ড্যাফোডিলে বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মশালা



ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ব্যাঙ্কুয়েট হলে গত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে “বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক শিল্প গবেষণা ও উন্নয়ন: সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সেতুবন্ধন” শীর্ষক এক জাতীয় কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

ইনোভেশন হাব অব ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও এসিআই লিমিটেড যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান প্রধান অতিথি হিসেবে এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন।


বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম আলী আকবর, এসি আই লিমিটেডের চেয়ারম্যান আনিস-উদ-দৌলা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ইউসুফ এম ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক(স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স) সৈয়দ মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, ইনোভেশন হাব অব ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভার্সিটি’র পরিচালক গোলাম মনওয়ার কামাল, এসিআই লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক (এগ্রোবিজনেস) ড. এফ এইচ আনসারী, টেকনিক্যাল ডিভিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম এ সাত্তার মন্ডল।


বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘অস্বীকার করার উপায় নেই, আমাদের অর্থনীতি এখনো অনেকাংশে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই কৃষিকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যেমন গবেষণা বাড়াতে হবে তেমনি ব্যবসায়ী, অ্যালামনাই ও উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। ব্যবসায়ীরা যখন এগিয়ে আসবেন তখনই কৃষির সঙ্গে শিল্পের সংযোগ স্থাপিত হবে।’

চীন, ভিয়েতনাম, মঙ্গোলিয়া প্রভৃতি দেশের উদাহরণ টেনে অধ্যাপক আব্দুল মান্নান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এটা সম্ভব হয়েছে কৃষি বিপ্লবের কারণে। আর কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছেন আমাদের কৃষি গবেষকরা এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। আমরা যদি মধ্যম অর্থনীতির দেশ হতে চাই তবে কৃষি বিপ্লবের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা ফান্ড বাড়ানো উচিত বলে আমি মনে করি।’


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসিআই লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম আনিস-উদ-দৌলা বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থাপনাকে বদলে দিতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, বিজ্ঞানী ও ব্যবসায়ীকে একসাথে কাজ করতে হবে। অর্থাৎ কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করবেন বিজ্ঞানী ও গবেষকরা আর তা মাঠ পর্যায়ে কৃষকের কাছে পৌছে দেবেন ব্যবসায়ীরা। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে।

আজ ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় যে কর্মশালার আয়োজন করেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কারণ এসব কর্মশালার মাধ্যমেই উঠে আসবে কৃষিক্ষেত্রের সমস্যাগুলো।’


বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আলী আকবর বলেন, “বাংলাদেশের কৃষি ক্ষেত্রে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ভূমিকা রয়েছে। আমাদের ঐতিহ্যবাহী কৃষি ব্যবস্থাপনাকে কিভাবে প্রযুক্তিবান্ধব করা যায় সেসব নিয়ে গবেষণা করেছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে আমাদের কৃষি ব্যবস্থাপনা আধুনিক হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে।” তিনি আরও বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও উচিত কৃষি-শিল্প বিষয়ে গবেষণায় আরও বেশি জোর দেওয়া।

সভাপতির বক্তব্যে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইউসুফ এম ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বেশিরভাগ পড়াশোনা তত্ত্বভিত্তিক। এখানে ব্যবহারিক ক্লাসের সুযোগ পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। এই সমস্যা সমাধানে আমাদের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এগিয়ে আসে তবে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানও অর্জন করতে পারবে।’


অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশে কৃষিভিত্তিক শিল্পখাত থেকে রপ্তানি বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও তা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। তারা এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্যের জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ চালুর পরামর্শ দেন। এ শিল্পখাতে দক্ষ উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে তারা বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ এবং পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্যোক্তা সৃষ্টিধর্মী কোর্স চালুর তাগিদ দেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

More news