বুয়েটের রকস্টার অপু



রাহাত মাসুম অপু, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার প্রকৌশল’ ১০ বিভাগের ছাত্র। শৈশব থেকে গানের প্রতি প্রচণ্ড আকর্ষণ এরপরও চলে আসা হয় বুয়েটে। ছায়ানট থেকে শুরু, তারপর গলায় সেই যে সুর চড়েছে আর হাতে উঠেছে গিটার, আজ অবধি তাতেই বাঁধা আছেন। এখন বোঝেন, জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তার সেটা চাই-ই-চাই!!

গানে গানে ক্যাম্পাস মাতিয়ে রাখা অপু বিডি ইয়ুথের সাথে আড্ডায় তার বর্তমান, অতীত এবং ভবিষ্যৎ ভাবনার অনেক কিছুই শেয়ার করলেন। 

বিডি ইয়ুথঃ গানের প্রতি প্রবল ভালোবাসা, তারপরও বুয়েটে পড়ছেনবুয়েটে পড়ার ইচ্ছেটা কি ছোটবেলা থেকেই?

না, বুয়েটে পড়ার ইচ্ছা একদম ছোটবেলা থেকে বললে ভুল হবে। তবে বলা যায় এইচ.এস.সি পরীক্ষার পরই ইচ্ছেটা ভালভাবে পেয়ে বসে ডাক্তার হবার ইচ্ছা কখনোই ছিল না আবার ওদিকে গণিত আর পদার্থে ভাল ছিলাম তাই ভাবলাম, আমার জন্যে বুয়েট-ই হতে পারে সেরা অপশন। এভাবেই চলে আসা বুয়েটে।

বিডি ইয়ুথঃ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানে তো গান গেয়ে ভালই মাতিয়ে রাখা হয়, কিন্তু এই রাহাত মাসুম অপু’র গানের শুরুটা আসলে কখন?

আমার গানের শুরু অনেক আগে। মানে ছোটবেলা থেকেই, একদম ছোটবেলা! যদিও আমাকে দেখে এখনও বোঝার উপায় নেই যে, আমার ছেলেবেলা শেষ (মুচকি হাসি দিয়ে)!! এখনও অনেকে আমাকে দেখলে ভাবে বড়জোর ক্লাস টেন-এ পড়ি!! ভার্সিটিতে অনেক জুনিয়র আমাকে জুনিয়র ভেবে ভুল করে, আর দেখুন এবার আমি ফাইনাল দিয়ে বেরুবো!! ও... গানের শুরুর কথা বলছিলাম। গানের কথা বললে, ক্লাস ওয়ানে প্রথম গান গেয়ে আমার শুরু। সেই যে শুরু এখনও শেষ হয়নি, আশা করি হবে না কখনও।


বিডি ইয়ুথঃ কিন্তু এই গানের শুরুটা কিভাবে হল? পরিবারের কেউ গান গাইতো? নাকি পুরোই নিজের ইচ্ছায়?

আরে বলেন কি? আমি একটা গানের পরিবারের মানুষ। তাই গানের শুরু পরিবারের হাত ধরেই, আর নিজের ইচ্ছা তো ছিলই। আমার আম্মু ছায়ানটে কাজ করেন আর বড় ভাই শিশু একাডেমিতে, এই আর কি। সেখান থেকেই গান গান খেলাটা ধরে ফেললাম আমি!! আজও খেলতে ভালই লাগছে!!

বিডি ইয়ুথঃ গান গাইবার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা আছে কেউ? কি রকম গান শোনা হয় বেশি?

আসলে ওভাবে বলতে গেলে অনুপ্রেরণা নেই কেউ। যখন ছোট ছিলাম, তখনকার সময় যে বাংলা গানগুলো সবাই বেশি শুনতো সেই গানগুলোই শোনা হত। বলতে পারেন “নাইনটি’জ কিডস” টাইপ পছন্দ। তবে নচিকেতা আর কুমার বিশ্বজিৎ আমার বরাবরই অনেক প্রিয়। তাদের গান অনেক শুনতাম এবং এখনো শুনি এখনকার বাংলা ব্যান্ডগুলোও অসাধারণ লাগে, তাদের গানও অনেক বেশি শোনা হয়।

বিডি ইয়ুথঃ ক্যাম্পাসে তো আপনাকে সবাই রকস্টার বলে ডাকে। রকস্টার বলে ডাকলে কেমন লাগে আপনার?

সত্যি কথা যদি বলি, আমার না ভালই লাগে!!

লজ্জা পাই বটে, কিন্তু সত্যি আমার অনেক ভাল লাগে। মাঝে মাঝে অবশ্য একটু অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে যে যাই না, তা বললে ভুল হবে কিন্তু জুনিয়র, ব্যাচমেট সবাই যখন আমার গানের কারণে আমাকে রকস্টার বলে ডাকে তখন আমার বেশ ভালই লাগে(লাজুক হাসি)।

বিডি ইয়ুথঃ গান নিয়ে সবচাইতে মজার আর স্মরণীয় ঘটনা পাঠকদের সাথে শেয়ার করেন।

অন স্টেইজ অনেক মজার ঘটনা আছে। আমাদের বিদায়ী কনসার্টে এবার ব্যান্ড “নেমেসিস” এর ভোকাল হঠাৎ আমাকে স্টেইজে তুলে দিয়েছিলেন তার সাথে গান করতে। এই ঘটনাটা ভোলার মতো নয়


তবে অফ স্টেইজের ঘটনা বেশি মজার। আমাদের বন্ধুদের দলটা আমরা করতাম কি, বিভিন্ন গান ম্যানিপুলেট করে বিভিন্নভাবে কম্পোজ করতাম। তা একবার হলো কি...,

এক বন্ধু শামীম হাস্নাতকে পঁচাতে গিয়ে “বায়োস্কোপ” গানটিকে এমনভাবে ম্যানিপুলেট করলাম যে তারপর থেকে শামীমকে যেই দেখে সেই ঐ গান গাওয়া শুরু করে। আর গানটার এমন একটা অবস্থা হল যে সেটা আর কোন ভদ্র মানুষ গাইতে পারেনা।

বিডি ইয়ুথঃ বিদায়ী কনসার্ট!! মানে র‍্যাগ কনসার্টের কথা বলছিলেন, তা নেমেসিস ব্যান্ডের ভোকাল জোহাদ যখন আপনাকে স্টেইজে তুলে দিয়েছিলন তখন আপনার কেমন অনুভূতি হয়েছিল?
একটু আগেই বললাম
, ওটা একটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল, সারাজীবন মনে রাখার মত
আসলে উনি যখন গান গাইছিলেন আমাদের দলটা সামনে বসে উনাকে বলা যায় রীতিমত বিরক্ত করছিলাম। পরে যখন স্টেইজে তুলল, ভাবলাম..... “এইরে! এবার বুঝি পচাবে!!”

কিন্তু না উনি আমাকে গান গাইতে বললেন, “দিলাম একদম রক করে (মুখে হাসি)পরে যখন উনি মাইকে বললেন, “গিভ আ বিগ হ্যান্ড ফর অপু” সত্যি অসাধারণ লেগেছিল।

বিডি ইয়ুথঃ একটা স্পর্শকাতর প্রশ্ন করি, গান গাওয়াটা কি? শখ, ইচ্ছা, না নেশা?

ইচ্ছেও না, শখও না, নেশাও না। “Music is life for me”!! চাইলে এটাকে নেশা, ইচ্ছা যা খুশি বলা যেতে পারে কিন্তু এটা আমার জীবন। এটা আমার profession নয় এখনো, তবে এটা আমার passion!! যতদিন বেঁচে আছি এই মিউজিক নিয়ে থাকব আশা করি। এটা আমার জন্যে কোন লেভেলের passion সেটা আসলে বলে বোঝানো যাবে না।

বিডি ইয়ুথঃ গান নিয়ে পুরস্কারের ঝুলিতে কি কি আছে?

আসলে এমন না যে পুরস্কারের জন্যে গাই, গান গাইতে ভাল লাগে তাই গাই। তবে পুরস্কারও পেয়েছি বেশকিছুস্কুলে থাকতে বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় গান গাইতাম প্রতিবছর তিন বিভাগে তিনটা করে পুরস্কার পেতাম। একদম ক্লাস ওয়ান থেকে টেন, তিন দশে তিরিশটা(মুখে লজ্জা)!!


বিডি ইয়ুথঃ গান নিয়ে ভবিষ্যতে কিছু করার ইচ্ছে আছে?

professionally কিছু করার ইচ্ছা আছে কিনা জিজ্ঞেস করা হলে আমি বলব, নেই। তবে কিছু করব তো বটেই, আমি শান্তির জন্যে গান গাই, গান না করলে তো শান্তি পাবনা। আর সাউন্ডক্লাউড, ইউটিউব তো আছেই। এসবই আমার গানের সাক্ষী হয়ে থাকবে। যতদিন আমি আছি, গান আছে এই টাইপের অবস্থা আরকি!!

বিডি ইয়ুথঃ আচ্ছা, কতদিন থাকতে চান গানের সাথে, এভাবে রকস্টার হয়ে?

বললামই তো, যতদিন আমি আছি, এই গান থাকবে। আজীবন থাকতে চাই গানের সাথে, হাতে যতদিন এই দশটা আঙ্গুল আছে গিটার ছাড়ছিনা আর গলা দিয়ে যতদিন শব্দ বেরুবে গান গেয়ে যাব।

রকস্টার কিনা জানিনা। তবে ক্যাম্পাসে এই যে গান গাই, বন্ধুদের খুশি করতে পারি, এটাই আমার জন্যে বড় পাওয়া। এর চেয়ে বেশি কিছু লাগে নাকি একটা মানুষের বেঁচে থাকার জন্যে!!

বিডি ইয়ুথঃ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি আপনার? যদি আমাদের সাথে একটু শেয়ার করতেন-

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আসলে ওভাবে ঠিক করা হয়নি। আপাতত আগে পাস করে নেই। তারপর বাংলাদেশের আর যা যা দেখা বাকী আছে ঘুরে-টুরে দেখা শেষ করে নেব। আর আমার গিটার আর ইউকুলেলে তো আমার সাথেই থাকে। তাই যেখানেই যাইনা কেন, গান তো থাকবেই আমার সাথে!!

সত্যি কথা বলতে কি,

অত দূর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আসলে ভাবিনা, আমার best motivation হচ্ছে “I just want to live while I am alive”

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি


More news