নজরকাড়া ব্যাকপ্যাকের সাত সতের!



গতকাল দু বছর পর স্বর্ণা এসেছে ইংল্যান্ড থেকে। তাই কাছের বন্ধুদের ডেকেছে যমুনা ফিউচার পার্কের একটি রেস্টুরেন্টে। সবাই মিলে বেশ জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছে। এমন সময় স্বর্ণা সবাইকে সারপ্রাইজ দেবার জন্য নিজের ব্যাকপ্যাক থেকে একটা একটা করে গিফট বের করতে থাকে। কিন্তু সবাই তখন গিফট না দেখে হা করে ব্যাগের দিকে তাকিয়ে থাকে

তারপর অনেকটা কাড়াকাড়িই লেগে গিয়েছিল ব্যাগটা কে আগে দেখবে ব্যাগটা ছিল হালকা ব্লাকের উপরে সাদা কিছু লেখা দিয়ে ভর্তি আর গ্যাভাডিং কাপড়ের মাঝে মাঝে কিছু স্টিকার লাগানো। সবাইকে থামিয়ে দিয়ে স্বর্ণা বলেছিল, “পোড়া কপাল আমার! কোথাও বের হলেই সবাই আমার দিকে না তাকিয়ে ব্যাগের দিকে তাকিয়ে থাকে! একটা একটা করে কি কি লেখা আছে, সব পড়ে তারপর কোথা থেকে কিনেছি, কত দাম সব জিজ্ঞাসা করে!”

এইটা মেয়েদের ব্যাগের কালার বাবা মা, আজকাল লাইট কালারের ব্যাগ কে ব্যবহার করে বলো তো! আমার সব বন্ধুরা তো কালারফুল ব্যাগই নেয় স্কুলে। কিছুদিন পরেই শুভর লেভেলস এর ক্লাস শুরু হবে। আর এই জন্যই শুভর মা, শুভকে নিয়ে এসেছে বসুন্ধরা সিটিতে। ঘুরতে ঘুরতে একটা ব্যাকপ্যাকের দিকে চোখ চলে যায় শুভর।


ব্যাগটা অনেকটা হলুদ আর মেরুন কালারের। তার উপর সুন্দর কিছু কোটস লেখা। এমন ব্যাগটা দেখে কেনার লোভ সামলাতে না পেরে শুভ মাকে জিজ্ঞাসা করে ব্যাগটা কেমন লাগবে। অন্যদিকে মায়ের ধারণা এমন ব্যাগ শুধু মেয়েদেরই মানায়। অবশেষে শুভর জোরাজুরিতে মা ব্যাগটা কিনেই দেন

শামিম সাহেব কালকেই নতুন চাকুরিতে জয়েন করবেন। ভাবছেন, প্রথম দিনে ফরমাল পোশাকের সাথে মানিয়ে যায় এমন একটা ব্যাকপ্যাক কেনা খুব জরুরী। তার ব্যাগ যে নেই তা না। কিন্তু ল্যাপটপ, চার্জার, ডায়েরি, ফাইল সহ আরও অনেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া আসা করার জন্য হাতে ঝুলিয়ে নেওয়া ব্যাগটা যথেষ্ট না। দরকার একটা ভাল মানের ব্যাকপ্যাক। তাই দেরি না করে নিউমার্কেটে চলে এসেছেন সেই সকাল বেলায় অবশেষে বেশ কয়েকটা দোকান ঘুরে একটা কালো রঙের গ্যাবাডিং ব্যাগ কিনে নিলেন

আজকাল বয়স এবং ব্যবহারের সাথে মিল রেখে ব্যাকপ্যাক এর চল ক্রমশ বেড়েই চলছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে অফিস, ভ্রমণ সব ক্ষেত্রেই ব্যাকপ্যাক হয়ে উঠছে খুবই অপরিহার্য একটা অনুষঙ্গ। এর পাশাপাশি ব্যবহারকারী, ব্যাকপ্যাকের মাধ্যমেও তার রুচির প্রকাশ ঘটিয়ে চলেছেন

তাই কেউ বাসা থেকে কোথাও বের হচ্ছেন, অথচ ব্যাকপ্যাক সাথে নিয়ে বের হচ্ছেন না, এমন চিত্র খুব একটা চোখে পড়ে না। উল্টো, ব্যাকপ্যাক যেমনি রুচির প্রকাশ ঘটাচ্ছে, ঠিক তেমনি তার দরকারি জিনিসপত্রের ভার বহন করে চলছে। তাই প্রয়োজন আর ফ্যাশান দুই দিক বিবেচনা করে তৈরি হচ্ছে এখনকার সব ব্যাকপ্যাক।

তরুণরা যেমন কালারফুল ব্যাগের দিকে বেশি ঝুঁকছেন, তেমনই চাকুরিজীবীরা ফরমাল কালো রঙের গ্যাভাডিং অথবা লেদারের ব্যাগের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন। তাই ব্যাকপ্যাকে যেমনি বই পত্র বহন করা হচ্ছে, ঠিক তেমনি ক্যামেরা, পোর্টেবল হার্ডডিস্ক সহ অনেক ভারি ভিনিসপত্রও বহন করা যাচ্ছে বিষয়টা সম্পূর্ণই নির্ভর করছে কে কী উদ্দেশ্য নিয়ে ব্যবহার করছে, তার উপর। 

   

ক্যামেরার জন্য:

সাধারণ ডিজিটাল কিংবা এসএলআর হলে সাধারণ মানের ব্যাকপ্যাক হলেই চলে। কিন্তু ভাল ব্রান্ডের ভাল মানের ডিএসএলআর কিংবা ভিডিও ক্যামেরা হলেই দরকার হয় একটু আলাদা স্টাইলের ব্যাগ। এই ব্যাগগুলো সাধারণত গ্যাভাডিং কিংবা কাপড়ের হয়ে থাকে। কিছু ব্যাগ থাকে ওয়াটার প্রুফুও। সেক্ষেত্রে দামের ব্যতিক্রম দেখা যায়।

এই ব্যাগগুলোর ভিতরের অংশটা অন্য ব্যাকপ্যাক গুলোর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে ক্যামেরার বডি রাখার জন্য আলাদা স্পেস, লেন্স রাখার জন্য আলাদা স্পেস এবং চার্জার সহ অন্যসব দরকারি জিনিসপত্র রাখার জন্য আলাদা আলাদা স্পেস থাকে। এতে একটার সাথে আরেকটা গাদাগাদি করে রাখতে হয় না এবং খুব একটা ক্ষতির সম্ভাবনাও থাকে না। তবে ব্যাগ কেনার সময় ঠিকভাবে লেন্স রাখা যাচ্ছে কিনা এবং ক্যামেরার বডি সঠিকভাবে নড়াচড়া করা যাচ্ছে কিনা সেই বিষয়গুলো দেখেই কেনা উচিত। 

প্রাপ্তিস্থান: বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, নিউমার্কেট সহ হাতের কাছাকাছি যেকোন বড় শপিংমলে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। 

দরদাম: একটু ভাল মানের কিনতে গেলে আপনাকে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকার মধ্যে বাজেট করতে হবে


অফিস যাতায়াতের জন্য: সাধারণত স্ট্রাকচার্ড ব্যাকপ্যাক কর্পোরেট লুকের সাথে বেশি মানানসই। তারপরও আপনার অফিসে যাতায়াতের জন্য ব্যাকাপ্যক কেমন হবে তা নির্ভর করে সম্পূর্ণই আপনার উপর। আজকাল এইচপি ব্রান্ডের কিছু ব্যাগ ছাড়াও ক্যামেল মাউন্টেইন, উইলসন, ইয়সোর ব্যাগের প্রতি সবার আলাদা আকর্ষণ দেখা যাচ্ছে।

তবে অফিসের ব্যবহারের জন্য একটু ভাল মানের ব্যাগ কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ কারণ একটু অনুন্নত ব্যাগের জন্য আপনি হয়তো আপনার মূল্যবান কোন কিছু মিস করে ফেলতে পারেন। তাছাড়া সবার সাথে মানিয়ে নেবার একটা বিষয় তো থাকছেই। 

প্রাপ্তিস্থান: একটু ভাল মানের ব্যাগ কিনতে চাইলে যেতে হবে সীমান্ত স্কয়ার, বসুন্ধরা সিটি, এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্লানে কিংবা নিউমার্কেটে। 

দরদাম: আপনি এক হাজার থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে একটি ভাল মানের অফিসে যাতায়াত করার ব্যাগ কিনতে পারবেন। 

এছাড়াও ভ্রমণ কিংবা ট্রাকিং করতে গেলে সব সময় কম ওজনের ভাল মানের ব্যাগ কেনাই উত্তম এবং সেই সাথে অবশ্যই দুই কাঁধে ব্যাকপ্যাক ব্যবহার করাই বেশ বুদ্ধিমানের কাজ হবে। শুধু তাই নয়, কোন ধরনের পোশাকের সাথে মানিয়ে যাবে ব্যাকপ্যাক, সেদিকটাও তো লক্ষ্য রাখতে হবেতাইনা!

নিজস্ব প্রতিনিধি, ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত


More news