ঝুমু খান: বাংলাদেশের লেজার ট্রিটমেন্টের স্বপ্নকন্যা



নব্বই দশকের বাচ্চা-কাচ্চারা কি ভুলতে পারে সেই দিনগুলোর কথা? ৯৪ এর দিকের কথা। বিটিভি ছিল একমাত্র চ্যানেল। কখনও সন্ধ্যায়, কখনও রাত আটটার সংবাদের পরপরই পর্দায় খুব মিষ্টি করে একটা মেয়ে আসত। গান গেয়ে মাতিয়ে দিত। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়ার ফিতেওয়ালা ক্যাসেটের দোকানে দিনভর জোরে জোরে বাজত “পান খাইতে চুন লাগে/ ভালবাসতে গুণ লাগে” গানটি।

তিনি বাংলাদেশের লেজার ট্রিটমেন্টের পথিকৃৎ! তিনি আমাদের নব্বই দশকের ক্রেজ! আমাদের ঝুমু খান। পুরো নাম ডা: জাহানারা ফেরদৌস খান। গলায় একাধারে সুরের জাদু আবার স্টেথিস্কোপের ভার বহন! নাহ! এমন কম্বিনেশন আশপাশে খুব বেশী চোখে পড়ে না এখনও।

সেসময়ে তা ছিল আরও অপ্রতুল। লেজার ট্রিটমেন্টের কর্ণধার হিসেবে পরিচিতি পেলেও, মানুষ আসলে অতুলনীয় কম্বিনেশনের কারণেই ভুলতে পারেনি সেই মিষ্টি মেয়েকে। এখনও তাই ঝুমু খানের গান মানে, সব কাজ ফেলে রেখে টিভির সামনে বসে পড়া।

ছেলেবেলার সেই সবুজ গুলশান

ছোটবেলা থেকেই মায়ের খুব স্বপ্ন ছিল মেয়ে পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার হবে। পড়াশুনা শিখবে, গান গাবে, ছবি আঁকবে, সুইমিং শিখবে! তাই কড়া শাসনে আর শৃঙ্খলায় কেটেছিল ঝুমু খানের ছেলেবেলা। ছোট দুই ভাই আর তিনি সবার কাছে লক্ষ্মী বাচ্চা হিসেবেই আদর পেতেন।

৮০র দশকে  থাকতেন দাদা বাড়িতে, ঢাকার কাকরাইলে। বাবা একেএম জাহাঙ্গীর খান ছিলেন দেশের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী৮৫তে পরিবার চলে আসে গুলশান। গুলশানের কথা মনে করতে গিয়ে বলেন ‘Gulshan was so green and safe’

একা একা সাইকেল চালাতেন গুলশানের এই পথ ধরে। সানবিমস, উদয়ন, অগ্রণী দেশের এই তিন সেরা স্কুলে কেটেছে স্কুলজীবন অগ্রণী স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। স্কুল থেকেই শাড়ি পরা শুরু করেছিলেন। শাড়ি পরতে এতই ভাল লাগত যে, সেই লোভে হুজুরের কাছে একদম ঠিকমতো আরবি পড়তেন।

স্কুলে ছিল বিশাল মাঠ! পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলা চলত জোরকদমে। সেসব দিনের কথা মনে পড়ে আজকাল কষ্ট পান ঝুমু খান, “এখনকার বাচ্চারা বদ্ধ খাঁচায় বড় হচ্ছে। আমরা বিশুদ্ধ হাওয়া খেয়েছি, মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আমরা খুব লাকি যে সেই ৭০-৮০র সবুজ ঢাকা দেখেছি

Once a crossian is a crossian forever

হলিক্রস কলেজ! সিস্টার জোসেফ মেরি! সিস্টার মেরিয়ান টিরিজা! স্মৃতি রোমন্থন করছিলেন ঝুমু খান। কলেজের প্রতিটি ইট-পাথরের কথা মনে আছে ঝুমু খানের। সেই বিভিন্ন অনুষ্ঠান, শাড়ি পরা, স্পোর্টসের জন্য ড্রিল করা! আর দশটা ক্রসিয়ানের মতই রঙ্গিন ছিল কলেজ জীবন।

কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে থাকতে ডাক্তার হবেন এমন কোন পরিকল্পনাই তার ছিল না। বাবা-মায়েরও তেমন জোর ছিল না। বাবা বরং সানন্দার অপর্ণা সেনকে দেখে অনুপ্রাণিত হতেন। ভাবতেন তার মেয়েও কোন নামকরা পত্রিকার এডিটর হবেন! কিন্তু একমাত্র নানিই ছোটবেলা থেকে চাইতেন নাতনিকে সাদা এপ্রোন আর গলায় ঝুলানো স্টেথিস্কোপে দেখতে।

তিনি কেন জানি মনে করতেন ডাক্তার হবার জন্য নাতনি ঝুমু খানের সব ধরনের গুণাবলী রয়েছে। কলেজে ফার্স্ট ইয়ারের সময় নানি মারা যান। প্রিয় মানুষটার হুট করে চলে যাওয়াতে ভীষণ আঘাত পেয়েছিলেন ঝুমু খান। নানিকে নাহয় ফিরিয়ে আনতে পারবেন না, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন তো পূরণ করতেই পারেন।

তখন থেকেই জেদ চেপে বসল তিনি মেডিকেলে পড়বেন। প্রাণিবিদ্যা এবং উদ্ভিদবিদ্যা হয়ে উঠল তার প্রিয় বিষয়। কলেজের টেস্ট পরীক্ষায় প্রাণিবিদ্যায় তিনি পান ১০০ তে ৯৯। টিচার ক্লাসে এসে বলেছিলেন, এমন একটা খাতা দেখেছেন তিনি যেখানে একটা লাল কালির দাগ পর্যন্ত দিতে পারেননি। এই ঘটনার পর দারুণ উৎসাহ বেড়ে যায় মেডিকেলের প্রতি, ভালবাসতে শুরু করেন প্রাণিবিদ্যা বিষয়টিকে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং এখন মেডিকেলে পড়া

ডাক্তারি যদি পড়তেই হয় তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজেই পড়তে হবে। কারণ ঢাকার বাইরে হলে থাকতে পরিবার সমর্থন করবে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়ার আগে চান্স পেয়ে গিয়েছিলেন ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে। ঢাবিতে কিছুদিন ইংলিশে ক্লাসও করেন তিনি। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে থেকে ডাক পেলে চলে আসেন মেডিকেলে পড়তে।

ডিএমসিতে পড়াকালীন তার ব্যাচে ছাত্রছাত্রী ছিল ১৫০ জন। তখন দেশে ছিল ১৩টা সরকারি মেডিকেল কলেজ। সন্দেহ নেই যে, প্রত্যেক স্টুডেন্ট ভীষণ মেধাবী ছিলেন। কিন্তু পাশ করার পর সবার চাকরির নিশ্চয়তা ছিল না। পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনও ছিল সময়সাপেক্ষ। তাই ঐ সময়ে অনেক ছেলেমেয়েকেই বেকার থাকতে হত।

এখন সরকারি বেসরকারি মিলে প্রায়  ৭২টি মেডিকেল কলেজ দেশেতাদের কাজের নিশ্চয়তা আরও কম। ঝুমু খানের মতে, “পড়াশুনা সহজলভ্য হচ্ছে ঠিকই! কিন্তু মান নিয়ন্ত্রণ হচ্ছেনা!” অনেক মেয়েদেরকেই দেখছেন তিনি পাশ করে ডাক্তারি প্র্যাকটিস না করে হাউজওয়াইফ হচ্ছে! আমাদের এখন মেডিকেলের পড়াশুনা ‘Quantity’তে এগিয়ে গেলেও, ‘Quality’তে ঠিকই পিছিয়ে গিয়েছে।

লেজার ট্রিটমেন্ট বিশেষ একটি সাবজেক্ট নয়, ডার্মাটলোজির অংশ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ডার্মাটলোজি থেকে পাশ করে যোগ দেন হলি ফ্যামিলির প্রফেসর কবির চৌধুরীর অধীনে। প্রায় চার বছর ওখানে কাজ করেছেন। মেডিকেলে পড়ার সময় সারাজীবন আউটডোরে যত রোগী দেখেছেন, তার চাইতেও বেশী রোগী কবির স্যারের চেম্বারে প্রতিদিন দেখতেন।


প্রায় ১০০ জনের উপরে রোগী আসত স্যারের কাছে। সেসময় তিনি খেয়াল করলেন, মেয়েদের বিশেষ এক ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে! সেটা হচ্ছে মুখে অবাঞ্ছিত লোম! খুবই অস্বস্তিকর সমস্যা। ঝুমু খান ইন্টারনেট ঘেঁটে পড়াশুনা শুরু করলেন। আজকের দিনের মত ইন্টারনেট এত সহজলভ্য ছিল না। কার্ড দিয়ে ব্যবহার করতে হত ইন্টারনেট এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সেই কার্ডের মেয়াদ শেষ হত।

জানতে পারলেন, উন্নত দেশগুলোতে মুখের এই অবাঞ্ছিত লোমের চিকিৎসা করা হয় লেজার ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে। ধীরে ধীরে তিনি জানলেন নানা বেসিক বিষয় যেমন: লেজার কি, কিভাবে কাজ করে এসব! লেজার ট্রিটমেন্ট সেসময় অনেক ডাক্তারদের কাছে ছিল ঝুঁকিপুর্ণ একটা বিষয়! কারণ লেজার ছিল ভীষণ ব্যয়বহুল। তাই এই বিষয়ে পড়া এবং ক্যারিয়ার হিসেবে নেবার ঝুঁকি অনেক ডাক্তারই নিতে চাইতেন না!

কিন্তু ঝুমু খান আর তার স্বামীর (যিনি নিজেও ডাক্তার) বয়স ছিল তখন কম। অন্য ডাক্তাররা লেজার নিয়ে আগায়নি বলে, আমরা বসে থাকব এমনটা কখনই ভাবেননি ঝুমু খান। বরং খুশি হয়েছিলেন অবাঞ্ছিত লোম, কিংবা acne এর (ব্রণ জাতীয়) মত সমস্যাগুলোর ট্রিটমেন্টের খোঁজ অবশেষে তিনি পেয়েছেন বলে

এরপর লেজারের উপর বেশকিছু ট্রেনিংয়ে যোগদান করেন। এর মধ্যেই পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের জন্য ইউকেতে কার্ডিফ ইউনিভার্সিটিতে পড়তে যান। সৌভাগ্যের বিষয় সেবার কার্ডিফে প্রথমবারের মত লেজার ট্রিটমেন্ট কোর্স শুরু করা হয়। দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে লেজার ট্রিটমেন্ট নিয়ে জার্নি শুরু হয়ে গেল ঝুমু খানের।

বাংলাদেশে এলো লেজার ট্রিটমেন্ট

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে মেশিন কিনেছি। অ্যামেরিকা এবং ইউরোপে বেশি যাওয়া পড়েছে। গিয়েছি দুবাইতেও। It was a big ventureঅবশেষে ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করলাম আমরা। দেখতে দেখতে ১২ বছর হয়ে গেল কথাগুলো বলা শেষ হলেই মিষ্টি করে হেসে দিলেন। আত্মতৃপ্তিতে পরিপূর্ণ একটা মুখ দেখলাম।

গুলশানের Dr. Jhumu khan’s Laser Medical এ বসে শুনছিলাম পুরানো গল্পগুলো। বারিধারায় শুরু হয়েছিল এই লেজার কেয়ারের যাত্রা। দারুণ সাড়া পেয়েছিলেন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাপোর্ট পেয়েছিলেন তিনিআমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর সাধ্যে যেন লেজার ট্রিটমেন্ট থাকে সেটাই ছিল ঝুমু খানের মূল চিন্তার জায়গা। সেটা তিনি করতেও পেরেছিলেন। ওয়েবসাইটে গেলেই সে প্রাইস লিস্টের খোঁজ সবাই পাবে। উত্তরা আর ধানমণ্ডিতেও আছে লেজার মেডিকেলের শাখা।

লোকে বলে, লেজার ট্রিটমেন্ট নাকি ভালো না?

ঝুমু খান এইবার সিরিয়াস। একটু গম্ভীর ভঙ্গিতেই বলে উঠলেন “আমাদের দেশে মানুষদের সব ব্যাপারে এক ধরনের ভীতি কাজ করেকোন জিনিস নিয়ে হাজার প্রশ্ন করবে, তারপর জিনিসটা গ্রহণ করবে। তারা জানেন না বলেই এসব কথা বলে থাকেন তবে এখন সে ট্রেন্ড পরিবর্তন হচ্ছে মানুষ বুঝতে পারছে, এটা অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির মতই এটি একটি পদ্ধতি

স্কিনকে ঠিক করা দুরূহ ব্যাপার। অনেক পুরুষ ডার্মাটলোজিস্ট আছে যারা মেয়েদের aesthetic (পরিপূর্ণ সৌন্দর্য) নিয়ে চিন্তিত না। ব্রণ হচ্ছে সেটা ঠিকই ভালো করে দিচ্ছেনকিন্তু তার পরেও যে কালো দাগ থাকে, কিংবা আবার ব্রণ হবার সম্ভাবনা থাকে এই নিয়ে কাজগুলো অনেকেই করেন না।

লেজার ট্রিটমেন্ট সম্পূর্ণ সাইড ইফেক্ট মুক্ত একটি চিকিৎসা। এতে কোনরূপ সমস্যা নেই। কিন্তু একটু ব্যয়বহুল তবে অসাধ্যের মধ্যে নয় এত খরচ করে চিকিৎসার গ্রহণযোগ্যতা সব লেভেলের মানুষের মধ্যে থাকে না।  


প্রফেশনাল সঙ্গীতশিল্পী আমি হতে চাইনি

ঝুমু খানের গানের ভক্ত অনেকেইতাই প্রশ্ন করলাম “কেন তিনি গানে নিয়মিত না?” উত্তরে জানালেন, “আমি তো প্রফেশনাল শিল্পী হব এই ভেবে গান কখনও শিখিনি। গান গেতে আমার ভালো লাগত। আর মেডিকেল প্রফেশনে থেকে গানটাকে ঠিক ফুল টাইম নেওয়া সম্ভবও না 

৩-৪ বছর বয়স থেকে বাবা মায়ের হাত ধরে ছায়ানট, শিশু একাডেমী, কচিকাঁচার মেলাতে যেতেন ঝুমু খান। বুঝতেন না অত কিছু। নতুন কুঁড়িতে অংশগ্রহণের পর নিয়মিত বিটিভিতে অনুষ্ঠান করতেন। মেডিকেলের প্রথম বর্ষে সুযোগ আসে সিনেমাতে গান গাওয়ার। নতুন নায়িকার জন্য নতুন ভয়েস লাগবে বলে গান গেলেন শেখ সাদি খানের সুরে এবং মমতাজুর রহমানের কথায়। প্রায় ৫০টি ছবিতে গান গেয়েছিলেন তিনি।

ছোটবেলায় মা পড়াশুনা যেমন জোর দিতেন, গানেও জোর দিতেন একইরকম ভাবে। পরীক্ষার আগের দিনেও ওস্তাদের কাছে বসতে হত গান শিখতে। সঙ্গীত জীবনে পেয়েছিলেন ওস্তাদ রামগোপাল মাহন্তকে। এ ভুবনের রফিকুল ইসলাম, সঞ্জিব দে, তপন কুমার বৈদ্য, আব্দুল আজিজ বাচ্চু সবার কাছে তিনি কৃতজ্ঞ। রবীন্দ্র সঙ্গীতই তিনি শিখেছিলেন প্রথমে। “অগ্নিবীণা” নামক এক নজরুল সঙ্গীত প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণের পর নজরুলসঙ্গীতের প্রতিও আগ্রহ অনুভব শুরু করলেন।

১৯৯৪ সালে বেরিয়েছিল প্রথম অ্যালবাম ‘চন্দ্রিমা রাতে’সেই অ্যালবামের গানই ছিল “পান খাইতে চুন লাগে”। ২০০২ সাল পর্যন্ত গানের নিয়মিত অ্যালবাম করেছিলেন। মুক্তি পেয়েছিল “দুই লাইনের চিঠি লিখলা না” অ্যালবামটি

তারপর দীর্ঘ দশ বছরের অবসর। ২০০২ সালের পর ২০১২। ২০১২ তে বের হয় নতুন অ্যালবাম “অজানায়”। মূলত প্রফেশনাল শিল্পী হবার চাইতে প্রফেশনাল ডাক্তার হওয়াটা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল। তাই হয়ত এই বিশাল অবসর!

বয়স আমার বাড়ে না

ঝুমু খান এখনও চিরসবুজ। সেই এভারগ্রিন হবার জাদুমন্ত্র ছড়িয়ে দিতে চান সবার মধ্যে। তাই কাজ করছেন Anti-aging নিয়ে! প্রচুর ওয়ার্কশপ করেছেন তিনি Anti-aging নিয়ে। নাহ! বয়সের বলিরেখা যাবে না! কিন্তু বয়সের সাথে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়াটা কিন্তু আমাদের হাতেই। সুস্বাস্থ্য মানে যেমন শরীরের ফিটনেস, তেমনি মনেরও।

ঝুমু খান অনেক কম বয়সী মানুষকে দেখেছেন যারা মানসিকভাবে বুড়িয়ে যায় তাড়াতাড়ি। অনেকে হতাশায় ডুবে থাকে নিজের গায়ের কালো রঙয়ের কারণে। এসব ক্ষেত্রে সমাজও কম ভূমিকা পালন করেনা। বহু মেয়েদের দেখেছেন যারা কেবল সুন্দরী হতে চায়, গায়ের রং ময়লা হলে হতাশ হয়। হীনমন্যতায় ভুগে। কমপ্লেক্সে ভুগে।

ঝুমু খানের কাছে গায়ের রং সৌন্দর্যের কোন ফ্যাক্টর না! “নিজস্বতা না থাকলে আমাকে সুন্দর দেখাবে না” এরকম দৃপ্ত কথা শুনে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায়না হয়ত এই আউট অফ দি বক্স চিন্তাগুলিই ঝুমু খানকে অনন্য করে রেখেছে

সবুজ পৃথিবী আমার স্বপ্নে

সবুজ পৃথিবীর স্বপ্ন বহু বছর ধরে লালন করে আছেন বুকে। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে মানুষ বাড়ছে। ঢাকায় এখন লোকসংখ্যা ২ কোটির উপরে। সারভাইভাল ফর দি ফিটেস্ট বলে কথা! ঘিঞ্জি জায়গায় বাস করছে মানুষ! মারামারি করছে, কাটাকাটি করছে।

পরিবেশের উপর ক্ষতি করছে! কালো ধোঁয়ায় ধূসর হচ্ছে পৃথিবী। সবুজ পৃথিবীর স্বপ্ন কি থমকে গেল! নাহ স্বপ্ন দেখা থামেনি! এখনও তিনি ভাবেন নগর পরিকল্পিত হবে একদিন! প্রত্যেক বাসার ছাদে বাগান হবে! সবুজ পৃথিবী কোন অসম্ভব কিছু না!

ঝুমু খান, একজন সমাজসেবীও বটে

সঙ্গীতশিল্পী এবং লেজার আইকন! এই পরিচয়ের বাইরে তার আরও একটি পরিচয় আছে তিনি একজন সোশ্যাল ওয়ার্কার। মিডটাউন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট। প্রান্তিক মানুষদের জন্য খাবার পানির ব্যবস্থা, নিরাপদ স্যানিটারির ব্যবস্থা করে যাচ্ছেন নিয়মিতভাবে। ঢাকার বাইরে অনিরাপদ স্যানেটারি তাকে খুব ভাবায়। খুব ছোট পরিসর থেকেই মানুষের অভ্যাস বদলের কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

এখনকার তরুণদের মধ্যে সাবজেক্ট হিসেবে Anti-aging, preventive medicine, aesthetic খুব প্রিয় টপিক হয়ে উঠছে। নিয়মিত ঝুমু খানের কাছে এসে বিস্তর প্রশ্ন কর তারা, কাজ করতে আগ্রহ জানায়। ঝুমু খান জানায়, “মেডিকেল সায়েন্সে যে যত বেশী আপটুডেট থাকবে সে তত বেশী কোয়ালিফাইড

তারপর ঝুমু খান

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক সন্তানের মা। বিশ্বাস করেন সত্যিকার নারী মুক্তি তখনই আসবে যখন পুরুষরা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, নারীকে সম্মান দিতে শিখবে। রাতে বাড়ি ফেরা, পোশাক পরা একটা মেয়ের নিজস্ব চয়েজ। এইসব নিয়ে একজন মেয়েকে যতদিন হয়রানি করা হবে ততদিন “নারীর ক্ষমতায়ন” প্রশ্নবিদ্ধই থাকবে। নিজেকে খুব লাকি মনে করেন, কারণ পরিবার থেকে মেয়ে বলে তাকে কখনই আলাদা করে দেখা হয়নি।

আরও অনেক কথা বাকি ছিল। কিন্তু রোগী এসে বাইরে অপেক্ষা করছিল বলে উঠতে হল। চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসার আগে ভাবছিলাম, এই লম্বা এলো চুল আর স্নিগ্ধ চোখের কন্যা গত দুই যুগ ধরে দুই জেনারেশকে মন্ত্রমুগ্ধ করে আছে! কি সেই সঞ্জীবনী শক্তি!

নিজস্ব প্রতিনিধি

More news