“অমিতাভ রেজার ফিল্ম” এইটা দেখানোর জন্য কখনো ফিল্ম বানাতে চাইনি: অমিতাভ রেজা



Half Stop Down এর অফিসে যখন BDYOUTH টিম পৌঁছাই তখন ঘড়ির কাটা সাড়ে চারটা ছুঁই ছুঁই। বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনের ভাষাকে আমূলে বদলে ফেলেছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন আর নাটক ছেড়ে এখন তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশের সিনেমা বদলে দেওয়ার। হ্যাঁ, অমিতাভ রেজা চৌধুরীর কথাই বলছি। সম্প্রতি তার পরিচালিত আয়নাবাজি মুভিটি এক নতুন উন্মাদনা জন্ম দিয়েছে দর্শকদের মধ্যে।

১০ মিনিট অপেক্ষা শেষে আমাদের ডাক পড়লো তার সঙ্গে দেখা করার। ঘরে ঢুকেই পেয়ে গেলাম তাকে যার আয়নাবাজি হয়ত ঠিক এই মুহূর্তে দেশের বিশটির অধিক প্রেক্ষাগৃহে বিস্ময় ভরে উপভোগ করছে দর্শক।  ঘরটার চারপাশে একটু তাকালাম। দেখি টেবিলের বিপরীত পাশে একটা চার্লি চ্যাপলিনের পাপেট আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। রেকর্ডার অন করে কথা শুরু করলাম।

আয়নাবাজির এত বিশাল রেস্পন্স! বহু কষ্টে টিকিট পেতে হচ্ছে। অথচ ফেসবুকের বাইরে তেমন একটা প্রমোশন ছিলই না!

আমি তো বলবো আমরা খুব strategically প্রমোশনটা করেছি। কখন একটা গান দিতে হবে, কখন ট্রেইলার দিতে হবে, কখন একটা ইন্টারভিউ দিতে হবে এসব খুব প্ল্যান নিয়ে করেছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমাদের প্রমোশন ম্যাটেরিয়ালসের মধ্যে মানুষ এক ধরনের নতুনত্বের স্বাদ পেয়েছে।

এক বছর আগে যখন ছবি বানানোর announcement দিয়েছিলাম সেখান থেকে শুরু করে চঞ্চল ভাইকে ডিফারেন্ট ভূমিকায় এনে জার্নালিস্টের সঙ্গে বসানো, ফার্স্ট লুক, অর্ণবের গান রিলিজ দেওয়া সবকিছুর মধ্যেই কিছু না কিছু ইন্টারেস্টিং জিনিস ছিল। আর এর ফলেই ছবি মুক্তির আগে আয়নাবাজি নিয়ে মানুষের মধ্যে বিশাল এক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল। সেজন্য প্রথম দিনেই অনেক মানুষ ছবিটা দেখতে গেছে।

প্রথম দিন তো টিকিট পাই-ই নি অনেকেপরের দুদিনেও পাওয়া যাচ্ছে না অনেক হলে। কেমন লাগছে এই রেস্পন্স?

প্রথম দিন দেখার পর যেটা হয়েছে মানুষ হতাশ হয়নি। দেখার পর সবার ভালো লেগেছে। আর এই ভালো লাগাটাই জানিয়ে দিচ্ছে পিপলস চিটেড ফিল করেনি। এই কারণেই মানুষ আগ্রহ নিয়ে এখনো দেখছে। দেখছে, একসেপ্ট করছে, আমি যা বলতে চেয়েছি সেটা শুনছে! এসব শুনে আসলেই খুব ভালো লাগছে।

চিলড্রেন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে একটা ওয়ার্কশ করিয়েছিলেন আপনি তখন অবশ্য ট্রেইলার মুক্তি পায়নি। সেই সময়ে কি এতটা আশা করেছিলেন! আয়নাবাজিকে দর্শক এভাবে গ্রহণ করবে?

মুহূর্তে দর্শক কতটুকু আমার ফিল্ম নিবে সেই ভাবনা আমার মাথাতেও ছিল না। আমি ভেবেছিলাম কোন প্রকার ফাঁকিবাজি ছাড়া, নিজের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে, যতটুকু পারি একটা ভালো ফিল্ম বানানোর চেষ্টা করবো

আপনি তো ইকোনমিক্সের স্টুডেন্ট ছিলেন! সেইখান থেকে ফিল্মে আসা...

ইকোনমিক্সের স্টুডেন্ট তো অনেক আগে! ২০ বছর আগে ছিলাম!

সেইখান থেকে এই জগতে কিভাবে এলেন তা একটু জানতে চাচ্ছিলাম?

ফিল্ম ইন্সটিটিউট তো বলতে গেলে ওভাবে নেই। বাংলাদেশে তো আরও নেই। ইন্ডিয়াতে আছে FTII ওয়ার্ল্ডে প্রায় সব ফিল্ম ইন্সটিটিউট আন্ডারগ্র্যাড। পুনে ফিল্ম ইন্সটিটিউটই হচ্ছে পোস্টগ্র্যাড। সেখানে পড়তে হলে আগে গ্র্যাজুয়েশন করতে হবে।

সাউন্ড বা সিনেমাটোগ্রাফি পড়তে চাইলে সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলে আরও ভালো। আর ডিরেকশনে যেকোনো সাবজেক্টে অনার্স থাকলেই চলে। আমি যখন ১৯৯২ সালে বের হই, তখন আসলে ফিল্মে কেউ পড়বে এমনটা ভাবাই যেতো না! বিটিভি ছাড়া তখন কোন চ্যানেলই ছিল না। আমি মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছি। সেখানেও ফিল্মের চর্চা ছিল না।

আবার ওদিকে ফিল্মে পড়তে যাওয়া প্রচুর খরচ। পুনেতে যদি কেউ স্কলারশিপ পায় তাহলে ভিন্ন কথা। নাহলে ওয়ার্ল্ডে সবখানেই ফিল্ম নিয়ে পড়তে যাওয়া ভীষণ এক্সপেন্সিভসিনেমার স্কলারশিপও আবার কম দেয়া হয়। আমার সামর্থ্য ছিল না ফিল্ম নিয়ে পড়ার। বাবা মায়ের ইচ্ছা ছিল ভালো কোন সাবজেক্টে পড়ি। তাই ইকোনমিক্সে পড়তে যাই।

তাহলে ফিল্ম মেকিং এ আগ্রহটা এলো কি করে

পুনেতে ইকোনমিক্স পড়তে গেলাম। কিন্তু প্রায় সময়টাই আমার ফিল্ম ইন্সটিটিউটের আশেপাশেই কাটতোপ্রায় তিন বছর কোন প্রকার enrolled student না হয়েও আমি পেছনের বেঞ্চে ক্লাস করেছি, ফিল্ম ইন্সটিটিউটের এদিকে সেদিকে ঘুরেছি। একটা এক মাসের কোর্স করেছিলাম। Film Appreciation কোর্স। চলচ্চিত্র রস আস্বাদন। খুব ভালো ছিল কোর্সটি। ওখানে প্রায় ১০০-২০০ ছবি দেখানো হয়েছিল।

দারুণ তো! একমাসেই ১০০ ফিল্ম!

মজার ব্যাপার ছিল, কোর্সটা কিন্তু ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ছিল। চিন্তা করুন, ভারতবর্ষে প্রতি বছর বিভিন্ন প্রফেশনের মানুষকে এই Film Appreciation কোর্সটি করানো হয়। গত ৩০ বছরে তার মানে কতো Film Appreciator  ছড়িয়ে গেছে সেখানে!

কোর্সটিতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ফিল্ম ইন্সটিটিউট এর ফিল্ম স্ক্রিনে ফিল্মগুলো দেখানো হয়। আমি ওখানে পথের পাঁচালী বেস্ট স্ক্রিন দেখেছি। পথের পাঁচালী নিয়ে সবচেয়ে ভালো বলতে পারে সতিশ বাহাদুরের মত টিচাররা। সেখানে তারা কোর্সটা নিয়েছেন।

ভেবে দেখুন একজন ব্যাংক কর্মচারি, একজন ডাক্তার, একজন আর্মি অফিসার। কেউ এই কোর্সটা করলো! তার ভিতর আপনা আপনি একটা চলচ্চিত্রবোধ তৈরি হবেহবে কিনা বলু?

বাংলাদেশ থেকে এই কোর্স করা যায়?

এই কোর্স যে কেউ করতে পারে বাংলাদেশ থেকে। অ্যাপ্লাই করতে হবে।

আপনার কথা শুনে যতটুকু বুঝতে পারছি, কোর্সটি মানুষকে সিনেমা জিনিসটা ঠিকঠাক বুঝাবে

আমার কাছে এই কোর্সটি তরুণদের জন্য সিনেমা বা অন্য কোন আর্টের জন্য একটা Primary think tankফিল্ম বানানো অনেক পরের ব্যাপার, আগে ভালো সিনেমা appreciate করতে শিখতে হবে। ক্রিশ্চিয়ান মিথে ফিল্ম ল্যাংগুয়েজকে বলা হয় quasi language অর্থাৎ ভিজুয়ালাইজের মাধ্যমে কোন কিছু বর্ণনা করা। আগে তো এই ল্যাংগুয়েজ শিখতে হবে।

সিনেমা ল্যাংগুয়েজ শেখার সঠিক প্রসেসটা আসলে কি?

বাংলা ভাষা আমরা কথা বলতে বলতেই শিখে ফেলি। কিন্তু সিনেমা ল্যাংগুয়েজ শেখার জন্য আমাকে প্রচুর মুভি দেখতে হবে। আমার কাছে ঢালিউড, বলিউড, হলিউড সিনেমাগুলোই আমাদের ল্যাংগুয়েজ শেখার জায়গা।

এখন আমি যদি অন্য ল্যাংগুয়েজে সিনেমাটি বলতে চাই, তাহলে সেটা তো আমি পড়তে পারি না! আর ওখান থেকেই আর্ট ফিল্ম, কমার্শিয়াল ফিল্মের এই চক্র সৃষ্টি হয়েছে। সিনেমা একটা ল্যাংগুয়েজএটা পড়তে পারতে হবে।

ছোট একটা গল্প বলি। পথের পাঁচালী দেখতে বসেছি নানুর সঙ্গে। ফিল্ম শেষ হলে নানু বলে উঠে আরে নায়ক তো বড় হইলো নাতার মানে আমার নানুর ফিল্ম ল্যাংগুয়েজের আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা হলো, নায়ক বড় হবে! কিছু একটা ঘটবে! এইটাই সিনেমা! নায়ক বড় হইলো না মানে তো সিনেমাই হইলো না।

আমাদের নিজদেরই যদি ওয়ার্ল্ডওয়াইড ফিল্ম ল্যাংগুয়েজের আন্ডারস্ট্যান্ডিং না থাকে, তাহলে দর্শক তৈরি হবে কি প্রকারে?


সিনেমা আন্ডারস্ট্যান্ডিং মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ফিল্ম কিভাবে আপগ্রেড হচ্ছে সেটা জানতে হবে?

না শুধু জানলে হবে না। ফিল্ম যাতে appreciate করতে পারি সেটার একটা কোর্স রাখতে হবে। তাই আমার কাছে তরুণদের জন্য মোস্ট ইম্পরট্যান্ট জিনিস হচ্ছে, ভালো সিনেমা দেখা এবং ভালো সিনেমা নিয়ে চর্চা করা।

কাউকে এই জন্য ফিল্ম মেকারই হতে হবে তা নয়। কেউ মিউজিশিয়ান হতে পারে, রাইটার হতে পারে! কিন্তু ভালো সিনেমার চর্চা একটা মনন তৈরি করে দিবে। যেমন আমি একজন ফিল্ম মেকার হলেও ভালো মিউজিক, পেইন্টিংস, নাটক এসব কিছুই আমার ফিল্মের জন্য খোরাক।

তার অর্থ আর্টিস্টকে সব আর্টেই বিচরণ করতে জানতে হবে

আর্টিস্ট কেবল নয়, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার যেই হোক না কেন তার একটা গুড কালচারাল নলেজ থাকা ভীষণই জরুরী। আনন্দ নিয়ে আমরা কবিতা পড়ি, ফুটবল খেলিএভাবেই কিন্তু আমাদের মানসিকতার বিকাশ হয়। আমি যদি ডাক্তার হয়ে ভালো ফিল্মের দর্শক হই তাহলে অবশ্যই আমি ভিন্ন মানসিকতার একজন মানুষ হব।

জীবন থেকে নেওয়ামুভিটি জহির রায়হানের একটা মাস্টারপিস। ওখানে কিন্তু  একটা পলিটিক্যাল পয়েন্ট অফ ভিউ আছে!

প্রত্যেকটা আর্ট ফর্মেরই তো একটা পলিটিক্যাল পয়েন্ট অব ভিউ থাকেই।

আয়নাবাজিতে আপনার পলিটিক্যাল সেন্স কতটুকু এসেছে?

I don’t knowএটা এখনো বলার সময় আসেনি। মানুষ আগে দেখুক, মানুষই বুঝুক। আমি এই ফিল্ম দিয়ে কি বোঝাতে চেয়েছি, এটা আসলে এখনো বলার সময় না। আরও পাঁচ বছর পর বলা হয়তো যেতে পারে।

এখন দরকার হচ্ছে আনন্দ নিয়ে ছবিটা দেখা। ভালো লাগলে সেটা বলা। আমি এই শটে এটা বুঝিয়েছি, ওই শটে এই বুঝিয়েছি! এটা আমি বললে বোঝা যাবে আমার ফিল্মের ল্যাংগুয়েজ অস্পষ্ট।

তাহলে আয়নাবাজির ডেফিনেশন কি হবে?

এটা একটা entertaining narrative সিনেমা Enjoy the narrativeএটাই ইম্পরট্যান্ট।

আচ্ছা একটু অন্য কথা বলি! আমাদের কাজটা যেহেতু ইয়াংদের নিয়ে। অনেকেরই প্যাশন আছে ফিল্ম মেকার হবার। এই ফিল্ম মেকার হবার পথচলায় একজন তরুণকে কি কি স্টাডি করতে হবে বলে আপনি মনে করছেন!

প্রথম এবং প্রধান হচ্ছে সাহিত্য। সাহিত্য এর মধ্যে কবিতা আছে, প্রবন্ধ আছে। ছোটবেলা থেকেই এসব পড়ার চর্চা করতে হবে। এরপর মিউজিক এবং ইতিহাস। এই তিনটা জিনিস চর্চা করার পর তার ভিতর একটা বোধ তৈরি হবে। বোধ দিয়েই মানুষ আসলে কিছু বলতে চায়।

আগে তো বোধটা তৈরি করতে হবে। তখন বলার জন্য মানুষ বিভিন্ন ফর্ম খুঁজে। কেউ গান গেয়ে বলে, কেউ সিনেমা বানিয়ে বলে, কেউ নাটক বানিয়ে বলে। অনেক মানুষ আছে কিছুই করে না। কিন্তু কথা বলে। সেটাও অনেক বড় একটা গুণ।

আমি জীবনে অমিতাভ রেজার ফিল্মএইটা দেখানোর জন্য ফিল্ম বানাতে চাইনি। মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য বা বলতে চাওয়ার জন্যই ফিল্ম বানাতে চেয়েছি।

ক্যারিয়ার তো অনেক বছরের! প্রথম ফিল্মের জন্য অনেক বছর অপেক্ষা করতে হলো আমাদের। নেক্সট ফিল্মের জন্যও কি আবার এতোটা অপেক্ষা করতে হবে?

আমার মনে হয় না অপেক্ষা করতে হবে। আমি তো চেষ্টা করবোই খুব তাড়াতাড়ি পরবর্তী আরেকটা ছবি বানাতে। সেটা আয়নাবাজির মতো কতটুকু হতে পারবে জানি না। আমার পরবর্তী ছবি রেডি করছি আমরা। চেষ্টা করছি ছবিটা বানাতে।

আয়নাবাজি নিয়ে উচ্ছ্বাস, বাংলাদেশের বেস্ট সিনেমার রায়ও দিচ্ছে অনেকে! সে রকম হয়তো গাদা গাদা মেসেজ আপনিও পাচ্ছেন। কিভাবে দেখছেন এই উচ্ছ্বাসকে?

হ্যা, অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। বলছে বাংলাদেশের ওয়ান অফ দি বেস্ট সিনেমা। আমি পার্সোনালি এটা মনে করি না। আমি মনে করি এটা আমাদের একটা পথ। আমি সেই পথের একজন সোলজার।

এই রকম অনেক সোলজার লাগবে বাংলা সিনেমাকে উঠিয়ে আনতে। আমার এরকম একটা ছবি দিয়ে কিচ্ছু হবে না। মাঝে মাঝে এরকম ভালো ছবি হয়েই তো যায়। ধরতে পারেন, আমার পরের ছবিটা বানাতে হয়তো দেড় বছর লাগবে। দুই বছর লেগেছে আয়নাবাজি বানাতে। কিন্তু এই দেড় বছরে তো দুইটা এ রকম ছবি লাগবে!

সে রকম ভালো ফিল্ম বানানোর ফিল্মমেকার আমাদের কিন্তু আছে!

শুধু ফিল্মমেকার না। টেকনিক্যাল দিকেও আমাদের স্মার্ট হতে হবে। ফিল্ম ডিপার্টমেন্টে জানা লোক লাগবে। আনাড়ি দিয়ে কাজ চলবে না। সিনেমাটোগ্রাফি, এডিটিং, সাউন্ড, ডিরেকশন এবং স্ক্রিপ্ট অবশ্যই ভালো হতে হবে প্রতিটাক্ষেত্রেই।

টেকনিক্যাল কথা আসলো বলেই মনে পড়লোপার্থদার একটা ইন্টারভিউতে দেখলাম, আয়নাবাজিতে আপনার আর সিনেমাটোগ্রাফার রাশেদ ভাইয়ের জুটি নিয়ে কথা বলা হয়েছিল! যেমন ছিলেন তারেক মাসুদ-মিশুক মুনির!

এটা তো অবশ্যই থাকতে হবে। সিনেমাটোগ্রাফার হচ্ছে ফিল্ম ডিরেক্টরের সবচেয়ে ক্লোজেস্ট পারসন। তারাই ইমেজটাকে ক্যাপচার করে। তাদের মধ্যে একটা ভালো বোঝাপড়া না থাকলে কোনমতেই ভালো মুভি বানানো সম্ভব নয়।

রাশেদ আর আমি পাঁচ বছর একসঙ্গে কাজ করেছি। ভিজুয়াল স্টোরি ক্ষেত্রে বা লেন্সিং এর ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে বোঝাপড়াটা খুব দারুণ হয়। সঙ্গে আর্গুমেন্টও হয়। আর এর মাধ্যমেই ভালো একটা সিনেমা বেরিয়ে আসে। ভালো একটা কাজ বের করে আনতে এই আর্গুমেন্ট সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার, এডিটর সবার সঙ্গেই হয়। 

এখন তো অনেক ক্ষেত্রেই ওয়ান ম্যান আর্মি দেখা যায়। নিজেই ফিল্ম বানাচ্ছে, এডিট করছে!

অবশ্যই এটা হতে পারে। এ রকম ছোট ইউনিট নিয়ে অনেকেই কাজ করতে পারে। এটা খারাপ কিছু না। আমি যদি ভাবি নিজে শুট করে এডিট করে ফিল্ম বানাবো এটাতে আপত্তি নাই তো। আমার ফিল্ম বড় হলে, আমি এটার লোড নিতে পারবো না। কিন্তু শর্ট ফিল্মে এ রকমটা করা যেতেই পারে।

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সোলজার দরকার বললেন। এই ব্যাপারে তরুণরা কতটুকু কি করতে পারে বলে আপনার বিশ্বাস!

এই মুহূর্তে আমাদের তরুণরা ভীষণই সম্ভাবনাময়। এই সময়ে আমাদের তরুণদের সৎ থাকতে হবে। আমরা যেটা বলতে চাই সেটা বলবো। জেনে বলবো, বুঝে বলবো, পড়াশুনা করে বলবোপলিটিক্স, হিস্ট্রি এবং আর্ট নিয়ে আমরা যদি প্রচুর পড়াশুনা করতে পারি, চর্চা করতে পারি তাহলেই আমরা ভালো কাজ করতে পারবোইউটিউবে যাও, ফিল্মের ইতিহাস দেখো। ধীরে ধীরে ডেভেলপ করো নিজেকে।

(ইন্টারভিউ শেষ প্রায়। ছবি তুলার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। আমাদের তরফ থেকে তখনো প্রশ্নের ঝুলি শেষ হয়নি। একটু যেন বাকি আছে)

আচ্ছা সিনেমা শেষ, টাইটেল উঠছে, লাইট জ্বলে গেছে, মানুষ উঠে যাচ্ছেকিন্তু ঐ সময় একটা টুইস্ট! এতদিন তো ইংরেজি মুভিতেই এটা দেখা গেছে!

অমিতাভ রেজা হেসে বলে উঠলেন, “হলে লাইট জ্বালিয়েছিল নাকি। লাইট জ্বালাতে মানা করেছিলাম তো?” তারপর ছবি তুলতে তুলতে বললেন, “বাকি দুজন (আমরা তিনজন ছিলাম) মুভিটা দেখেনি তো। এটার একটা উত্তর আছে। পরে বলবো।  

পরে আবার দেখা হচ্ছে তাহলে! বাহ এটাও যেন ending এর পর আরেক ending! আরেকটা টুইস্টের জন্য অপেক্ষা!

নিজস্ব প্রতিনিধি

More news