ইংল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা



IELTS ৬.০ পেলেই তুমি ইংল্যান্ডে বেশির ভাগ বিশ্ববিদালয়ে মাস্টার্সে পড়তে যেতে পারবে। কিন্তু যদি তোমার রেজাল্ট (CGPA) একটু কম থাকে, তবে তোমার IELTS এর পয়েন্ট একটু বেশি থাকতে হবে। তা নাহলে খুব ভাল subject বা Scholarship নাও পেতে পার।

সারা বিশ্বের সকল শিক্ষার্থীর পছন্দের তালিকায় ইংল্যান্ড সবার উপরের দিকে শুধুমাত্র ২০১২ সালেই প্রায় ২০০ টি দেশ থেকে ৪২০,০০০ শিক্ষার্থী ইংল্যান্ডে পড়তে যায়!

ইংল্যান্ডে Scholarship

বিশ্বের সেরা ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৪ টিই (যেমন-অক্সফোর্ড,ক্যামব্রিজ) ইংল্যান্ডে সুযোগ আছে Scholarship নিয়ে মাস্টার্স করারইংল্যান্ড থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা ৯৩% শিক্ষার্থী দাবি করেন, পড়াশুনার মান বিশ্বসেরা সারা বিশ্বের প্রায় ৫৪% গবেষণা হয় ইংল্যান্ডেহয় বিশ্ব তাক লাগানো নতুন নতুন আবিষ্কার

ইংল্যান্ডে যে বিষয়গুলিতে Scholarship পেতে পার-

·        Engineering and Mathematical science

·        Health and Medicine

·        Law

·        BBA/MBA

·        Social Science

·        Sociology

·        Criminology

·        Research

·        Hotel Management and Hospitality  

·        Creative Art, etc.

Scholarship এর জন্য আবেদন করা যাবে দুই ভাবে

১। প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় গুলো Scholarship এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত করে। পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে সরাসরি আবেদন করতে পার।

২। অথবা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয়ে পড়তে চাও, সেই বিষয়ের কোন প্রফেসরের ই-মেইল এ আবেদন করতে পার। কারণ, ফেলোশিপ অথবা গবেষণা করতে চাইলে, তোমাকে অবশ্যই কোন প্রফেসরের তত্বাবধানে কাজ করতে হবে। তাই প্রফেসরকে রাজি করানো অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

এবার দেখি ইংল্যান্ডে Scholarship পেতে কি কি লাগবে?

১। ৪ বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রি, মাস্টার্স ডিগ্রি (যদি তুমি PhD করতে যেতে চাও)।  

২। কমপক্ষে CGPA (3.00)পয়েন্ট। ভাল মানের বিশ্ববিদ্যালয় আরও বেশি চাইতে পারে। তবে পয়েন্ট 3.50 হলে তো কথায়ই নেই। যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাল subject এর জন্য আবেদন করতে পারবে।

৩। IELTS score (কমপক্ষে ৬.০) তবে বিশ্ববিদ্যালয় অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

৪। Letters of Recommendations (৩ টি)

৫। Statement of purpose (SOP)/ Motivation Letter/ Letter of Intent (1-2 pages).  এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন প্রফেসর বরাবর লিখতে হয়। যার অধীনে কাজ করতে চাচ্ছ, যে বিষয়ে পড়তে চাচ্ছ, সেই বিষয় সম্পর্কে। কেন পড়তে চাচ্ছ, তোমার উদ্দেশ্য কী, ভবিষ্যতে এর গুরুত্ব কতটুকু ইত্যাদিএক কথায়, ঐ প্রফেসরকে এমন ভাবে বোঝাতে হবে, যাতে উনি রাজি হন তোমাকে Scholarship দিতে।

অবশ্য যখন তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে সরাসরি অনলাইন আবেদন করবে, তখন এই লেটার নাও লাগতে পারে।

কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় আরও কিছু জিনিস চাইতে পারে। যেমন-কোন স্বীকৃত জার্নালে আর্টিকেল আছে কিনা। তোমার নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা কেমন, টিম ম্যানেজমেন্ট স্কিল ইত্যাদি। এগুলো অবশ্য কমার্স শাখায় চায়। যেমন-MBA.

সকল কাগজপত্র অবশ্যই ১ম শ্রেণীর গেজেটেট অফিসার অথবা নোটারি পাবলিক অফিসার দ্বারা সত্যায়িত করতে হবেতা তুমি স্ক্যান করেই পাঠাও আর হার্ড কপিই পাঠাও। 

ইংল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত দুই সেমিস্টারে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করে

১। অটাম সেমিস্টারঃ সেপ্টেম্বর-জানুয়ারি

২। স্প্রিং সেমিস্টারঃ  জানুয়ারি থেকে জুন

তুমি যে সেমিস্টারেই ভর্তি হতে চাও তার প্রায় ৬-৭ মাস আগেই তোমাকে আবেদন করতে হবে। যেমনঃ যদি তুমি ২০১৬ এর সেপ্টেম্বরের সেমিস্টারে ভর্তি হতে চাও, তাহলে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আবেদন করতে হবে। অবশ্য ডেডলাইন দেয়া থাকলে তখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই করতে হবে

Scholarship পেতে পছন্দের তালিকায় রাখতে পার যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো-

University of Cambridge

University of Oxford

London School of Economics and Political Science

৪। Imperial College London

Durham University

University of St Andrews

University of Warwick

Lancaster University

University of Surrey

১০। University of Exeter

Scholarship এর ধরন:

প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের Scholarship এর সুযোগ পেতে পার কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হল- 

·        Commonwealth Scholarships for Developing Commonwealth Countries (Master’s/PhD Degree)

এই Scholarship শুধুমাত্র কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়। UK Department for International Development (DFID) এর পক্ষ থেকে। অন্য কোন দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেনা। তাই এই ধরনের সুযোগ তুমি লুফে নিতে পার।

·        Commonwealth Shared Scholarship Scheme at UK Universities (Master’s and PhD)

এই Scholarship টিও শুধুমাত্র কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও  Commonwealth Scholarship Commission যৌথভাবে এই Scholarship দিয়ে থাকে।

·        Cambridge International Scholarships (PhD Degree)

ক্যামব্রিজ ট্রাস্ট এর মাধ্যমে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই Scholarship দেয়া হয়।

·        Nottingham Developing Solutions Scholarships (Masters (MS) Degree)

এই Scholarship সাধারণত যারা একটু creative, যারা তার দেশের পরিবর্তন আনতে চায়, তাদের দেয়া হয়। তুমি যদি চাও সৃষ্টিশীল হতে, আবেদন করতে পার।

·        Gates Cambridge Scholarships for International Students (Masters/PhD Degree)

বিশ্বের সবচাইতে সম্মানজনক Scholarship গুলোর মধ্যে একটি। এই Scholarship পেয়ে তুমিও হতে পার ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। 

·        Clarendon Fund Scholarships at University of Oxford (Masters/PhD Degrees)

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই Scholarship দেয়া হয়। তাই এই সুযোগ লুফে নেয়ার মত।

নিজস্ব খরচে পড়াশুনা

যদি তুমি নিজস্ব খরচে পড়তে যেতে চাও, তাহলে যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়েই আবেদন করতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে সরাসরি আবেদন করতে পার। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার অনলাইন ভর্তিরও সুযোগ থাকে।

পড়াশুনার খরচ

ইংল্যান্ডে মাস্টার্স করতে ১ বছরে প্রায় ১২,৩৯০ পাউন্ড (১৪,৪০,৭২০ বাংলাদেশি টাকা) খরচ করতে হবে। ল্যাবরেটরি বা চিকিৎসা বিষয়ে পড়তে চাইলে তোমাকে ২৪,২০৬ (৩০,৪৭,২৫৭ বাংলাদেশি টাকা) পাউন্ড খরচ করতে হবে। অবশ্য তুমি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কি বিষয়ে পড়ছ, তার উপর নির্ভর করবে তোমার খরচ কত হবে।

থাকা-খাওয়ার খরচ

থাকা-খাওয়া বাবদ মাসে প্রায় ১ হাজার পাউন্ড (১,১৬,২৮০ বাংলাদেশি টাকা) খরচ করতে হবে। কিন্তু তুমি যদি লন্ডনের মত বড় শহরে থাকতে চাও তবে তোমার মাসে একটু বেশি খরচ করতে হবে। প্রায় ১,৩০০ পাউন্ড (১,৫১,১৬৫ বাংলাদেশি টাকা) এর মত।   

পার্ট টাইম কাজের সুযোগ

পড়াশুনার পাশাপাশি কিন্তু তুমি কাজও করার সুযোগ পাবে  বিভন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানে। যেমন-

·        রেস্টুরেন্ট

·        সুপার শপ

·        শপিং মল

·        ট্র্যাভেল এজেন্সি, ইত্যাদি।

সাধারণত প্রতি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করার সুযোগ পাবে ছুটির দিনে পাবে প্রায় ৩৬ ঘন্টার মত। শীত, ক্রিসমাসের মত বড় ছুটিতে কোন বাঁধা ধরা নিয়ম নেইযে কোন সময়ই কাজ করতে পারবে। আর প্রতি সপ্তাহে তুমি প্রায় ১১২ পাউন্ডের (১৩,০২৩ বাংলাদেশি টাকা)মত আয় করতে পারবে। বাংলাদেশি  টাকায় মাসে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি। পুর্ব ইংল্যান্ডের শিক্ষার্থীরা অবশ্য একটু বেশি আয় করতে পারে প্রায় ১৩১ পাউন্ড(১৫,২৩২ বাংলাদেশি টাকা) ব্যস, তোমার বাড়তি টাকার উৎসও হয়ে গেল।

তো, আর কি?

আগামী বছর তুমি ইংল্যান্ড যাচ্ছ! এই ভেবে, প্রস্তুতি শুরু করে দাও।

তথ্যসূত্র- এডুকেশন ইউকে, দ্য কমপ্লিট ইয়নিভার্সিটি গাইড এবং দ্য গার্ডিয়ান


More news