তরুণ লেখকদের সাক্ষাৎকারঃ “যারা পড়বে তারা কেন পড়বে?”- কালপুরুষ



বিডি ইয়ুথঃ কেমন আছেন?

কালপুরুষঃ ভালো আছি,আপনি ভালো আছেন?

বিডি ইয়ুথঃ আপনার নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন-

কালপুরুষঃ নিজের সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছু নেই। দুই বছর হলো এমবিএ শেষ করলাম। শেষ করে এখনো কোনো জব করি না, লেখালেখি করছি।

বিডি ইয়ুথঃ আপনার তো এবার দুটো বই বের হয়েছে?

কালপুরুষঃ হ্যা, একটা হচ্ছে অনুবাদ সম্পাদনা- বিশ্বকবিতাঃ নির্বাচিত অনুবাদআরেকটা হচ্ছে মৌলিক কবিতার বই- রোহিণীর জন্য একটি রাষ্ট্র

বিডি ইয়ুথঃ বইয়ের নাম করণের ক্ষেত্রে কোন চিন্তাটা কাজ করেছে?

কালপুরুষঃ “ রোহিণীর জন্য একটা রাষ্ট্র” বিষয়টা হচ্ছে- রোহিণী যদি একটা রুপক ধরি, একটা মেয়ে ধরি অথবা মনে করি যে সে একজন মানুষ যাকে সমস্ত মানুষ ভালোবাসে অথবা আমি ভালবাসি সেক্ষেত্রে আমি ভেবেছি, আমি তার জন্য একটি রাষ্ট্র তৈরী করছি। অথবা মায়ের জন্য রাষ্ট্র তৈরি করছি বাবার জন্য করছি যে রাষ্ট্রে কোন ধ্বংস নেই, বিনাশ নেই, যুদ্ধ নেই, শুধু শান্তি। এ কথা গুলোই আমি আমার বইতে বলতে চেয়েছিসেখান থেকেই এ নাম।

বিডি ইয়ুথঃ আপনার কাছে কবিতা কি বা কবিতাকে আপনি কিভাবে অনুভব করেন?

কালপুরুষঃ কবিতা আমাকে বাঁচিয়ে রাখে। খাবার আমার শরীরের প্রয়োজন মেটায় আর আত্মার খাবারটা আমাকে কবিতা দেয়। একটু বিস্তৃতভাবে বলতে গেলে- কবিতা দিয়ে সমাজকে, সমাজের মানুষকে পরিবর্তন করা যায় মানুষের মাঝে বার্তা দেয়া যায়। কবিতা মানুষের কাছে পৌছানোর সহজ একটি মাধ্যম।

বিডি ইয়ুথঃ লেখালেখির শুরুটা কবে থেকে বা লেখার চিন্তাটা আসলো কিভাবে?

কালপুরুষঃ শুরুটা বলা যায় ২০১৩ সালের প্রথম দিক থেকে। লেখার চিন্তার কথা বললে অনেক আগে যেতে হবে। ক্লাস ফাইভে রাখাল নামে একটা কবিতা ছিল। ঐ কবিতাটা পড়ার পর থেকেই আমি ছড়া লিখতে শুরু করি। এরপর মাঝে মাঝেই লিখতাম। তারপর মাঝখানে অনেকদিন আর লিখালেখি কার হয়ে ওঠেনি২০১৩ সালে প্রথম আলো ব্লগে গিয়ে আবার লিখাটা শুরু করি। দেখলাম অনেক পাঠক পড়ছে। তাদের কাছে পৌছানো যাচ্ছে। তখন ধীরে ধীরে মনে হলো, আমি লিখতে পারি লিখা দিয়ে মানুষের কাছে যেতে পারি। যে কথাগুলো আমি বলতে চাই, সেগুলো তাদের বলতে পারি। তারপর প্রফেশনালি চিন্তা করলাম আমি লিখব আসলে তা নয় আমি লিখতে চাইতাই প্রফেশনালি চিন্তা করলাম তখন কবিতা দিয়ে শুরু করেছিলাম, এখনো কবিতাই লিখছি। সামনে প্রবন্ধ লিখতে চাই, গদ্য লিখতে চাই,উপন্যাস লিখতে চাই।

বিডি ইয়ুথঃ আপনার প্রিয় কবি কে? আপনার কবিতা লেখার পেছনে অনুপ্রেরণা কে বা কি ছিল?

কালপুরুষঃ প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশ। উৎসাহ সর্বপ্রথম আমার মা। তারপর জীবনানন্দ

বিডি ইয়ুথঃ ভবিষ্যতে কি শুধু কবিতাই লিখবেন? নাকি অন্য কিছু লেখারও ইচ্ছা আছে?

কালপুরুষঃ আগামী বছরের জন্য উপন্যাসই চিন্তা করছিনাম এখনো ঠিক হয়নি, প্লট ঠিক হয়েছে, চিন্তা ভাবনা চলছে। বইমেলা শেষে লেখা শুরু করবোচেষ্টা করবো আগামী বইমেলায় যাতে প্রকাশ করা যায়

বিডি ইয়ুথঃ পাঠকের কাছে কবির দায়বদ্ধতা কি রকম?

কালপুরুষঃ অন্য কারো কথা বলতে পারেবো না আমার ব্যাপারটা বলতে পারি আমি যা লিখি তা আমার জন্যই লিখি। আমার ভালো লাগার পর যখন প্রকাশ করার পর্ব আসে, সেটাই পাঠকের কাছে দায়বদ্ধতা মনে করিযারা পড়বে তারা কেন পড়বে? তাদের ভালো লাগতে হবে, তাদের দুঃখ পেতে হবে। আর কিছুক্ষণ ভাবতে হবেচিন্তার মধ্যে এমন কিছু ঢুকতে হবে যাতে সে অনুভব করবে আমি ভালো আছিএই অনুভূতি দেয়ার একটা দায়বদ্ধতা থাকে

বিডি ইয়ুথঃ বর্তমানে লেখা-লেখির পেছনে ব্লগ বা সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকাকে কিভাবে দেখছেন?

কালপুরুষঃ খুব ভালোভাবেই দেখি। ব্লগ বা সোশ্যাল মিডিয়া বড় একটা ভূমিকা পালন করছেকিন্তু আমি চাই, প্রিন্ট যেন না হারিয়ে যায়ইতিমধ্যেই মানুষের কাছে পিডিএফ, ই-বুক রিডার চলে এসেছেতারা মনে করছে, এভাবে পড়লে খারাপ না। কিন্তু বইয়ের কাটতি প্রতি বছর কমে যাচ্ছে। মানুষ বই কিনতে টাকা খরচ করতে চাচ্ছে না। এতে প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছেবই সে হারে প্রকাশিত হচ্ছেনালেখকরাই হারিয়ে যাচ্ছে লেখকই যদি না থাকেন তাহলে পাঠকরা পিডিএফ বা ই-বুক কোথা থেকে পড়বেন?

বিডি ইয়ুথঃ এবারের বই মেলা কেমন দেখছেন?

কালপুরুষঃ ভালো। আগের দুই তিন বছরের চেয়ে বেশ ভালো। আগের চেয়ে মানুষ বেশি। তবে আমার মনে হয় বাংলা একাডেমীর লিটল ম্যাগ চত্বরটা উদ্যানে নিয়ে একত্রিত করলে ভালো হতো।

বিডি ইয়ুথঃ পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন-

কালপুরুষঃ সততার সাথে থাকুনযে লেখা গুলো পড়ছেন তা বোঝার চেষ্টা করুন শুধু পড়ার ভিতরে সীমাবদ্ধ না থেকে জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করুন আর অবশ্যই, মেলায় আসুন বই কিনুন

বিডি ইয়ুথঃ কথা বলার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

কালপুরুষঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি

জন্মঃ ১৬ই আগস্ট, ১৯৮৭ইং

জন্মস্থানঃ বরিশাল জেলার তালাপ্রাসাদ গ্রাম।

পড়াশুনাঃ বিবিএ,এমবিএ জগ্ননাথ বিশ্ব্যবিদ্যালয়।

বর্তমান পেশাঃ সাহিত্য রচনা ও অনুবাদ।

প্রকাশিত বই সংখ্যাঃ ৩

ফেসবুক আইডিঃ Kalpurush Kafka

কালপুরুষের বই দুটি পাওয়া যাচ্ছে- ঘাসফুল প্রকাশণী, বই মেলায়-১৩৭ নং স্টলে।

বিশেষ প্রতিনিধি


More news