পুরাতন বইয়ের আস্তানা



জ্ঞানী মানুষের নিত্যসঙ্গী বই। জানি, কথাটায় রাগ করেছেন। কিন্তু রাগ করছেন কেন? যারা বই পড়ে তারাই কি জ্ঞানী নয়?! যারা বই পড়ে তারা স্বাভাবিকভাবে বাকিদের চেয়ে এগিয়ে থাকে। জ্ঞানী বলে কথা! যাক সে তত্ত্ব কথা। আসল কথায় আসি।

মনে পড়ে, আমরা খুব ছোটবেলায় আশেপাশে যারা বইপোকা তাদের কাছ থেকে বই ধার নিয়ে পড়তাম? একসময় আমাদের নিজেদের পছন্দের বইয়ের রুচিতে ভিন্নতা আসে। তারপর আমরা নিজেরাই নিজের বই সংগ্রহ করতে শুরু করি।

বই সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে নতুন বইয়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় হচ্ছে পুরাতন বইয়ের আস্তানা। এক নজরে দেখে নেই ঢাকা শহরের পুরাতন বইয়ের আস্তানার খোঁজখবর।

নীলক্ষেত, ঢাকা শহরের বই পড়ুয়াদের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। বইপোকাদের স্বর্গ হিসেবে খ্যাত এই নীলক্ষেত। নীলক্ষেতে শুধুমাত্র পুরাতন বইয়ের জন্যই রয়েছে ফুটপাত থেকে শুরু করে আনাচে কানাচেতে বহু প্রসিদ্ধ দোকান। মোস্তফা মামার দোকান, বলাকা থেকে সোজা নীলক্ষেতে হাতের বামে ম্যাগাজিনের গলিতে এই মামার দোকান। সবার কাছে উনি মোস্তফা মামা নামেই পরিচিত।

দুই বাংলার প্রসিদ্ধ থেকে শুরু করে নতুন, অখ্যাত থেকে শুরু করে বিখ্যাত সব বই পাওয়া যাবে এই মামার পরপর তিনটি দোকানে। জ্বী হ্যা, বইপোকাদের জন্য মামা এবং তার ছেলের তত্ত্বাবধানের তিনটি দোকানে রয়েছে হাজারো পুরাতন বইয়ের সমারোহ। দামাদামি করার ঝামেলা নেই, উনি ইদানীং সব বই একদামে বিক্রি করেন। তবে বইয়ের দাম অবশ্যই আপনাদের সাধ্যের মধ্যে।

‘বাহার বুক সেন্টার’ নামের একটি দোকানে পুরাতন বই থেকে শুরু করে পাবেন বিখ্যাত সব ইংরেজি অনুবাদ বইয়ের সহজলভ্য প্রিন্ট সুলভ মূল্যে। ম্যাগাজিন গলিতে পাবেন আপনার প্রিয় এবং কাঙ্ক্ষিত সকল ইংরেজি মূল বইয়ের পুরাতন কপি। চার্লস ডিকেন্স থেকে শুরু করে হালের চেতন ভগত, সবকিছুই আপনার হাতের নাগালে নামমাত্র মূল্যে! এছাড়া নীলক্ষেতের সকল ফুটপাতেই আপনি চোখ কান খোলা রাখলে পুরাতন বইয়ের সন্ধান পাবেন।

বাংলাবাজার, ঢাকা দক্ষিণের বইপোকাদের জন্য একটি বিখ্যাত অঞ্চল। বাংলাবাজারেও আপনি সেবা প্রকাশনী থেকে শুরু করে আপনার চাহিদার সকল পুরাতন বই পাবেন সাধ্যের মধ্যে। জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি থেকে সোজা ডানের গলিতে পাবেন আপনি পুরাতন বইয়ের আস্তানা। এছাড়াও বাংলাবাজারেও সকল ফুটপাত এবং মূল পয়েন্টের ওভারব্রিজের নিচে সবসময়ই পুরাতন বইয়ের দেখা মেলে। 

বাবুবাজার, একসময়ের বিখ্যাত এই পুরাতন বইয়ের ঠিকানায় এখন বইয়ের দোকান এবং ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ই কমে এসেছে। তবে বাবুবাজারের কিছু দোকানে এখনো পুরাতন বইয়ের দেখা মেলে, বিশেষ করে বইপ্রেমীদের জন্য সুখবর হচ্ছে বাবুবাজারের কিছু জায়গায় তিন গোয়েন্দা এবং মাসুদ রানার বই কেজি দরে বিক্রি হয়!

মিরপুর, কী নেই এখানে? এত কিছুর গল্প আরেকদিন হবে। মিরপুরেও রয়েছে পুরাতন বইয়ের বিশাল বাজার। আগে মিরপুর-১০ ফায়ার সার্ভিসের পাশে বসত পুরাতন বইয়ের অনেকগুলো দোকান। সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানে এ দোকানগুলো উঠে গেছে। তবে নিরাশ হবার কিছু নেই। মিরপুর-১০, শাহ আলী মার্কেটের পিছনের দিকে বেশ কয়েকটি বইয়ের দোকান আছে। সেখানে নতুন থেকে পুরাতন সব ধরনের বইই পাওয়া যায়।

পল্টন মোড়, বায়তুল মোকাররমের বিপরীতের এই দোকানগুলোতে বহুবছর যাবতই বিক্রেতারা সাজিয়ে বসেছে পুরাতন বইয়ের পসরা। দেশ বিদেশের ম্যাগাজিন থেকে শুরু করে বই, ডকুমেন্টারি সবকিছুরই দেখা মেলে এই স্থানে। তবে একটি গোপন খবর হচ্ছে, প্রতি শুক্রবার জুম্মা নামাজের পরে বিক্রেতারা এখানে বিশেষ ছাড় দেয়। তখন হাজির হলে আপনি আপনার পুরাতন প্রিয় বইটি পেয়ে যাবেন মাত্র ১০-২০ টাকার মধ্যে!

বই আপনার মনের খোরাক এবং একাকিত্ব দূর করবে। একা অথবা বন্ধুকে নিয়ে আজই চলে যেতে পারেন প্রিয় বইটির খোঁজে।

বিশেষ প্রতিনিধি, ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত


More news