ভালোবাসি বলার আগে



আসছে ভালোবাসার মাস, চারিদিকে বইছে ভালোবাসার হাওয়া। কেউ হয়তো প্রিয় মানুষকে জানিয়ে দিয়েছেন ভালোবাসার কথা, কেউ হয়তো এখনো যোগাতে পারেননি যথেষ্ট সাহস। ভাবছেন ভালোবাসার মাসেই জানাবেন সেই কথা। যদিও ভালোবাসার কোন বাঁধাধরা সময় নেই!!

ভালোবাসি বলতে যেমন সাহস লাগে তেমনি কিছু কথা বারবার ভেবে নেওয়া লাগে, কারণ সিদ্ধান্তটা সারাজীবনের।

সবকিছু মিলে গেলেই ভালোবাসি বলার আগে অপেক্ষা করুন খানিকটা অমিলের। অমিল না পেলে নিজেই খুঁজে নিন, এই অমিলগুলোই আপনার যুক্তি দাঁড় করাবে ভালোবাসি বলার নেপথ্যে। বিয়ে আর সম্পর্ক হয় দুটি মানুষের নয়, দুটি পরিবারের। ব্যক্তি বিশেষকে জানবার সাথে সাথে জেনে নিন তার পরিবারের সদস্যদের অভিরুচি ও চিন্তাধারা।

পছন্দের মানুষের বন্ধুদের সাথে বজায় রাখুন বন্ধুর মতই সম্পর্ক। এতে করে আপনাদের পারস্পরিক বোঝাপড়াটা আরো ভালো হবে। একসাথে শপিং করতে যান, সিনেমা ও গান নিয়ে আলোচনা করুন, দুইজন বই বিনিময় করুন। দেখবেন পছন্দের বিনিময়ের সাথে দুইজনের ছন্দের একটা সমন্বয় চলে আসবে।

যখন মোহ কাজ করে তখন অনেকসময় সেটা ভালোবাসা ভেবে ভুল হয়। সেই সময় সর্বক্ষণ ফোনে কথা বলা আর মেসেজিং থেকে বিরত থাকা উচিত। তারপরেও যদি কিছুটা শূন্যতাবোধ অনুভব হয় তবে সেটাই ভালোবাসা।

দুজনের কাজের ধরন, ব্যস্ত থাকার পরিমাণ, সময় দিতে পারার একটা ধারণা আগেই একে অপরকে জানিয়ে দিন। তাহলে পরবর্তী জীবনে আশার পরিমাণটা কম থাকে আর তাতে আশা ভঙ্গের পরিমাণটাও কমবে, সম্পর্ক হবে সুন্দর।

অফিস কিংবা ক্লাস শেষে দেখা করুন বিকাল বেলা, সবুজ কোনো উদ্যানে। গেয়ে শোনান গান, পাঠ করুন কবিতা। দেখবেন আস্তে আস্তে সবকিছু কেমন প্রজাপতির পাখার মত সুন্দর হয়ে যাচ্ছে। দুজনেরই মিউচুয়াল এমন কোন বন্ধু থাকলে মাঝেমধ্যে তার সাথে আড্ডায় যোগ দিন। দুজনের মধ্যের রসায়নটা কেমন জমলো, তারাই সবচেয়ে ভালো করে বলতে পারবে। ছোটখাটো কোনো অনুষ্ঠান থাকলে অবশ্যই তাকে সাথে করে নিয়ে যেতে পারেন।

পরিবার, সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। শুরুতেই তাকে পরিচয় করিয়ে দিন আপনার পরিবারের সাথে। জিজ্ঞাসা করুন তার পরিবারের ছোট ছোট কথা। পরিবারের ছোট সদস্যদের নিয়মিত স্নেহ দিন, জিজ্ঞাসা করুন বড়দের শরীর স্বাস্থ্যের কথা। দুজনের পরিবারের সাথে দুজনের বন্ধনটা মজবুত থাকলে, কখনো নিজেদের মধ্যে সুতোটা খানিকটা আলগা হয়ে গেলেও সেই বন্ধন মাঞ্জার মত কাজ করে।

সর্বোপরি তাড়াহুড়ো করবেন না, এটা আপনার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্ত নিতে যতটুকু সময় প্রয়োজন হয় নিজেকে দিন, তাকেও পর্যাপ্ত সময় দিন সিদ্ধান্ত নেবার। জোরাজুরি করে সম্পর্ক কখনোই বেশিদিন এগিয়ে নেয়া যায় না। পরিবারের বড়দের সিদ্ধান্তের মূল্য দিন, বন্ধুদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বিবেচনা করুন। সবমিলিয়ে একটি সুন্দর সিদ্ধান্ত নিন, এই সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে আপনার সামনের সম্পূর্ণ জীবন।

বিশেষ প্রতিনিধি, প্রতিকি ছবি: মডেল- ইশিতা ও আসিফ


More news