আমেরিকায় কম্পিউটার সাইন্সে মাস্টার্স এবং পেইড ইন্টার্নশিপের সুযোগ



আপনি কি কম্পিউটার সাইন্সে অনার্স করেছেন? কিংবা কম্পিউটার সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়ে (যেমন- সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং) ইত্যাদিতাহলে এই সুবর্ণ সুযোগ কেবল আপনার জন্যই। পাচ্ছেন, আমেরিকার  “Maharishi University of Management” কম্পিউটার সাইন্সে মাস্টার্স করার সুযোগ এতেই শেষ নয়! সেই সাথে আছে Microsoft, Cisco, Amazon, Oracle এর মত আমেরিকার নামিদামী কোম্পানিতে পেইড ইন্টার্নশিপের সুযোগ!! প্রচুর টাকা আয় করারও সুযোগ আছে!!!

বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি ইউনিক প্রোগ্রাম চালু করেছে। যার মাধ্যমে আপনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সাইন্সে মাস্টার্স করে পাবেন ইন্টার্নশিপের সুযোগ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সাইন্সে মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার পর শিকাগোর কাছে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুই সেমিস্টার ক্লাস করতে হবে। এরপর আপনি সর্বোচ্চ দুই বছর Software developer হিসেবে পাবেন পেইড ইন্টার্নশিপের সুযোগ

উপরোক্ত কোম্পানিগুলো ছাড়াও ৫০টিরও বেশি নামিদামী টেকনোলজি কোম্পানিতেও ইন্টার্নশিপের সুযোগ থাকছে যদিও ইন্টার্নশিপে আপনি কত টাকা আয় করবেন, তা আপনার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করবে। কিন্তু প্রথম বছরে আপনি প্রায় ৬৫,০০০ থেকে ৭৫,০০০ হাজার ডলারের (প্রায় ৫০ -৫৭ লাখ টাকা) মত আয় করতে পারবেন। ইন্টার্নশিপের সময় অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শেষ করতে পারবেন বাকী একাডেমিক পড়াশুনা

স্টাডি কোর্সেস

একাডেমিক সেশনে সফটওয়্যার সিস্টেম এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত পড়াশুনায় বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। বিশেষত অপারেটিং সিস্টেম, নেটওয়ার্কিং, ডাটা ম্যানেজমেন্ট এবং বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ অ্যাপ্লিকেশন ক্ষেত্রগুলোতে।

প্রোগ্রামের খরচ

মাস্টার্সের টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া সহ চিকিৎসা খরচ, এমনকি ইন্টার্নশিপের সময় পর্যন্ত সমস্ত  খরচ মিলিয়ে আপনাকে প্রায় ৩৫,০০০ হাজার ডলারের মত ব্যয় করতে হবে (প্রায় ২৬ লাখ টাকা)চিন্তার কোন কারণ নেই। যারা এ ব্যয়ভার বহন করতে সক্ষম নয় তাদের জন্য “Computer Professionals Loan” নামে একটি ঋণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা হয়

পরে ইন্টার্নশিপে পাওয়া টাকা দিয়ে মাসিক ,৩০০ ডলার করে শিক্ষার্থীরা এই ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন আপনিও চাইলে এখান থেকে ঋণ নিয়ে পড়াশুনার খরচ চালাতে পারবেন তবে ভর্তি সংক্রান্ত রেজিস্ট্রেশনের সময় শিক্ষার্থীদের ৩,৫০০ থেকে ৮,০০০ ডলার ( .-.১ লাখ টাকা প্রায়) সাথে সাথেই পরিশোধ করতে হয়। আপনার রেজাল্ট, দক্ষতা, অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে আবেদনের সময় বলে দেয়া হবে আপনার রেজিস্ট্রেশন ফি কত হবে?  

আবেদনকারীর যোগ্যতা

এই সুযোগটি লুফে নিতে আপনাকে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে-

১। শিক্ষাগত যোগ্যতা:

শিক্ষার্থীকে কোন স্বীকৃত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় হতে কম্পিউটার সাইন্সে অথবা সম্পর্কিত বিষয়ে . ৩ কিংবা ৪ বছরের অনার্স ডিগ্রিধারী হতে হবে।

. ৪ স্কেলে কমপক্ষে ২.৭ সিজিপিএ থাকতে হবে।

২। কাজের দক্ষতা:

. যদি আপনি ৪ বছরের অনার্স ডিগ্রি করে থাকেন, তাহলে আপনাকে অন্তত ৬ মাসের কাজের অভিজ্ঞতা দেখাতে হবে।

. কিন্তু যদি আপনি ৩ বছরের অনার্স ডিগ্রি করেন, তবে আপনার নিদানপক্ষে ৩ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

৩। প্রোগ্রামিং ভাষা

C, C#, C++ or Java এই প্রোগ্রামিং ভাষা সম্পর্কে আপনার বেশ ভাল ধারণা থাকতে হবে যদি সবগুলোতে না থাকে তাহলে অন্তত একটিতে অবশ্যই বিশেষ দক্ষ হতে হবে

৪। ইংরেজিতে দক্ষতা

যেহেতু আমেরিকাতে ইংরেজিই হবে আপনার প্রধান ভাষা। তাই ইংরেজি পড়া, ইংরেজিতে ভাল বলতে পারা, এক কথায় ইংরেজিতে আপনাকে বেশ দক্ষ হতে হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া

আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। http://apply.computerprofessional.org এই ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনি আবেদন করতে পারবেন। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি, মে, জুলাই এবং অক্টোবর মাসে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। তবে নন-আমেরিকানদের জন্য ২০১৬ সালে এপ্রিল, আগস্ট এবং অক্টোবর মাসে রয়েছে ভর্তির সুযোগ। আপনার সুবিধা অনুযায়ী যেকোন সময় আবেদন করতে পারেন।

টেস্ট

আবেদন করার পর যদি আপনাকে যোগ্য মনে করা হয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জানানো হবে। এরপর আপনাকে অনলাইনে টেকনিক্যাল দক্ষতার প্রিলিমিনারি টেস্ট দিতে হবে। কর্তৃপক্ষের সাথে ফোনে কথা বলে দিতে হবে ইংরেজি দক্ষতার পরিচয়সকল পরীক্ষার মার্কশীট সহ আপনার কছে যে সব কাগজপত্র চাওয়া হবে, সবকিছু পাঠাতে হবে।

সকল যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই কেবল আপনি পাবেন ভর্তি হওয়ার সুযোগ।

ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে ভিজিট করুন http://www.mscs.mum.edu ওয়েবসাইটে

অথবা -মেইল করতে পারেন- info@computerprofessional.org এই ঠিকানায়

তথ্যসূত্র- কম্পিউটার প্রফেশনাল ডট ওআরজি  


More news