ডিম খেলে কি সত্যিই আণ্ডা পাবেন?



ছোটবেলায় পরীক্ষার আগে ডিম খাওয়া মানা ছিল! দূরে কোথাও যাওয়ার আগে ডিম খাওয়া ছিল পুরো নিষিদ্ধ! কারণ হিসেবে দেখানো হত, ডিমের আকৃতি গোল। তাই ডিম খেলে পরীক্ষায় ওরকম গোল ডিজিট পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়! মানে ডিম খেয়ে পরীক্ষায় বসলেন তো গোল্লা পেলেন! কিন্তু ডিম না খেয়েও পরীক্ষার গোল্লার পরিমাণ কমানো যাচ্ছিল না তখনই বোঝা গেল ‘ডিমের গোল’ আর ‘পরীক্ষার জিরো’ এক জিনিস নয়!

‘ডিম খেয়ে পরীক্ষায় আণ্ডা পাওয়া’ পুরানো একটি কুসংস্কার! মজার ব্যাপার, এরকম বিভিন্ন ধরনের খাবার নিয়ে আরও বহু ধরনের কুসংস্কারের চল আছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। বহু শিক্ষিত লোকও সংস্কারের জের ধরে এই ধারণাগুলো মেনে নেয়। চলুন, খাবার নিয়ে এমনই কয়েকটি কুসংস্কারের গল্প জেনে আসি!

পোড়া রুটি এবং পাউরুটি

নতুন বউয়ের বানানো প্রথম রুটি যদি পুড়ে যায়, তাহলে বলা হয় ঐ বউ পোড়া কপালের। প্যাকেট থেকে এক টুকরো পাউরুটি নেওয়ার সময় পাউরুটিতে বড় গর্ত হলে ভাবা হয় খুব শীঘ্রই কেউ মারা যাচ্ছে। আরও বলা হয়, পাউরুটির কিনার না ছড়িয়ে গরম করলে প্রেতাত্মা আশেপাশে ঘুরাঘুরি করে।

কফির ফেনায় টাকা

যদি তোমার কফিতে বাবল বা ফেনা উঠে তাহলে নিশ্চিন্ত মনে তুমি সেটা চামচ দিয়ে তুলে খেয়ে ফেল! কারণ এতে নাকি অনেক টাকা আসে। অনেকে এ কথা বিশ্বাসও করে।

কমলালেবু উপহারে ভালোবাসা

কাউকে ভাল লেগেছে কিন্তু মুখে বলতে পারছেন না। যান, তার হাতে গিয়ে একটা কমলালেবু গুঁজে দিন। তিনি আপনার প্রেমে পড়তে বাধ্য। অবশ্য অনেকে বার কয়েক চেষ্টা করেও এর সত্যতা প্রমাণ করতে পারেনি!

কাঁচা মরিচে বন্ধুত্ব নষ্ট!

অনেকেই ভাবেন, বন্ধুর হাতে কাঁচামরিচ তুলে দিলে বন্ধুত্ব নষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে। খাবার সময়ে বন্ধুকে মরিচ দিতে হলে তা প্লেটের উপরে রাখতে হবে। সরাসরি হাতে দিলেই সমস্যা!

আপেলের বিচি গুণতে মানা!

আগের দিনে মানুষেরা মনে করত আপেল কাটার পরে বিচি গুণলে বিচির সংখ্যা অনুযায়ী বাচ্চা জন্ম নেয়। তাছাড়া জিউস নববর্ষে লোকেরা এক বোতল ভরা মধুর মধ্যে আপেল চুবিয়ে রাখে। কারণ তারা বিশ্বাস করে এতে তাদের নতুন বছর মিষ্টি যাবে।

পেঁয়াজ তাড়ায় প্রেতাত্মা

একটি ছোট্ট পেঁয়াজে অনেকগুলো পিন আটকে দিয়ে সেটাকে জানালার কাছে আটকে দিলে ঘর থেকে সব খারাপ আত্মারা দূর হয়ে যায়।

কলার ছলাকলা

আগেকার দিনে জেলেরা নৌকায় কলা রাখতে দিত না। কারণ কলা বহনকারী নৌকা থেকে কোন মাছ ধরা যায় না। কলা নিয়ে আরেকটি কুসংস্কার হচ্ছে কলা কখনও ছুরি দিয়ে কাটতে হয় না। ভাগ করতে চাইলে ভেঙ্গে নিয়ে দু টুকরো করে নিতে হবে।

রসুনে খারাপ বাতাস দূর হয়


আমাদের গ্রাম বাংলায় এখনও রাত করে কেউ একা এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি গেলে তার হাতে বা আঁচলের পিছনে রসুন বেঁধে দেওয়া হয়। ধরা হয়, এই রসুন থাকলে খারাপ বাতাস গায়ে লাগবে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রসুনকে ধরা হয় শয়তানের জন্য অভিশাপ স্বরূপ।

চায়ে আগে চিনি পরে দুধ!

চা নিয়ে জনপ্রিয় একটি কুসংস্কার আছে। চায়ে চিনির আগে যে ব্যক্তি দুধ মেশায় তার বিয়ে হয় না!

জন্মদিনের কেক কাটার আগে মোমবাতি ফুঁ দেওয়াও কুসংস্কার!!

হ্যাঁ! ঠিক তাই! প্রাচীন গ্রিসে চাঁদের দেবী আরমেটিসের জন্মদিন প্রথম উদযাপন করা হয়েছিল কেক দিয়ে। চাঁদের আকৃতির কেক বানিয়ে তার উপর মোমবাতি দেওয়া হয়েছিল। তারা ভেবেছিল এতে দেবীর আশেপাশে সমস্ত অশুভ আত্মার নাশ হবে। আজকের যুগে এটা উৎসবে পরিণত হলেও অনেকেই বিশ্বাস করে, কেক কাটার আগে জ্বালানো মোমবাতি নিভিয়ে কোন ইচ্ছা প্রকাশ করা হলে সেই ইচ্ছা পূর্ণ হয়।

কুসংস্কারের কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। মানুষের মুখের কথায় এবং অহেতুক বিশ্বাস থেকে জন্ম নেয় কুসংস্কারগুলো। তবুও মানুষের কঠিন বিশ্বাসের জোরে এখনও টিকে আছে সেগুলো। জানার জন্য মজার হলেও, কট্টর বিশ্বাসের কারণে অনেক সময় কুসংস্কারগুলো দুর্ঘটনার কারণও হয়ে উঠতে পারে! তাই জেনে বুঝে এসব থেকে দূরে থাকাই ভালো!  

বনঅ্যাপেটি ডটকম অবলম্বনে      


More news