ফেসবুক আইডির নিরাপত্তা: আপনার করণীয়



ফেসবুক আমাদের নিত্যদিনের অংশ। যেখানে আমরা নিজেদের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী সহ আরো বহু মানুষের সাথে শেয়ার করি নিজেদের চিন্তা ভাবনা, দৈনন্দিন জীবনের খুঁটিনাটি।

ফেসবুক আইডিটিই আমাদের ব্যক্তিত্বের ভার্চুয়াল প্রতিরূপএই আইডিটি হ্যাক হওয়া মানে অনেক কিছু। যেমন- হয়ত হ্যাক হওয়া আইডি থেকে আপনার নামে মিথ্যা খবর, ক্ষতিকর তথ্য পোস্ট করা হতে পারে আপনার নাম নিয়ে বন্ধু-বান্ধবের কাছে থেকে হাতিয়ে নিতে পারে টাকা স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্য সম্বল করে আপনাকে ব্ল্যাকমেইল করা হতে পারে। 

এত সব কিছুর ফলে যেমন আপনি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন তারচেয়ে বড় ব্যাপার হতে পারে সম্মানহানি। কখনো যদি বুঝতে পারেন আপনার আইডি হ্যাক হয়েছে তাহলে প্রথমেই আপনার পাসওয়ার্ড চেইঞ্জ করে ফেলুন। এছাড়াও আইডির নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে যা যা করতে পারেন তাই আজকের আলোচ্য বিষয়


১। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড:

আপনার আইডির সবচেয়ে বড় নিরাপত্তার জিনিসটি হলো পাসওয়ার্ড যা শুধু আপনিই জানেন। এই পাসওয়ার্ডটা হওয়া চাই শক্তিশালী। হ্যাকাররা সাধারণত পাসওয়ার্ড ডিকোডার ব্যবহার করে। আপনার পাসওয়ার্ড যত বড় ও জটিল হবে তা ডিকোড করা হ্যাকারদের জন্য ততই কঠিন হবে।

পাসওয়ার্ডে শুধু নম্বর ব্যবহার না করে বর্ণ ও বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহার করুন তাহলে ডিকোড করা বা পাসওয়ার্ডটা ধারণা করা কঠিন হবে। যেমন আপনার পাসওয়ার্ডটা এমন হতে পারে- j4k5l2u4/.,`=অনেকেই সহজে পাসওয়ার্ড মনে রাখতে 13572468 বা 987654321 টাইপের সহজ নম্বর, ফোন নম্বর, লাইসেন্স নম্বর, জন্মদিন ইত্যাদি ব্যবহার করে যেটা ঠিক না।

আপনার আইডিটি যে কাছের পরিচিত কেউ হ্যাক করবে না তার গ্যারান্টি কি, এরকম হলে তার পক্ষে এ তথ্য ব্যবহার করে হ্যাক করাটা অনেক সহজ হবে। পাসওয়ার্ড কখনোই ৮ বর্ণের নিচে দিবেন না।

সব জায়গায় একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করে ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড দিবেন। প্রতি ছয়মাস পর পর পাসওয়ার্ড চেইঞ্জ করুন। পাসওয়ার্ড নিয়ে এত কথার কারণ- আপনার পাসওয়ার্ড সেফ তো আপনার ফেসবুক তথা আপনি সেফ।

সেফ ব্রাউজিং:

একদম ব্যক্তিগত ডিভাইস ছাড়া অন্যকোন ডিভাইস থেকে ফেসবুক ব্রাউজ করলে লগইনের সময় “Remember This Password” এরকম পপ-আপ মেসেজ আসে। সব সময় ‘NO” অপশনটা বেছে নিন কারণ “Yes”  দিলে আপনার পাসওয়ার্ড ব্রাউজারে সেভ হয়ে যাবে ফলে পরবর্তীতে কেউ ব্রাউজার লগইন হিস্ট্রি থেকে সহজেই আপনার আইডি পাসওয়ার্ড জানতে পারবে।

এছাড়া আরেকটা কাজ করতে পারেন, অন্য কোন কম্পিউটার বা ফোনের ব্রাউজার দিয়ে যদি ব্রাউজ করতেই হয় তাহলে প্রত্যেক ব্রাউজারের প্রাইভেট ব্রাউজিং বলে একটা অপশন থাকে এভাবে ব্রাউজ করলে একটা নতুন প্রাইভেট উইন্ডো তৈরি হয় এবং ঐ সময় আপনি যাই ব্রাউজ করুন না কেন ব্রাউজার হিস্ট্রিতে কিছুই সেভ হবে না।

ভালো কথা অন্যের পিসি বা ফোন দিয়ে ফেসবুকে লগইন করার সময় দেখে নিন “Keep me loged in” অপশনের টিক মার্ক উঠানো আছে কিনা। এবং ব্রাউজ শেষে লগআউট করতে কখনো ভুলবেন না।

৩। ফেসবুক সিকিউরিটি সেটিংস:

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ব্যবহারকারীদের আইডির নিরাপত্তার জন্য কতগুলো অপশন তৈরি করেছে সেগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার করুন

Login Alerts: কেউ যদি নতুন ডিভাইস বা ব্রাউজার আইডি দিয়ে আপনার আইডিতে প্রবেশ করে অথবা আপনিও করেন তবে ফেসবুক আপনার দেয়া মোবাইল নম্বরে বা মেইলে মেসেজ দিয়ে সতর্ক করে দেবে। তাই আজই এই সেটিংসটি চেইঞ্জ করে আইডির সুরক্ষা আরো একধাপ বাড়িয়ে নিন।

Login Approvals: এই অপশনটি আপনার আইডিকে ব্যাপক নিরাপত্তা দিবে। আপনি যদি এই অপশনটি চালু রাখেন তাহলে আপনি বা অন্য কেউ যদি নিয়মিত ব্রাউজার বা অ্যাপ ব্যতিত অন্য কোন ব্রাউজার দ্বারা লগইন করতে চায় তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে আপনার সরবরাহ করা মোবাইল নম্বরে একটা কোড পাঠানো হবে যেটা ব্যবহার করেই কেবল আইডিতে প্রবেশ করা যাবে।

Choose Trusted Contacts:  কিছু বন্ধুকে এখানে অ্যাড করে রাখুন যাতে কখনো যদি কোনো কারণে আইডিতে লগইন করতে সমস্যা হয় তাহলে তাদের সাহায্যে আইডিতে প্রবেশ করতে পারবেন।

৪।স্প্যাম লিংক এড়িয়ে চলুন:

ফেসবুকে মিউচুয়াল ফ্রেন্ড ছাড়া অন্য কোন অচেনা ব্যক্তিদের রিকুয়েস্ট একসেপ্টের সময় সতর্ক হোন। ভালো করে আইডি চেক করে নিন। অনেক সময় হ্যাকাররা আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে ঢুকে আপনার টাইমলাইনে এবং মেসেজে বা কোন স্প্যাম লিংকে আপনাকে ট্যাগ করে দিবে, এসব লিংকে ক্লিক করা মানে আপনি তাদের ফাঁদে পা দিয়েছেন।

তাই সাবধান হোন, বিশেষ করে সেই সমস্ত পোস্টের লিংক থেকে যেগুলো শিরোনাম- “অদ্ভুত” “আজগুবি” “যৌন উত্তেজক” “অবিশ্বাস্য” টাইপ। এবং যেকোন থার্ড পার্টি ওয়েবসাইটকে পাসওয়ার্ড দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

বিশেষ করে সেসব সাইট “আপনার ক্রাশ কে” “আপনার কোন বন্ধু আপনাকে খুন করতে চায়” “কোন বন্ধু আপনাকে সবচেয়ে ভালবাসে” এগুলো এড়িয়ে চলুন। এবং কোন ব্রাউজার দিয়ে লগইন করার আগে URL চেক করুন যে আপনি www.Facebook.com এই আছেন www.face.book.com বা www.1facebook.com এ নাই। 

আশা করি উপরোক্ত পরামর্শগুলো কাজে লাগিয়ে আপনার ফেসবুকিং হবে আরো নিরাপদ। আপনার তথ্য আপনার সাথেই সুরক্ষিত থাকুকভালো থাকুন। আজ বিদায়।

বিশেষ প্রতিনিধি, ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত


More news