ফ্রিল্যান্সিং জগতে আপনি কিভাবে পা রাখবেন?



ফ্রিল্যান্সিং জগতে কোন দেশ কেমন অবস্থানে আছে তা নির্ণয় করা হয় বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে। তবে বাংলাদেশের এই অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে- বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা সপ্তাহে কত ঘণ্টা কাজ করে তার উপরে।

এই বিষয়টি তুলে আনার জন্য জরিপ করে পাইওনিয়ার(বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্স টাকা আদান-প্রদানের মাধ্যম)। ২০১৫ সালে ২৩,০০০ ফ্রিল্যান্সদের নিয়ে এই জরিপ করা হয়। জরিপে যে শুধুমাত্র এই বিষয়টি তুলে আনা হয়েছে তা নয়। আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে আনা হয়েছে। যেমন- ফ্রিল্যান্সিংয়ে কি কি ধরনের কাজ পাওয়া যায় কোন কাজে কি পরিমাণ টাকা আয় করা যায় কাজ কোথা থেকে পাওয়া যায় কোন যোগাযোগ মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কাজের প্রচার করে ইত্যাদি ইত্যাদি

এই জরিপের উপর ভিত্তি করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো। এতে ফ্রিল্যান্স সম্পর্কে আপনার মনে আসা গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের অবসান ঘটবে।

ফ্রিল্যান্স কি?

ফ্রিল্যান্সিং বলতে আসলে কোন ব্যক্তি বা কোম্পানির সাথে চুক্তিতে কাজ করাকে বোঝায়তবে সহজ করে বললে, যে কাজের মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই বিদেশি টাকা আয় করতে পারবেন! কাজ করার মাধ্যম ইন্টারনেট। 

আর কাজ শেষে টাকা? আপনার নিজস্ব অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাবে। সব থেকে মজার বিষয় হলো, এই সেক্টরে আপনি আপনার স্বাধীনতা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন। বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখে আপনার পছন্দ এবং আপনি দক্ষতা অনুযায়ী ঐ বিজ্ঞাপন দাতার সাথে চুক্তিতে কাজ শুরু করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে আয়

ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ঘণ্টা হিসেবে। অর্থাৎ আপনি যত ঘণ্টা কাজ করবেন তার উপর নির্ভর করবে আপনার আয় কত ডলার হবে।

যদি কোন কাজের মূল্য ঘণ্টা প্রতি ২০ ডলার হয়। তাহলে ৩ ঘণ্টা কাজ করে মাত্র ১ দিনেই আয় করতে পারবেন ৬০ ডলার! তবে সব কাজে একই আয় করা যায় না। কাজের ধরন অনুযায়ী আয়ও হয় ভিন্নতর যেমন-লিগাল কাজে সবচেয়ে বেশি আয় করা যায়। গড়ে প্রায় ৩১ ডলারের মত। অন্যদিকে লেখা বা অনুবাদে আয় করা যায় একটু কম, ১৭ ডলারের মত।

এছাড়াও, আরও বিভিন্ন খাতে বিভিন্ন রকম আয় করা যায়-

আইটি এবং প্রোগ্রামিং

এই ফিল্ডে আপনি বিভিন্ন কাজ পাবেন। যেমন- মোবাইল, ওয়েব কিংবা ডাটাবেস প্রোগ্রামিং থেকে শুরু করে ডেভেলোপারের কাজ। এই কাজ করে আপনি ঘণ্টায় ২০ থেকে ২৩ ডলারের মত আয় করতে পারবেন।

ডিজাইন এবং মাল্টিমিডিয়া  

মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডিজাইন বিভিন্ন কাজ পাবেন এই খাতে। এই কাজ করে প্রতি ঘণ্টায় আপনি ২১ থেকে সর্বচ্চ ২৫ ডলার আয় করতে পারবেন।

রাইটিং এবং অনুবাদ

বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট লিখা, ওয়েব কন্টেন্ট লিখা, অনুবাদ, গবেষণা ইত্যাদি লিখার কাজ পাওয়া যায় এই অংশে। এই ধরনের কাজ করে আপনি সর্বোচ্চ ১৯ ডলারের মত আয় করতে পারবেন।

সেলস এবং মার্কেটিং

সিইও, সোশ্যাল মিডিয়া, মিডিয়া বায়িং, সেলস বিভিন্ন ধরনের কাজ পেতে পারেন এই খাত থেকে। যেখানে আপনি ২০ থেকে প্রায় ২৪ ডলারের মত আয় করতে পারবেন।

ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যানুফেকচারিং

কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রোডাক্ট ডিজাইন, টেলিকমনিকেশন সহ বিভিন্ন ধরনের কাজ পাওয়া যায় এই ফিল্ডে। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এ সব থেকে বেশি প্রায় ২৬ ডলারের মত আয় করা যায়।

ফিন্যান্স এবং ম্যানেজমেন্ট

বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, একাউন্টিং বিভিন্ন কাজ পাওয়া যায় এই ফিল্ডে। যাতে ২১ থেকে প্রায় ২৪ ডলার আয় করা যায়।

লিগ্যাল

সবচেয়ে বেশি আয় করা যায় এই খাতে। কনসালটেন্সি, কন্ট্রাক্ট সহ বিভিন্ন ধরনের লিগ্যাল এডভাইসরের কাজ করা যায় এই খাতে। আর তাতেই আয় করা যায় ২৮ থেকে সর্বচ্চ ৩৩ ডলার।

ফ্রিল্যান্সারদের কাজের সীমা

সন্দেহ নেই, ফ্রিল্যান্সিং এখন ব্যাপক জনপ্রিয়। অনেকেই এখন এই কাজে ব্যাপক সময় পার করছেন তবে কোন দেশের ফ্রিল্যান্সাররা কত ঘণ্টা কাজ করে তা তুলে আনার জন্য পাইওনিয়ার উত্তর আমেরিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্য প্রাচ্যের ১৭ টি দেশে তাদের  গবেষণা চালায়। গবেষণায় দেখা যায়- ফিল্যান্সাররা সপ্তাহে (৫ কার্য দিবস) গড়ে ৩৬ ঘন্টা কাজ করে। মানে দিনে ৭.২ ঘণ্টা। ভাবুনতো, আপনি যদি ৩০ ডলারের কোন কাজ পান। তাহলে দিনে প্রায় ১৭ হাজার টাকার মত আয় করতে পারবেন। আর মাসে? বিশাল টাকা!! প্রায় ৪৫০০০০ লাখ!!!!

ফ্রিল্যান্সিং কাজে সবার উপরে কেনিয়া। সপ্তাহে গড়ে প্রায় ৪২.৬ ঘন্টা। দ্বিতীয় অবস্থানেই আছে মিশর(সপ্তাহে ৩৮.৫ ঘন্টা)। আমাদের পাশের দেশের (ভারত) অবস্থানও খুব ভাল। ওখানকার ফ্রিল্যান্সাররাও ৩৭.৪ ঘন্টা কাজ করে। এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন, আমাদের দেশের কি অবস্থা?

অনেক ভাল। আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্সাররাও অনেক সময় কাজ( ৩৫.৯ ঘন্টা) করে দেশের জন্য বয়ে আনছে বৈদেশিক মুদ্রা। আমাদের পরেই আছে শ্রীলংকার (৩৫.১ ঘন্টা) অবস্থান।

পাইওনিয়ারের এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য নাকি সবার অবস্থা তুলে ফ্রিল্যান্সিং জগতে আরও বেশি প্রতিযোগিতা তৈরি করা। তাহলে বুঝতেই পারছেন, বাংলাদেশের অবস্থান আরও উপরে তুলতে আপনার অংশগ্রহণও জরুরী।

কাজ পাওয়ার মাধ্যম

ঘন্টা হিসেবের পরে এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন এত কাজ কিভাবে পাওয়া যায়? কাজ পাওয়া যায় বিভিন্ন মাধ্যমে। যেমন-অনলাইন কিংবা সরাসরি ক্লাইন্টের সাথে যোগাযোগ করে। নিচে একটা গ্রাফের মাধ্যমে দেখানো হল-শতকরা কি পরিমাণ কাজ কোথা থেকে পাওয়া যায়।

তাছাড়াও, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ফ্রিল্যান্সাররা তাদের দক্ষতার প্রচার করে কাজ পেয়ে থাকেন। যেমন- ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি। ফেসবুকে সব চেয়ে বেশি (৩৮%) প্রচারণা দেখা যায়। সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে- আপনি চাইলে একই সাথে দুই বা তার বেশি কাজ করতে পারবেন। পাইওনিয়ারের গবেষণায় দেখানো হয়- প্রায় ৮০% ফ্রিল্যান্সাররা একই সাথে প্রায় তিনটি কাজ করে থাকে। একই সাথে আয় করে প্রচুর টাকা।

আপনিও চাইলে শুরু করতে পারেন ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার। ঘরে বসেই আয় করতে পারেন বিদেশি ডলার!!!

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাইওনিয়ার ফ্রিল্যান্স ইনকাম সার্ভে(২০১৫) অবলম্বনে

More news