প্রতীতি শিরীন ও তার “Under European Skies” নিয়ে আলাপচারিতা



প্রতীতি শিরীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজী ডিপার্টমেন্টের সহকারী অধ্যাপক। কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স করতে গিয়েছিলেন বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনে। সেখানে পড়াকালীন অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন স্মৃতিকথা:Under European Skies” বইটি। যা প্রকাশিত হয়েছে ২০১৬ এর বই মেলায়। বিডি ইয়ুথের সাথে আলাপচারিতায় নিজের বই ও চিন্তা শেয়ার করেন তিনি। তার চুম্বক অংশ বিডি ইয়ুথের পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো:

বিডি ইয়ুথ: কেমন আছেন?

প্রতীতি শিরীন: ভালো।

বিডি ইয়ুথ: আপনার বই সম্পর্কে বলুন-

প্রতীতি শিরীন:Under European Skies” বইটি মূলত স্মৃতিচারণ মূলক গত বছর লন্ডনে গিয়েছিলাম কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে এক বছরের জন্য একটি মাষ্টার্স কোর্স করার জন্য লেখাপড়া করতেই সেখানে গিয়েছিলাম তবে তখন দেখা যেত কোন ব্রেক পেলেই লন্ডনের বাইরে যেতাম আমি বিভিন্ন দেশ ঘুরেছি, বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছিযেমন- স্পেন, প্রাগ, বুদাপেষ্ট, জার্মানি, ইতালি সহ আরো অনেক গুলো জায়গায়

লন্ডনের আবহাওয়া খুব বৈরী ছিল, খাবার কষ্ট হতগুলো স্কিপ করতেই মূলত সুযোগ পেলেই ইউরোপে ঘুরতাম আমার সারাজীবনের শখ ছিল যেসব জায়গা নিয়ে পড়েছি, ইতিহাস জেনেছি সুযোগ পেলেই যেন সেসব জায়গায় যেতে পারি। ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে সে মনের আশা পূরণ হয়েছে মনে হতে পারে যে এটা কোন ভ্রমণকাহিনী, কিন্তু তা এটা স্মৃতিকথা

বইটাতে আমার যে থিসিস বেগম রোকেয়ার শিক্ষা চিন্তাএটা লেখার প্রক্রিয়া নিয়েও একটা চ্যাপ্টার আছে সত্যি কথা বলতে কি, বইটাতো আমি একদিন বসে লিখে ফেলেছি তা নাআমি লন্ডন যাওয়ার পর থেকেই লিখছিলাম আমার একটা এন্ট্রি আছে দুবাই এয়ারপোর্ট বইয়ের প্রথম এন্ট্রি আমি এটাকে লিখেছিলাম ডায়েরি অব দ্য পোষ্ট গ্রাজুয়েট নামে

যাওয়ার পর থেকে আমি নিয়মিত লিখছিলাম আমার যখন স্পেনে পাসপোর্ট হারালো তখন অ্যাম্বেসিতে যেতে হয়মাদ্রিদে সেই অ্যাম্বেসিতে বসেও লিখেছিলাম, ফেসবুকে পোষ্টও করেছিলাম এই এন্ট্রি গুলো নিয়েই ফিরে আসার পর ভাবলাম, একটা বই বের করি আমার বইটা ঐ এন্ট্রিগুলোরই একটা সম্পাদিত বং পরিমার্জিত বৃহত্তর ভার্সন থিসিসের ব্যাপারটা এখানে এসে যুক্ত করেছি যেটা ডায়েরি অব দ্য পোষ্ট গ্রাজুয়েটে নেই

আমি নোট আকারে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছিলাম যেখানে আমার স্টুডেন্টরা রেসপন্স দিচ্ছিলওদের জন্যই আমি মূলত পোস্টগুলো দিচ্ছিলাম বইটা সম্পর্কে আরো যদি বলি- এটা স্মৃতিচারমূলক বই। তারচেয়েও বড় কথা এ থেকে একটা মেয়ে বা একজন শিক্ষার্থী প্রথমবার একা বিদেশে গেলে সে কিভাবে একটা প্রতিকূল পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিবে তাদের জন্য খুব কাজে আসবে এই বইটা পড়ে তারা অনেক কিছু জানতে পারবেবিশেষ করে যারা ইউরোপে যাচ্ছে, এটা তাদের প্রস্তুতিতে সাহায্য করবে

বিডি ইয়ুথ: লেখা-লিখির ইচ্ছেটা কি আগে থেকেই ছিল?

প্রতীতি শিরীন: আমি ছোটবেলা থেকেই লিখতাম। যখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি আমার প্রথম ছোটগল্প বের হয় যায়যায় দিনে। তখন ওটা সাপ্তাহিক ছিল। ওদের বিশেষ সংখ্যাগুলোতে আমি নিয়মিত লিখতাম। আমার কলেজ পাশ করা পর্যন্ত সেখানে লিখে গিয়েছি। এছাড়া ডেইলি স্টারে, ইন্ডিপেন্ডেন্টে, নিউ এজে টুকটাক লেখা পাঠাতাম তারাও মাঝে মাঝে ছাপতো।

এরপরে তো মিডিয়াম চেঞ্জ হয়ে গেলো। ফেসবুক আসলো। পরে বিডি নিউজে লিখেছি। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের যখন একটা অধিকার দেওয়া হলো যে, বিভিন্ন ফর্মে তৃতীয় লিঙ্গ কথাটা আলাদাভাবে উল্লেখ থাকবে সেটা যখন করা হলো তখন সেটা নিয়ে লিখলাম, পাবলিশ হয়েছিলো বিশ্ব এইডস দিবসে। এছাড়াও আরো লেখা সেখানে পাবলিশ হয়েছে।

বিডি ইয়ুথ: লিখার উৎসাহ কিভাবে তৈরি হয়েছিল? কোন বিশেষ কারণ

প্রতীতি শিরীন: আমার মনে হয়েছে যে লিখতে হবে তাই লিখেছি, ভালো লাগে। আমি পড়ি, তবে সত্যি কথা বলতে কি বাংলা সাহিত্যে আমার পড়াশুনা খুব ব্যাপক না। আমি ইংরেজি সাহিত্যের মানুষ, ঠিক তাও না। অনার্স পর্যন্ত আমার সাহিত্য পড়তে হয়েছিল। অ্যাপলাইড লিঙ্গুইস্টিক এবং ইএলটিতে আমার প্রথম মাষ্টার্স।

আমার প্রিয় লেখক ল্যাটিন আমেরিকান গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ। উনার বই গুলো পড়ে আমি ইন্সপায়ার্ড হতাম। অনেক কিছুই পড়েছি, তবে একদম সিস্টেমেটিক পড়া বা লেখক হওয়ার জন্য কখনো পড়িনি। বাংলা সাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পগুলো পড়েছি। ক্লাস নাইনে যে গল্প লিখেছি তা আমার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছি।

ছোট করে বলতে পারি, আমার মা আমাকে কোচিংয়ে নিয়ে যেত। আমরা থাকতাম ঢাকা কলেজের পাশের গলিতে একদম শেষ মাথায় ওখান থেকে ফিরতে হতো রাতের বেলায়। ঐ গলির সমস্যা ছিল রাতের বেলায় লাইট জ্বলতো না, খুব অন্ধকার থাকতো। আমাদের ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যেত তখন

আমি খুব ভয় পেতাম, এলাকার বখাটে ছেলেরা ঢিল মেরে লাইট গুলো ভেঙে রাখতো। ঐ কন্টেক্সে আমি একটা মেয়েকে নিলাম চরিত্র হিসেবে, লাইটিং নেই কিছু বখাটে ছেলে আসছে মেয়েটাকে তুলে নিয়ে যেতে তখন কি হতে পারে, তখন কি হয় আসলে। এটা ছিল আমার ঐ গল্পটার থিম। এই গল্পটা কিন্তু পার্সোনাল অভিজ্ঞতা থেকে লেখা।

বিডি নিউজে যে লেখা গুলো লিখেছি তার কিন্তু পলিটিক্যাল বা অন্যান্য প্রেক্ষাপট আছে যেমন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে যেটা লিখেছি তা হিউম্যান রাইটস নিয়ে। এর বাইরে যা লিখেছি সবসময়েই পার্সোনাল অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছি এর জন্য গতানুগতিক লেখাপড়া করে লিখতে এসেছি তা নয় আমি পড়ি লিখি, লিখি পড়ি। যা ভালো লাগে তা পড়ি ফিকশনাল, নন-ফিকশনাল সব পড়ার চেষ্টা করি।

বিডি ইয়ুথ: আপনার স্মৃতি কথা থেকে একটা মজার ঘটনা বলুন….

প্রতীতি শিরীন: লন্ডনে আমি থাকতাম মিক্স ডরমেটরীতে অর্থাৎ ছেলে মেয়ে একসাথে। একদম প্রথম দিকে রাত একটার দিকে গিয়েছি ওয়াশরুমে। ওখানে ওয়াশরুমও মিক্সড ছিলো অর্থাৎ ছেলে মেয়ে একসাথেই যেত। সেখানে গিয়ে আমি দাঁড়িয়ে আছি, সামনে একটা আফ্রিকান ছেলে। জানুয়ারি মাস অনেক ঠাণ্ডার ভিতর তার গায়ে কিছু নাই শুধু একটা টাওয়েল জড়ানো এটা দেখে আমি একটু হকচকিয়ে গিয়েছিলাম। সে আমাকে বারবার জিজ্ঞেস করছিল- ইউ গোয়িং ইন দেয়ার? আমি কিছু বুঝতে পারছিলাম না। দাঁড়িয়ে ছিলাম, কারণ আমার জন্য এটা নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে এটার কথা ভাবলে হাসি পায়, একটা স্বাভাবিক ঘটনাকে কেমন করে নিয়েছিলাম।

বিডি ইয়ুথ: আপনার বিদেশে পড়া-শুনার অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের কিছু বলুন

প্রতীতি শিরীন: আমার লেখাপড়া ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডন যেটাকে সংক্ষেপে ইউসিএল বলা হয়। ইউসিএল এর ইন্সটিটিউট অব এডুকেশনে। আমার প্রোগ্রাম ছিলো মাস্টার্স ইন এডুকেশন এন্ড ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট। এই ইন্সটিটিউটটা ওদের স্পেশালাইজড ইউনিট। ফলে লেখা পড়া খুবই ভালো। ২০১৪-২০১৬ এই তিন বছরই কিউএস র‍্যাংকিংয়ে এটা এডুকেশনে একম্বর। এই ইন্সটিটিউটটাকে বলা হয় শিক্ষাক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের হার্ভার্ড 

আমার থিসিসটা ছিল বেগম রোকেয়ার শিক্ষা চিন্তা নিয়ে। ওদের ওখানে লেখাপড়াটা খুব ভালো ওরা আসলে লেখাপড়াটা করিয়ে নেয়। আমাদের ডিপার্টমেন্টেতো আমরা থিসিস দেই না। এখানে থিসিস না করেই মাষ্টার্স দেওয়া হয়। ওখানে আমার যে সুপারভাইজর ছিলেন, তার কাছে আমি থিসিস লেখার প্রক্রিয়াটা শিখেছি। ওখানে আমি খুব কষ্ট করেছিলাম, তবে আমার রেজাল্ট ভালো এসেছে

ওদের লাইব্রেরী অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সবকিছু একটা সিস্টেমের মত। এখানে এই ফ্যাসিলিটিগুলো পাই না। এটা আসলে স্টুডেন্টদের দোষ না। আমাদের অনেক স্টুডেন্টই আছে যারা অনেকেই বাইরে স্কলারশিপ নিয়ে পড়ার যোগ্য । কেন তারা যেতে পারে না কারণ, আমরা ঐ গ্রুমিংটা দেই না, নার্চারিংটা করা হয় না। এটা আমি বাইরে গিয়ে প্রায় মনে করতাম।

আমার ইন্সটিটিউটেরই বাইরে ছিল স্কুল অব আফ্রিকান এন্ড ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ। আমার মূল লেখা পড়াটা ঐখানে। ওখানে বাংলা বই আছে। ওদের সাউথ এশিয়ান সেকশনে বসে লেখাপড়া করতাম। ওদের লাইব্রেরীতে প্রতিটি তলায় একটা অংশ আছে যেখানে সবাই কথা বলবে আলোচনা করবে। সেটা ছিল টকিং জোন

আরেকটা হল সাইলেন্ট জোন যেখানে চুপচাপ লেখা পড়া হবে। এই যে আমরা বিরক্ত হই লাইব্রেরীতে কথা বললে, আমার মনে হয় এটা চেঞ্জ করা উচিত। যদি লাইব্রেরীতে মানুষ কথা বলতে পারে, তাহলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পড়াশুনাটা আরো সুন্দর হয়। আমার ইন্সটিটিউটের লাইব্রেরী আবার ভিন্ন ছিল পুরোটাই সাইলেন্ট জোন।

বিডি ইয়ুথ: আপনার বইটা বাংলায় না লিখে ইংরেজিতে করার বিশেষ কোন কারণ…

প্রতীতি শিরীন: আমার লেখাপড়া বা স্কুলিংয়ের পুরোটা সময় বাংলাতে ছিল না। আমি ছোটবেলায় জার্মানিতে ছিলাম আমার বাবার পেশাগত কাজে। চার বছর জার্মানিতে ছিলাম। আমার একদম ছোটবেলার লেখাপড়া বাংলাদেশে ছিল। জার্মানিতে যাওয়ার পর আমার লেখাপড়া জার্মান ভাষায়। মিডিয়াম অব ইন্সট্রাকশন জার্মান ভাষায়।

জার্মান ভালো বলতে পারি। জার্মান কালচার সেন্টারে আমি পড়াতামও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করার আগে। দেশে ফিরে আসার পরে আমার লেখাপড়া স্কলাস্টিকাতে সেখানে আমার মিডিয়াম অব ইন্সট্রাকশন ছিল ইংলিশ। আর আমাদের ইংলিশ ডিপার্টমেন্টেও কথা বার্তা ইংলিশে বলি। আমার বাংলার ভিত্তিটা ভালো না। আমি সাক্ষাৎকারে বাংলায় কথা বলছি কিন্তু লিখতে গেলে বাংলার ফর্মাল ভাষাবোধ দরকার, সে ভিত আমার নেই বলেই বিশ্বাস করি।

হয়তো চেষ্টা করলে করা যায় কিন্তু আমার চিন্তাটা বাংলায় করি না, মুশকিল এটাই। যেহেতু আমার সার্বক্ষণিক কাজ ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানো, ডিপার্টমেন্টের কাজকর্ম ইংলিশে, লেখালিখি ইংলিশে সেহেতু কথা বলার সময় আমি বাংলায় বললেও চিন্তাটা করি ইংলিশেই। এটা কিন্তু আভিজাত্য না, এটা আমার দুর্বলতা বলা যায়

তবে আমি কিন্তু বাংলায় লিখেছি। আমার নাইনের গল্প কিন্তু বাংলাতেই ছিল। কিন্তু এখন যদি লিখতে যাই একটু ভারী কিছু, আমি মনে করি সেটা আমি সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে পারবো না। লিখতে গেলে হয়ত ব্যকরণগত ভুল করবো। তাই আমি মনে করি ভুল বাংলা লেখার চেয়ে শুদ্ধ ইংরেজি ব্যবহারটাই ভালো।

বিডি ইয়ুথ: ভবিষ্যতে কি আরো পরিকল্পনা আছে লেখালিখি করার?

প্রতীতি শিরীন: অবশ্যই। আমি লিখতে চাই। সামনে আমি আমার লেখালিখি চালিয়ে যাবো। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখবো। লেখাতো বন্ধ থাকে না। আমিতো ফেসবুকে লিখে যাচ্ছি সবসময়। সামনে আরেকটা বই বের করবো, একটা মেমোয়ার্স বের করার ইচ্ছা আছে চার-পাঁচ বছর পরে। আর টেক্সট বুক লিখার ইচ্ছা আছে, আমার ডিপার্টমেন্টের জন্য।

আমি একটা নতুন বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করে এসেছি লন্ডন থেকে। এই বিষয় নিয়ে বাংলায় বই নেই। আমি অন্তত এই একটা বই বাংলায় লিখতে চাই। যাতে এদেশের মানুষ ঐ জিনিসটা সম্পর্কে জানে। এটা এখনই লিখবো না। সময় নিয়ে লিখবো যত লাগে। লেখালিখি চালিয়ে যাব এবং খুব সম্ভবত তা ইংরেজিতেই হবে।

বিডি ইয়ুথ: একজন শিক্ষক ও লেখক হিসেবে বাংলাদেশের তরুণদের উদ্দেশ্যে কিছুলুন….

প্রতীতি শিরীন: আমি মনে করি আমাদের সম্পদ আসলে আমরাই মানব সম্পদ আমাদের দেশের ভিত্তি। আমি আমাদের তরুণদের নিয়ে খুব আশাবাদী। যখন আমি আমার ক্লাস রুমে যাই, স্টুডেন্টরা আমার সাথে তাদের চিন্তাটা শেয়ার করে তখন আমি বুঝতে পারি ওদের যে চিন্তা ভাবনা, ওদের যে ক্রিয়েটিভিটি, ওদের যে ইনোভেটিভনেস এটা দিয়ে অনেকদূর পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব

আগে একটা জিনিস ছিল যে, সরকারী চাকুরী করতে হবে কারণ, মাস শেষে বেতন পাওয়া যাবে। আমাদের তরুণরা কিন্তু এখন আর এটাকে প্রেফার করছে না তারা দিন দিন নতুন কিছু করতে চাচ্ছে। একটা ছোট খাটো ব্যবসা হলেও তারা চিন্তা করে। আমার অনেক স্টুডেন্টকেই দেখি যে তারা এখনই অনেক কিছু করছে

কয়েকজন উদ্যোগ নিয়ে হয়তোবা একটা ব্যবসা করছে হতে পারে তা টিশার্ট তৈরির। যাই হোক এটাই তো উদ্যোগ। এই উদ্যোগটাই জরুরী, এটাই তাদেরকে বড় করবে। একটা জিনিস প্রথম থেকেই মহীরুহু থাকে না ছোট অবস্থা থেকেই কোন কিছু শুরু হয় সেটাই আস্তে আস্তে বড় হয়। এই জিনিসটাই আমার ভালো লাগে যে এখনকার তরুণরা স্বাধীনভাবে কিছু একটা করতে চাচ্ছে। হ্যা এখানে অনেক অনিশ্চয়তা আছে নতুন কিছু করা মানেইতো অনিশ্চয়তা, তাইনা? নাহলে আমরা সামনে এগুবো কি করে?

বিডি ইয়ুথ: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, সময় দেওয়ার জন্য।

প্রতীতি শিরীন: বিডি ইয়ুথকেও অনেক ধন্যবাদ।

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি


More news