AUST’র দুরদানা শুচি এখন ছায়ানটের দুর্দান্ত শুচি!!



“মাত্র দুটি পন্থায় সফল হওয়া যায়। একটি হচ্ছে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা, ঠিক যা তুমি করতে চাও। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া।”

মারিও কুওমো’র উক্তিটি প্রত্যেকটি সফল ব্যক্তির জন্য সত্য। আমরা অনেকেই জীবনের সঠিক লক্ষ্যটিকে খুঁজে পাই না। যখন লক্ষ্যই থাকে না তখন আমাদের কাজগুলো হয় উদ্দেশ্যহীন। উদ্দেশ্যহীন জীবনে ব্যর্থতাই হয়ে ওঠে চরম বাস্তবতা। আমরা স্বপ্ন দেখি। আমরা অনেকেই ভাবি এই স্বপ্নই আমাদের সফলতার পথ দেখাবে। কিন্তু স্বপ্ন আর লক্ষ্য এক নয়। আপনি জীবনে হাজারো স্বপ্ন দেখেন। এই স্বপ্নগুলো আপনার বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা মাত্র। কিন্তু আপনার জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ একটাই- ‘যা বিজয়ের মুকুট হয়ে আপনার মাথায় শোভা পাবে।’

এমন ভারী ভারী বয়ান ঝাড়ছি, কারণ এমনই এক স্বপ্নবাজ ও দুর্দান্ত একজনের গল্প বলতে যাচ্ছি আজ।

আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী নাহিয়ান দুরদানা শুচি। ডানপিটে, দুরন্ত শুচি ক্রিকেটার হবার স্বপ্ন দেখেছিলেনপাড়ার ছেলেদের সাথে ক্রিকেট খেলতে খেলতে তিনি প্রেমে পড়েছিলেন এই খেলার।

 তিনি যখন স্বপ্ন দেখেছিলেন ক্রিকেটার হবার, তখন মহিলা ক্রিকেটার হবে এমন দুঃসাহস কেউ সহসা দেখাত না। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ছেলেদের ক্রিকেটই তখন ধুঁকছিল। তাই শুচি যতই স্বপ্ন দেখুক না কেন একটু বড় হতেই তার পরিবার বাধ সাধল তার স্বপ্নে।

 

শুচির বাবা হোসেন শহীদ সাইফুল্লাহ একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার এবং মা শামীমা ইয়াসমিন লালমাটিয়া গার্লস কলেজের শিক্ষিকা। তারা দু’জনই সঙ্গীতানুরাগী দুজনেরই ইচ্ছে ছিল অনেক বড় শিল্পী হবার। কিন্তু বিভিন্ন টানাপড়েনে তাদের ইচ্ছেটা মাটি চাপা পড়ে যায়। তাই তারা তাদের ইচ্ছেটাকেই শুচিকে দিয়ে পূরণ করতে চেয়েছিলেন।

তারা চেয়েছিলেন তাদের আদরের ছোট্ট শুচি দেশ সেরা গায়িকা হবে। তার মিষ্টি সুরেলা গান শ্রোতাদের মন ভরাবে- এই স্বপ্নে বিভোর ছিলেন তারাতাই সময়ের আবর্তে বাবা-মার চোখে দেখা স্বপ্নটাকে যেন শুচিও নিজের লক্ষ্য হিসেবে ঠিক করেছিলেনসেই লক্ষ্যে কঠোর অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের পর শুচি আজকে সফল।

শুচি ছায়ানটের দশ বছরের সঙ্গীত কোর্সে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছেনকয়েকটি ডাবল প্রমোশন পেয়ে মাত্র ছয় বছরের মধ্যে শুচি প্রথম বিভাগ পেয়ে পাশ করেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি শুচিকে। খুব অল্প বয়সেই শুচি ছায়ানটের মত প্রতিষ্ঠানে নজরুল সঙ্গীত অনুষদের শিক্ষিকা হয়ে যান!!

তার এই দুর্দান্ত অর্জনের জন্য ছায়ানটে এবং বন্ধু মহলে তিনি ‘দুর্দান্ত শুচি’ নামে সমাদৃত গতবার ফেব্রুয়ারি মাসে রবীন্দ্র সরোবরে এক জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে শুচি তার প্রথম নজরুল সঙ্গীতের অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন গল্পে গল্পে নিজের জীবনের সফলতা আর স্বপ্নগুলো নিয়েই আড্ডা চলছিল শুচির সাথে…..

বিডি ইয়ুথ: কেমন আছেন শুচি?

বেশ আছি।

বিডি ইয়ুথ: কিছুদিন আগেই তো আপনার প্রথম গানের অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচিত হলো কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

অনেক স্বপ্ন ছিল এই অ্যালবামটিকে ঘিরে ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখেছি একদিন আমার অ্যালবাম মুক্তি পাবে, আর সবাই মুগ্ধ হয়ে আমার গান শুনবেএমন স্বপ্নপূরণের আনন্দ অন্যরকম মজার বিষয় হলো, যেরকম সাড়া পাব ভেবেছিলাম তার থেকেও বেশি সাড়া পাচ্ছি!! বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে লাইভ শো করছি সবাই ফোন করে শুভ কামনা জানাচ্ছেন গানের জন্য রিকোয়েস্ট করছেন খুব ভাল সাড়া পাচ্ছি শ্রোতাদের কাছ থেকে এজন্য আমি আমার শ্রোতাদের কাছে কৃতজ্ঞ


বিডি ইয়ুথ: বললেন স্বপ্ন দেখেছিলেন- এই স্বপ্ন দেখার শুরুটা কবে থেকে?

আমি কিন্তু গায়িকা হবার স্বপ্ন দেখিনি প্রথমে স্বপ্ন দেখেছিলাম ক্রিকেটার হবো, পাড়ায় মেয়েদের নিয়ে একটা ক্রিকেট ক্লাব খুলব ক্লাবে মেয়েরা আসবে, ছেলেদের মতই তারা ক্রিকেটে এগিয়ে যাবে কিন্তু মেয়েরা কেন যেন পিছিয়ে পড়ত, খেলতে চাইত না বলত ছেলেদের খেলা কী আর করব, খেলার সাথী না পেয়ে পাড়ার ছেলেদের সাথেই ক্রিকেট খেলতাম, সমান তালে খেলতাম!!

মেয়ে বলে প্রথমে টিপ্পনি কাটলেও পরে আমার খেলা দেখে ওরা আমাকে সমীহ করতে থাকে একটু বড় হওয়ার পরেই বুঝলাম আমার পরিবার কিংবা সমাজ কেউই মেয়েদের ক্রিকেট খেলাকে সহজভাবে নিবে না ঠিক তাই হলো

একটু বড় হতেই ঘরে বন্দী করা হলো আমাকে তখন বিকালে বারান্দায় দাঁড়িয়ে খেলা দেখেছি অনেক সময় লুকিয়ে খেলতে যাওয়ার জন্য প্রচুর মার খেয়েছি মায়ের হাতে কিন্তু একসময় বাবা-মায়ের স্বপ্নকেই সম্মান করলাম, লক্ষ্য স্থির করলাম গায়িকা হবার

বিডি ইয়ুথ: ক্রিকেটার থেকে গায়িকা স্বপ্নের নির্মম পরিণতি মানিয়ে নিয়েছেন কিভাবে?

এটাই বাস্তবতা মানাতে হয় বলেই মানিয়েছি তবে নির্মম পরিণতি বলব না এখন মনে হচ্ছে গায়িকা হবার লক্ষ্যটাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত ছিল ক্রিকেটার হওয়াটা তো চারটি খানি কথা না হা হা হা...!!

বিডি ইয়ুথ: আচ্ছা, তাহলে গায়িকা হয়ে ওঠার পেছনের গল্পটা বলুন?

বেশ মজার একটা গল্প আছে। ক্রিকেট খেলা যখন বন্ধ হয়ে গেল তখন নতুন একটা শখ ছিল, পুতুলখেলা। ঘরে বসে বসে পুতুল বিয়ে দিতাম। বাবার কাছে জন্মদিনের উপহার হিসেবে পুতুলের বায়না ধরেছিলামবাবা-মা আমাকে পুতুল কিনতে নিয়ে গেলেন ঠিকই কিন্তু তারা আমাকে পুতুল কিনে না দিয়ে কিনে দিলেন হারমোনিয়াম!

ব্যস, আমার কান্না আর দেখে কে। পরে আমার কান্না থামানোর জন্য বাবা বলেছিলেন, আমি যখন দশম শ্রেণীতে পড়ব তখন আমাকে গানের একটা সিডি করে দিবে যেখানে আমার গান থাকবে আর সবাই আমার গান শুনবে। আমি কান্না থামিয়ে দিলাম, বাবার কথাটি বেশ মনে ধরেছিল।

পুতুল কিনতে গিয়ে হারমোনিয়াম নিয়ে বাসায় ফিরলাম। দশম শ্রেণীতে না হলেও আমার বাবা কথা রেখেছেন। সেই দিন হয়তো তিনি পুতুল না দিয়ে আমার হাতে আমার ভবিষ্যৎটাই তুলে দিয়েছিলেন। এজন্য আমি কৃতজ্ঞ আমার বাবার-মায়ের প্রতি।

বিডি ইয়ুথ: আপনার বাবা-মা দুজনেই চাইতেন আপনি গায়িকা হবেন, এটা সচরাচর দেখা যায় না। আপনাকে নিয়ে বাবা-মায়ের একই রকম স্বপ্ন দেখার কী কোন কারণ ছিল?

একটাই কারণ হতে পারে, আমার বাবা-মা দুজনেই সঙ্গীতানুরাগী। আমার বাবা খুব ভাল তবলা বাজাতে পারেন। মায়ের কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও তিনি খুব সুন্দর হারমোনিয়ামের সাথে গান গাইতে পারেন। তাদের স্বপ্নগুলো কোন কারণে বাস্তবে রূপ নেয়নি।

তাই তারা চেয়েছিলেন তাদের হয়ে আমি স্বপ্নটা পূরণ করি। আর যেহেতু দুই ভাই বোনের মধ্যে আমি সবার ছোট তাই তাদের প্রত্যাশাটাও খুব বেশি আমাকে নিয়ে। তাছাড়া আমার বড় ভাইয়া মেডিকেলে পড়লেও সেও কিন্তু খুব ভাল বেহালা বাজাতে পারেন। বলতে পারেন আমাদের পুরো পরিবারটাই সঙ্গীতমনস্ক

বিডি ইয়ুথ: সঙ্গীতের হাতেখড়ি কিভাবে হলো?

শ্রদ্ধেয় ‘আখতার সাদমানী ওস্তাদজী’র কাছেই আমার সঙ্গীতে হাতেখড়ি। এরপরে নজরুল সঙ্গীতের গুরু শ্রদ্ধেয় খালিদ হোসেন স্যার, খায়রুল আনাম শাকিল স্যার এবং ইয়াকুব আলী খান স্যারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারা না থাকলে আজকে আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারতাম না।

বিডি ইয়ুথ: আপনি খুব অল্প বয়সেই ছায়ানটের মত বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে নজরুল অনুষদের শিক্ষিকা। কিভাবে, এর পিছনের রহস্যটি বলুনতো...?

রহস্য না, আসলে শ্রদ্ধেয় আখতার সাদমানী ওস্তাদজির কাছে সঙ্গীতের হাতেখড়ি আগেই হয়েছিল। আমি যখন ছায়ানটে ভর্তি হলাম তখন দেখা গেল আমি খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পেরেছি। তাছাড়া গানের গলা মিষ্টি বলে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি।

কয়েকটি ডাবল প্রমোশনে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রথম বিভাগ পেয়ে পাশ করি। এরপর শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় স্রষ্টার অসীম কৃপায় বেশ ভাল ভাবেই উত্তীর্ণ হই। এজন্য আমি আমার সৃষ্টিকর্তার কাছে খুবই কৃতজ্ঞ। উনি সম্মানিত না করলে হয়ত আমি এই পর্যন্ত আসতাম না।

বিডি ইয়ুথ: শুনেছি ছায়ানটে কিংবা বন্ধুমহলে আপনি ‘দুর্দান্ত শুচি’ নামে বেশ সমাদৃত?

হা হা হা.....কথাটা সত্যি। আমার নামের সাথে মিলিয়ে তারা আমাকে এমন নামে ডাকে। ‘দুরদানা শুচিকে’ কে ‘দুর্দান্ত শুচি’ বলে। তারা বলে আমার নাম দুরদানা না হয়ে দুর্দান্ত হওয়া উচিৎ ছিল।


বিডি ইয়ুথ: আসলেই দুর্দান্ত নামটি আপনার সাথে যায়। এবার আপনার অ্যালবামটি নিয়ে কিছু বলুন?

অ্যালবামটির নাম ‘তুমি আমি দু’জন প্রিয়’ কাজী নজরুলের ‘তুমি আমি দু’জন প্রিয়’ গানটির নামকরণে করা হয়েছেঅ্যালবামটি মূলত দ্বৈত। আমার সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন প্রখ্যাত নজরুল সঙ্গীত শিল্পী এবং ছায়ানটের নজরুল অনুষদের শিক্ষক তানভীর আহমেদ।

সঙ্গীত আয়োজনে ছিলেন শ্রদ্ধেয় সুজেয় শ্যাম কাকা। উনার সুন্দর ও পরিমিত সঙ্গীত পরিচালনা ভিন্ন একটা মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিটা গানেই ছিল তার সমান যত্ন। তাছাড়া তবলায় পল্লব স্যানাল, বাঁশীতে গাজী আব্দুল হাকিম, সেতারে ফিরোজ খান, বেহালায় আলমাস আলী, এস্রাজে অসিত বিশ্বাস, কি-বোর্ডে দৌলাতুর রহমান প্রমুখ অসাধারণ বাজিয়েছেন।

অ্যালবামটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিল জি-সিরিজ ও অগ্নিবীণা। অ্যালবামটিতে দশটি গানের মধ্যে চারটি আমার গাওয়া, চারটি তানভীর আহমেদের গাওয়া আর বাকি দু’টি গান আমাদের দ্বৈত।

বিডি ইয়ুথ: অ্যালবামটি ইতিমধ্যেই বেশ শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। শ্রোতাপ্রিয়তা পাবার জন্য কোন দিকগুলো বিশেষভাবে প্রভাব ফেলেছে বলে আপনার মনে হয়?

আগেই বলেছি, শ্রদ্ধাভাজন সুজেয় শ্যাম কাকার সুন্দর ও পরিমিত সঙ্গীতায়োজন ছিল এই অ্যালবামটির সবচেয়ে ভাল দিক। তাছাড়া আমি এবং আমার সহযোগী তানভীর আহমেদ, আমরা দুজনই আপ্রাণ চেষ্টা করেছি স্বরলিপি অনুসরণ করে সঠিক সুরে গান গাওয়ার। প্রতিটা গানই আমরা অনেক সময় নিয়ে যত্ন নিয়ে গেয়েছি। এসব মিলিয়েই অ্যালবামটি শ্রোতাপ্রিয়তা পাচ্ছে বলে আমার ধারণা

বিডি ইয়ুথ: রেকর্ডিংয়ের সময় অনেক মজার ঘটনা ঘটে থাকে। আপনার ক্ষেত্রেও কী এমন কোন ঘটনা ঘটেছে?

হ্যাঁ, আসলেই রেকর্ডিং একটা অদ্ভুত ব্যাপার!! অনেক ঘটনাই তখন ঘটে থাকে যা সময়ে অসময়ে আপনাকে হাসাবে। আমার সাথেও এরকম অনেক মজার ঘটনা ঘটেছে। প্রথম রেকর্ডিং এর কথাই ধরুনআমি খুব নার্ভাস ছিলাম সেইদিন। তার আগের দিন আমার ঘুম হলো না। বারবার প্র্যাকটিস করেছি। কিন্তু যখন রেকর্ডিং করতে গেলাম তখন আমার সুর, লয় সব যাচ্ছেতাই ভাবে ছুটে যাচ্ছিল! আমি কিছুতেই ধরতে পারছিলাম না।

শ্রদ্ধেয় সুজেয় শ্যাম কাকা অনেক ধৈর্যশীল ছিলেন। অনেকবার টেক নেয়া হলোকিন্তু আমার গলা খুব বাজে ভাবে কাঁপছিল। কি করব বুঝতে পারছিলাম না। অবশেষে আল্লাহর অসীম কৃপায় আমি সেইদিন গাইতে পেরেছিলাম এবং বেশ ভাল হয়েছিল গানটি। এছাড়াও সুজেয় শ্যাম কাকা আর আমার সহশিল্পী তানভীর আহমেদ আমাকে সবসময় অনুপ্রেরণা দিয়েছেন ভালভাবে গান গাইবার জন্য। আমি ভাগ্যবান তাদের মত ভাল দু’জন মানুষকে সহযোগী হিসেবে পেয়ে।


বিডি ইয়ুথ: অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচনের দিনটি নিয়ে কিছু বলুন।

খুব স্পেশাল দিন ছিল আমার জন্য। স্বপ্ন সিঁড়ির প্রথম ধাপে পা রাখতে পেরেছি, বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ১২ই ফেব্রুয়ারি সারা জীবন মনে থাকবে আমার। এই দিন উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইনস্টিটিউট এর নির্বাহী পরিচালক ইকরাম আহমেদ, সঙ্গীতগুরু আজাদ রহমান, শ্রদ্ধেয় খায়রুল আনাম শাকিল, জি-সিরিজের কর্ণধার নাজমুল হক ভূইঞা, মৎস অধিদপ্তর পরিচালক জেনারেল আরিফ আজাদ প্রমুখ।

তাছাড়া আমার ছায়ানটের শিক্ষক/শিক্ষিকারাও উপস্থিত ছিলেন এইদিন। এত গুণী মানুষদের ভিড়ে আমার নিজের গাওয়া গানের অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে, এ কথা ভাবতেই শিহরিত হই আমি। নিঃসন্দেহে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন ছিল এটি।

বিডি ইয়ুথ: স্বপ্ন সিঁড়ির প্রথম ধাপটি তো খুব সুন্দর ভাবেই অতিক্রম করলেন। এখন মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে আপনার পরিকল্পনা কী?

আসলে আমি বিশ্বাস করি অধ্যবসায় ছাড়া কোন লক্ষ্যই স্পর্শ করা যায় না। আমি গানের চর্চা চালিয়ে যেতে চাই। গানের স্বরলিপি, সুর, তাল, লয় সব কিছুতেই আরো জোর দিতে চাই। আমি জানি কোথায় আমার আরো বেশি কাজ করতে হবে। আমার এখন পরিকল্পনা হচ্ছে নিজের ভুলগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শুধরে নেয়া। আর যেহেতু আমি নজরুল সঙ্গীতশিল্পী আমি চাইব নজরুল সঙ্গীতের প্রতি মানুষের ভালবাসা বাড়ুক।

আসলে আমরা নজরুলের কিছু সংখ্যক গান শুনেছি মাত্র। কিন্তু অনেকেই জানেন না নজরুলের বিভিন্ন রাগের উপর প্রায় আড়াই হাজারের উপর গান রয়েছে। আমার লক্ষ্য সেই গান গুলোর সাথে শ্রোতাদের পরিচিতি ঘটুকইতিমধ্যেই আমি আমার অ্যালবামটিতে অনেক গান তুলে আনার চেষ্টা করেছি যেগুলো হয়ত শ্রোতারা আগে শুনেনি। আর এটাই “তুমি আমি দু’জন প্রিয়’ অ্যালবামটির মূল সার্থকতা।

বিডি ইয়ুথ: যারা নতুন শিল্পী তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

নতুনদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে তারা যেন ভালবেসে গানটা করে। শুদ্ধ উচ্চারণ ও স্বরলিপি মেনে যেন গান করে। অধ্যবসায় ছাড়া সব লক্ষ্যই অধরা থেকে যাবে। তাই আমি বলব নিয়মিত রেওয়াজ করতে হবে। সঙ্গীতগুরুদের সম্মান করতে হবে। তাদের কথা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে। শ্রুতিমধুর গানের বিকল্প নেই।তাই চর্চার মাধ্যমে কন্ঠকে তৈরী করতে হবে।

যান্ত্রিকতা নির্ভর সঙ্গীত চর্চা ছাড়তে হবে। নিজেদের প্রতিশ্রুতিশীল হতে হবে। নিজের সংস্কৃতি ভুললে হবে না। ভাল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই পারে আপনার লক্ষ্য অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে। আর অসাধারণ গায়েন হয়ে ওঠার পেছনে সাধনাই একমাত্র চাবিকাঠি হতে পারে বলে আমি মনে করি।

বিডি ইয়ুথ: আপনার ২য় অ্যালবামের কাজ কি খুব শীঘ্রই শুরু হচ্ছে?

বুঝতেই পারছেন ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ বর্ষে আছি। পড়ালেখার চাপটাও বেড়েছেএখন আমি ক্লাসিক্যাল শিখছি, সাথে সাথে নজরুল সঙ্গীত চর্চাটাও চালিয়ে যেতে চাই। ভাল রেজাল্ট করে বের হওয়ার পর ২য় অ্যালবামটি নিয়ে ভাববতবে মাঝে মাঝে টিভিতে লাইভ প্রোগ্রামের জন্য যেতে হচ্ছে। এতে শ্রোতাদের কাছ থেকে হারিয়ে যাবো না বলে আমার বিশ্বাস।

বিডি ইয়ুথ: অসংখ্য ধন্যবাদ শুচি। এত ব্যস্ততার মাঝেও আপনার সাফল্যের পিছনের গল্পগুলো আমাদের বলার জন্য।

আপনাকেও ধন্যবাদদোয়া করবেন আমার জন্য। আর বিডি ইয়ুথের সকল পাঠকদের জন্য রইলো আমার শুভেচ্ছা।

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি


More news