১০ শীর্ষ আয়ের অভিনেতারা – প্রথম পর্ব



২০ বছরের ক্যারিয়ার জীবনে সেরা বক্সার মাইক টাইসনের আয় ছিল ৪০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশী। অথচ ৩৯ বছর বয়সেই হয়ে যান দেওলিয়া। ৩৮ মিলিয়ন ডলারের ঋণের বোঝা টানতে হয় তাকে।

বিশ্বের তাবৎ বড় অংক আয় করা আর্টিস্টদের খুব সাধারণ একটা ঘটনা এটি। একটা সময় প্রচুর টাকা আয় করা আর্টিস্টরা উন্নাসিক জীবনে গা ভাসিয়ে জীবনের এক পর্যায়ে দেওলিয়া হয়ে যায়।

এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা ১০ অভিনেতার কথা বলব। আয়ের দিক থেকে যাদের বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে। ভবিষ্যৎ? সে না হয় সময়ই বলে দিবে।

লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও

চোখ বন্ধ করে বলা যেতে পারে ক্যাপ্রিও এই মুহূর্তে হলিউডের সেরা অভিনেতা। ১৯৯০ সালে ৩০ বছরের নিচে সেরা আবেদনময়ী নায়ক হিসেবে হাজার হাজার তরুণীর হৃদয় জয় করেন এই নীল চোখের নায়ক। জার্মান অভিবাসী মা এবং আন্ডারগ্রাউন্ড কমিক আর্টিস্ট বাবার ছেলে ক্যাপ্রিও। শেক্সপিয়রের বিখ্যাত ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ এবং জেমস ক্যামেরনের ‘টাইটানিক’ এর মাধ্যমে হলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে জোরদারভাবে প্রতিষ্ঠিত করেনএরপর আর পিছনে ফেরার দরকার পড়েনি।

ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান, গ্যাংস অফ নিউ ইয়র্ক, দি এভিয়েটর, দি ডিপার্টেড, রেভুলশনারি রোডের মত অসংখ্য ছবি আছে ক্যাপ্রিওর ঝুলিতেএকাধারে সেগুলো ব্যবসাসফল এবং সমালোচকদের কাছে সমাদৃত। হলিউডে সর্বোচ্চ আয়ের এই অভিনেতার লস অ্যানজেলস, ম্যানহাটন এবং ক্যালিফোর্নিয়াতে নিজস্ব এপার্টমেন্ট আছে। ২০০৯ সালে তিনি বেলিজে একটি দ্বীপ কিনেন। ঐ দ্বীপে পরিবেশবান্ধব একটি রিসোর্ট বানানো তার বহুদিনের স্বপ্ন।

মুভি থেকে এক বছরের সর্বোচ্চ আয়: ৭৭ মিলিয়ন ডলার

বিখ্যাত মুভি:  টাইটানিক, ব্লাড ডায়মন্ড, ইনসেপশন, উলফ অফ দি ওয়াল স্ট্রিট

সবচেয়ে পারিশ্রমিক নেওয়া মুভি: ইনসেপশন (৫৯ মিলিয়ন ডলার)

সবচেয়ে ব্যবসাসফল মুভি: টাইটানিক (২,১৮৬,৭৭২,৩০২ ডলার)

মুভি সহ অন্যান্য  উৎস থেকে বছরব্যাপী আয়: ২৪৫ মিলিয়ন ডলার

জনি ডেপ

সব চরিত্রের সঙ্গেই মিলে যায় এমন এক জন অভিনেতা হচ্ছেন জনি ডেপ। অসাধারণ কিছু চরিত্র রূপায়ন করেই যাচ্ছেন তিনি নিয়মিতভাবে। ২০০৩ এবং ২০০৯ সালে পিপলস ম্যাগাজিন তাকে খেতাব দেয় জীবিতদের মধ্যে সেরা আবেদনময়ী পুরুষ হিসেবে। টিভি সিরিজ ‘টুয়েন্টি ওয়ান জাম্প স্ট্রিট’ দিয়ে তিনি পরিচিতি পান। এরপর ভীষণ চ্যালেঞ্জিং কিছু চরিত্রে নিজের অভিনয়ের প্রতিভা মেলে ধরেন। চার্লি অ্যান্ড দি চকোলেট ফ্যাক্টরি, স্লিপি হলো, র‍্যাংগো, এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড, পাইরেটস অফ দি ক্যারিবিয়ান ফিল্ম সিরিজ, ডার্ক শ্যাডো তার অভিনয় জীবনের উল্লেখযোগ্য কাজ। ২০১২ সালে সর্বোচ্চ আয়ের অভিনেতা হিসেবে গিনেজ বুক ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে তার নাম লিপিবদ্ধ করা হয়। ‘সুইনি টড: দি ডেমন বার’ এ অভিনয় তাকে এনে দেয় গোল্ডেন গ্লোবের সেরা অভিনেতার পুরস্কার।

মুভি থেকে এক বছরের সর্বোচ্চ আয়: ৫০ মিলিয়ন ডলার

বিখ্যাত মুভি: এডওয়ার্ড সিশোরহ্যান্ডস, পাইরেটস অফ ক্যারিবিয়ান, সুইনি টড: দি ডেমন বার

সবচেয়ে পারিশ্রমিক নেওয়া মুভি:  পাইরেটস অফ ক্যারিবিয়ান অন স্ট্রেঞ্জার টাইডস (৫৫ মিলিয়ন ডলার)

সবচেয়ে ব্যবসাসফল মুভি: পাইরেটস অফ ক্যারিবিয়ান: ডেড ম্যান’স চেস্ট (১,০৬৬,১৭৯,৭২৫ ডলার)

মুভি সহ অন্যান্য  উৎস থেকে বছরব্যাপী আয়: ৪০০ মিলিয়ন ডলার

অ্যাাডাম স্যান্ডলার

সন্দেহাতীতভাবে এই সময়ের সেরা কমেডিয়ান অ্যাক্টর হচ্ছেন অ্যাাডাম স্যান্ডলার। ‘হ্যাপি গিলমোর’ ছবিটি দারুণ হিট হয় এরপর তার ক্যারিয়ার কেবল উপরের দিকেই ওঠা শুরু করে। ৪৯ বছর বয়সী এই অভিনেতা পড়াশুনা করেছেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে। তার মুভি সমালোচকদের কতটা মন যোগাতে পারে সেটা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও, সেগুলো বিপুলভাবে দর্শকপ্রিয়তা পায়। প্রমাণস্বরূপ, তার ‘গ্রোন আপস’ মুভি বিখ্যাত রটেন টমেটোর রিভিউ হিসেবে পেয়েছিল ১০০ তে মাত্র ১০। কিন্তু সেটি আয় করেছিল ২৭১ মিলিয়ন ডলার। প্রডিউসার হিসেবেও এই অভিনেতা যথেষ্ট সফল। তার প্রযোজনায় ‘মল কপ’ এবং ‘জু কিপার’ এর মত মুভি প্রচুর জনপ্রিয়তা পায়। 

মুভি থেকে এক বছরের সর্বোচ্চ আয়:  ৪০ মিলিয়ন ডলার

বিখ্যাত মুভি: হ্যাপি গিলমোর, বিলি ম্যাডিসন

সবচেয়ে পারিশ্রমিক নেওয়া মুভি: গ্রোন আপস, জাস্ট গো উইথ ইট, দি লঙ্গেস্ট ইয়ার্ডস, ফিফটি ফার্স্ট ডেটস একই পারিশ্রমিকের মুভি (২৫ মিলিয়ন ডলার মুভি)

সবচেয়ে ব্যবসাসফল মুভি: হোটেল ট্রান্সিল্ভিনিয়া ২ (৪৬৮,২৬৬,৭৪৭ ডলার)

মুভি সহ অন্যান্য উৎস থেকে বছরব্যাপী আয়: ৩০০ মিলিয়ন ডলার

উইল স্মিথ

কে ভেবেছিল ওয়েস্ট ভ্যালি থেকে উঠে আসা এক র‍্যাপার বিশ্বের সেরা অভিনেতাদের কাতারে দাঁড়াবেন? শাসন করবেন বিশ্ব সিনেমা? সেই অসম্ভব কে সম্ভব করেছিলেন উইল স্মিথ! ২০ বছরের আগেই সেরা র‍্যাপার হিসেবে মিলিওনিয়ারের খাতায় নাম লেখান স্মিথ। তবে হলিউডের এ-লিস্ট অভিনেতাদের কাতারে তিনি এসেছেন আরও পরে২০০৪ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তার সম্পত্তির পরিমাণ দেখায় মোট ১৮৮ মিলিয়ন ডলার। ২০০৫ সালে ২৪ ঘণ্টায় তিনটি ছবির প্রিমিয়ারে উপস্থিত থাকার কারণে গিনেজ বুক ওয়ার্ল্ডে তার নাম আসে। ফিলাডেলফিয়াতে জন্ম দেওয়া এই অভিনেতা বিয়ে করেছেন অভিনেত্রী জাডা স্মিথকে। তারা একসঙ্গে অভিনয় করেছেন ‘পারসুট অফ হ্যাপিনেস’ ছবিতে

মুভি থেকে এক বছরের সর্বোচ্চ আয়: ৩৬ মিলিয়ন ডলার 

বিখ্যাত মুভি: দি পারসুট অফ হ্যাপিনেস, মেন ইন ব্ল্যাক, ইন্ডিপিডেন্স ডে

সবচেয়ে পারিশ্রমিক পাওয়া মুভি: আই রোবট (২৮ মিলিয়ন ডলার)

সবচেয়ে ব্যবসাসফল মুভি: ইন্ডিপিডেন্স ডে ( ৮১৭,৪০০,৮৯১ ডলার)

মুভি সহ অন্যান্য উৎস থেকে বছরব্যাপী আয়: ২৪০ মিলিয়ন ডলার

বেন স্টিলার

আজকের দিনে সেরা কমেডিয়ান অভিনেতাদের তালিকা করলে বেন স্টিলারের নাম উপরের দিকেই থাকবেঅসাধারণ অভিনয় আর দারুণ সব চরিত্র বেছে নেওয়ার জন্য দিন দিন উপরে উঠছে বেন স্টিলারের ক্যারিয়ার। ‘মিট দি প্যারেন্টস’ সিরিজের তৃতীয় কিস্তির জন্য তিনি বিরাট অঙ্কের চেক পান। রটেন টমেটো রিভিউ তে ১০০ তে ৯ পায় তার ছবি ‘লিটল ফকারস’এই ছবিকে বলা হয় রটেন টমেটোর ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে রিভিউর ছবি। কিন্তু কিসের কি? বক্স অফিস থেকে এই ছবির আয় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের উপরেআবার ২০১০ সালে তার বিগ বাজেটের কমেডি ছবি আয় করে মাত্র ৬ মিলিয়ন ডলার, কিন্তু সমালোচকদের কাছে বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়। স্টিলার একজন প্রতিভাবান প্রডিউসারও বটে! ড্রিম ওয়ার্কস অ্যানিমিশন থেকে ‘মেগামাইন্ড’ ফিল্মটি বানাতে তিনি প্রচুর সাহায্য করেন।

মুভি থেকে এক বছরের সর্বোচ্চ আয়: ৩৪ মিলিয়ন ডলার 

বিখ্যাত মুভি: জুল্যান্ডার, মিট দ্যা প্যারেন্টস, দেয়ার ইজ সামথিং অ্যাবাউট ম্যারি

সবচেয়ে পারিশ্রমিক পাওয়া মুভি: ট্রপিক থান্ডার (৩০ মিলিয়ন ডলার)

সবচেয়ে ব্যবসা করা মুভি: লিটল ফকারস (৩১০,৬৫০,৫৮৫ ডলার)

মুভি সহ অন্যান্য উৎস থেকে বছরব্যাপী আয়: ১২০ মিলিয়ন ডলার

দ্বিতীয় পর্ব

সূত্র: ক্লিপডি ডটকম, স্ট্যাটিক্স ব্রেইন ডটকম, দি রিচেস্ট এবং বক্স অফিস মোজো


More news