সাইবার হ্যারাজের শিকারঃ কি করবে?



ছোট্ট একটা মেসেজ, কিংবা ছোট্ট একটা কমেন্ট! তোমার জীবনকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে খুব সহজেই! আমাদের চারপাশে সাইবার ইউজার নারীরা যারা সোশ্যাল সাইটে নিয়মিত ঢুঁ মারেন, তাদের কেউ কোনদিন নিরাপদ সাইবার জীবন কাটাতে পারেন নি। রিয়েল লাইফ, সেলফোন ছেড়ে লম্পটের দল এখন ভিড়ছে সোশ্যাল সাইটে।

না কখনই না! হ্যাঁ, এটা ঠিক, ফেসবুকে কিছু কিছু ছবি এবং লেখায় প্রাইভেসি থাকাটা উচিত! কিন্তু কোন পেজ বা গ্রুপ থেকে  তোমার লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্যত্র ব্যবহার করলে সেটা ক্ষমার অযোগ্য অন্যায়।

আমরা প্রতিনিয়ত সাইবার হয়রানির শিকার হই কিন্তু না জেনে বুঝে পাত্তা দেই নাএজন্যই হয়ত সাইবার হয়রানি বাড়ছে। তাই সচেতন ভাবে আগে বুঝতে হবে কিভাবে তুমি সাইবার হয়রানির শিকার হতে পারো? কিভাবে এই অন্যায় প্রতিরোধে তুমি এগিয়ে আসতে পারবে।

কিভাবে বুঝবে তুমি সাইবার হয়রানির শিকার:

সাইবার হয়রানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয় সাইবার বুলিং, মানে মেসেজ বা কমেন্টে ছোট কথার মাধ্যমে তোমাকে অপদস্ত করা। কিছু ক্যাটাগরি দেখা যাক চল-

) মেসেজে বা কমেন্টে তোমাকে বাজে নোংরা গালিগালাজ দিলে

) গালাগালি না , কিন্তু যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বললে।

) অশ্লীল ছবি পাঠাচ্ছে তোমার অনুমতি ছাড়াই।

) তোমার কাছ থেকে অনুমতি না নিয়ে তোমার ছবি দিচ্ছে কোন পেইজে।

) হতে পারে তোমার আগের প্রেমিক/প্রেমিকা , সম্পর্ক ভাঙ্গনের পর তোমাদের গোপনীয় ছবি কিংবা মেসেজের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দিলে

) তোমার নামে ফেইক আইডি খুললে

) তোমার ছবি ফটোশপ করে বিকৃত করলে

) তোমার নামে মিথ্যা কথা বলে কোন পোস্ট দিয়ে তোমার ও তোমার পরিবারের ক্ষতি করলে।

করণীয়:

এসব সমস্যায় পড়লে সবচেয়ে আগে জানাবে তোমার পরিবারকে। পরিবারে জানাতে ভয় করলে বা সমস্যা হলে খুব কাছের কোন বন্ধুকে জানাওযে তোমার পাশে থেকে এই লড়াইটা লড়তে পারবে আরেকটা কাজ করতে পার, সেটা হচ্ছে আপোষ।

নিজেদের মধ্যে বিরোধ থাকলে মিটিয়ে নাও, যদি মনে কর লাভ আছে। আপোষ করে যদি বিরোধ না মেটানো যায় বা আপোষ করে কোন লাভ নেই মনে কর তাহলে আইনি লড়াই করার জন্য মনটাকে শক্ত কর।

আইনি লড়াই করব কি করে?

অনেকেই ভাবে এই লড়াইটা করাই সবচেয়ে কঠিনপুলিশ, গোয়েন্দা, আদালত  ছুটাছুটি! কিন্তু কিছু ধাপ অনুসরণ করলে এই কঠিন কাজই খুব সহজ হয়ে যায়।

) তোমার প্রথম কাজ হচ্ছে জিডি করা। তোমার নাম, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা সব ঠিকঠাক দিয়ে একটি আবেদন পত্র লিখে তোমার স্থানীয় থানায় যাও। সঙ্গে নাও তোমার সাইবার হ্যারাজের প্রমাণ।

মানে যে মেসেজ, কমেন্ট, যে পেইজ তোমাকে হয়রান  করেছে তার স্ক্রিনশট প্রিন্ট করা। সেখানে তোমার বক্তব্যও থাকতে পারে , কিন্তু সেটাও স্ক্রিনশটে দিবে, যাতে করে পুলিশ  তোমার বক্তব্য ও ঘটনার স্বচ্ছতা বুঝতে পারে

) জিডির সময় কোন টাকা লাগে না , আর সব সময় পুলিশের সঙ্গে অমায়িক ব্যবহার করবে। তারা অপ্রীতিকর কোন প্রশ্ন করতে পারে ঘটনা বুঝার জন্য, কিন্তু মাথা ঠাণ্ডা করে উত্তর দিবে।

) জিডির এক কপি পুলিশের এক কাছে, এক কপি তোমার কাছে থাকবে। তোমার কাছে থাকা জিডি কপি স্ক্যান করে নিবে।

) বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান সাইবার অপরাধ দমনে খুব কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছেএদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য  হচ্ছে Cybernirapotta। ফেসবুকে এই গ্রুপ দারুণভাবে সাড়া দেয়, মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপ্লাই দেয়। তাদের ফেসবুক পেইজের লিংক https://www.facebook.com/cybernirapotta#sthash.2JKHWC2O.dpuf তোমার স্ক্যান করা জিডি কপি এবং স্ক্রিনশট অ্যাটাচ করে পুরো ঘটনা লিখে মেইল কর help@cybernirapotta.net

৬) ফেসবুকে মেয়েদের আইনি লড়াই লড়ার জন্য একটি গ্রুপ আছে Justice for Woman: Bangladesh (https://www.facebook.com/groups/jfwbd/ )এই গ্রুপে জয়েন করে তুমি তোমার সাইবার হয়রানির ঘটনা শেয়ার করলে তারা তোমাকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে

কিছু প্রয়োজনীয় ঠিকানা:

) ঢাকা মেট্রোপলিটন ওমেন সাপোর্ট ডিভিশন
Duty Officer : 01745774487, 02-9110885
Helpline : 01755556644, 01755556645, 01733219005, 01733219030

২) তোমার জিডি কপি নিয়ে চলে যেতে পার বিটিআরসির  অফিসে।
Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission (BTRC)
IEB Bhaban (5,6 & 7 floor)
Ramna, Dhaka-1000
Phone (PABX): + 880 2 9611111
Fax: +880 2 9556677
Email: btrc@btrc.gov.bd

ফোন আর ইমেইলে রেস্পন্স না পেলে সোজা অফিসে যেতে পার। তারা ভীষণ হেল্পফুল।

এরপরও লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। ডিবি পুলিশ সাইবার ব্র্যাঞ্চ থেকে তুমি সব ধরণের হেল্প পাবে এই কাজে। লড়াইটা লড়তে সবচেয়ে প্রথম দরকার সাহস। হ্যাঁ, অনেক সময় পরিবার , বন্ধুবান্ধব সবাই বলবে ছেড়ে দে, দরকার নেইকিন্তু তোমাকে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকতে হবে অপরাধীকে উপযুক্ত শাস্তি দেবার লক্ষ্যে

লক্ষ্য করে দেখ, বাংলাদেশে প্রায় লক্ষাধিক নারী সাইবার জগতে বিচরণ করেঅথচ সাইবার হয়রানির মামলা ১০০টার বেশি না। এর কারণ সাহস করে কেউ শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না। তাই এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে তোমাকেই এগিয়ে আসতে হবে।

নিজস্ব প্রতিনিধি


More news