ঢাবির রকস্টার লিসান ও তার ব্যান্ড ‘অবলিক’



রবিউল বাশার লিসান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোটামুটি সবার কাছে এক পরিচিত নাম। বিশেষ করে যারা গান ভালোবাসেন কিংবা ‍গানের খোঁজ খবর রাখেন তারা সবাই লিসানকে এক নামেই চেনেন। ‘অবলিক’ ব্যান্ডের লিসানএখন এটাই তার বড় পরিচয়!!

লিসান ভোকালিস্ট হিসেবে যুক্ত আছেন রক ব্যান্ড অবলিকএর সাথে। অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র তিনি। গাইতে গাইতে গায়েন বনে যাওয়া লিসানের সাথে কথা হলো তার সঙ্গীত জীবনের বিভিন্ন দিক, তার ভালো লাগা, মন্দ লাগা নিয়ে। ক্যাম্পাসের অতি চেনা মুখগুলোর মধ্যে একজন লিসানকে নিয়ে বিডি ইয়ুথের আজকের আয়োজন।

বিডি ইয়ুথ: সম্প্রতি আপনার গানগুলো নিয়ে “ব্যান্ড-ভিউ” প্রচারিত হলো এটিএন বাংলায়। নিঃসন্দেহে আপনার জন্য অনেক বড় অর্জন। কেমন লাগছে?

অবশ্যই খুব ভালো লাগছে। তবে, এটা কিন্তু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়আসলে আমাদের পুরো ব্যান্ডের অর্জন এটা। আমার ব্যান্ডের সাথে থাকতে পেরে আমি ভাগ্যবান। সত্যিই ভাগ্যবান। ব্যান্ডটা না থাকলে নিজেকে মেলে ধরা বা খুঁজে পাওয়া মুশকিল হতো।

বিডি ইয়ুথ: কেমন আছেন তাইতো জানা হলো না!

এইতো, চলছে আর কি

বিডি ইয়ুথ: আপনার ভালাবাসার ব্যান্ডঅবলিকর অন্য সদস্যরা কে কে?

ব্যান্ডের ভোকালিস্ট বর্তমানে আমি। এছাড়া গিটারিস্ট রিদওয়ান ভাই এবং অনিক ভাই ড্রামার হিসেবে আছেন রবি ভাই এবং বেইজ বাজান মজুমদার ভাই। অনিক ভাই বর্তমানে দেশের বাইরে থাকাতে গেস্ট গিটারিস্ট হিসেবে শেহরান ভাই আছেন। এইতো, এটাই আমাদের ‘অবলিক’ পরিবার।

বিডি ইয়ুথ: গানের জগতে কিভাবে আসলেন? একেবারে শুরুর দিকের কথা.....

আমি আসলে ছোটবেলা থেকেই নিজে নিজে খালি গলায় গাইতাম। এটা মনে হয় আমার বাবার সূত্রে পাওয়া আমার বাবাও ভালো গাইতেন। স্কুলের প্রতিযোগিতায়ও গাইতাম। এরপর কলেজে থাকতে ফ্রেন্ডরা মিলে একটা ব্যান্ড গঠন করেছিলাম, যদিও সেটা বেশদিন টেকেনি। কিন্তু এসব করে গানের বেসটা তৈরি হয়ে গিয়েছিলো। যার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে।

বিডি ইয়ুথ: কোথায়, কার কাছে গান শিখেছেন?

বেসিক্যালি গানটা আমি ভালোলাগা থেকেই গাইতাম এবং এখনো তাইপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে কিংবা হাতে কলমে কারো কাছে গান শিখিনি। একারণেই মনে হয় স্কুলের প্রতিযোগিতাগুলোতে কখনো কোন পুরস্কার-টুরস্কার পাইনি(হাসি!!)

বিডি ইয়ুথ: ‘অবলিকব্যান্ডের সাথে কবে, কিভাবে যুক্ত হলেন?

২০১৪ সালের এপ্রিলে আমি অডিশনের মাধ্যমে অবলিকএর সাথে যুক্ত হই মজার ব্যাপার হলো, ঐদিনই ব্যান্ডের সাথে প্রথম একটা কনসার্টে আমি গান গাওয়ার সুযোগ পাই সেই যে শুরু, পথ চলাটা এখনো চলছে।

বিডি ইয়ুথ: আপনার কন্ঠে গাওয়া গান নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন অ্যালবাম বেরিয়েছে কি?

না, এখন পর্যন্ত নাতবে আমি ব্যান্ডের সাথে তিনটি মৌলিক গান করেছি যেগুলো সাউন্ডক্লাউড, রিভার্বনেশন এবং ইউটিউবে রিলিজ হয়েছে। সাড়াও ভালো পেয়েছি।

তবে বর্তমানে একটা অ্যালবামের কাজ চলছে আশা করছি এ বছরই প্রকাশ করতে পারবো। শ্রোতারা www.facebook.com/obique এই অ্যাড্রেসে গেলে অবলিকের সকল গান শুনতে পারবেন।

বিডি ইয়ুথ: এখন পর্যন্ত অবলিকএর সাথে আর কোথায় কোথায় গান গেয়েছেন? মানে কনসার্টে

অনেকগুলো কনসার্টে গেয়েছি। ওপেন ইয়ার কনসার্টের হিসাব নাই!! ক্যাম্পাসেই তো কত কনসার্টে গেয়েছি এছাড়াও রেডিও স্বাধীন, কালারস এফএম, পিপলস রেডিও ও এবিসি রেডিওতে বেশ কয়েকটা শো করেছি আমরা সব মিলেয়ে এইতো!

বিডি ইয়ুথ: কঠিন একটা বিষয়ে পড়ছেন এবং সাথে গান, দুটো একসাথে কিভাবে সামলান?

একটু কষ্ট তো হয়ই। তারপরও ব্যালান্স করে নিতে হয় আরকি! সত্যি কথা হলো, ভালোলাগা থাকলে তখন আর ঝামেলা হয় না।


বিডি ইয়ুথ: গানের সাথে যেহুতু চলাফেরা তাহলে নিশ্চয়ই ভালোলাগার গায়কও আছে?

অনেকের গানই ভালো লাগে। কম গানতো শোনা হয় না। তবু নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে Dave Grohl, Steven Wilson, Matt Bellamy, Myles Kennedy আমার পছন্দের তালিকায় শুরুর দিকেই থাকবেন। বাহিরের শিল্পীদের মধ্যে এদের গান বেশি শোনা হয়।

বিডি ইয়ুথ: বাংলাদেশের কার গান ভালো লাগে?

তা তো লাগেই। অর্থহীন, আর্টসেল, শিরোনামহীন, ওয়ারফেইজ, ক্রিপটিক ফেইটের গান ভালো লাগে। তবে সার্বিকভাবে একজন সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব হিসেবে বেইজবাবা সুমনকে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।

বিডি ইয়ুথ: কাউকে ফলো করেন? কারও মতো গাইতে ইচ্ছে করে?

নাহ্, একদম নাআসলে গানটা আমি আমার নিজের মতো করেই গাইতে চেষ্টা করি। তাই সেভাবে কাউকে ফলোও করা হয় না। তাদের থেকে শিখতে ভালো লাগে। অনুকরণ করতে ভালো লাগে না।

বিডি ইয়ুথ: পরিবার থেকে কতটা সমর্থন পেয়েছেন বা পাচ্ছেন?

প্রথম দিকে পরিবার চাইত না যে আমি এসবে জড়াই। পরে যখন আমি ভালো করতে শুরু করি তখন থেকে পরিবারও সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে। এখনতো উৎসাহ পাই তাদের থেকে।

বিডি ইয়ুথ: ১০ বছর পর একজন গায়ক হিসেবে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির বর্তমানে যে অবস্থা, তাতে তো এখান থেকে খুব বেশি কিছু আশা করতে পারি না। বাংলাদেশে অনেক ভালো ভালো ব্যান্ড আছে, কিন্তু সেই তুলনায় পৃষ্ঠপোষক কই? তার ওপর পাইরেসি তো আছেই।


পাইরেসির কারণে গোটা মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি মরতে বসেছে। বিশেষ করে যারা নতুন এবং ভালো করছে, তারা শুরুতেই হতাশ হয়ে পড়ছে। এটা মানাই যায় না। যারা অনেক বড় অবস্থানে চলে গেছেন তারা হয়তো কম অনুভব করেন ব্যাপারটা। কিন্তু আমাদের মতো যারা নতুন তারা কোন আশাই পাচ্ছি না।

বিডি ইয়ুথ: তাহলে কি গানে ক্যারিয়ার গড়তে চান না? ভবিষ্যতে কি করতে চান?

দেখা যাক না, কি হয়। গান-বাজনা চলছে, পড়ালেখাও চলছে সমানতালেক্যারিয়ারে কোনটা অগ্রাধিকার পাবে সেটা পরে ঠিক করবো। এখন আপাতত সাধনাই চলুক, সেটা হোক গানে কিংবা পড়ালেখায়।

বিডি ইয়ুথ: ভালো লাগে, এমন কাজই আপনার ক্যারিয়ার হোক টাই আমাদের প্রত্যাশা সময় দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

আপনিও ভালো থাকবেন। আর বিডি ইয়ুথের সকল তরুণ পাঠকদের জন্য আমার ভালোবাসা এবং উপহার হিসেবে আমার ব্যান্ডের গান।

“ভালো গান শুনুন আর পাইরেসিকে না বলুন।”

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি


More news