ঝুমু খান’স কর্নার: ব্রণ থেকে বাঁচতে



বাংলাদেশের লেজার ট্রিটমেন্টের পথিকৃৎ এবং Dr Jhumu Khan’s Laser Medical এর কর্ণধার ডঃ ঝুমু খানলিখেছেন মুখের ব্রণের সমস্যা এবং তার চিকিৎসা নিয়ে।  

ঘটনা ১: তমা আজকাল কারোর সামনেই খুব একটা যায় না। বন্ধুরা কোথাও বেড়াতে যেতে বললেও না করে দেয়। দিন দিন তার আত্মবিশ্বাস কমে যাচ্ছেকারণ গত তিন বছর ধরে ব্রণ সমস্যায় ভুগছে তমা। গায়ের রং একটু শ্যামলা হওয়াতে সে সবসময়ই বাজারের বিভিন্ন রং ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার করতো। সেখান থেকেই ওর এই ব্রণ সমস্যার শুরু। আর এখন এই ব্রণ কমাতে কত কিছুই না চেষ্টা করছে সে!  

ঘটনা ২: বয়স পঁয়তাল্লিশ পার করে ফেলেছেন রিফাত সাহেব। আড্ডায় বন্ধুরা মজা করে প্রায়ই বলে উঠে, ‘তোর তো টিনএজ লাইফ শুরু হলো মাত্র’! কিন্তু রিফাত সাহেব ঠিক বুঝেই উঠতে পারছেন না, কি জন্য এই বয়সেও তার ব্রণ উঠছে। টরেন্টোর মত পরিষ্কার শহরে প্রায়ই থাকছেন। সময়মত খাচ্ছেন, ঘুমাচ্ছেনতারপরও ব্রণ কিভাবে আসে!

গায়ের রং নিয়ে অস্বস্তির কোন কারণই নেই  

আমাদের সমাজে প্রায়ই দেখি মেয়েদের গায়ের রং শ্যামলা কিংবা কালো হলে ফর্সা হবার প্রবণতা দেখা যায়। তাই অনেকেই ব্যবহার করে বাজারের সস্তা ক্রিম অথবা মেকআপ। এটা করতে গিয়েই অনেকেই ত্বকের বারোটা বাজিয়ে ফেলেআর ভালো ট্রিটমেন্ট না করতে পারলে ভুগতে হয় দীর্ঘদিন।

গায়ের রং নিয়ে মেয়েদের মনের যে অস্বস্তি তা দূর করার ক্ষেত্রে পরিবার প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারেমেয়ের গায়ের রং যেমনই হোক না কেন তাকে বোঝানো দরকার গায়ের রং না প্রতিভাই মুখ্য। পরিবার থেকে এই সাপোর্টটা যদি আসে, তাহলে অনেক মেয়ের ক্ষেত্রেই ফর্সা হওয়ার ঐ গোপন শখটা কেটে যাবে।

বয়ঃসন্ধিকালের ব্রণ প্রাকৃতিকভাবেই সেরে যায়   


ব্রণ সমস্যার সাথে স্বাস্থ্য সমস্যা বেশ সম্পর্কযুক্ত। সাধারণত তরুণ তরুণীরাই বেশি ব্রণের সমস্যায় ভুগেবয়ঃসন্ধিকালে ব্রণ বেশি হয়ে থাকে এবং এটা প্রাকৃতিক ভাবেই সেরে যায়কিন্তু আজকাল বয়স বেড়ে যাচ্ছে অথচ ব্রণ কমছে না। এমনটাও দেখা যাচ্ছে অনেক।

ব্রণের কারণ

ঘন গ্রন্থিগুলোর গঠনগত জটিলতা থাকলে সাধারণত ব্রণ হয়ে থাকে। বেশি তৈলাক্ত ত্বক হলে এই গ্রন্থিগুলো সাধারণত আক্রান্ত হয়ে থাকে। 

মূলত দেহের হরমোনের অসামঞ্জস্যতার কারণে ব্রণ হয়যার কারণে বেশি বয়সেও মানুষ ব্রণে ভুগে।

 তাছাড়া এর আরেকটি অন্যতম কারন হচ্ছে খাবারের রিঅ্যাকশন। আমাদের যেসব খাবারে অ্যালার্জি আছে, সেসব খাবার একদমই খাদ্য তালিকায় রাখা ঠিক না।

ব্রণ যাতে না হয় সেজন্য করণীয়

বাজারের সস্তা প্রসাধনী ব্যবহারের অভ্যাস আপনার ত্বককে ব্রণসহ আরও অনেক দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় ফেলে দিতে পারে। মার্কারিযুক্ত এধরনের রং ফর্সাকারী ক্রিম থেকে বিরত থাকা সবসময় জরুরী।ধুলোবালিতে যাওয়া একদমই ঠিক না। সবসময়ই নিজেকে পরিষ্কার রাখা উচিত। তাড়াতাড়ি ঘুমানো এবং তাড়াতাড়ি উঠার অভ্যাসও এক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রণ উঠে গেলে

ব্রণ একবার ত্বকে উঠে গেলে শুরুতেই দুটি কাজ করা দরকার। সেটা হচ্ছে ভালো চিকিৎসা নেওয়া এবং অপরটি হচ্ছে প্রতিকার করা। যাতে করে ব্রণ আর না হতে পারে। চিকিৎসায় স্কিন অ্যানালাইসিস করে জানা যায় পারিপার্শ্বিক ড্যামেজ কত বেশি, এইজিং কত বেশি, পোরের (লোমগ্রন্থি) কন্ডিশন কেমন, সেবাম প্রডাকশন (সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত তৈলাক্ত রস) কেমন এগুলো সহ আরও নানা বিষয়। আর এটা দেখেই ট্রিটমেন্ট করানো ভালো।

দাগ এবং গর্ত দূর করতে

ব্রণের সাথে সাথে শুরু হয় দাগ আর গর্তের সমস্যাওআর এ জন্য দরকার হয়ে পরে লেজার ট্রিটমেন্ট। তবে দাগ আর গর্ত যত বেশি নতুন থাকবে তত ভালো ট্রিটমেন্ট এর সুযোগ থাকে।  

খরচও তেমন একটা না। মাত্র তিন হাজার টাকা খরচ পড়ে স্কিন চেকআপের জন্য। এরপরে প্রতিটি সেশনের জন্য পাঁচ হাজার টাকা। সাধারণত দুই থেকে তিনটি সেশনের দরকার হয়। আর মেডিসিনের দামও সাধ্যের মধ্যে

 

More news