এইচএসসি’র পরপরেই বিয়ে! তারপরেও থেমে থাকেননি!



ছোটবেলা থেকে ভীষণ মেধাবী ছাত্রী ছিলেন হাসিনা মুক্তার। ক্লাস সিক্স পর্যন্ত চট্টগ্রামে পড়াশুনা করেন। বাবা চাকরি করতেন বাংলাদেশে কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনে। বাবার ছিলো বদলির চাকরি। সিক্সের পড়েই সপরিবারে ঢাকায় চলে এলেন মুক্তারা।

এরপর এসএসসি এইচএসসি পাশ করেন ধনিয়ার আদর্শ বিদ্যালয় থেকে। এসএসসি পাশের পরেই বিয়ে হয়ে যায় হাসিনার। সময়টা ১৯৯৯ সাল। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, হাতের সেলাই করতে ভীষণ ভালবাসতেন বলে ১৯৯৮ সালেই একটা প্রশিক্ষণ নিয়ে নেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে।


এসএসসি পাশের পর বিয়ে! বাড়ির বড় ছেলের বউ! চিরাচরিত গল্পটা হবে মেধাবী মেয়েটি সংসারের চাপে পড়াশুনা ছেড়ে দিলো! কিন্তু অন্য ধাতুতে গড়া হাসিনা মুক্তা। সঙ্গে ছিলো ভীষণ সাপোর্টিভ স্বামী। তাই বিয়ের পর এইচএসসি পাশ করলেন। সাইকোলজিতে অনার্স পড়তে ভর্তি হলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর মাস্টার্স কমপ্লিট করলেন।

বিয়ের পরের থেকেই স্বামী হাসিনার হাতের কাজের দক্ষতায় মুগ্ধ। বাচ্চাদের জামা নিজেই বানান মুক্তা। ভাবীরা এসে সেসব সুন্দর সুন্দর জামা দেখে হাসিনাকে জামা বানিয়ে দিতে বলেন। এভাবেই প্রথমটা শুরু হয়। এরপর স্বামী বাড়ির উপরের দুটো রুম ছেড়ে দিলো কাজের জন্য। দুটো সেলাই মেশিন কেনা হলো


২০০১ থেকে নতুনত্ব বুটিকস এর যাত্রা শুরু হলো ঐ দুই রুমে। পড়াশুনা শিখে বসে থাকবে এমনটা কখনোই ভাবতেন না মুক্তা। সবসময় চাইতেন নিজে কিছু করতে।

পড়াশুনা আর কাজ চলতে লাগল। লোকাল মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে গিয়ে নিজের কাজ দেখাতেন। এভাবেই কাজ পেতে লাগলেন।

২০০৮ সালেই হ্যান্ডিক্রাফটসের অন্য ক্ষেত্রে বিচরণ করতে চাইলেন। বাণিজ্য মেলায় থাইল্যান্ডের শো পিসের দোকানে গিয়ে দেখা পেলেন মহিউদ্দিন ভাইয়ের। আগ্রহ প্রকাশ করলেন এই কাজগুলো শেখার। গুলশান ২ এ ভাইয়ার শো রুমে একজন থাইল্যান্ড প্রশিক্ষক এসে কাজ শেখালেন তাদের। সেদিন মাত্র ৫ থেকে ৬ জন নারী এই প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

থাই ক্লে হচ্ছে এমন এক মাধ্যম, যার মাধ্যমে তৈরি যেকোনো শোপিস কখনোই মনে হবে না বানানো হয়েছে। বরং মনে হবে সত্যিকার কোন বস্তু। তিন দিনের সেই প্রশিক্ষণ এর পর থেমে থাকেননি হাসিনা মুক্তা। 


মহিউদ্দিন ভাই-ই থাইল্যান্ড থেকে কাঁচামাল নিয়ে আসতেন। হাসিনা মুক্তা ফুল, ফলের ঝুড়ি বানাতেন। মজার বিষয় প্রথম এক দুইটা যখন বানিয়েছেন, বাসায় এলেই কেউ কিনে নিয়ে যেতেন। তাই বুঝতে পারলেন, এর বাজারদর খুব একটা খারাপ হবে না। বুটিকসের কাজ করতেন বলে আগের থেকেই লোকাল মার্কেটের সঙ্গে যোগাযোগ ছিলোতাই কাজ পেতে সমস্যা হলো না।

সবই ভালো চলছিলোচিরকাল সাপোর্ট দিয়ে আসা মানুষটা হুট করে ২০০৯ সালে মারা গেলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর অনেকটাই আকাশ ভেঙ্গে পড়ল হাসিনা মুক্তারের জীবনে।

হাসিনা মুক্তাঃ আটপৌরে এক নারীর সফল উদ্যোক্তা হওয়া

এইচএসসি’র পরপরেই বিয়ে! তারপরেও থেমে থাকেননি!


উদ্যোক্তার রিস্কি জীবনটাই বেছে নিলেন ক্যারিয়ার হিসেবে


বাধা পেরিয়ে সাফল্যের এক জীবন!


নিজস্ব প্রতিবেদক, ছবিঃ হাসিনা মুক্তার ফেসবুক টাইমলাইন

More news