বই মেলা-২০১৬ ভেতর বাহির- এক নজরে



প্রতিবারের মত বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে পহেলা ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হয়েছে একমাস ব্যাপি অমর একুশে বই মেলা। বই মানুষের অনুভূতিকে ধারণ করে। অনুভূতিই মানুষের প্রাণ শক্তি। তাই বইমেলাকে বলা হয়ে থাকে বাঙালির প্রাণের মেলা। সারা বছর ধরে পাঠক, লেখক, প্রকাশকরা অপেক্ষা করে থাকেন বই মেলার জন্য। ফেব্রুয়ারীতে হাজারো মানুষের পদচারণায় বইমেলা হয়ে ওঠে লেখক পাঠকের মিলন মেলা।

সারা দেশ থেকে হাজারো বইপ্রেমী মানুষ ঢাকায় ছুটে আসেন মেলায় অংশ নিতে। গত বছর বই মেলাকে ক্ষুদ্র পরিসর থেকে বাড়িয়ে আরো বড় করার উদ্যোগ হিসেবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারিত করা হয়েছিলো। এ বছর তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে। বদলে গেছে পুরো বই মেলার চেহারা। বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গন থেকে মেলা ছড়িয়ে পড়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

অনেকেই বহু দূর থেকে বইমেলায় আসেন তাদের বই মেলায় আসার প্রস্তুতিকে আরো সহজ করতেই এই লেখার অবতারণা। নতুন বিন্যাস অনু্যায়ী বই মেলার কোথায় কি আছে আগে থেকেই জেনে নিন:

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনেই মূলত বই মেলা অনুষ্ঠিত হত কিন্তু বর্তমানে একাডেমির ভিতরে নতুন ভবন তৈরি হয়েছে। এতে প্রকাশনা সংস্থার স্থান সংকুলান হচ্ছিলো না তাছাড়া মানুষের ভিড় সামাল দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিলো। তাই কতৃপক্ষ এবার মেলাকে ঢেলে সাজিয়েছে। একাডেমী প্রাঙ্গনে যা যা থাকছে-

১। সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তর ও বেসরকারি সংস্থার স্টল: একাডেমি প্রাঙ্গনে ঢুকলেই চোখে পড়বে সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংস্থার স্টল। যেখানে পাওয়া যাবে অধিদপ্তর ও সংস্থাগুলোর বার্ষিক রিপোর্ট, গবেষণা পত্র, জার্নাল ইত্যাদি। যারা সরকারি বিভিন্ন তথ্য জানতে আগ্রহী বা গবেষণা কাজে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে চান এই স্টলগুলো ঘুরে দেখতে পারেন।

যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টল রয়েছে- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র, শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, চলচিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, প্রত্নতত্ত অধিদপ্তর, সমবায় অধিদপ্তর, নজরুল ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশ টেলিভিশন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, তথ্য কমিশন ইত্যাদি।

এছাড়া যেসব স্বায়ত্বশাসিত বেসরকারি গবেষণা ও সামাজিক সংস্থার স্টল রয়েছে: বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষনা কেন্দ্র(বিআইডিএস), বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যশনাল, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ(সিপিডি), আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, কোয়ান্টাম, ইসকন, বাংলাদেশ লেখিকা সঙ্ঘ, বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি ইত্যাদি।

২। শিশু কর্ণার: প্রবেশ পথ দিয়ে ঢুকেই হাতের ডান পাশে আগের জায়গাতেই আছে শিশু কর্ণার যেখানে শিশুদের উপযোগী বই পাবেন।

৩। লিটল ম্যাগ কর্ণার: স্বাধীনভাবে সাহিত্য চর্চার উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া লিটল ম্যাগ আন্দোলনের ধারক তরুনরাই। আগামী দিনের সাহিত্য ধারার দিক নির্দেশনা তারাই দেবে। তরুণদের উদ্যোগে পরিচালিত লিটল ম্যাগ সংগ্রহ করতে চাইলে লিটল ম্যাগ কর্ণারে যেতে পারেন। যা এখনো আগের মতই বর্ধমান ভবন লাগোয়া জায়গাতেই আছে।

৪। লেখক কুঞ্জ: লেখকদের আড্ডা দেওয়ার এই স্থানটি একাডেমির পশ্চিম দিকে পুকুর পাড়ে পাবেন। চাইলে দেখা করে অটোগ্রাফ/ফটোগ্রাফ নিয়ে আসতে পারেন প্রিয় লেখকের

৫। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য স্টল: দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পড়ার জন্য বিশেষ ব্রেইল পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তাদের সুবিধার্থে তৈরি করা বই পাবেন একাডেমির বাহিরে বের হওয়ার গেটের পাশে স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনায়।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান: গতবারের বই মেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছোট পরিসরে মেলা শুরু করা হয়। এবার তা পরিপূর্ণ রুপ লাভ করেছে। সব ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রকাশনীর স্টলই এবার জায়গা পেয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। বই মেলায় আগতদের সুবিধার্থে স্টলগুলিকে ১৫টি গুচ্ছে ভাগ করা হয়েছে। উদ্যানের ভেতরে তথ্যকেন্দ্র থেকে ম্যাপ দেখতে পারেন স্টলের নাম অনু্যায়ী তালিকায় চোখ বুলিয়ে আপনার পছন্দের নির্দ্দিষ্ট প্রকাশনী খুজে বের করতে পারেন সহজেই।

উদ্যানের একদম ভিতরে স্বাধীনতা স্তম্ভের কাছাকাছি আছে মোড়ক উন্মোচন মঞ্চ তার পেছনেই পূর্ব দিকে নারী ও পুরুষ দর্শনার্থীদের জন্য পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাবারের স্থান পাবেন একাডেমির পাশে মসজিদের সাথে কাছেই রয়েছে টিএসসি সেখানেও যেতে পারেন।

এছাড়া জায়গায় জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ও সেবা কেন্দ্র রয়েছে যেকোন বিপদে তাদের সাহায্য নিন। অনেকেই নানা ব্যস্ততার কারণে বা বিদেশে থাকার কারণে বইমেলায় আসতে পারবেন না। এক্ষেত্রে অনলাইন বিভিন্ন বই বিক্রির সাইট থেকে বইমেলা উপলক্ষে ২৫% ছাড়েই বই কিনতে পারবেন।

বই মেলায় আসুন, নিজে বই কিনুন, অপরকে কিনতে উৎসাহিত করুন। সকলের জন্য শুভ কামনা।

বিশেষ প্রতিনিধি


More news