এই প্রশ্নের উত্তরে কখনোই যা বলবেন না!



কি কি বলা যেতে পারে তা তো জানলাম! কিন্তু এই প্রশ্নের কখনোই যা বলা যাবে না তা কি জানি! চলুন জেনে নেই।

১) নিজের জীবনের গল্পের ঝাঁপি খুলে বসবেন না।

২) ইন্টারভিউর কর্মকর্তা জানতে কখনোই চাবে না, একদম বাচ্চাকালে আপনি কোন স্কুলে ছিলেন! কত নম্বর বাসায় ক্রিকেট খেলতেন! তাই এইসব অযথা কথা এড়িয়ে চলুন।

৩) কি কি কাজ করেছেন সেটা এক লাইনে বলতে পারেন। কিন্তু এমন কোন কাজের অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিত বলা দরকার নেই যেটা আপনার ইন্টারভিউ দেওয়া জবের সঙ্গে রিলেটেড না।

৪) আপনার সিভিতে যা যা লিখেছেন সেটা মুখস্থ করে বলার দরকার নেই। যেমন “এত সালে এত মাসের জন্য ওখানে ছিলাম। অত সালে ওখানে কাজ করেছি”। জাস্ট খুব ছোট ছোট পয়েন্টে নিজের অর্জনগুলো তুলে ধরুন।  

৫) ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষেত্রে একটা প্রশ্ন করা হয়, “কি নিয়ে থিসিস করেছেন”। থিসিসের নামটা বলুন। যদি কেউ না বুঝতে পারে, একদম কম কথায় মেইন জিনিসটা বুঝিয়ে দিন। কোন ভাবেই আপনার এক বছর ধরে করা থিসিস একদিনে ইন্টারভিউ কর্মকর্তাদের বুঝাতে যাবেন না। আর থিসিসের কঠিন কঠিন টার্ম তো মুখেই আনবেন না।  একদম পানির মত সোজা করে আপনার বিষয়বস্তু জানান।

৬) নিজের দক্ষতার মিথ্যা জাহির করবেন না। “এই পারি, সেই পারি” বলার পরে যদি আপনাকে কোন কাজ করতে দেওয়া হয় আপনার দক্ষতা অনুযায়ী এবং আপনি যদি না পারেন তবে চাকরি তো হবেই না! বরং লজ্জার সীমা থাকবে না। নিজের সঠিক যোগ্যতা জানান।

৭) একদম শেষ দশ সেকেন্ডে নিজের কারেন্ট পজিশন নিয়ে কথা বলতে বলা হয়েছে আগের হাইপারলিংকে। এর মধ্যে নিজের ভবিষ্যৎ কিছু চিন্তার কথাও আসতে পারে। যেমন নিজের ক্যারিয়ারকে সামনে এমন পজিশনে দেখতে চান। এসব ক্ষেত্রে বেশি আবেগি হয়ে আবার বলে বসবেন না, “দশ বছর পর বাড়ি করতে চান, তিন সন্তানকে ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চান” ইত্যাদি। মনে রাখুন, এটা অফিস। ড্রয়িংরুম না।

৮) “কেন এই চাকরি খুঁজছেন” এটা ব্যাখ্যা করার সময় মনে রাখুন, কখনোই যেন না বলে উঠেন “এখানে বেশি টাকা দিবে, তাই জয়েন করছি”। বরং এই জবের কি কি ভালো দিক আছে যা আপনার ক্যারিয়ার গোলকে অর্জন করতে সাহায্য করবে তা বিস্তারিত বলুন।

৯) একবার এক জবে এক নারীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নিজের সম্পর্কে বলতে। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, “তিন মাস আগে আমার স্বামী ট্রান্সফার করেছেন। নিজের বাড়িঘর গোছালাম আমরা। এখন আমি নতুন কোম্পানি খুঁজছি চাকরির জন্য”। স্বভাবতই প্রশ্ন এসেছিল, “স্বামীর ট্রান্সফার হলে কি তিনি আবার চলে যাবেন কি না”। নারী না বললেও, কর্মকর্তারা এতটুকু ভরসা রাখতে পারেননি। তাই নারীর চাকরিটা হলো না। কি লাভ এমন কথা বলে, যা আপনার উপর কর্মকর্তাদের ভরসা কমিয়ে আনে। তাই এইসব কথা সম্পুর্ণভাবে এভয়েড করুন।

১০) নিজের আগের অফিস আর বস সম্পর্কে নিন্দা করা ছাড়ুন। কোন তিক্ততার কারণে আগের চাকরি যদি ছাড়তেই হয় তবুও সেটা বলার কোন দরকার নেই। এতে নতুন অফিস ভাবতে পারে, একই ভাবে তাদের নামেও বদনাম ভবিষ্যতে অন্য কারও কাছে করতেই পারেন।

মোদ্দা কথা, নেগেটিভভাবে আপনি রিপ্রেজেন্ট হচ্ছেন, এরকম কথা সম্পুর্ণ এড়িয়ে চলুন। পজেটিভ ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করুন।

ইন্টারভিউতে প্রশ্ন: আপনার নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন!

উত্তর গুছিয়ে নিন ইন্টারভিউর আগেই


এই প্রশ্নের উত্তরে কখনোই যা বলবেন না!


নিজস্ব প্রতিনিধি, ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

তথ্যসূত্র: আন্ডারকভার রিক্রুয়েটার ডটকম, দি ইন্টারভিউগাইজ ডটকম, মনস্টার ডটকম 

More news