বগালেকে ফিস স্পা!!!



ফ্রি.. ফ্রি.. ফ্রি.., প্রথমেই বলে রাখছি এটা একদম ফ্রি!!!

বড় বড় শহরে ফিস স্পা একটি আধুনিক ব্যয়বহুল বিউটি ম্যাসাজ-এর নাম ছোট ছোট মাছ শরীরের মরা চামড়া খেয়ে ত্বককে মোলায়েম করে এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন, এই বিউটি ম্যাসাজ-এর সাথে বগালেকের সম্পর্ক কি?

যাদের এরমধ্যেই বগালেক ভ্রমণ শেষ তারা এতক্ষণে একটু-আধটু ধরে ফেলেছেন কিন্তু যাদের এখনো যাওয়া হয়নি তারা খেই হারাবেন না, প্লিজ! খোলাসা করে বলছি

বগালেক:

কেওকারাডং এর কোল ঘেঁষে পাহাড়ের উপরে প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে আছে এই লেক বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে এবং রুমা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার ভেতরে বগালেকের অবস্থান

সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৭০০ ফুট উঁচু পাহাড়ে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট এই স্বাদু পানির লেক বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার স্বাদু পানির এই হ্রদ তিনটি চিরহরিৎ পাহাড়ে ঘেরা এর পানি দেখতে প্রায় নীল রঙের এর আশেপাশে পানির কোন উৎসও নেই কি অদ্ভুত, তাই না?

এককথায়, বান্দরবানকে যদি বলতে হয় রূপের রানী তবে নিঃসন্দেহে বান্দরবানের তিলক বগালেক

বগালেকে গোসল এবং ফিস স্পা:     

আমরা যখন দলবেঁধে বগালেক যাচ্ছিলাম তখন আমার এক বন্ধু বলছে, “লেকে গিয়ে একটা ফিস স্পা নিতে হবে!! আমাদের তো সবার চোখ কপালে! এটা কি বলে?

এমন দূর্গম আর গ্রাম্য এলাকায় ফিস স্পা!! এক বন্ধু তো বলেই বসলো, “ওখানে কি কেএফসি আছে”!!!

মজা করতে করতে যখন বগালেকে হাজির হলাম তখন আমরা যারপরনাই ক্লান্ত এবার বন্ধুটি বললো, “চল এবার ফিস স্পা নেই! বাহাদুরি দেখতে হাঁটা দিলাম ওর পিছু পিছু লেকের ধারে এসে বন্ধুটি ট্রেনের অ্যানাউন্সমেন্ট দেবার মতো করে বললো,

এবার হাঁটু পানিতে মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা হবে ছোট ছোট অসংখ্য মাছ খুঁটে খুঁটে আপনার মরা চামড়া খেতে থাকবে পেয়ে যাবেন একদম ফ্রিতে বগালেকের ফিস স্পা!!”

আমরা ঠিক ঠিক তাই করলাম আরে, কি অদ্ভূত!! সত্যি সত্যি অসংখ্য ছোট ছোট মাছ পায়ের চামড়ায় ঠোঁকর দিচ্ছে আর অদ্ভূত স্বচ্ছ জলে সব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কিসের কষ্ট কিসের কি? সব ভুলে গেলাম মূহুর্তে এরপর যতক্ষণ খুশি চললো জলকেলি আর ফিস স্পা

এবার কি একটু খোলাসা হলো ব্যাপারটা?

একটি বিশেষ অনুরোধ (বগালেকের জলে সাবান, শ্যাম্পুর প্যাকেট কিংবা অপচনশীল কিছু ফেলবেন না)

বগালেকের খোঁজে:

বগালেকের দুরন্ত সৌন্দর্য প্রাকৃতিক ফিস স্পা উপভোগ করতে হলে আপনাকেও কিছুটা দুরন্ত হতে হবে

আগেই বলেছি,

বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার ভেতরে বগালেকের অবস্থান আর রুমা সদর উপজেলা থেকে ১৭ কিলোমিটার ভেতরে বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়ি করে রুমা তারপর ১১

মাইল পর্যন্ত আবার চাঁদের গাড়ি আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ যেকারোও মনে ভয়ের সঞ্চার করবে মাঝে মাঝে চাঁদের গাড়ি এমন বাঁক নেবে যে আকাশ ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবেন না

রুমা বাজার থেকে বাধ্যতামূলক একজন গাইড সাথে নিতে হবে এবং আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে হবে ১১ মাইলের পর বগালেক পর্যন্ত ট্রেকিং করে পাহাড়ে উঠতে হবে তবে আপনি যদি অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হন তবে রুমা থেকেই ঝিরি পথ ধরে যেতে পারেন বগালেক ট্রেকিং করে বগালেক যেতে ব্যক্তি ভেদে সময় লাগবে দেড় থেকে দুই ঘন্টা

খরচ:

বান্দরবান থেকে রুমা উপজেলা সদর পর্যন্ত:

জন প্রতি বাস ভাড়া -- ৮০ থেকে ১০০ টাকা

পুরো জিপ(চাঁদের গাড়ি) - ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা

রুমা থেকে বগালেক(১১ মাইল) পর্যন্ত:

জন প্রতি(চাঁদের গাড়ি) - ৮০ থেকে ১০০ টাকা

পুরো জীপ(চাঁদের গাড়ি) - ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা

গাইড ভাড়া- ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা(যাওয়া-আসা)

ঢাকা থেকে সরাসরি বান্দরবান বাসে খরচ:

এসি-নন এসি ভেদে ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা

বাস সার্ভিস: হানিফ, শ্যামলী, ঈগল হত্যাদি

একটি জরুরি তথ্য

ট্রেকিং করে, পাহাড় ডিঙ্গিয়ে এসে ঝাঁপ দেবেন বগালেকের ঠান্ডা জলে তাই তো? তবে সাবধান,

স্বল্প কিংবা নাই কাপড়ে ঝাঁপ দেবেন না!! টলটলে স্বচ্ছ জলে সব দেখা যায়!!

বিডি ইয়ুথ ডেস্ক রিপোর্ট, কৃতজ্ঞতা:  উইকিপিডিয়া, ব্লগ ডটট্যুর এবং সাফাতরোনো ব্লগস্পট

More news