হতাশা দূর করার ৫টি উপায়



হয়ত কোন একটা স্বপ্ন বা ইচ্ছা আপনার পূরণ হয়নি। তাই বলে কি মন খারাপ করতে হবে? হতাশ, বিষণ্ণতায় মন ভার করে থাকতে হবে? কোন মানে হয় না। কারণ, হতাশা যে শুধু আপনাকে জীবনের দৌড়ে হারিয়ে দেবে তা কিন্তু নয়। সেই সাথে শরীরে ডেকে নিয়ে আসবে কিছু মারাত্বক রোগস্ট্রোক ছাড়াও হার্টের নানা রকম ভয়াবহ অসুখ।

সম্প্রতি দ্য জার্নাল অব দ্য আমেরিকান জেরিয়াট্রিক্স সোসাইটিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়বলা হয়, যারা অনেক বেশি হতাশ কিংবা বিষণ্ণতায় ভুগে তারা অন্যদের তুলনায় স্ট্রোকসহ নানা রকম হার্টের অসুখে প্রায় ৭৫% বেশি ঝুঁকিতে থাকে

ফ্রান্সের বোড়ডাক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা করেছেন এই গবেষণাটি। করা হয় ৭,৩১৩ জন লোকের উপর যারা ২ বছর ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরের নির্বাচনের সাথে যুক্ত ছিলেনসেই সাথে নিশ্চিত করা হয়েছে এরা এখন পর্যন্ত কোন হার্টের অসুখ, স্ট্রোক কিংবা স্মৃতিভ্রমের মত অসুখের কবলে পড়েননি

গবেষকরা তাদের সাথে সরাসরি কথা বলেন। টানা ১০ বছর যাবৎ ধরে গবেষণাটি করা হয়। গবেষণায় তাদের উপর তিন ধাপে পর্যবেক্ষ করা হয়। প্রথমে দুই বছর পর, পরবর্তিতে চার বছর পর এবং সবশেষে সাত বছর পর। পর্যবেক্ষণে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, রক্তে সুগার ও কলেস্টরেলের মাত্রার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। সেই সাথে এর আগে তারা কি ধরনের অসুখে আক্রান্ত হয়েছিল কিংবা কি ওষুধ গ্রহ করেছিল তা সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়। আর এগুলো থেকে গবেষকরা নির্ণয় করেছেন কারা হতাশায় ভুগছে

পর্যবেক্ষ শেষে গবেষকরা প্রকাশ করেন- ৩০% মহিলা এবং ১৫% পুরুষ লোক চরম মাত্রায় হতাশাগ্রস্ত। সবচেয়ে দুঃখজনক খবর হচ্ছে ১০% এরও কম লোক হাতাশা কাটানোর জন্য ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন। আর বাকীরা হাতাশা বয়ে বেড়াচ্ছেগবেষণায় সবশেষ বলা হয় চরম পর্যায়ে হতাশাগ্রস্ত লোকেরা স্ট্রোক এবং হার্টের নানা অসুখে ৭৫% বেশি ঝুঁকিতে আছে

হতাশা দূর করার উপায়  

হতাশায় ভুগলে, হতাশা দূর করতে এই কাজগুলো করতে পারেন

১। সারাদিনের রুটিন তৈরি করুন

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকলোজিস্ট ইয়ান কুক এর মতে, নিয়মতান্ত্রিক জীবন আমাদের হাতাশ থেকে দূরে রাখে। কেননা, একটা কাজ শেষ হতে না হতেই আরেকটি কাজের প্ল্যান মাথায় চলে আসে। তাই প্রতিদিনের কাজের একটা রুটিন করে চলে দেখুন। ব্যস্ত জীবনে হতাশা জায়গা পাবেনা।

২। লক্ষ্য নির্ধার করুন

যখন আপনি হতাশ থাকেন তখন মনে হয় আপনার দ্বারা কিছুই হবে না। কিন্তু এটাকেই ঝেড়ে ফেলে পরবর্তি লক্ষ্য নির্ধার করুন। দেখবেন আপনি আর হতাশ নন।

৩। ব্যায়াম করুন

কুক এর মতে, ব্যায়াম করার ফলে আমাদের ব্রেন নতুন করে কাজ করার উদ্দীপনা পায়। তাতে নিজেকে আর হতাশ লাগে না। তাই হতাশ হলে প্রতিদিনই হাল্কা ব্যায়াম করতে পারেন।

৪। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহন করুন

কুক আরও বলেন,  হতাশ থাকলে নিজের পছন্দের এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান। তাহলে দেখবেন সহজেই মন ভাল হয়ে গেছে। হাতাশা চলে গেছে।

৫। পর্যাপ্ত ঘুমান

হতাশায় যদি আপনি আরও বেশি রাত জাগেন এবং দুশ্চিন্তা করেন তবে আপনার মানসিক অবস্থা আরও খারাপ হবে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমিয়ে নিন। ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। দেখবেন হাতাশা একেবারের জন্য চলে না গেলেও আপনি ভাল বোধ করছেন।

দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও ওয়েবএমডি ডটকম অবলম্বনে


More news