সাহিত্য ব্যাপারটা হৃদয়জাত, এখানে জোর চলে না: এনামুল রেজা



“কিন্তু দশক দশক যারা কাটিয়ে দিচ্ছেন টাকা দিয়ে বই করার এ চর্চায় তাদের বলবো- প্লিজ আপনারা ক্ষান্ত দিন, বাংলা সাহিত্য ও প্রকাশনা আপনাদের জন্য মরতে বসেছে।”- এনামুল রেজা

পুরো ভাষার মাস জুড়ে অনেক তরুণ লেখকদের সাথে বিডি ইয়ুথের আড্ডা হয়েছে। সব লেখকেরই এই বই মেলায় কোন না কোন বই প্রকাশিত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার আড্ডা হলো তরুণ লেখক এনামুল রেজার সাথে।  

বিডি ইয়ুথঃ কেমন আছেন?

এনামুল রেজাঃ ভালো আছি।

বিডি ইয়ুথঃ নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন- কী করছেন?

এনামুল রেজাঃ কী করছি বলতে যদি নিত্যকার কাজ বুঝান, তবে আমি লেখালেখি করি। যেহেতু লেখালেখিটা কোনো শখ থেকে আমি করছি না। এছাড়া জীবিকার প্রয়োজনে কিছু একটা করতেই হয়। তাই একটা চাকুরিও করছি, বিষয়টাকে আমার পার্ট টাইম কাজ বলতে পারেন। এইভাবে ভাবলে, ‘আমি  ফুল টাইম লেখক’।

বিডি ইয়ুথঃ এবারের বইমেলায় আপনার কোন বই পাওয়া যাচ্ছে?

এনামুল রেজাঃ আমার একটা উপন্যাস পাওয়া যাচ্ছে, “কোলাহলে”। এটি আমার প্রথম বই। এর আগে পাণ্ডুলিপিটা বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোরের ঈদ সংখ্যায়(২০১৫) নির্বাচিত তরুণ ঔপন্যাসিকের উপন্যাস হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল। এবার সেটি বই হিসেবে বেরুলো ঘাসফুল প্রকাশনী থেকে।

বিডি ইয়ুথঃ সাহিত্যের একটি ধারা হিসেবে উপন্যাসকে কীভাবে দেখেন?

এনামুল রেজাঃ ধরুন আমরা যদি মধ্যযুগে চলে যাই বা তারচেয়ে একটু সামনে, আমাদের সাব-কন্টিনেন্টে উপন্যাসটা ছিল না। তখন ছিল মহাকাব্য বা কবিতার যুগ। উপন্যাসটা আমাদের দেশে এসেছে পশ্চিম থেকে। ধীরে ধীরে উন্নত হয়েছে। মনে হয় স্বাধীনতাপূর্ব সময়টা বাদ দিলে মুক্তিযুদ্ধত্তোর বাংলাদেশে উপন্যাসের ক্ষেত্রটা এখনও বিকাশমান।

একজন গল্পকার হিসেবে আপনি যখন অনেক কিছু বলতে চান আর অনেক চরিত্রের সন্নিবেশ ঘটাবার দরকার হয়, তখন আপনি আর ছোট পর্যায়ে কাজটা করতে পারেন না। গল্পের আশ্রয়ে আপনি আপনার দার্শনিক চিন্তাভাবনার প্রকাশ ঘটাতে চাইলেও দেখা যায় যে, আপনাকে বড় আকারে বলতে হচ্ছে সমস্ত কিছু। সেই ক্ষেত্রে আসলে উপন্যাস হিসেবেই দাড়িয়ে যাচ্ছে আপনার কাজটা। উপন্যাস গুরুত্বপূর্ণ এজন্যই যে, মানুষের কথা লিখবার জন্য আপনি বিস্তৃত একটা ক্যানভাস পাচ্ছেন।

আমি মনে করি, পিচ্ছিল সময়কে ধরে রাখবার জন্য সাহিত্যে উপন্যাস একটি জরুরী মাধ্যম। যদিও সময়কে ধরে রাখা যায় কী না, এ তর্কে আমি নামছি না!! ছোট গল্পে আপনি একটি দৃশ্য তুলে ধরতে পারেন। স্বল্প পরিসরে কোন দার্শনিক চিন্তাভাবনারও প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু উপন্যাসে আপনার সামগ্রিক জীবন দর্শনটাকে তুলে ধরা সম্ভব। এই জন্য দেখবেন জগতের সকল শিল্পীই সমগ্র জীবনে অন্তত একটি হলেও উপন্যাস লিখবার ইচ্ছে বুকে পুষে রাখেন। সমস্ত কিছু বিবেচনায় আমি উপন্যাসকে সাহিত্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারা মনে করি।

বিডি ইয়ুথঃ আপনার উপন্যাসটির উপজীব্য কী?

এনামুল রেজাঃ আমি মূলত দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা এলাকার কিছু ঘটনাকে উপজীব্য করে উপন্যাসটি লিখেছি। আমি তো খুলনায় বড় হয়েছি। ছোটবেলা থেকে যে পরিবেশে মানুষ হয়েছি, দেখে এসেছি সেখানকার দিবস-রাত্তিরের পরিবর্তনগুলো। মানুষের সে বিচিত্র চরিত্র বুঝতে চেষ্টা করেছি। বলে রাখা ভাল উপর দিয়ে দেখলে, ঐ অঞ্চলের মানুষের চরিত্র কিন্তু খুব কঠিন হয়। মানে রাফ এন্ড টাফ টাইপের! তাদের জীবনের সংগ্রামটা অনেক কঠিন। জীবিকার উপায় খুব একটা সহজ না।

দেখা গেছে জীবিকার তাড়নায় দক্ষিণাঞ্চল থেকেই সবচেয়ে বেশি মানুষ ঢাকায় আসে নিত্যদিন।  (আমিও কি আসিনি!!)। এইসব ভেবে অনেকেই মনে করতে পারেন এটা আঞ্চলিক উপন্যাস। তবে এটাকে আঞ্চলিক উপন্যাস আমি কখনই বলবো না। এইখানে আমার পরিচিত পরিবেশের মানুষেরা চলে এসেছে কারণ মানুষ তার অভিজ্ঞতার বাইরে খুব অল্পই যেতে পারে। এইসমস্ত বিষয় সত্ত্বেও আমি সামগ্রিক মানুষের কথাই বলতে চেয়েছি। এখানে ইমাজিনেশনের তুলনায় বাস্তবতার পরিমানটা বেশি হলেও আমার উপন্যাস মূলত সহজ-সাধারণ আম জনতার গল্পই বলে।

বিডি ইয়ুথঃ আপনার প্রিয় লেখক?

এনামুল রেজাঃ পাঠক হিসেবে আমি চিরকাল সর্বভূক। সুতরাং আজ যখন আমি লেখক হয়ে দাঁড়াচ্ছি, এক কথায় প্রিয় লেখক সম্পর্কে বলাটা তো কঠিন। হুমায়ূন আহমেদ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, তারাশংকর বন্দোপাধ্যায় কিংবা মানিক আমার খুব প্রিয়। শহীদুল জহির খুব পড়েছি বলবো না, কিন্তু আপনি সাহিত্যের মনযোগী পাঠক হলে তার একটা বা দুটো গল্পই তো তাকে প্রিয় লেখক বলতে আপনাকে বাধ্য করবে। আবু ইসহাক আর হাসান আজিজুল হকের গল্প আমি ভালবাসি।

তবে সুপ্রিয় হাসানের ঔপন্যাসিক পরিচয়টা শেষ বয়সে এসে দাঁড়াবার চেষ্টাটা নানান দিক থেকে আমি সবিনয়ে নাকচ করি। হাসান ঔপন্যাসিক হিসেবে আমার কাছে খুব একটা নম্বর পাবেন নাসাবিত্রী উপাখ্যানে তিনি যা করলেন! ছোটগল্প হিসেবে আমার কাছে নির্দ্বিধায় সেটা ক্লাসিকবিশাল উপন্যাসের দরকার তো মনে হয় ছিল নাতার দুর্দান্ত ঔপন্যাসিক হবার ক্ষমতা যৌবনে অপচয় করেছেন তিনিতবে শুনছি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তিনি কাজ করছেনআমি হয়তো প্রিয় গল্পকারের ওই উপন্যাসটির জন্য অপেক্ষা করছি।

এছাড়া পাশ্চাত্য লাতিন সাহিত্যের আমি পাঁড় পাঠক। হোর্হে লুই বোর্হেস, কার্লোস ফুয়েন্তেস এবং গার্সিয়া মার্কেস'কে মুগ্ধ হয়েই পড়ি। আরও আছেন আলবেয়ার কাম্যু এবং হেমিংওয়ে। বিশেষত কাম্যু আর কুন্ডেরা'কে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে প্রায় রাতেই আমি খেলাটা খেলিজীবন সম্পর্কে অতি উদাসিন এবং অতি কৌতুক অনুভব করতে থাকা দুজন শিল্পী ডুয়েলিং করেন আমার মগজে। বিশ্বসাহিত্যের মহৎ লেখকদের আমার চিরকাল নিকটতমো বন্ধু মনে হয়এদের আমি কখনও রুমমেট, নিজস্ব নৈশকালীন আড্ডার সঙ্গী ছাড়া ভিন্ন কিছু ভাবতে পারি না।

বিডি ইয়ুথঃ কেনো মনে হলো লিখতে হবে?

এনামুল রেজাঃ খুব ছোট বেলা থেকে আমার পরিবেশটা ছিল একেবারেই গ্রাম্য। সেখানে দেখা যেত সন্ধ্যার পরে নিয়মিত কারেন্ট চলে যাচ্ছে। তখন আমরা আমাদের চাতালে বসে অর্থাৎ আমাদের প্রাচীন হিন্দু বাড়ির বারান্দায় আমার দাদী গল্প বলতেন। বিচিত্র বিষয়ে গল্পের অধিকাংশ জুড়ে থাকতো জীন-ভুতের গল্প। সারা মহল্লার লোক জড়ো হত। আমরা সকলে গল্প শুনতাম বুঁদ হয়ে।


সবসময় যেখানেই গেছি চারপাশে বই পড়ুয়া মানুষ পেয়েছি। বইতে থাকা গল্পগুলো খুবই ভালো লাগতো। আর আমার আম্মা খুব পড়ুয়া রকমের ছিলেন, গল্পের বই পড়তেন খুব। আমাকে পড়ে পড়ে শুনাতেন ছোট থেকেই। এক সময় মনে হলো জীবনের এই স্রোতধারা বইয়ে ধরে রাখা প্রয়োজন। তাছাড়া আমার নিজেরও অনেক কথা বলার আছে। তখন স্বভাবিকভাবেই মাথায় আসলো লেখালিখির মাধ্যমে মানুষকে আমার কথাগুলো জানানো যেতে পারে। তো এই যে, গল্প শুনতে শুনতে বড় হয়েছি, নিদারুণ সব গল্পের মাঝে বড় হয়েছি, আমার বিচিত্র শৈশব-কৈশোরের সেসব দিনগুলোই লেখালিখির পিছনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

আর বলতে হবে আমার নানা ভাই মোহাম্মদ মিকাইলের কথা (নামটাও গল্পময় না?)। লেখালিখির অনুপ্রেরণায় যদি কোনো ব্যক্তির কথা বলতে হয়, আমি চোখবুঁজে তার নাম নেব। তিনি লেখক হতে চাইতেন। দেশভাগের সময় তিনি সপরিবারে ইন্ডিয়া থেকে বাংলাদেশে চলে আসেন। পারিবারিক নানান চাপে, জীবিকার তাদিগে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। দীর্ঘ জীবনে অনেক রকম কাজ করেছেন। এতসব অভিজ্ঞতার কারণে তার ভিতর লেখালিখির সুপ্ত ইচ্ছাটা অল্পবয়স থেকেই ছিল। কিন্তু লেখক হতে পারেননি জীবন-জীবিকা আর বিশাল পরিবার সামলাবার চাপে। ওনার গল্পগুলো শুনতে শুনতে ওনার স্বপ্নটাই আমার ভিতর চেপে বসে। খুব ছোট বেলা থেকেই লেখালিখি শুরু করে দিয়েছিলাম আমি। আমার লেখালিখিটা তাই খুব হুট করে হয়নি। ওভাবে লিখতে লিখতে আজকে এই অবস্থায় আছি এবং আমি মনে করি যে এটা ছাড়া জগতে আর কিছু আমি ভাল পারি না।

বিডি ইয়ুথঃ উপন্যাসের ক্ষেত্রে উপজীব্য নির্বাচনে কোন উপাদান নিয়ে আপনি বেশি ভাবেন?

এনামুল রেজাঃ আমার মনে হয় এই ক্ষেত্রে প্রথমেই মানুষ এবং মানুষের মনস্ততাত্বিক চিন্তাধারা আমার কাছে বেশি বিবেচ্য হয়ে ওঠে। এই যে আমি আপনার সাথে কথা বলছি, কথা বলতে বলতে আপনার মনে ডুব দেওয়ার চেষ্টা করছি, বোঝার চেষ্টা করছি আপনি কী ভাবেন জীবন সম্পর্কে। আমি যখন লিখি, মানুষের বাহ্যিক রূপের চেয়ে তার ভিতরটা চলে আসে আগে। তার চিন্তাগুলো বেশি রিফলেক্ট হয় আমার কাজে। এর সাথে আমার নিজের চিন্তাধারা ঢুকে যায়। এভাবেই মূলত আমার গল্পগুলো তৈরি হয়।

বিডি ইয়ুথঃ বর্তমানে ব্লগ বা সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখা যায় মানুষ ছোট লেখা পড়তে বেশি পছন্দ করে। সেক্ষেত্রে আপনি কোনো প্রতিবন্ধকতা অনুভব করেন কি?

এনামুল রেজাঃ অনলাইনে একটা ট্রেন্ড হলো মানুষ খুব শর্ট টাইমের মধ্যে পড়তে চায়, বড় লেখাগুলো তারা সচরাচর এড়িয়ে যেতে চায়। আমি নিজের কথাই বলি, খুব ভালো লেখা না হলে কিংবা আমি যাদেরকে চিনি তাদের লেখা ছাড়া পড়তে চাই না। তারপরও আমার মনে হয় অনলাইনটা আমাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয় দাড়াচ্ছে। ফেসবুকে কম হলেও ব্লগ বা অনলাইন পোর্টালগুলোতেও বড় লেখা আমরা পড়ছি রিসেন্টলি। কিছুদিন আগে আমি ফ্রান্‌ৎস কাফকা নিয়ে একটা বড় প্রবন্ধ লিখলাম, আমি ভাবলাম ইনিশিয়ালি এটা বোধহয় খুব অল্প লোকেই পড়বে। পাবলিশ হওয়ার পরে দেখলাম এটা অনেক লোকই পড়েছে এবং নানান মতামত দিয়েছে। এটা পজিটিভ।

ফেসবুকটা আসলে কি? ওটা একটা অনুভূতি প্রকাশের জায়গা। এখানে সবাই ছোট ছোট ভাবে অনুভূতি প্রকাশ করতে চায়। ভবিষ্যতে কী হবে আমি বলতে পারি না। তবে এখানে সবাই আছে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে অনলাইন পোর্টালগুলোর পাঠক আরো বাড়বে বলে আমি মনে করি। অনলাইন একটা শক্তিশালি মাধ্যম হিসেবে দাঁড়াবে। তবে এর পাশাপাশি প্রিন্ট মিডিয়াটা হারাবে না কখনও। বইয়ের মজাটা নিতে হলে আপনাকে হার্ড কপি নিয়ে পড়তে হচ্ছেই। কিন্তু আপনি যখন সংক্ষিপ্ত আকারে জানতে চাচ্ছেন কোনো লেখা বা লেখক সম্বন্ধে, অনলাইনে তার যে লেখা প্রকাশ হচ্ছে সেগুলো আপনাকে তার সম্পর্কে আগ্রহ জাগাতে হেল্প করছে। দেখেন প্যারিস রিভিউ’র মত সাহিত্য পত্রিকাও এখন অনলাইনে কাজ করছে।

বিডি ইয়ুথঃ বর্তমানে তরুণরা সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছে?

এনামুল রেজাঃ তরুণরা লিখছেন, বাধার সম্মুখীন যেটা হয় সেটা হলো বই প্রকাশনা। আমি একটা কথা খুব রুড শুনালেও বলবো যে, এখন সবাই লিখছে, লেখালিখিটা ফেসবুকে বা ব্লগে খুব ইজি হয়ে গেছে। অনলাইনে চাইলেই লেখা প্রকাশ করা যাচ্ছে। তাই কিছু একটা লিখেই প্রকাশ করে ফেলছি আমরা। মানে হলো যে, একটা বই রেডি করে বই লিখছি। সাহিত্যের চেয়ে বই লেখায় মনযোগী এখনকার নতুন লেখকদের অধিকাংশই।

বই লিখে তারা প্রকাশকদের কাছে পাবলিশ করতে যায়, পান্ডুলিপি জমা দিয়ে তারা টাকা দিয়ে দেয় যে আমার বইটা প্রকাশ করেন। টাকা পয়সা দিয়ে বইটা বের করলে হবে কি, বইয়ের প্রচারে প্রকাশকের আর কোনো দায় থাকে না। এখন প্রকাশনায় সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটা আমি মনে করছি- প্রকাশকরা বই বের করে শুধু, ডিস্ট্রিবিউশনের কঠিন কাজটা করতে চান না। বইমেলায় বই প্রকাশ হচ্ছে কিন্তু বইটা তো সারা বছরের জন্য। বইটা বিভিন্ন দোকানে পেতে হবে সারা বছর। পাঠকেরা যাতে বইটা কিনতে পারে। আমি মনে করি যারা প্রকাশকদের টাকা দিয়ে বই বের করছেন তাদের কারণে যারা মন থেকে সাহিত্য চর্চা করতে চায় এরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

যারা লিখতে চাচ্ছেন তাদেরকে আমি বলবো আপনারা সাহিত্যটাকে মন থেকে নিন। সাহিত্য রচনা করেন হৃদয় থেকে। সত্যিকার সাহিত্য রচনা করুন দেখবেন যে আপনাদের বই প্রকাশের জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে না, বই এমনেই প্রকাশিত হবে। আমার নিজের উদাহরণ দেই,

আমার বইটি এমনিতেই বের হয়েছে, আমাকে প্রকাশকদের কাছে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়নি। আমি অনেকদিন ধরেই লিখছি। হয়তো চার-পাঁচ বছর আগেই বই বের করতে পারতাম কিন্তু আমার কাছে মনে হলো এই সময়টাতেই বই বের করা জরুরী। ঘাসফুল থেকে প্রকাশক নিজের ঝুঁকিতেই বইটা বের করেছেন কারণ তার মনে হয়েছে আমার লেখাটা মানুষ ভালোভাবে নিবে। প্রকাশককে এই আস্থাটুকু দেওয়ার জন্য আপনাকে সাধনা করতে হবে। টাকা দিয়ে বই প্রকাশ করা দূষণীয় এমনও না (তারাশংকরের মত লেখকও তো প্রথম বই গাঁটের টাকায় করেছেন)। নতুন লেখকের উপর কেনই বা বাজী ধরবেন প্রকাশক? প্রথম কিংবা পর পর কয়েকটা বই টাকা দিয়ে আপনি করতেই পারেন। কিন্তু দশক দশক যারা কাটিয়ে দিচ্ছেন টাকা দিয়ে বই করার এ চর্চায় তাদের বলবো- প্লিজ আপনারা ক্ষান্ত দিন, বাংলা সাহিত্য ও প্রকাশনা আপনাদের জন্য মরতে বসেছে।

বিডি ইয়ুথঃ একজন লেখক হিসেবে পাঠকের প্রতি আপনি কি রকম দায়বদ্ধতা অনুভব করেন?

এনামুল রেজাঃ মূলত দায়টা ফিল করি সাহিত্যের প্রতি। বোঝাপড়াটা একান্তই আমার সাথে আমার লেখালেখির। ওসব থেকেই মনে হয় পাঠকের প্রতি যে দায় তৈরি হতে পারে ওসব মিটে যায়। লিখি তো পাঠকের জন্যেই। দায় এক সময় পাঠক আবিষ্কার করবেন, আবার তারাই সেসব পূরণ হচ্ছে কী না তাও আবিষ্কার করবেন। এ নিয়ে আলাদা চিন্তা ভাবনা এমুহূর্তে করছি না। 

বিডি ইয়ুথঃ লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

এনামুল রেজাঃ “কোলাহলে” তো প্রকাশ হলো। সাম্প্রতিক সময়ে আমার নতুন একটা পান্ডুলিপি শাখাওয়াত টিপু সম্পাদিত নতুনধারায় পাবলিশ হয়েছে “আকাশের বিরোধী দল”। আমার ইচ্ছা ২০১৬ সালে পুরোটা এই পান্ডুলিপি নিয়ে কাজ করবো। যদি মনে করি ২০১৭ সালে এটা বই করার মত একটা অবস্থায় নিয়ে যেতে পারবো তাহলে হয়তো এটা সামনে আমার নেক্সট বই হবে।

আবার বলা যায় না লেখা-লিখিতে নিশ্চয়তা বলে কিছু নেই। অন্য কাজ নিয়েও ব্যস্ত হয়ে যেতে পারি। এখন তো উপন্যাস নিয়েই ভাবছি “আকাশের বিরোধী দল” নিয়ে কাজ না করলেও নতুন পান্ডুলিপি নিয়ে কাজ শুরু করে দিতে পারি। সামনের বছর বই বের করবই এমন চিন্তা এ মুহূর্তে নাই হয়তো এটা দুই বছর পরে বের হবে, তিন বছর পরে বের হবে এমনও হতে পারে যে ছয়মাস পরেই বই বের হতে পারে যদি নিজেকে রেডি মনে করি।

এছাড়া ছোট গল্প আমার খুব প্রিয় একটা জায়গা। আমি ছোট গল্প লিখছি লাস্ট চার-পাচ বছর ধরে, একবারে টানা। সেগুলো বিভিন্ন জায়গায় পাবলিশও হয়েছে। সামনে ছোট গল্পের একটা সংকলনও বের করতে পারি। এখন মাথায় কতগুলো প্লট আছে যেগুলো নিয়ে ভাবছি। পত্রিকার জন্য গল্প লেখা এক কথা আর বই আকারে বের করার জন্য গল্প আরেক কথা। সেগুলো নিয়ে আবার বসতে হয়। সুতরাং এই চিন্তাটা একটু অন্যরকম, তাই প্রস্তুতিটাও অন্যরকম।

 বিডি ইয়ুথঃ কথা বলার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

এনামুল রেজাঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতিঃ

জন্মসালঃ ১৯৯১, ১৪ই জানুয়ারি।

জন্মস্থানঃ ঢাকা। শৈশব-কৈশোর, বেড়ে ওঠা খুলনায়।

পড়াশুনাঃ ঢাকা কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক

বর্তমান নিবাসঃ মিরপুর, ঢাকা

বিশেষ প্রতিনিধি


More news