উদ্যোক্তার রিস্কি জীবনটাই বেছে নিলেন ক্যারিয়ার হিসেবে



স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের দায়দায়িত্ব চলে এলো মুক্তার কাঁধে। চাকরিই বেছে নিতে বললেন সবাই। যেহেতু চারটাতেই ফাস্ট ক্লাস ছিলোচাকরি পেতে তেমন সমস্যাও হতো না। কিন্তু সবসময়ের জন্য নিজে কিছু করা। অন্য নারীদের স্বাবলম্বী করা। তাছাড়া চাকরি মানেই বাচ্চাদের কাছ থেকে কিছুটা হলেও দূরে চলে যাওয়া। বাবাকে হারানোর পর মাকে তাদের খুব দরকার ছিলোসেসব কিছুই চিন্তা করে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন হ্যান্ডিক্রাফটসের কাজ করেই ক্যারিয়ার তৈরি করবেন।

মেয়েরা ভিকারুন্নেসা স্কুলে পড়তোসেখান থেকেই খোঁজ পেলেন বেইলি রোডের মেলা। নিজে অংশগ্রহণ করলেন। তাছাড়াও যুব অধিদপ্তরের আয়োজিত মেলাতেও অংশগ্রহণ করতেন। এসব মেলাতে অংশগ্রহণ করে নিজের পণ্য বিক্রি করতেন। অর্ডার পেতেন।


এই ফাঁকে তিনি দেখলেন স্কুলে মেয়েকে দেবার পর বহু অভিভাবক বসে থাকেন। একে অপরের সাথে গল্প গুজব করেই সময় পার করেন। তাদেরকে প্রোডাক্টিভ কাজ করার জন্য একদিন নিজেই সুই সুতো নিয়ে গিয়ে তাদের শিখালেন। কি অদ্ভুত ব্যাপার! এরপর থেকে সব অভিভাবকদের সেলাই করতে দেখা যেত। তাদের বানানো পণ্য আবার বিক্রি করা হতো বেইলি রোডের মেলাতে।

এভাবেই ২০১০ সালে সিদ্ধান্ত নিলেন “নতুনত্ব” বুটিকস থেকে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দেবার। প্রায় ২০০ এর উপরে হ্যান্ডিক্রাফটস পণ্যের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এই সেন্টারে। ২০০ টাকা থেকে শুরু হয় কোর্স। কোর্সের ভিন্নতার উপরে শর্ট কোর্স ২০০ থেকে ১০০০ এর মধ্যে, আর ফুল কোর্স ২০০০ থেকে ২৫০০ এর মধ্যে হয়। হস্তশিল্প ছাড়াও পোশাক তৈরি, হ্যান্ড স্টিচ, হাতের কাজ, চাইনিজ রান্না, বেকারি আইটেম শেখান হাসিনা মুক্তা।


হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ চলে তিন দিন থেকে তিনমাস পর্যন্ত। এর মধ্যে আছে থাই ক্লে দিয়ে শোপিস তৈরি, দেশি ক্লে দিয়ে ফলের ঝুড়ি, বাঁশ বেতের কাজ, ককশিট, মোম, আইসক্রিমের কাঠি, পুঁতি, ক্রিস্টালের শো-পিস বানানো প্রভৃতি। দেশের চেইন শপ 99 shop এ নিয়মিত বিক্রি হয় হাসিনা মুক্তারের বানানো জিনিস।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মেলাতে অংশগ্রহণ করেছেন তার বানানো fancy items নিয়ে। কক্সবাজার, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম– সারা দেশ ঘুরে বেরিয়েছেন মেলা করার জন্য। এর পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে ট্রেইনিং দিয়েছেন মেয়েদের। এসএমই ফাউন্ডেশনের ট্রেইনারও ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের বিভিন্ন বুটিকস প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ট্রেইনার হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।


এর ফাঁকে বাংলাদেশ চায়নার ফ্রেন্ডশিপের ৩৪ বছর পূর্তিতে ঘুরে এসেছেন চায়না। সেখানে চায়নার ইয়ুথদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে তার। নিজেরা নিজেদের বানানো কাজগুলোর বিনিময় করে তারা।

থাই ক্লের মত করেই আপাতত নিজেরাই ক্লে বানাচ্ছে। কারণ থাইল্যান্ড থেকে কাঁচামাল আনা খুব খরচের। তবে কয়েকমাস আগে নিজ খরচে থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন তিনি এই বিষয়গুলো কাছ থেকে দেখার জন্য।

এভাবেই নিজের কাজ আর পরিচিতির জন্য দেশ আর দেশের বাইরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন হাসিনা মুক্তা।

হাসিনা মুক্তাঃ আটপৌরে এক নারীর সফল উদ্যোক্তা হওয়া

এইচএসসি’র পরপরেই বিয়ে! তারপরেও থেমে থাকেননি!


উদ্যোক্তার রিস্কি জীবনটাই বেছে নিলেন ক্যারিয়ার হিসেবে


বাধা পেরিয়ে সাফল্যের এক জীবন!


নিজস্ব প্রতিবেদক, ছবিঃ হাসিনা মুক্তার ফেসবুক টাইমলাইন

More news