জাবি’র তরিক: শিল্পী হৃদয়ে বাসা বেঁধেছে গান



তরিকুল ইসলাম মৃধা। ক্যাম্পাসের সবার কাছে তরিক মৃধা নামেই পরিচিত। পড়ছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৩য় বর্ষে।

একজন নিবেদিত শিল্পী হতে চাই। আমি ছোটবেলা থেকেই সংগীত অনুরাগী এবং একটি সাংস্কৃতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছি। আমার বাবা অভিনয় করতেন। কিন্তু আমি মূলত গানটাকেই ভালবাসি। তাই নিজে বোঝার আগেই গানটা কিভাবে যেন রক্তে মিশে গেছে। আর রক্ত ছাড়া যেমন জীবন বাঁচে না, তেমন গান ছাড়া আমার জীবন অচল।”

ছোট করে নিজের সম্পর্কে বলতে বললে তরিক এভাবেই নিজেকে উপস্থাপন করলেন। গান করেন, অভিনয় করেন, নাচেন, মডেলিং করেন (মানে নিজের ছবি তোলানো!!), সহজ কথায় সাংস্কৃতিক একটা আবহে তার জীবন যাপন। বিডি ইয়ুথ আজ কথা বলবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিয় মুখ তরিকুল ইসলাম মৃধার সাথে।


বিডি ইয়ুথ: কিভাবে শুরু এবং এখান পর্যন্ত আসার গল্পটা ছোট করে বলুন।

গান যে কিভাবে শুরু তা সত্যিই মনে নেই। তবে এইটুকু মনে আছে হারমোনিয়াম নাগাল পেতাম না। তাই টেবিলে বসে গান গাইতাম। ছোটবেলা থেকে পারিবারিক আবহটাই আসলে মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

আর অভিনয় করবো, এমনটা কখনো ভাবিনি আসলে। কিন্তু আমার সবসময়ই সাংস্কৃতিক পরিবেশে থাকতে ভাল লাগে। তাই বেছে বেছে নাটক বিষয়ে পড়া। এখানে এসে আমার আমূল পরিবর্তন হলো। আসলে হয়েছে কি, এতদিন গাছ ছিল কিন্তু সার ছিল না। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ আমার জীবনে সারের মত কাজ করছে। প্রতিনিয়ত উর্বর করছে আমার ভিতরটাকে। আমার বোধ শক্তি আর চিন্তার আকাশকে মুক্ত করেছে। আমি এখন চোখ বুজে উড়তে পারি, ভ্রমণ করতে পারি গোটা পৃথিবী। হা হা হা...

বিডি ইয়ুথ: সমসাময়িক কোন কাজ করেছেন?

সম্প্রতি ইভটিজিং নিয়ে এটি বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের মাধ্যমে পর্দায় সবাই নতুন তরিককে দেখেছে। ভাল ভাল কিছু টিভি নাটকে অভিনয়ের অফার পাচ্ছি। কিন্তু আমি গানটাকেই প্রাধান্য দেবো। বলেছি তো গানটা আমার রক্তে!!

বিডি ইয়ুথ: গান নিয়ে আপনার পথ চলাটা আমাদের সাথে যদি শেয়ার করতে চান…

প্রখ্যাত উস্তাদ অসিত দের কাছে উচ্চাঙ্গসংগীতের তালিম নিচ্ছি। এছাড়া আমার ব্যান্ড ‘ALAP Fusion’ এগিয়ে যাচ্ছে টুকটুক করে। সবাইকে একটু আলাদা গান উপহার দেয়ার চেষ্টা আমার। ক্লাসিক্যাল গানের প্রতি অনেকেরই শ্রুতি ভীতি দেখা যায়। এটাকে দূর করতে চাই। গানের কিন্তু কোন দেশ নেই। এটি বিশ্বব্যাপী বহমান একটি ভাষা।


রুন আমাদের নিজস্ব বাদ্যযন্ত্র যেমন একতারা, খমক ইত্যাদি যদি বিশ্বের অন্য কোন দেশ ব্যবহার করে নিশ্চয়ই আমরা খুব গর্ব করবো!! আমি চাই গানের ভিন্ন ভিন্ন সুর মানুষের কানে আসুক। আমি এটা নিয়ে গবেষণা করতে চাই। আমি সময় নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। যা করবো তা যেন আলাদা এবং নিখুঁত হয়।

আর যেহেতু নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে পড়ি সেহেতু অভিনয়ের প্রতি একটি ঝোঁক বা ভালবাসা তৈরি হয়ে গেছে। আরশিনগর থিয়েটার করছি। নিয়মিত মঞ্চ নাটক করছি। মানুষের ভালবাসা পাচ্ছি। এইতো, আর কি চাই!!

বিডি ইয়ুথ: কাজের স্বীকৃতি বা সম্মাননা?

Ntv’র রিয়ালিটি শো গাহি সাম্যের গান ২০১৩তে রানার্সআপ হয়েছিলাম। ছোটবেলায় ২০০৫ সালে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন এবং জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় পরপর ২ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম (লাজুক হাসি)। এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়েছি।

বিডি ইয়ুথ: জীবন কিংবা কাজের অনুপ্রেরণায় কি কেউ আছে?

বাবা, মা, আপু, দাদা, এবং আশেপাশের সবাই আমার অনুপ্রেরণা। আমি আসলে অন্যকে দেখে শিখি। এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। আমার কখনো মন খারাপ হয় না। আমি নিজেও কিন্তু নিজের অনুপ্রেরণা!! হা হা...


বিডি ইয়ুথ: জীবনের মজার কোন ঘটনা, যেটা মনে আঁচড় কেটেছে?

হ্যাঁ.. হ্যাঁ... আছে। একবার আমি আর আমার এক বন্ধু কলার ভেলায় চড়েছিলাম। তো এক পর্যায়ে আমরা পানিতে পড়ে গিয়েছিলাম। পকেটে দামি জিনিসপত্র ছিল। আমার তো মেজাজ বেজায় খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমার বন্ধু তখন উচ্চস্বরে হাসছিল!! ওর হাসি আমার জীবনে অনেক বড় শিক্ষা।

বিডি ইয়ুথ: আপনার শখ বা অবসর কাটে কিভাবে?  

নিজের ছবি তোলানো। এটাকে মডেলিং বললে ভুল হবে, নিজের ছবি তোলানোটা আমার এক ধরনের শখ। আসলে নিজেকে সাজিয়ে রাখতে ভাল লাগে আমার। পরিপাটি হয়ে থাকাটা তো সকলের পছন্দ, তাই না!! এছাড়া বন্ধুদের সাথে আড্ডা, পিয়ানো বাজিয়ে, গান শুনে, ফেসবুক আর পরিবারের সাথে থেকে অবসর কাটাই।

বিডি ইয়ুথ: আপনার পছন্দের উক্তি কোনটি?

বলো কি তোমার ক্ষতি? জীবনের অথৈ নদী, পার হয় তোমাকে ধরে দুর্বল মানুষ যদি” ভূপেন হাজারিকার এই গানের লাইনটি আমাকে মাঝে মাঝেই নাড়া দেয়। এটাকে মানার চেষ্টাও করি।

বিডি ইয়ুথ: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা?

ব্যান্ডটাকে গড়ে তুলতে চাই। গান শিখতে চাই। সুযোগ পেলে অভিনয় করবো। এইতো.....

বিডি ইয়ুথ: তরুণ পাঠকদের জন্য কিছু বলুন

একটাই কথা বলবো, “উদ্দেশ্য যদি সৎ থাকে জীবন রঙিন হয়।”

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি


More news