১০ শীর্ষ-আয়ের-অভিনেতারা-দ্বিতীয়-পর্ব



রবার্ট ডাউনি জুনিয়র

খুব সংগ্রাম করেই হলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সবার পছন্দের নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। খারাপ ছেলেদের দল থেকে উঠে আসার পথটা মসৃণ ছিল নাআজ তার বৃহস্পতি তুঙ্গে। আয়রন ম্যান চরিত্রটি তাকে এনে দিয়েছে তারকাখ্যাতি। ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তার মোট আয় ছিল ৭৫ মিলিয়ন ডলার। এই আয়ের অধিকাংশই এসেছে ‘আয়রন ম্যান ৩’ থেকে।তবে তার করা মারভেলসের ‘দি অ্যাাভেঞ্জারস’ স্বীকৃতি পেয়েছে সর্বকালের সেরা তৃতীয় ব্যবসাসফল ছবি হিসেবে। ৮০ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় অঙ্কের চেক এসেছে অ্যাভেঞ্জারস: এইজ অফ আল্ট্রন থেকে। ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার থেকেও আয় হয় প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলারের মত। সব মিলিয়ে রবার্ট ডাউনির অবস্থান হলিউডে এখন বুলেটপ্রুফ। শুনা যাচ্ছে, মারভেলস স্টুডিওর পরবর্তী ছবি ‘ডিজনি’ তে অভিনয় করতে ডাউনি দাবি করেছেন বিশাল পরিমাণ অর্থ এবং মারভেলস তা দিতেও রাজি হয়েছে।

মুভি থেকে এক বছরে সর্বোচ্চ আয়: ৩১ মিলিয়ন ডলার

বিখ্যাত মুভি: আয়রন ম্যান, দি এভেঞ্জার, শার্লক হোমস

সবচেয়ে পারিশ্রমিক পাওয়া মুভি: আইরন ম্যান ৩, অ্যাভেঞ্জারস ( দুটিই ৫০ মিলিয়ন ডলার)

সবচেয়ে ব্যবসাসফল মুভি: মারভেলস দি অ্যাভেঞ্জারস (১,৫১৯,৫৫৭,৯১০ ডলার)

মুভি সহ অন্যান্য উৎস থেকে বছরব্যাপী আয়: ২৫০ মিলিয়ন ডলার

অ্যাাঞ্জেলিনা জোলি

জোলিকে চেনেনা কে বলুন তো? তার মায়াবী চোখ, অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আর ক্ষুরধার অভিনয়ের জন্য আর ৫০ বছর পরেও মানুষ তাকে ঠিক একইভাবে মনে রাখবে। ২০১৪ সালের ম্যালেফিসেন্ট মুভি তার ঝলমলে ক্যারিয়ারের আরেক সংযোজন। অন্যদিকে ১১০ মিলিয়ন ডলার বাজেটের ছবি সল্ট আয় করে ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

১৯৯৩ সালে সাইফাই ফিল্ম সাইবার্গ এ প্রথম মূল চরিত্রে অভিনয় করেন। বলা হয় জোলি এক বছরে যত আয় করেন তার অধিকাংশই ব্যয় করেন মানবতার কাজে। ব্রেস্ট ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা এই অভিনেত্রী ‘UNHCR’র অধীনে সারা বিশ্ব ভ্রমণ করেন এবং বিভিন্ন রিলিফ সংগঠনে অর্থ দান করেন। জোলি এবং তার স্বামী ব্র্যাড পিট মিলে প্রতিষ্ঠিত করেছেন জোলি-পিট ফাউন্ডেশন। টাচ ম্যাগাজিনের মতে, বছরে শিশুদের কল্যাণমূলক কাজে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেন জোলি।

মুভি থেকে এক বছরে সর্বোচ্চ আয়: ৩০ মিলিয়ন ডলার

বিখ্যাত মুভি: টুম্ব রাইডার, ওয়ান্টেড, জিয়া, সল্ট, ম্যালফিসেন্ট

সবচেয়ে পারিশ্রমিক পাওয়া মুভি: সল্ট (২০ মিলিয়ন ডলার)

সবচেয়ে ব্যবসাসফল মুভি: ম্যালেফিসেন্ট (৭৫৮,৭৩৯,৭৮৫ ডলার)

মুভি সহ অন্যান্য উৎস থেকে বছরব্যাপী আয়: ২০০ মিলিয়ন ডলার

সারাহ জেসিকা পার্কার

সেক্স অ্যান্ড সিটি টিভি শো দিয়ে পাদপ্রদীপের আলোয় আসা এরপর কো-আর্টিস্টের সঙ্গে মিলে ‘হলিউডবাজ’ নামক বিখ্যাত অনলাইন পোর্টাল গড়ে তুলেন। সেক্স অ্যান্ড সিটি মুভি হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু মজার কথা কি, সারাহ কিন্তু একটা সময়ে সেক্স অ্যান্ড সিটির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল! কারণ তিনি কখনই একটা জবে আটকে থাকা জীবন পছন্দ করতেন না! তিনি ছিলেন “জার্নিম্যান” টাইপ! তাই স্ক্রিপ্ট ভাল লাগলেই কেবল শুট করেন কিন্তু যখনই শো শুরু হয় তখনই তিনি বেরিয়ে যেতে চান। কিন্তু সেই বেরিয়া যাওয়া আর হয় নি বলে সেক্স অ্যান্ড সিটি আর সারাহ একাকার হয়ে গেছেন২০০৮ সালে এই টিভি সিরিজের মুভি আসে থিয়েটারে। প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলারের মত তার আয় হয় এই টিভি সিরিজ এবং সিনেমা থেকে। ২০১১ সালে সারাহ আর তার স্বামী ম্যাথু পার্কার সেরা ১২তম ধনী যুগল হিসেবে স্বীকৃতি পান। তাদের মিলিত আয় বছরে ১৩৫ মিলিয়ন ডলার। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত সেক্স অ্যান্ড সিটি ছিল নিউইয়র্কের টপ রেটিং সিরিজ। এই সিরিজে অভিনয় করে সারাহর ঝুলিতে জমা হয় দুইটি অ্যামি অ্যাওয়ার্ড এবং গোল্ডেন গ্লোবের মত পুরস্কার।

মুভি থেকে এক বছরে সর্বোচ্চ আয়: ৩০ মিলিয়ন ডলার

বিখ্যাত মুভি: সেক্স অ্যান্ড দি সিটি , ফেইলিউর টু লঞ্চ

সবচেয়ে পারিশ্রমিক পাওয়া মুভি: সেক্স অ্যান্ড দি সিটি ( ১৫ মিলিয়ন ডলার)

সবচেয়ে ব্যবসাসফল মুভি: সেক্স অ্যান্ড দি সিটি (৪১৫,২৫৩,৬৪১ ডলার)

মুভি সহ অন্যান্য উৎস থেকে বছরব্যাপী আয়: ৯০ মিলিয়ন ডলার

মার্ক ওয়ালবার্গ

মার্কি মার্ক থেকে মার্ক ওয়ালবার্গ হবার পথ ছিল প্রচণ্ড সংগ্রামের। ১৬ বছরে স্কুল থেকে ঝরে পড়েন মার্কি। এরপর বিভিন্ন জব শুরু করেন। খুব অল্প সময়ের জন্য ব্রাদার ডনির গ্রুপ ‘নিউ কিড’ এ অংশ হিসেবে থাকেনতারপর সৃষ্টি করেন নিজের প্যান্টড্রপ র‍্যাপার গ্রুপ ‘ফাঙ্কি বাঞ্চ’মার্কি মার্ক একইসাথে পরিচিত এবং নিন্দিত হয়েছিলেন ফাঙ্কি বাঞ্চের জন্য। নাহ! আজ আর সেই উরাধুরা টিনেজ বালকটি নেই। ‘বুগি নাইটস’ এ অভিনয় তাকে হলিউডে পরিচিতি দেয়। ‘দি ফাইটার’ এ অসাধারণ অভিনয় তাকে অস্কার দেয়নি কিন্তু তার সহকারি ক্রিশ্চিয়ান বেল এবং মেলিসিও লিওর অভিনয়কে করেছিল স্বর্ণমণ্ডিত। সেই ফিল্মটি ১৩০ মিলিয়ন ডলার আয় করে। মার্ক ওয়ালবার্গ অভিনয়ের পাশাপাশি প্রডিউস করেছেন চারটি টিভি শো। ২০১৫ সালে ফরচুন ম্যাগাজিন অনুসারে তার আয় ২২৫ মিলিয়ন ডলার।

মুভি থেকে এক বছরে সর্বোচ্চ আয়:  ২৮ মিলিয়ন ডলার

বিখ্যাত মুভি: শুটার, ফোর ব্রাদার্স

সবচেয়ে পারিশ্রমিক পাওয়া মুভি: ট্রান্সফরমার: এইজ অফ এক্সটিঙ্কশন (১৭ মিলিয়ন ডলার)

সবচেয়ে ব্যবসাসফল মুভি: ট্রান্সফরমার: এইজ অফ এক্সটিঙ্কশন (১,১০৪,০৫৪,০৭২ ডলার)

মুভি সহ অন্যান্য উৎস থেকে বছরব্যাপী আয়: ২২৫ মিলিয়ন ডলার

ব্র্যাডলি কুপার

"হ্যাংওভারএ ফিল চরিত্রে অভিনয় করে জগৎ জোড়া খ্যাতি পেয়েছেন ব্র্যাডলি কুপার। তাই খ্যাতির সাথে বেড়েছে আয়ও। ১৯৯৭ সালে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েট কমপ্লিট করেন। চেয়েছিলেন ভাল অভিনেতা হতে। তাই নিউ স্কুল ইউনিভার্সিটির অধীনে অ্যাক্টরস স্টুডিও ড্রামা স্কুলে মাস্টার্স করেন অভিনয়ের উপর। তখন থেকেই টুকটাক মডেলিংও শুরু করে দেন। টাকা পয়সা তেমন আসত না। কিন্তু এগুলোই তার প্যাশন ছিল। তার প্রথম অনস্ক্রিনে আসা দ্য স্ট্রিট সিরিজের মাধ্যমে। কিন্তু ওই সিরিজ চলেছিল খুব কম দিন। এরমধ্যেই জীবনকে গুছিয়ে নেন। শুরু করেন অভিনয়ে শিক্ষকতা। ছোট ছোট বাচ্চাদের এক্সপান্ডেড আর্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে অভিনয়ে আগ্রহী করে তুলেন। ডিসকভার চ্যানেলে হোস্ট হিসেবে কাজ পাওয়াটা তার জীবনের আরেকটি টার্নিং পয়েন্ট। ‘Extreme Treks in a Wild World’ শোটি তার পরিচিতিকে নিয়ে যায় পেরু এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায়। ফোর্বস অনুযায়ী ২০১৫ সালে সব মিলিয়ে তার আয় ৪১.৫ মিলিয়ন ডলারের মতন।

মুভি থেকে এক বছরে সর্বোচ্চ আয়: ২৮ মিলিয়ন ডলার

বিখ্যাত মুভি: দি হ্যাংওভার সিরিজ , দি এ টিম, অ্যালিয়াস, ওয়েডিং ক্র্যাশারস

সবচেয়ে পারিশ্রমিক পাওয়া মুভি: অ্যামেরিকা স্নাইপার (২০ মিলিয়ন ডলার)

সবচেয়ে ব্যবসাসফল মুভি: দি হ্যাংওভার (৪৬৭,৪৮৩,৯১২ ডলার)

মুভি সহ অন্যান্য উৎস থেকে বছরব্যাপী আয়: ৯০ মিলিয়ন ডলার


প্রথম পর্ব

সূত্র: ক্লিপডি ডটকম, স্ট্যাটিক্স ব্রেইন ডটকম, দি রিচেস্ট এবং বক্স অফিস মোজো


More news