ত্বকের সুরক্ষায় প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার



ত্বক সুন্দর, কোমল ও মোলায়েম রাখতে প্রায় সবাই বিশ্বের নামিদামি নানা ব্র্যান্ডের ময়েশ্চারাইজার ক্রিম ব্যবহার করে থাকেনএতে ত্বকের সুরক্ষা পাওয়া যায় ঠিকই, তবে রয়েছে নানারকম কেমিক্যালের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়!

অথচ আমাদের অতি পরিচিত কিছু ফলমূলে রয়েছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার উপাদান। যাতে ভয়ের কোন কারণ নেই। বরং ত্বকের স্থায়ী সুরক্ষা দিতে উৎকৃষ্ট এই প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। বিভিন্ন ত্বকের প্রয়োজনীয়তায় দরকার বিভিন্ন ধরনের ময়েশ্চারাইজারতাই ত্বকের ভিন্নতায় ব্যবহৃত হয় ভিন্ন ভিন্ন ময়েশ্চারাইজার।

তৈলাক্ত ত্বক 

যদি আপনার ত্বক অনেক তৈলাক্ত হয় তবে ত্বকের সুরক্ষায় প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হওয়া চাই আপনার প্রথম পছন্দ। তৈলাক্ত ত্বকের সবচাইতে প্রয়োজনীয় ময়েশ্চারাইজার পাওয়া যায় আমাদের অতি পরিচিত পাকা কলাতে। 

পাকা কলা

পাকা কলাতে রয়েছে ভিটামিন এ। যা নির্জীব ও প্রাণহীন ত্বককে সুন্দর ও কোমল করে। পাকা কলার পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। প্রায় ২০ মিনিট পর হাল্কা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুনদেখবেন আপনার ত্বক আগের থেকে অনেক নরম ও মোলায়েম হয়েছে। সেই সাথে আগের থেকে অনেক উজ্জ্বলও দেখাচ্ছেকারণ পাকা কলাতে থাকা ভিটামিন সি ত্বক উজ্জ্বল করে।

নরমাল ত্বক 

যাদের ত্বক খুব তৈলাক্ত বা রুক্ষ নয়, তাদের নরমাল ত্বকের সুরক্ষায় কার্যকরী প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হলো আঙ্গুর এবং শসা।

আঙ্গুর

আঙ্গুরে থাকা ভিটামিন ই ত্বককে কোমল করার পাশাপাশি মৃত কোষকে সজীব করে। একমুঠো আঙ্গুরের রস বের করে তুলো দিয়ে মুখে লাগান। বেশ কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এবার নিজেই দেখুন আপনার ত্বকের পরিবর্তন। ভাল ফলাফল পেতে সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন ব্যবহার করুনআঙ্গুরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রাকৃতিক সানস্ক্রিনের কাজ করে। তাতে রোদের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচে ত্বক।

শসা

শসাতে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি ত্বককে মোলায়েম করার পাশাপাশি উজ্জ্বলও করে। তাছাড়া, শসার রস চোখের নিচের কালো এবং চোখের ফোলা ভাব দূর করে। শসার রস তুলো দিয়ে ত্বকে লাগান।

শুষ্ক ত্বক

রুক্ষ ও শুষ্ক ত্বকের ময়েশ্চারাইজিং করতে নারিকেল তেল ও পাকা পেঁপে হল উত্তম উপাদান।

নারিকেল তেল

নারিকেল তেল যে শুধু প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার তা নয়। এটা প্রাকৃতিক মেকাপ রিমুভার এবং বডি স্ক্রাবেরও কাজ করে। নারিকেল তেল লোমকূপে ঢুকে ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করে ত্বককে আরও সুন্দর করে। নারিকেল তেলে তুলো ভিজিয়ে ত্বকে ব্যবহার করুন।

পাকা পেঁপে

পেঁপে ত্বকে পানি ধরে রাখে এবং মৃত কোষগুলকে দূর করে ত্বককে আরও নমনীয় এবং উজ্জ্বল করে। পাকা পেঁপের পেস্টের সাথে হাল্কা মধু মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর হাল্কা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন ত্বকের রুক্ষতা চলে গেছে। পেঁপেতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি রুক্ষ ত্বককে সুরক্ষা দিয়ে আরও বেশি কোমল, নমনীয় এবং উজ্জ্বল করে তোলে।  

টাইমস অব ইন্ডিয়া ডট কম অবলম্বনে।  


More news