কিভাবে নিজেকে লক্ষ্যে স্থির রাখবেন??



ভালো রেজাল্ট, চাকরিতে প্রমোশন, বিসিএস ক্যাডার, যেকোনো ছোট বড় অর্জনের পূর্বশর্ত হচ্ছে নিজের লক্ষ্যে স্থির রাখা ইন্টারনেটে হাজার হাজার বন্ধু, বুক শেলফে চোখ গেলে শতশত বই, আনলিমিটেড মুভি এসব ছাড়িয়ে নিজেকে লক্ষ্যে স্থির রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কিন্তু একটু মাথা খাটালে এই চ্যালেঞ্জ জয় করতে পারবেন আপনি নিজেও

·  বর্তমানে সবারই আছে কমবেশি রাত জাগার অভ্যাস তাই প্রথমেই ঠিক করে নিন যে, কোন কাজটা দিনে করবেন আর কোন কাজটা রাতে আলো আর অন্ধকারের কাজ ঠিক করে নিলে দেখবেন, চোখের সামনে যখন হঠাৎ করে অন্ধকার আসবে তখন ঠিকই আলো খুঁজে পাবেন!!

·  ট্রাফিক জ্যামে বসে থাকতে হয় সবাইকেই বেশ লম্বা একটা সময় সাথে তো অবশ্যই এয়ারফোন আছেযদি অফিস বা ক্লাসে যাওয়া আসবার সময়টুকু নিজের ওয়াচিং লিস্টের মুভিটা দেখে ফেলা যায় তাহলে কিন্তু বাসায় এসে বেশ অনেকটা সময় বাঁচে গাড়িতে বসে ঘুমানোর বদ অভ্যাস বাদ দেয়ার এটাই মোক্ষম সুযোগ কারণ দিনের অবেলার ঘুমই কেড়ে নেয় আপনার রাতের ঘুম

· সারাদিনের রুটিন আপনাকে তৈরি করে নিতে হবে রুটিন মানে টিপিক্যাল ৩টায় ঘুম আর সাড়ে তিনটায় পড়া নয়!! নিজের উপর চাবুক পেটানোর দরকার নেই। রুটিনটি করুন ফ্লেক্সিবল স্টাইলে। অফিসের কাজ, চাকরির পড়া, বিসিএসের পড়া, ক্লাসের পড়া, গিটার অনুশীলন, আবৃত্তি এভাবে যার যার নিজের কাজ নিজের মত ভাগ করে নিতে হবে কোন বিষয়কে কতটুকু গুরুত্ব দেবেন সেটা আপনাকেই ঠিক করতে হবে।

· পছন্দের বন্ধু বা মানুষের সাথে প্রতিদিন অন্তত আধঘন্টা হলেও কথা বলতে হবে, ভালো হয় সেটা যদি সরাসরি দেখা করে করা যায় তার সাথে নিজের দোষ-ত্রুটি আলোচনা করে পরামর্শ নিলে দেখবেন অনেক কিছুই সহজ হয়ে যাচ্ছে

· BCS, GRE, IELTS এসব প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা যারা দিবেন তাদের খেয়াল রাখতে হবে, একদিনও যেন পড়াশোনা মিস না হয় অন্ততপক্ষে আধঘণ্টা হলেও পড়তে হবে যদি খুব ব্যস্ত থাকেন কারণ যেসব কাজে প্রেশার বেশি, মস্তিষ্ক সেসব কাজ ভুলে যেতে চায় আর আপনি সুযোগটা করে দিলে মস্তিষ্ক ঠিকই তা লুফে নিবে!!

· প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের কাছে নিজেকে মডেল টেস্ট দিতে হবে আপনার আজকে কোন কোন কাজ করবার ছিলো আর কি কি করলেন এমন জবাবদিহিতার সেশন চালু করলে দেখবেন বিবেকের আদালতে দাঁড়াতে আর ভয় করছে না

·  বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী, মোটিভেশন রিলেটেড আর্টিকেল, ঈশপের গল্প এসব সব সময়ই কাজ করে টনিকের মত অভ্যাস না থাকলে চেষ্টা করে দেখতে পারেন

· নিজেকে পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা রাখুন যেমন আজকে আমি এতটুকু পড়া শেষে এই খাবারটা খাব কিংবা যদি আমি আজকে এই পড়াটা শেষ করতে পারি তাহলে বন্ধুদের সাথে সিনেমা দেখতে যাবো!! দেখবেন পুরস্কারের প্রত্যয়ে লক্ষ্যের প্রকৃতিটা নিজেই ধরা দিচ্ছে

· যেসব মানুষের সাথে কথা বললে আপনি হতাশ হয়ে যান তাদের সংসর্গ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন নিয়মিত পড়ালেখার ক্ষেত্রে সিক্যুয়েলযুক্ত মুভি কিংবা সিরিজ উপন্যাস এসব পরিহার করুন কারণ প্রস্তুতিকালীন সময়ে মস্তিষ্কে প্রশান্তি দরকার, চাপ নয়

· আরও ভালো হয়, উপন্যাসের বদলে বেছে নিন ছোটগল্প আর সবচেয়ে ভালো হয় কবিতা একটা চ্যাপ্টার শেষ করে যদি একটা ছোটগল্প বা কবিতা পড়েন দেখবেন মস্তিষ্ক চট করে চাঙ্গা হয়ে গেছে চায়ের অভ্যাস থাকলে এক কাপ চা নিলে দেখবেন যে, চায়ের ধোঁয়ার আড়ালে নিজের লক্ষ্যকেই দেখতে পাচ্ছেন!!

সবশেষে 'আমি পারবো' আর 'আমিই পারবো' কথা দুটো মনে রাখবেন সব সময় কারণ প্রতিযোগিতার এই বাজারে লক্ষ্য স্থির রাখবার লড়াইটা শুধু প্রয়োজনই নয়, আপনার অস্তিত্বের

বিশেষ প্রতিনিধি

More news