স্ট্যামফোর্ডের অনিক, প্রাণে যার গিটারের সুর



বাজছে গিটার, চলছে শো। একটি নয়, দুইটি নয়, এমনকি দশ-বিশটিও নয়!! প্রায় দুইশ মিউজিক শো!!

বলছি স্ট্যামফোর্ডের ক্যাম্পাস তারকা আহনাফ খান অনিকের কথা। যার ঝুলিতে রয়েছে ঢাকা সিটি ফেস্ট, এ বি কিচেন প্রেজেন্টস ক্লাব এশিয়া অ্যাকুস্টিকা লাইভ, “বৃত্ত ইন্টারন্যাশনাল আর্টিস্ট ওয়ার্কশপ” এর মত বড় পরিসরে গিটার বাজানোর অভিজ্ঞতা।

পুরান ঢাকার ছেলে অনিকের গিটার বাজানো শুরু সেই ২০০৬ থেকে। বড় ভাইয়ের গিটারে নিজের মত করে টুং টাং সুর তুলতে তুলতে একসময় কর্ড শেখা শুরু। বাসায় অ্যাকুস্টিকা ব্যান্ডের বিপু আতিকের প্রায়ই যাতায়াত ছিল। তার গিটার বাজানো দেখে এক সময় অনিকের মনে হল যত যাই হোক এই জিনিস তাকে বাজাতেই হবে।

অনিকের ভাষায়….

বিপু ভাই বাসায় আসলে তিনি কি বাজাতেন দেখতাম কি শোনাতেন সেগুলো শুনতাম। এরপর আস্তে আস্তে গানগুলো তুলতাম। এক-একটা গান তোলার মধ্যে দিয়ে নতুন অনেক টেকনিক শিখতাম। যদি কারো কাছে গিটারের কিছু এখন পর্যন্ত শিখে থাকি সেটা হল বিপু ভাই। আমার গিটার শেখায় সবথেকে বেশি অবদান বিপু ভাইয়ের। তবে বাবারও একটা অবদান আছে। তিনি তখন আমার বাজানোয় কখনোই পুরো খুশি হতেন না। বলতেন তোমার বাজানো হয়, তবে আরো ভালো হতে হবে। তাই পারফেকশন আনার চেষ্টা করতাম। সেই চেষ্টা করতে করতে এখন কিছুটা দক্ষতা এসেছে।

বর্তমানে লাইভ শো, নিজেদের ব্যান্ডের প্রাকটিস, রেকর্ডিং সেশন এবং একটি চলচ্চিত্রের প্রি প্রোডাকশন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনিক২০১৩ থেকে অ্যাকুস্টিকা ব্যান্ডে লিড গিটারিস্ট হিসাবে যুক্ত আছেনশিল্পী “কফিল আহমেদে”র সাথেও নিয়মিত গিটার বাজাচ্ছেনএছাড়া ব্যান্ড লীলা, পূর্ব পশ্চিম সহ আরো কিছু ব্যান্ডে গিটার বাজিয়েছেনগিটারের পাশাপাশি ম্যান্ডোলিন, রাবাব, কাহন, হারমোনিকা, ব্যাঞ্জো, ইউকুলেলে বাজাতেও পারদর্শী অনিক। বেশ কিছু গানের মিউজিক কম্পোজিশনও করেছেনঅনিকের প্রথম ষ্টেজ শো ছিল ২০০৯ সালে বিপু আতিকের সাথে “উত্তরা ফায়ার অন আইস” রেস্টুরেন্টে।

গিটার নিয়ে ভবিষ্যৎ ইচ্ছা

গিটার নিয়ে ওভাবে ভবিষ্যতে আলাদা কোন প্ল্যান করিনি। আজকেই হয়ত জীবনের শেষ গিটার বাজাচ্ছি তাই নিজের পুরোটা দিয়ে বাজাতে হবে। এ ভেবেই বাজাই। তবে একটা ইন্সট্রুমেন্টাল প্রোজেক্ট করার ইচ্ছা আছে। ইন্ডিয়ান ক্লাসিকের সাথে একটু ওয়েস্টার্ন মিউজিকের ব্লেন্ড করবো। প্রোজেক্টের কাজ অলরেডি শুরু করেছি। সবাইতো গানের মাধ্যমে এসব এক্সপেরিমেন্ট করে। আমি না হয় শুধু মিউজিক দিয়ে চেষ্টা করি। নিজেদের মনোতুষ্টির জন্য এই প্রোজেক্ট শুরু করেছি।

“ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজের” ৩য় বর্ষের ছাত্র অনিক। এতকিছু থাকতে ফিল্ম নিয়ে কেন পড়াশোনা ?

ফিল্মে পড়ার পিছনে মূল কারণ ৯-৫ টার চাকরি আমার জন্য না। সম্ভব না সেটা করা। আমি আর্ট সেক্টরের মানুষ। আর্ট নিয়েই থাকতে চাই। আর ফিল্মতো সব আর্ট ফর্মের কম্বিনেশন। সো হোয়াই নট ফিল্ম? মিউজিকের সাথে বাকি আর্টফর্মগুলোও তো জানা দরকার। ভবিষ্যতে মিউজিক নিয়ে কাজ তো করবোই তাছাড়া সিনেমাটোগ্রাফার হতে চাই। এই ব্যাপারে আমার ইন্সপিরেশন সাইফুল ইসলাম বাদল এবং মাকসুদুল বারী স্যার। এই দুজন আসলে ক্যামেরার প্রতি আমার মনে একটা ভালাবাসার জায়গা তৈরি করে দিয়েছেন

ছোট বেলা নাকি বড়বেলা, কোন সময়টা বেশি আনন্দের?

অবশ্যই এখন বেশি আনন্দ( হাসি দিয়ে)!! বাড়িতে সবার ছোট ছিলাম বলে সব সময় শাসনের উপর থাকতে হত। কিন্তু এখন তো কেউ তখনকার মত করে শাসন করতে পারেনা!

তার মানে তখন খুব দুষ্টু ছিলে নিশ্চয়ই?

তখন তো ছোট ছিলাম, তাই কিছু মনে নেই গম্ভীর (ভাবে)! তবে চেহারায় তো অনেক সেলাইয়ের দাগ এখনো আছে। তাই মনে হয় বেশ বাঁদরই ছিলাম! আমাদের বাড়িটা প্রায় ১০০ বছরের পুরানো। চারিদিকে অনেক গাছ, বিশাল উঠান। তখন সারাদিন উঠানে চলত দৌড়াদৌড়ি। আর গাছে উঠে ফল খেতাম। ভূত বিষয়ক একটা গুজব ছিল, এই বাড়ির নিম গাছে এক পা আর ডাব গাছে এক পা দিয়ে ভূত দাড়িয়ে থাকে! বাসায় কুকুর ছিল। ছোটবেলা থেকে আমার কুকুর প্রীতি খুব বেশি!

সেন্ট জোসেফ স্কুল এন্ড কলেজে কেটেছে অনিকের স্কুল ও কলেজ জীবন। প্রিয় ব্যান্ড পিঙ্ক ফ্লয়েড প্রিয় গায়ক লিওনার্দ কোহেন প্রিয় গিটারিস্ট ডেভিড গিলমোর।

পরিবারে আপনিই প্রথম নাকি আরও সৃষ্টিশীল মানুষ আছে?

বাড়িতে প্রচুর সৃষ্টিশীল মানুষ। বড় দাদা আবুল মাসুম মোহাম্মাদ খান ছিলেন প্রমথেশ বড়ুয়ার সহকারী পরিচালক। চাচা পরিচালক একরাম বিজু ফুপু নায়িকা নাসিমা খান বড়ভাই আসিফ খান মডেল।

বিডি ইয়ুথের পাঠকদের উদ্দেশ্যে

যা ইচ্ছা করুন, শুধু পেশা হিসাবে নয় নেশা ভেবে করুনএক সময় দেখবেন সেটা নিজে থেকেই পেশা হয়ে গেছে

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি


More news