ডার্কফরেস্ট’ এখনও অ্যাামেচার খেলোয়াড়, যদিও এর মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করা সত্যিই এর দ্রুত উন্নতিকেই ইংগিত দেয়! এইবার প্রশ্ন আসতে পারে, “এত গেম থাকতে ‘গো” গেম কে নিয়েই কেন এই গবেষণা”? এই প্রসঙ্গে গবেষক এবং ফেসবুক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ডিরেক্টার ইয়ান লি চিউন বলেছেন, “একমাত্র এই গেমটিই একই সঙ্গে প্যাটার্ন চেনা, কঠিন সমস্যা সমাধান এবং প্ল্যানিং করার দক্ষতা বৃদ্ধি করে। নতুন নতুন আইডিয়া শেখানো এবং কাজে লাগানোর এক অপূর্ব সম্মেলন আছে এই গেমটির মধ্যে। তবে তার মানে এই না যে, ফেসবুকের তৈরি এই রোবটটি কেবল মাত্র “GO” গেমেই আবদ্ধ থাকবে! অন্যান্য গেম খেলার পাশাপাশি, কদিন পর এই রোবট আশাপাশের ভাষা বলতে পারবে সে অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারবে কিংবা কোন প্রশ্নের একদম সঠিক কোন জবাব দিতে পারবে!

২০১৫ সালের আগস্ট থেকে ‘ফেসবুক এম’ নামে একজন ভার্চুয়াল (chat-based) সহকারীকে এই রোবট সিস্টেমের সফটওয়্যার দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


এনডিটিভি অবলম্বনে


More news