আসছে পহেলা ফাগুন, নিজেকে রাঙ্গিয়ে তুলুন



আর মাত্র একদিন পরেই বসন্ত! প্রকৃতিতে এখনও সেইভাবে বসন্ত না এলেও, বাঙ্গালির হৃদয়কে বাসন্তী রং কিন্তু ঠিকই ছুঁয়ে যাবে

যদিও হলুদ, কমলার মত গাড় রং অনেকেরই পছন্দ না। তাই সাধারণ দিনগুলোতে আমাদেরকে এই পোশাকে কম দেখা যায়! কিন্তু বসন্ত এলে সব আলাদা! তখন চারিদিকে এই রঙগুলোই বেশি দেখা যায়! খুঁতখুঁতে মেয়েটাও নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলে হলুদ রঙ্গে রাঙ্গিয়েকেন হলুদ বা কমলা রংকেই এই সময়ে বেছে নেওয়া হয়?

এই প্রসঙ্গে অনলাইন শপ গুটিপোকার স্বত্বাধিকার আফসানা সুমী বিডিইয়ুথকে বলেন, “শীতের শেষে বসন্তের আগমন ঘটে প্রকৃতিতে। এই সময়ে প্রকৃতিতে নানান ফুলের বাহার দেখা যায়। এসময়ের বেশিরভাগ ফুলের রং থাকে হলুদ, কমলা না হয় লাল। যেমন পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়া, গাঁদা। মানুষের মস্তিস্কে এই রংগুলো গেঁথে যায় বলে মানুষ প্রকৃতির রঙয়ে সাজাতে চায় নিজেকে। যে কারণে হলুদ আর কমলাই এই সময়ের প্রধান রং”।

তবে আজকাল হলুদ বা কমলা রঙের ফ্রেমে বসন্ত আটকে নেই। বাঙ্গালির বসন্তে এখন জায়গা করে নিয়েছে ম্যাজেন্টা, সবুজ, নীল, লাল, আকাশি, সবুজ এবং বাদামী।

পহেলা ফাল্গুনের শাড়ি

শাড়ি, কুর্তা, সালোয়ার কামিজ যেকোনো পোশাকই মানিয়ে যায় বসন্তের সাজে। তবে পহেলা ফাল্গুনে সববয়সি মেয়েরা শাড়ি পরে নিজেকে সাজাতেই বেশী পছন্দ করেসাধারণত শাড়ির মধ্যে থাকে হাফ সিল্ক, সুতি, জামদানি, মসলিন এবং তাঁত।

জনপ্রিয় অনলাইন শপিং পেইজ ‘জামদানি মেলা’ বসন্ত এবং ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের সুতির জামদানি বাজারে ছেড়েছে। ট্রেন্ড অনুযায়ী লাল আর বাসন্তী রঙকে প্রাধান্য দিয়েছে। শাড়িগুলো পাবেন ৫৫০০ থেকে ৮০০০ এর মধ্যে। হাফ সিল্ক, জামদানি, এবং মসলিন শাড়িতে হ্যান্ড পেইন্টের কাজ করে বাজারে এনেছে ‘গুটিপোকাশাড়িগুলোর দাম ১৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকার মধ্যে। ‘গুটিপোকা’ হলুদ ছাড়াও হালকা সবুজ রঙয়ের শাড়ি এনেছে বসন্ত উপলক্ষে।

ফাল্গুনে বিশেষভাবে মাত্র ৪টা ডিজাইন আনা হয়েছে ‘সুইটপটেটোতে’ সুইটপটেটোর কর্ণধার রোখসানা রশিদ বিডিইয়ুথকে জানান “চার ডিজাইনের শাড়ির মধ্যে রয়েছে, তাতিদের ডিজাইনে করা হাফ সিল্ক। তাঁতিদের এবং আমার করা ডিজাইনের তাঁতের শাড়ি, রংধনু পাড়ের টাঙ্গাইলের গরদ সিল্ক আর নকশীপাড়ার কাজ করা সুতির শাড়ি”। এছাড়াও সুইটপটেটোর বিশেষ আকর্ষণ টাঙ্গাইলের অদ্ভূত বুননের শাড়ি “সাপের ছলাং” এই বসন্তে ক্রেতাদের মন কেড়ে নিয়েছে এটি

সারা মাস জুড়ে ডিসকাউন্ট, ফ্রি হোম ডেলিভারির অফার তো আছেই, শাড়িগুলোর দামও হাতের নাগালে। মাত্র ৮০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাবে সুইটপটেটোর বসন্তের বিশেষ শাড়ি।

বসন্তের গয়না

বসন্তের সাজে এখনকার দিনে সোনার গহনার চাইতে মেটাল গয়না বেশি চলছে। এখন সবার চোখ ব্যতিক্রমধর্মী মেটাল গয়নার উপর। মেটাল গয়নায় বাংলা সংস্কৃতির ছাপ আনলে দারুণভাবে তা বসন্তের শাড়ির সঙ্গে মানিয়ে যায়। “নাজ ফ্যাশন হাউজ” নামক অনলাইন শপের স্বত্বাধিকার নাজমুন নাহার জানালেন, “আমরা প্রধানত সিলভার মিক্সিং গোল্ডের মেটালিক গয়না বানাই। প্রচুর বিক্রি হয়! বসন্তের জন্য এখন আমরা ১০ পারসেন্ট করে ডিসকাউন্ট দিচ্ছি”।

গয়নাগুলোর দাম নির্ভর করে ডিজাইনের উপর। এয়ার রিং ৬০০ থেকে ২২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। মিক্সড সিলভার এবং গোল্ড প্লেটেডের সিতাহারের দাম পড়বে ৪০০০ থেকে ৫৩০০ টাকার মধ্যে। ফিঙ্গার রিং বসন্ত উপলক্ষে ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।

বসন্তে চুলের ফুলেল সাজ

বসন্তে চুলের সাজে আলাদা স্টাইল আসে। চুল খোঁপা হোক, ছাড়া হোক কিংবা বেণি করা হোক তাতে কিন্তু ফুল থাকবেই। অনেকে বসন্তের প্রতিটা দিনের সাজে ফুল বেছে নেয়। নিদেনপক্ষে পহেলা ফাল্গুনে প্রায় সবাই। এই ফুলগুলো টাটকা হওয়া জরুরী। পহেলা ফাল্গুনের দিনে গাঁদা ফুল ছাড়াও গোলাপ, অর্কিড, গ্লাডিওলাস, জিপসি, রজনীগন্ধা দিয়ে চুল বাঁধতে দেখা যায়

খোলা চুলের একপাশে ক্লিপ দিয়ে ফুল গুঁজে দিতে পছন্দ করে অনেকে এছাড়াও সামনের দিকে চুল ব্যাককোম্ব করে পিছনে লাগান যায় ফুলদুই পাশের চুল টুইস্ট করে পুরো চুল খোলা রাখলে দারুণ লাগবে।

এছাড়াও পেছনের চুলে হাত খোঁপা বেঁধে সামনে কার্ল করে চুল এলোমেলো করে রাখতে পারেন। আরেকটু ভিন্নতা আনতে কানের একপাশ দিয়ে খোঁপার কিছু চুল বের করে দিন। সামনের চুল কার্ল করতে না চাইলে টুইস্ট করে পছন্দমতো স্টাইল করতে পারেন। খোঁপার একপাশে বড় ফুল গুঁজে দিন। আবার গাঁদা বা বেলি ফুলের মালা দিয়েও জড়িয়ে নিতে পারেন খোঁপা। বেণির পুরোটা জুড়ে ছোট ছোট ফুল বা বেণির সাথে কানের পাশে একটা বড়ফুল, দুটোই বসন্তের সাজে মানিয়ে যায়। চুল ছোট হলে টারসেল ব্যবহার করতে পারেন।

বসন্তের মেকাপ

ত্বকে যদি দাগ না থাকে হালকা কমপ্যাক্ট পাউডার দিয়ে মেকাপ সেরে নিতে পারেন। তবে দাগ থাকলে ফাউন্ডেশন বা বিবি ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন বসন্তের সাজে। ফাউন্ডেশন হতে হবে লিকুইড এবং গায়ের রংয়ের সঙ্গে মিল করে। ফাউন্ডেশন ব্যবহারের আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করতে হবে। কারণ শীতের রুক্ষতার পরপরই বসন্তের আগমন, সূর্যের রোদের প্রকোপ একটু একটু করে বাড়তে থাকে এইসময়। তাই সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করে ত্বককে সহনশীল করতে হবে। ঠোঁটে গাড় রংয়ের লিপস্টিক বেশ মানায় এই সময়েচোখে ন্যাচারাল রঙের আই শ্যাডো, কাজল আর গাড় করে মাশকারা লাগাতে পারেন। এতে নিজেকে কয়েকগুণ বেশি আকর্ষণীয় লাগবে।

ব্যস! এবার শুধু পছন্দমত নিজেকে রাঙ্গিয়ে নেওয়া বাকি! সেজেগুজে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চটজলদি কয়েকটা সেলফি তুলে ফেলুন। আর মনে মনে বলুন “আকাশে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা, কারা যে ডাকিল পিছে, বসন্ত এসে গেছে”।
বিডি ইয়ুথ ডেস্ক রিপোর্ট, ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত।

More news