বাধা পেরিয়ে সাফল্যের এক জীবন!



বাড়ির বড় বউ! মেলা করতে ঢাকার বাইরে যাবে। এত সহজে কি পারমিশন পাবে? হ্যাঁ! প্রচুর শ্রম দিতে হয়েছে এই জন্য। একদিনে হয়নি সব। পরিবারের সবাইকে ম্যানেজ করেই মেলা করেছেন ঢাকার বাইরে। আর আজ তো বিদেশেও যান তিনি।

২০১৪ সালে আত্মকর্মী ক্যাটাগরিতে ছেলে মেয়ে সবার মধ্যে প্রথম হয়ে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন মুক্তাকলকাতা থেকে পেয়েছেন বিশ্ব বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতির পুরস্কার। পুরস্কারের ঝুলিতে এসেছে স্বাধীনতা স্মারক, মাদার তেরেসা, নেলসন ম্যান্ডেলার মতো পুরস্কারগুলো। নিজের তৈরি “নতুনত্ব” বুটিকস পেয়েছে শেখ রাসেল সম্মাননা।


তাহলে কি সাইকোলজি পড়া ছেড়েই দিলেন। মিষ্টি হাসি দিয়ে জানান, উদ্যোক্তা জীবনে সবচেয়ে বেশি কাজে দিয়েছে তার এই সাইকোলজি নিয়ে পড়াশুনা। স্বামী দ্বারা নির্যাতিত কত মেয়েকে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন তিনি কাজ শিখিয়ে। সেসব তো পেরেছেন এই পড়াশুনার জের ধরেই।

আর নিজেকে উদ্বুদ্ধ করার একটা তাড়না ছিলোকারণ নারী হিসেবে কম ঠকতে হয়নি তাকে। দোকানদার থেকে শুরু করে লোকাল মার্কেটের ক্রেতারা তার কাছ থেকে অন্যায্য দামে জিনিস আদায় করতে চাইত। নারী এসব নিয়ে বিজনেস করছে, তাদের কাছে এটা সিরিয়াস কোন বিষয় মনেই হতো না।


তবুও যখন ছেলেপুলেরা স্টলের সামনে এসে বলে, “চাইনিজরা কি করে না বলো তো? একেবারে সত্যিকারের কলা গাছ বানিয়ে ফেলেছে তারা”। তখন হাসতে হাসতে লুটোপুটি খান হাসিনা মুক্তা। হাসতে হাসতেই সঠিক তথ্য দেন, “ভাইয়ারা এটা চাইনিজদের কাজ না। আমাদের দেশের মা বোনদের নিজ হাতে তৈরি শোপিস”। তখন বিস্মিত হতে বাধ্য হয় দর্শকরা।

উদ্যোক্তা জীবন মানেই উত্থান পতন। আর নারী হলে সে বাঁধা বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ। এসবের পরেও যখন হাসিনা মুক্তা স্বপ্ন দেখে যান, তখন বড্ড গর্ব হয় বুকের ভিতর। হাসিনা মুক্তারের স্বপ্ন নিজের বিশাল একটি শোরুম দেওয়া। আশেপাশের অনেক অনেক মেয়েদের স্বনির্ভর করে তোলা।


এই বাঁধা, এই উত্থান-পতন, এই একলা সংগ্রাম করা! মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে না থমকে যেতে? একটু চুপ থেকে হাসিনা মুক্তা জানান, “আমার স্বামী যেদিন মারা যায় তার আগের দিন রাতে আমাকে খুব করে জোর করছিলেন আরও পড়াশুনা করার জন্য। আমি না না করছিলাম। এতো সব কি করে করবো! ওদিকে সংসার সামলানোও আছে। আমার স্বামী তখন আমাকে আশ্বস্ত করে বলেন, “তুমি সব পারবে”। এর ঠিক পরের দিন ও  আমাকে ছেড়ে চলে যায়”।

এইসব বাধা-বিপত্তি হাসিনার কাছে তাই মামুলি ব্যাপার। তিনি ঠিক জানেন, যখন তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন তখনই কেউ একজন সুদূর হতে বলে উঠবে “তুমি সব পারবে”!

হাসিনা মুক্তাঃ আটপৌরে এক নারীর সফল উদ্যোক্তা হওয়া

এইচএসসি’র পরপরেই বিয়ে! তারপরেও থেমে থাকেননি!


উদ্যোক্তার রিস্কি জীবনটাই বেছে নিলেন ক্যারিয়ার হিসেবে


বাধা পেরিয়ে সাফল্যের এক জীবন!


নিজস্ব প্রতিবেদক, ছবিঃ হাসিনা মুক্তার ফেসবুক টাইমলাইন

More news