কার্টুনিস্ট আহসান হাবীবঃ দ্য বস অব ‘উন্মাদ’



দক্ষিণ বিশিলে ৫৪ নম্বর বাড়ি খুঁজে পেতে একটু সমস্যাই হলো। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল একজন ছেলে। জিজ্ঞেস করলাম “স্যার আছেন?”

ছেলে হাত দিয়ে ইশারা করে দেখাল, “ঐ যে”আমরা অবাক হয়ে দেখলাম রাস্তার ওপারে চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছেন তিনি। আশেপাশে হাজার ভিড়ের মাঝেও মানুষটাকে আলাদা করতে পারলাম। সাদা চুল আর সাদা শার্ট। এই বেশে যে কত দেখেছি তাকে! বইয়ের পাতায়, পত্রিকার রম্য কলামে কিংবা টিভির কোন শো’তে।

আমাদের ছোটবেলা বড়বেলা কেটেছে তার আঁকা কার্টুন দেখেহাসতে হাসতে কখনও পেটে খিল তো কখনও মস্তিষ্কে ঢিল! আমাদের একঘেয়ে পড়াশুনা আর খেলাধুলার জীবন নতুন আমেজ পেত নিউজপ্রিন্টে ছাপানো একটা “উন্মাদ” পত্রিকার কল্যাণে। আমাদের ঈদ মানেই ছিল কোন ঈদসংখ্যায় তার লেখা একটা রম্য গল্প।

ভণিতা করে লাভ কি! আমাদের থেকে দশ হাত দূরে চা খাওয়া মানুষটা আর কেউ না! আহসান হাবীব! বাংলাদেশের কার্টুনের ড্যাড বা জনক বলা হয় যাকে।

হাল সময়ের টিভিস্ক্রিনের মানুষগুলোই আমাদের কাছে অভিজাত শ্রেণীর সেলিব্রেটি বলে বিবেচিত হয়। কিন্তু স্যারের মধ্যে সেই আভিজাত্যের ছিটেফোঁটাও দেখতে না পেয়ে কেমন যেন অদ্ভুত লাগলহয়ত বেশি অসাধারণ মানুষেরা এমনই হয়!


কাছে গিয়ে বললাম “স্যার একটা ইন্টারভিউ নিব”।

ইন্টারভিউর কথা শুনে এক গাল হেসে বলে উঠলেন “কি ইন্টারভিউ নিবা! অফিসে আস!”

‘উন্মাদ’ অফিসের হলুদ গেট ঠেলে ঘরে ঢুকলাম আমরা। প্রথমেই চোখে পড়ল মাঝারি সাইজের এক ঘরে ছড়িয়ে রাখা পোস্টার আর উন্মাদের পুরানো সংখ্যাগুলো। ঘরটা পার হলে আরেকটা মাঝারি ঘর। সেখানে একটা টেবিল আর কতগুলো চেয়ার ছড়ান। টেবিলে কাগজের স্তূপ। তার মাঝখান থেকে উঁকি দিচ্ছে একটি কাঠবাক্সের লেখা,

If you have time to waste, please do not waste it here”

এদিক ওদিক চোখ বুলিয়ে বসলাম আড্ডা দিতে।

বাড়ির ছোট ছেলে শাহীন

আহসান হাবীবের ছেলেবেলা কেটেছে সিলেটে। বাবার চাকরিসূত্রে ছেলেবেলা কাটিয়েছেন আটটি স্কুল দেশের আটটি বিভিন্ন জায়গায়। ছয় ভাইবোনের বাড়িটা ছিল চাঁদের হাট। বাইরে ছিল তাদের অজস্র বন্ধু। ইচ্ছেমত ঘুরে বেড়াত তারা। মফস্বলে ছিল দারুণ খেলাধুলার ব্যবস্থা। স্কুল থেকে বাড়ি আসার কোন তাড়া ছিল না তাদের। ইচ্ছে হলেই অবশ্য এখনকার দিনের মত হুট করে মুভি ডাউনলোড করতে পারত না, টিভি দেখতে পারত না। বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল রেডিওতে নাটক শোনাসন্ধ্যা হলে মাদুর পেতে পড়তে বসত, একসাথে রাতের খাবার খেত। একটা আলাদা প্রাণ ছিল সেই দিনগুলোতে। আহসান হাবীবের মতে, “আজকের বাচ্চারা বঞ্চিত হচ্ছে সেই দিনগুলো থেকে, সোসাইটি নষ্ট হচ্ছে। হাই টেকনোলজির অসুবিধা এসবই”।  

আহসান হাবীব ছিলেন বাড়ির  ছোট ছেলে। বড় দুইভাইয়ের একজন বিখ্যাত লেখক হুমায়ুন আহমেদ অন্যজন মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। ছোট বলেই বাড়ির প্রায় সব কাজ করতে হতো তাঁকে। বাজার করা, লাইনে দাঁড়িয়ে বিল দেওয়া, রেশন থেকে চাল আনা, বড় ভাইদের জন্য সিগারেট আনা ইত্যাদি। তবে কাজগুলো যে ক্ষোভ নিয়ে করতেন তা না। এখন কি সে অবস্থার বদল ঘটেছে! নাকি এখনও বাড়ির ছোট ছেলে বলে কাজ চাপিয়ে দেওয়া হয়। হাসতে হাসতে বললেন, “নাহ! এখন তেমন দিন নেই! তবে আমাদের পরিবারে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। আমার মেজো বোন, ছোট বোন সবার সন্তানই মেয়ে। তাই ছেলেদের কাজগুলো এখনও একাই আমাকেই করতে হয়”।

আহসান হাবীবের নাম নিয়ে মজার কাহিনী আছে। বাড়িতে এমনিতে তাঁকে শাহীন বলেই ডাকে। তবে তার ভালো নাম প্রথমে রাখা হয়েছিল কুদরত-ই-খুদা। বিখ্যাত বিজ্ঞানীর নামে নাম হলেও, নামটা ছিল পুরানো। তাই পরবর্তীতে বাবা ফয়জুর রহমান নাম বদলে রাখেন ইবনে ফয়েজ মুহম্মদ আহসান হাবীবএত বড় নাম পছন্দ হচ্ছিল না বলেই নিজেই কেটেছেঁটে রাখেন “আহসান হাবীব”

একাত্তরের সেই দিনগুলি

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় আহসান হাবীব ছিলেন ক্লাস সিক্সের ছাত্র। ছোট্ট বয়সে মুখোমুখি হয়েছেন অনেক স্মৃতির। বাবা ফয়জুর রহমান শহীদ হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। বড় দুই ভাই নিখোঁজ হয়ে যান। বড় ভাইকে তো ধরে নিয়ে গিয়ে প্রচুর টর্চার করা হয়। জানতেনও না ভাই বেঁচে আছেন কিনা! আহসান হাবীব তখন ছিলেন নানা বাড়ি মোহনগঞ্জে। সারা গ্রামময় মামা-ভাগ্নে ছুটে বেড়াতেন।

একবার মিলিশিয়া টাইপ এক আর্মি ধরেছিল, তারা স্কুলে না গিয়ে কেন জঙ্গলে ঘুরছে! মামা-ভাগ্নে তো ভয়ে শেষ! কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচাল আহসান হাবীবের কান। কানদুটো একটু বড় বলে আর্মি হাসতে শুরু করল। তাতে পরিস্থিতি হালকা হয় এবং তাদেরকে ছেড়ে দেয়বাড়ি ফিরে আহসান হাবীব সত্যিই খেয়াল করলেন তার কানদুটো বেশ বড়, মিকিমাউসের মতো! বড় বোন সান্ত্বনা দিল, “কান বড় নাকি জ্ঞানীর লক্ষণ!”

৮ ডিসেম্বর মুক্তি হলো মোহনগঞ্জ। থানা থেকে ক্যাম্প গুটিয়ে পাকসেনারা পালাতে লাগল। ছোট্ট আহসান হাবীব থানায় গিয়ে দেখে, একটা বাক্সে অনেকগুলো থ্রি নট থ্রি রাইফেলের গুলি রাখা। কি ভেবে তিনি সেগুলো পকেটে পুরলেন। গুলির ভারে প্যান্ট পড়ে যাবার দশা!  

সবচেয়ে স্মরণীয় স্মৃতি হচ্ছে ভারতের মহেশখালী ক্যাম্পে গিয়েছিলেন একজন এফএম কমান্ডারের সাথে। কমান্ডারের কাঁধে স্টেনগান ছিল। তার পিছে পিছে এগিয়ে যাচ্ছিল ছোট্ট আহসান হাবীব। সবাই বলাবলি করছিল “এই ছোট্ট ছেলে এসেছে বাংলাদেশ থেকে এফএম কমান্ডারের সঙ্গে”। তখন আহসান হাবীবের মনে হচ্ছিল, “তিনিও একজন মুক্তিযোদ্ধা!” 


দ্য কার্টুনিস্ট!

মেজো ভাই মুহাম্মদ জাফর ইকবাল জনকণ্ঠ পত্রিকায় কার্টুন আঁকতেন। পাশাপাশি ‘মহাকাশে মহাযাত্রা’ নামক পত্রিকায় আঁকতেন কমিক্স। মামাও আঁকতেন ছবি। বড় ভাই এবং বোনেরাও টুকটাক ছবি আঁকতে পারতেন। তাই ছবি আঁকাটা জিনগত ভাবেই পেয়েছেন বলে মনে করেন আহসান হাবীব। মেজো ভাইয়ের কমিক্স আঁকা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ম্যাট্রিক পাশের পর আঁকলেন প্রথম কার্টুন। প্রথম কার্টুন হিসেবে এঁকেছিলেন এক ম্যাজিশিয়ানকে। কার্টুনের প্রথম দৃশ্যে ছিল একজন ম্যাজিশিয়ান সবাইকে জাদুর টুপি থেকে অনেক টাকা পয়সা বের করে দেখাচ্ছে। পরের দৃশ্যে দেখা গেল সব দর্শক হামলে পড়ে সে টাকা কুড়িয়ে নিচ্ছে। আর ম্যাজিশিয়ান ক্যাবলা হয়ে তাকিয়ে আছে! প্রথম সেই কার্টুনই ছাপা হয়েছিল “দি অবজার্ভার” পত্রিকায় “আঙ্কেল কিম” নামক পাতায়।

‘উন্মাদ’ এর সঙ্গে যাত্রা

ইন্টার পাশ করে ঢাকা ভার্সিটির ভূগোল বিভাগে ভর্তি হলেন আহসান হাবীব। ১৯৭৮ সালের ঘটনা এটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বছরেই কাজী খালেদ আশরাফ এবং ইশতিয়াক হোসেন মিলে বের করেন ত্রৈমাসিক রম্য ম্যাগাজিন ‘উন্মাদ’প্রথম সংখ্যাই তরুণ সমাজকে ভীষণ আলোড়িত করে। এক মাসে প্রায় ৩০০০ কপি বিক্রি হয় উন্মাদের প্রথম সংখ্যার। দ্বিতীয় সংখ্যা থেকে উন্মাদের সাথে যাত্রা কার্টুনিস্ট আহসান হাবীবেরবিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রায় ৯টি সংখ্যা বের হয় উন্মাদের। পাশ করার পর বন্ধুরা বিদেশে চলে গেলে উন্মাদকে নিয়মিত রাখার দায়ভারটা কাঁধে তুলে নেন আহসান হাবীব। উন্মাদের সরকারি অনুমোদন ছিল। তাই উন্মাদ বন্ধ করাটা কোন সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না বলে তিনি মনে করেছিলেন। তাছাড়া কার্টুনের প্রতি ভালোলাগা সবসময় ছিল বলে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দিয়ে উন্মাদে নিয়মিত হন। উন্মাদ তখন হয়ে দাঁড়ায় তার একমাত্র আয়ের উৎস। ত্রৈমাসিক থেকে মাসিক পত্রিকা করা হয় উন্মাদকে।

কার্টুনিস্ট হবার সংগ্রামের সেই দিনগুলো  

ছাত্রজীবনে উন্মাদের বিজনেস আহসান হাবীব দেখতেন না। দেখতেন তার বন্ধুরা। তিনি শুধু কার্টুন আঁকতেন। কার্টুন এঁকে সেরকম আয় অবশ্য হত না। বিয়ের পরপর হুমায়ুন আহমেদ কোয়ার্টার পেয়ে গেলেন। তখন মা আর ছোট বোনকে নিয়ে তিনি আলাদা হয়ে যান। যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তার ভাড়া ছিল ২১০০ টাকা। আহসান হাবীব সবসময় টেনশনে থাকতেন বাড়ি ভাড়া নিয়ে। উন্মাদ থেকে তখন তিনি ৩০০০ টাকা করে পেতেন। ২১০০ টাকা বাড়ি ভাড়া দেবার পর অন্যান্য খরচ যোগানোর জন্য আঁকাআঁকির আরও কাজ করতে হত আহসান হাবীবকে। তবে আহসান হাবীব উন্মাদের বিজনেস দেখা শুরু করলেন ধীরে ধীরে অবস্থা পাল্টাতে থাকে। উন্মাদ থেকেই তখন ভালো আয় আসতে শুরু করে

তবুও মাঝে মাঝে প্রচুর সংগ্রাম করতে হয়েছে। সবসময় উন্মাদের বিক্রিবাট্টা ভালো হত তা না! ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা চলছে, অনেকেই উন্মাদ কিনছে না! কিংবা কোন রাজনৈতিক কারণে হকার নিষিদ্ধ করা হলো! এসব উত্থান-পতনও গিয়েছে। তখন ধৈর্য ধরেছেন আহসান হাবীব। একটা পত্রিকা বন্ধের পেছনে অনেক কারণ থাকে। কিন্তু আহসান হাবীব নিরলস প্রচেষ্টা করেছেন ‘উন্মাদ’  টিকিয়ে রাখার জন্য। এমনও দিন গেছে উন্মাদের কভার বানানোর জন্য কোন হোয়াইট প্রিন্ট কাগজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিউজপ্রিন্ট কাগজ কিনে তাতে হোয়াইট কালারের প্রিন্ট করে তারপর কভার বানানোর মত কাজও করেছেন আহসান হাবীব।

ঢাকা শহরে মোট ২২টা সেন্টার রয়েছে। ভোর হবার সাথে সাথেই এই ২২টা সেন্টারে পত্রিকা পাঠানোর একটা চ্যালেঞ্জ থাকে। কিছু কিছু দিন এমন গিয়েছে, পত্রিকা ডিস্ট্রিবিউশনের সময়ে গাড়ি আটকে রাখা হয়েছে স্পটে। কোন মারামারি বা হত্যার কারণে। সেবার হয়ত উন্মাদের বিক্রি ঠিকভাবে হলই না! এভাবে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েই উন্মাদের যাত্রা চলছে ৩৮ বছর ধরে।

সুপারম্যান কেন নেই বাংলাদেশি কার্টুনে!

বাচ্চাবয়সে বেড়ে উঠেছি ব্যাটম্যান, সুপারম্যানের গল্প শুনে। কেন বাংলাদেশে কোন ব্যাটম্যান বা সুপারম্যানের মত সুপারহিউম্যান নেই কার্টুনজগতে? প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম আমরা। তখন অবশ্য উন্মাদের ছোট্ট রুম ভরে উঠেছে দেশসেরা কজন কার্টুনিস্টদের দিয়ে। ঢাকা কমিক্সের মেহেদী ভাই, কার্টুনিস্ট মিতু আপু আর আরাফাত ভাই। প্রশ্নটার উত্তর একেকভাবে পাওয়া গেল! আমেরিকার কোল্ড ওয়ারের পরপরই সুপার হিউম্যানের কনসেপ্ট শুরু হয়! আমাদের পলিটিক্যাল ওরকম কোন অস্থিরতার ব্যাপার ছিল না বলেই সুপারহিউম্যান গড়ে উঠে নি! তবে ব্যাপারটা এমন না যে গড়ে উঠবে না। কাজ চলছে এই বিষয়গুলো নিয়ে। আর সুপারহিউম্যান বললেই যে সে চরিত্র খালি মারপিট করবে, শত্রুপক্ষ ধংস করবে তা কিন্তু নয়! যেমন মিতু আপুর নতুন একটা কার্টুন গড়ে উঠেছে বিজ্ঞানী এক কন্যা কে নিয়ে! মেহেদী ভাইয়ের দাদু-নাদু বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক মজার কনসেপ্ট নিয়ে গড়ে উঠেছে। এভাবেই একদিন বাংলাদেশ পাবে কোন প্রতিষ্ঠিত সুপারহিউম্যান চরিত্র

আহসান হাবীবও বেশ কিছু চরিত্র সৃষ্টি করেছিলেন। মানুষের কাছে তা জনপ্রিয়তাও পেয়েছিল প্রচুর। সেসব চরিত্রের মধ্যে পল্টু-বিল্টু, পটলা-ক্যাবলা, বিজ্ঞানী মন্টু উল্লেখযোগ্য।

দ্য বস!

উন্মাদ অফিসের সব কার্টুনিস্ট আহসান হাবীবকে ডাকেন ‘বস’ বলেবসই বটে একজন! উন্মাদ অফিসের বেতনভুক্ত পিয়ন আছে! কিন্তু সে পিয়ন প্রায় সময়ই থাকে না! উন্মাদে লেখক-কার্টুনিস্টদেরকে কখনই কাজের জন্য জোর করেন না তিনিতারা নিজের মত কাজ করেন এবং অফিসে আসেন। শেষ মুহূর্তে গিয়ে অবশ্য একটু গা ঝাড়া দিতেই হয় বসকে!  

কার্টুন নিয়েই স্বপ্ন যত

ভবিষ্যতে একটি অ্যানিমেশন ফিল্ম বানানোর ইচ্ছা আহসান হাবীবের। মেয়ে এবং ভাগ্নিকে অ্যানিমেশন শেখার জন্য তাড়া দিয়ে যাচ্ছেন। মেয়ে অবশ্য হাল ছেড়ে দিয়েছে।

আরেকটা স্বপ্ন হচ্ছে দেশে একটি কার্টুন মিউজিয়াম করা। যেখানে দেশের সমস্ত কার্টুন আর্কাইভ হিসেবে সংরক্ষিত করা হবে। সব কার্টুনিস্টদের মিলনমেলা হবে এই মিউজিয়াম। সচ্ছল বন্ধুদের তিনি নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছেন এ কাজে সহায়তা করার জন্য। আহসান হাবীবের মতে, “অ্যানিমেশন ছবি যদি ফেইলও যায়, কার্টুন মিউজিয়াম হবেই”।

“ড্যাড অফ বাংলাদেশী কার্টুন” এর কিছু খুঁটিনাটি

ফেসবুকে তিনি বিশেষ অ্যাকটিভ না। অ্যাকটিভ তার স্ত্রী। তার স্ত্রীই যত ছবি পোস্ট করেন। তবে অনলাইন প্লাটফর্মকে তিনি পজিটিভ দিক হিসেবেই দেখেন তরুণদের জন্য। তিনিও বিভিন্ন তরুণ কার্টুনিস্টদের কাজ দেখতে পারেন অনলাইনে। এসব দেখে নতুন করে কাজ করার অনুপ্রেরণা পান। তবে নিজে এখনও ডিজিটাল হননি। কাগজ কলমেই চলছে কার্টুন আঁকা।

কার্টুনিস্ট হিসেবে তাঁকে অনুপ্রাণিত করে মেক্সিকান কার্টুনিস্ট সার্জিও অ্যারাগোনেস। পড়তে ভালবাসেন বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়, শিবরাম চক্রবর্তী, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, খন্দকার আলী আশরাফ, তারাপদ রায় এবং সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখা। মেয়ে বিভিন্ন মুভি ডাউনলোড করে দেয় তাঁকেসেগুলো উপভোগ করেন তিনি। হলে যান না অনেকদিন।


একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রাফিক্স নভেল আর্ট পড়ান। কাছ থেকে তাই এসময়ের তরুণদের তিনি বিশ্লেষণ করেন, “এ সময়ের তরুণদের কোন কিছুর উপর গভীরতা অনেক কম”। তিনি তরুণদের প্রচুর বই পড়ার নির্দেশ দেন, সে অনলাইনেই হোক আর অফলাইনে!

প্রায় ২০ জন তরুণ ফুলটাইম কার্টুনিস্ট হিসেবে এখন আছে বাংলাদেশে। তাই তরুণরা কার্টুনকে প্রফেশন হিসেবে নিতে পারেন।

একসময় ফটোগ্রাফি আর গিটারের নেশা ছিল অনেক। উন্মাদের অফিসে এখন ধুলায় ধূসরিত হয়ে আছে সেই গিটার।

দেড় ঘণ্টা হইচই আর আড্ডার শেষে বেরিয়ে এলাম উন্মাদ অফিস থেকে। ভাবছিলাম, আহসান হাবীবের বিশাল শক্তি তার হাতের পেন্সিলএই একটা পেন্সিল দিয়ে তিনি মানুষকে হাসাতে পারেন, কাঁদাতে পারেন, সমাজব্যবস্থা নিয়ে ব্যঙ্গ করতে পারেন। শুধু একটা পেন্সিল হাতে নিয়ে, দীর্ঘদিন ধরে চুপিচুপি ঘুণে ধরা সমাজে আলোর মশাল জ্বালিয়ে যাচ্ছেন এই পেন্সিলের জাদুকর

নিজস্ব প্রতিনিধি 

More news