বুয়েটে আনন্দ অশ্রুতে জমজমাট র‍্যাগ কনসার্ট!



বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) হয়ে গেলো স্ফুরণ’১১ ব্যাচের র‍্যাগের শেষ সর্বজনীন অনুষ্ঠান ‘Rag Concert 2K16 : The final chapter’দুই দিনব্যাপী এই র‍্যাগ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয় বুয়েট ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণেসাম্প্রতিক ব্যাচগুলোর র‍্যাগের প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে এবারের প্রোগ্রামই ছিলো সবচেয়ে বেশি আড়ম্বরপূর্ণ এবং দীর্ঘস্থায়ী।

গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর দুই দিনব্যাপী এবারের এই কনসার্টে প্রথমদিন স্টেজে উঠে মেটাল ব্যান্ড মিনার্ভা, মিলা এবং হালের ক্রেজ অ্যাশেজ দ্বিতীয় দিন বুয়েট মাতায় ব্যান্ড সংগীতের জনপ্রিয়তম নাম জেমস এবং প্রতিটি র‍্যাগ কনসার্টের অবিচ্ছেদ্য পারফর্মার শিরোনামহীন ব্যান্ড।


প্রতিবারের মত এবারের র‍্যাগ কনসার্টও যেন হয়ে উঠে সাবেক এবং বর্তমান বুয়েটিয়ানদের মিলনমেলা। সাবেকরা চলে আসেন তাদের পরিজন নিয়ে র‍্যাগ কনসার্ট উপভোগ করতে আর বর্তমানরা তো আছেই।

র‍্যাগ কনসার্ট আনন্দের এবং উৎসবমুখর হয়ে থাকলেও এর পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে চাপা বেদনা। এই বেদনা একটি ব্যাচ বুয়েট ছেড়ে যাওয়ার বেদনা, এই বেদনা চার বছর ক্যাম্পাসের ধুলো গায়ে লাগিয়ে শান্তির পরশ পাওয়ার শেষের বেদনা, এই বেদনা ক্যাম্পাসের হাজারো পরিচিত মুখ হঠাৎ করে উধাও হয়ে যাওয়ার বেদনা।

এই মাতৃপ্রতিম ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নিয়ে স্ফুরণ’১১ ব্যাচ প্রবেশ করবে পেশাগত জীবনে। তখনও হয়ত মাঝে মাঝে ক্যাম্পাসে আসা হবে কিন্তু কখনোই পুরনো অনুভূতির সাথে মিশে যাওয়া আর হবে না। আর হবে না নিজের বন্ধুগুলোকে নিয়ে সবাই একসাথে শহীদ মিনারে বসে আড্ডা দেওয়া কিংবা পলাশীতে মুনির মামার দোকানে অনেকগুলো চেনা মুখের মাঝে বসে ধোঁয়া তোলা চায়ের সাথে নিজের স্বপ্নের কথা বলা কিংবা রাত বাড়ার আলস্যে আউলার পাশে জালাল চাচার টংয়ে দল বেঁধে নাস্তা করে আসা।


প্রথমদিনের শেষ পারফর্মার অ্যাশেজ এবং দ্বিতীয়দিনের শেষ পারফর্মার শিরোনামহীনের পুরো সময় জুড়েই স্ফুরণ’১১ এর সবার চোখে ছিলো পানি আর মন ছিলো ভারাক্রান্ত, হয়ত এসব কথা মনে করেই। আর শিরোনামহীনের শেষ পারফর্মেন্স ‘পুরনো সেই দিনের কথা’ শুরু করার পর থেকেই পুরো ক্যাফেটেরিয়া নিস্তব্ধ হয়ে যায় আর সিনিয়র জুনিয়র নির্বিশেষে সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।

এরই মাঝে কথা হলো স্ফুরণ’১১ এর একজনের সাথে, “আসলে বুয়েটকে আমরা কখনোই একাডেমিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখিনি। এখানে সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো কিছু অসাধারণ বন্ধু পাওয়া। এখানে দেখা যায় আমার যে বন্ধুটির সিজিপিএ সবচেয়ে কম কিংবা ল্যাগ খাওয়া সেও তার নিজস্ব ইন্টারেস্টের ক্ষেত্রে বস। এটাই বুয়েট, এটাই বন্ধুত্ব।”


স্ফুরণ’১১ এর র‍্যাগ কনসার্টের আয়োজকদের একজনের সাথে কথা হলো এক পর্যায়ে, “বুয়েট, এটা আমাদের অনেক আবেগের জায়গা। আমরা এখান থেকে চলে যাচ্ছি, কিন্তু চলে যাওয়া মানেই শেষ নয়। আমরা বারবার নিজের ক্যাম্পাস যেখানে আমাদের জীবনে শ্রেষ্ঠ ৪টি বছর কাটিয়েছি সেখানে ফিরে আসবো। আমরা আমাদের বিদায়কে স্মরণীয় করতে সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। জুনিয়রদের কাছে একটাই চাওয়া- মনে রাখিস আমাদের, আর কখনো কোনো কাজে যদি আমাদের কোনো সাহায্য লাগে নির্দ্বিধায় চাইবি, সাধ্যমত চেষ্টা করবো।”

ক্যাম্পাস প্রতিনিধ

More news