অন্যরা যেসব কারণে আপনাকে পছন্দ করবে



মানুষ অসামাজিক জীব হতে পারে না! পার্টি, ভিড়, আড্ডা, সমাজের আর দশটা কোলাহল থেকে আমরা পালাতে চাইলেও পারি না! আসলে এগুলো এড়িয়ে চলা কোন কৃতিত্বের বিষয়ও না। বরং আলাদাভাবে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা কিন্তু আপনার দৃঢ় ব্যক্তিত্বেরই পরিচয় দেয়!

লোকে আপনাকে পছন্দ করবে কি না করবে এটা সম্পূর্ণ আপনার হাতে! বলা চলে, আপনি আপনার নিয়ন্ত্রক! Emotional intelligence বা মানসিক বুদ্ধি মানুষকে অর্জন করে নিতে হয়। পরিবার, সমাজ থেকেই মানুষকে শিখে নিতে হয় আর দশটা মানুষের সঙ্গে পথচলা!

আয় মিলিয়ন ডলারের ধারের কাছে না থেকেও, কিছু দারুণ সোশ্যাল স্কিল আপনাকে এনে দিতে পারে “মিলিয়ন ডলার পারসোনালিটি”র খেতাব।

কি সেই সোশ্যাল স্কিল? চলুন দেখে আসি।

চোখে চোখ রেখে কথা বলুন

আই কন্টাক্টটা ভীষণ জরুরী। কারণ আপনার প্রতি একটা মানুষের সম্পূর্ণ ইম্প্রেশন নির্ভর করে আপনার চাহনির উপর। যার সঙ্গে কথা বলবেন সম্পূর্ণ দৃষ্টি তার উপর রাখবেন।

স্মার্টফোন পকেটে রাখুন

কথা বলার সময় আপনি ব্যক্তির দিকে না তাকিয়ে মাথা নিচু রেখে স্মার্টফোন টিপাটিপি করলে সেটা বক্তার জন্য ভীষণ অপমানজনক। এই অভ্যাসটা আপনাকে বাদ দিতেই হবে। শুধু অফিস মিটিং না, কোন পার্টিতে কারও সঙ্গে কথা বলার সময়ে স্মার্টফোনের দিকে তাকানো বন্ধ করুন।

যাদের নাম জানেন তাদের নাম ধরে ডাকুন

যাদেরটা জানেন না তাদেরকে “এক্সকিউজ মি, মিঃ বা মিস আপনার নামটা” বলে জেনে নিন নাম। এটা এক ধরনের ভদ্রতা। কথা বলার সময় কারও নাম ধরে সম্বোধন করলে তিনি আপনার সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করেন। ভাবেন যে আপনি তাকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন এবং তাকে ভুলে জাননি। কারও নাম ভুলে যেতেই পারেন, সেক্ষেত্রে প্রথমেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে নিন এবং পুনরায় নাম জেনে নিন।  

হাসির শক্তি কিন্তু বিশাল

এই কথাটা সবসময় মনে রাখবেন। তাই নিজের হিউমার প্রদর্শন করে মানুষকে হাসানোর চেষ্টা করানোটা কিন্তু খারাপ না। তবে আপনার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সবসময় পজিটিভ থাকতে হবে। আপনার করা হিউমারে কেউ যাতে কষ্ট না পায় সেটাও মাথায় রাখতে হবে। তবে অতিরিক্ত হিউমার যেন লোকের বিরক্তির সূচনা না করে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

হ্যান্ডশেকের সময় হাতে জোরে চাপ দিবেন না

হ্যান্ডশেক আমাদের সংস্কৃতির কোন আচার-ব্যবহার নয়কালের বিবর্তনে এটা আমাদের আচার- ব্যবহারের মূল সুর হয়ে উঠেছে। পরিচয়ের শুরুতে আর বিদায়ের সময় হ্যান্ডশেক যেন আমাদের ভদ্রতাকে পূর্ণতা দেয়। একদম নিস্তেজ নয় আবার হাত ধরে ঝাঁকানো নয়, অল্প চাপে এই হ্যান্ডশেক সেরে ফেলুন

বলুন কম, শুনুন বেশি

আপনার দুটো কান, একটা মুখ। ২:১ অনুপাত বুঝতে পারছেন তো? সেভাবেই কাজে লাগান!

শুধু শুনবেন না, রেস্পন্স করুন

হু, হ্যাঁ করে দায় সারা ভাবে বক্তার কথা শুনবেন না। অন্য ব্যস্ততা থাকলে একটু পরে কথা বলছি বলুন। কিন্তু শোনার সময় মনোযোগ সহকারে শুনবেন এবং সেই অনুযায়ী রেস্পন্স করবেন। বাসিল চায়সন নামক একজন ব্লগারের মতে, রেস্পন্স কথার মাঝখানে করতে পারেন তবে অবশ্যই বক্তার কথাকে বাধা দিয়ে নয়।

পুরোটা শোনার পরে প্রশ্ন করুন জানার জন্য। তবে কোন মতামত দেবার আগে অবশ্যই আগে বিষয়টা সম্পর্কে ধারণা রাখবেন। আলটপকা মন্তব্য করে বসবেন না। সব শেষে আপনার ফিডব্যাক দিন।

প্রশংসা করুন সামনাসামনি

মানুষ নিজের সম্পর্কে শুনতে ভালবাসে। প্রশংসা আর তোষামোদ দুটো আলাদা জিনিস। বুদ্ধিদীপ্তভাবে প্রশংসা করুন। এতে অপরপক্ষ খুশি থাকবে। ভবিষ্যতে যেকোন প্রয়োজনে তাকে পাবেন।

কেউ কমপ্লিমেন্ট দিলে সেটা দারুণভাবে গ্রহণ করুন

এই গ্রহণ করারও কিছু পদ্ধতি আছে। আপনাকে কেউ বলল “খুব ইয়াং লাগছে”। শুনে খুশি হয়ে যদি আপনি বলেন “ ধন্যবাদ, তোমাকেও!”  পানসে শুনাবে। মনে হবে, আপনি শুধু নিজেকে নিয়েই সচেতন। তাই এইসব ক্ষেত্রে পাল্টা কমপ্লিমেন্ট চলতে পারে। সেটা সম্ভব না হলেও “ধন্যবাদ! শুনে কি যে ভাল লাগছে” কিংবা “কি যে বল! দারুণ অভিজ্ঞতা!” এইটুকু বলেও প্রতি উত্তর করা যেতে পারে।

কথা বলতে কেউ বাধাগ্রস্ত হলে তাকে নিজেই সুযোগ করে দিন

ধরুন কেউ গল্প বলছে, হুট করে কোন কাজে তিনি বাধা পেলেন গল্পটি বলতে। সবাই ভুলেও গেছে। এর মাঝখানে যদি আপনি বলে উঠেন “আপনার গল্পটা কোথায় জানি শেষ হয়েছিল! ও লোকটা চিঠি লিখতে বসল! তারপর তো শুনাই হল না। কি হল তারপর!” গল্প যিনি বলছেন, উৎফুল্ল হয়ে উঠবেন। কেউ একজন তার কথা শুনতে চাচ্ছে এই ভেবে আপনাকে একটা আলাদা মর্যাদা সবসময় দিবেন।

“এটা কেন হলনা? ওটা কেন হলনা? এটা এরকম কেন, ওটা ওরকম কেন?” এই ধরনের অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকুন। কোন কিছুই ১০০ ভাগ পারফেক্ট হবে নাখুঁত ধরা থেকে বিরত থাকলে পরিবেশ সুন্দর থাকে। তাছাড়া খুঁত ধরলে আপনার শরীর এবং মস্তিস্কের শক্তি খরচ হচ্ছে। ওটা শুধু শুধু নষ্ট করতেই বা দিবেন কেন?

দেখলেন তো, কত সহজে একটা মানুষের কাছে প্রিয় হওয়া যায়! খুব বেশি কঠিন কিছু না! আপনার পাশে চেনা মানুষটা হয়ত সামান্য একজন কেউ হতে পারে! কিন্তু আনন্দ দিয়ে তার মন জয় করাটা কিন্তু সামান্য না!

ইন্ডিপেনডেন্ট ডটকো ডট ইউকে অবলম্বনে, ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত



More news