ব্রেকআপ: It’s time to move on



আট বছর সম্পর্ক থাকার পর বিভিন্ন কারণে ভেঙে গেল জয়িতা আর অয়নের সম্পর্ক। সম্পর্ক ভাঙার পর মায়ের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করে ফেলল জয়িতা। অয়ন ধীরে ধীরে ডুবে যেতে লাগল মাদকের অন্ধকারে।

২ বছরের মাথায় প্রীতি আর অসীমের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেল। অনেক কিছুই ম্যাচ হচ্ছিল না বলে সরে আসল প্রীতি। অসীম রীতিমত তাদের সম্পর্কের সময়ে তোলা বিভিন্ন ছবি, লেখা চিঠি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে লাগল প্রীতিকে। প্রীতির পরিবারও প্রীতিকে ভুল বুঝল। একটা সময় সে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়!

প্রেম কিংবা সম্পর্ক! বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনের মধ্যে এক আশ্চর্য পরিবর্তন ঘটতে থাকে। মানুষ তার একাকী জীবনে এমন একজন সঙ্গীকে খুঁজে নেয় যার সাথে সে শেয়ার করতে পারে জীবনের সমস্ত সুখ-দুঃখ। শারীরিক আর মানসিক এক অদ্ভুত আবেগের মেলবন্ধন ঘটে ঐ সঙ্গীর প্রতি। মানুষ তাই প্রেমে পড়ে। সম্পর্কে জড়ায়।

কিন্তু সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে থাকে মন। পারিপার্শ্বিক জীবন, পরিবারের চাওয়া-পাওয়ারও পরিবর্তন ঘটে। সব দিক সামলাতে গিয়ে অনেক সময় দুজনকে সরে যেতে হয় দুজনের জীবন থেকে। মনের অমিলের কারণে আলাদা হয়ে যায় দুজনের পথ। ব্রেকআপ বা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক গড়ার মতই ভীষণ সত্য। চেষ্টা করুন একে খুব সহজে মেনে নিতে।

একটা সম্পর্ক ভেঙে গেলে সেটা মেনে নেওয়া অনেকের পক্ষেই খুব সহজ হয়না! কিন্তু সম্পর্ক ভেঙে যাবার পর সঙ্গীর প্রতি প্রতিশোধ নেওয়া, নিজেকে কষ্ট দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? তার চাইতে চলুন নতুন জীবনের সঙ্গে নতুন করে মোলাকাত করি।

নিজেকে জোর করে সুখী প্রমাণের চেষ্টা একদম করবেন না

বরং কষ্ট পেলে জোরে জোরে চিৎকার করে কাঁদুন। বালিশ ভিজিয়ে ফেলুন কাঁদতে কাঁদতে। সেসব বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন কথাগুলো যারা শুনতে চায় আপনার কথা। আপনাকে সান্ত্বনা দিতে চায়। ব্রেকআপের পর আপনার জীবনে কোন বদল ঘটেনি এই লোক দেখানো আচরণ করাটা ভুল।

হতে পারে খুব বেশি রেগে যাচ্ছেন, অল্পতেই ইমোশনাল হয়ে যাচ্ছেন! কিন্তু সৎভাবে নিজেকে প্রকাশ করুন। তবে অফিস বা ক্লাস বাদ দিয়ে বাসায় বসে থাকাটা বোকামি হবে। বরং নিজেকে কিছুক্ষণ একাকী সময় দিন নতুন করে রিফ্রেশ হবার জন্য।

“আমরা বন্ধু থাকি” মতবাদ থেকে সরে আসুন

যার সঙ্গে সব সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে, নতুন করে ‘চল, বন্ধু থাকি’ মতবাদ থেকে সরে আসুন। হ্যা মানছি, সম্পর্কের অনেকগুলো শেড থাকে। প্রেম চলে গিয়েছে তো কি হয়েছে বন্ধুত্ব থাকুক! কিন্তু বিশ্বাস করুন ,এতে আপনার এবং তার দুজনেরই ক্ষতি।

পুরানো স্মৃতি এর ফলে খুব বেশি করে তাড়া করবে। হয়ত দেখা যাবে আপনি নিজেই সেগুলো ভুলতে পারছেন না। তাই দূরত্ব বজিয়ে রাখুন। কন্টাক্ট পুরোপুরি বন্ধ করে দিন। খোঁজ খবর একদমই নেবেন না। নিজের ভালর জন্যই তা করতে হবে।

সময় নিন নতুন সম্পর্ক গড়ার আগে

একটা সম্পর্ক ভেঙে যাবার পর প্রচণ্ড মিস করা হয় পুরনো সঙ্গীকে। তার সঙ্গে কথা বলা, ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি। এই জন্য শুন্যতা দূর করতে খুব তাড়াতাড়ি অনেকে নতুন রিলেশনে জড়িয়ে পড়ে। এটা ভয়াবহ খারাপ। মনে রাখবেন কেউ কারও রিপ্লেসমেন্ট হবে না।

যে চলে গেছে তার সাথে সম্পর্কের যে রেশ বা আবেগ একই রকমভাবে কারও সঙ্গে পাবেন না। তাই দ্রুত সম্পর্ক জড়ালে ভুল লোকের সঙ্গেই দেখা হয়ে যেতে পারে আবারও। পুরনো ব্যক্তির প্রতি আবেগ থেকে অন্য কারও জীবন ব্যবহার করাটা নৈতিক কাজও না। তাই সময় দিন নিজেকে।

প্রতিশোধ? কখনও না!

‘ভালো’ যাকে বেসেছিলেন, আর যাই হোক তাকে ‘খারাপ’ বাসা যায়না। বড়জোর ঘৃণা করতে পারেন। কিন্তু সেই ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ বা নিজের জেদ প্রদর্শন করতে কখনও প্রতিশোধ নিতে যাবেন না। এই প্রতিশোধ শুধু তিক্ততাই বাড়াবে।

তাছাড়া প্রতিশোধ নিতে গিয়ে জঘন্য কিছু করলে আইন আপনাকে নিশ্চয়ই ছাড়বে না। নিজের এই দামি শক্তিটাকে কেন বাজে কাজে ব্যয় করবেন। তাদের সঙ্গে জীবনকে মেলে ধরুন যারা আপনার অন্তর্নিহিত ক্ষমতাকে খুঁজে পেয়েছে।

একদম যোগাযোগ করবেন না, নিজেকে খুঁজে পেতে চেষ্টা করুন

কোন ফরম্যাট থেকেই যোগাযোগ করবেন না প্রাক্তনের সঙ্গে। কি ফেসবুক, কি Whatsapp, মোবাইল ফোন, স্কাইপি, ভাইবার সবকিছু থেকে পুরনোকে মুছে ফেলুন। খুব ভালো হয় তার সঙ্গে থাকাকালীন চ্যাট এবং মেসেজের হিস্ট্রি মুছে ফেলুন।

নিজেকে সময় দিন বেশি। নিজেকে ভালোবাসুন। কি করতে ভাললাগে খুঁজে দেখুন! লম্বা কোন ট্যুরে যেতে পারেন। বন্ধুদের সঙ্গে বেশি বেশি সময় কাটান। তবে বাজে নেশার সঙ্গে একদম জড়াবেন না। নিজেকে কষ্ট দিয়ে কোনই লাভ নেই।

দ্রুত পরিবর্তন আনা নয় 

বড় চুল ধাম করে কেটে ফেললেন! ট্যাটু লাগালেন। এসব হঠাৎ পরিবর্তন আপনার জীবনকে আরও হতাশায় ফেলে দিবে। হতাশা থেকে এই পরিবর্তন করলে সারাক্ষণ হতাশার কথা মনে পড়ে যাবে। তার চাইতে দ্রুত লুকে পরিবর্তন আনার চেয়ে যেভাবে ছিলেন সেভাবেই থাকুন। অযথা দাড়ি গোঁফ গজিয়ে সিম্প্যাথি পাওয়ার আশা থেকে দূরে থাকুন।

হাল ছেড়ে দিবেন না!

‘কি হবে এই জীবনে সে ছাড়া’ এসব ড্রামাটিক ফ্যান্টাসি থেকে সরে আসুন। কাউকে ছাড়াই জীবন খুব সুন্দরভাবে কেটে যায়। কেউ চলে গেলে শুধু একটা শূন্যস্থান সৃষ্টি হয়। এই শুন্যস্থান যেন আপনার গোটা জীবনকে শুন্য না করে দেয় সেজন্য হাল ছেড়ে দিবেন না।

বহুদিন না করা কাজগুলোকে নিয়ে বসুন। না দেখা, না খোঁজ নেওয়া মানুষদের কাছে ছুটে যান। পরিবারের সঙ্গে সময় দিন। সময় সব কিছু ঠিক করে দিবে।

পজিটিভ দিক মনে করুন

তিক্ততা হলে একটা সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়! কিন্তু তবুও সম্পর্ক থাকাকালীন অনেক সুন্দর সময় থাকে। সেগুলোই মনে করার চেষ্টা করুন। এতে প্রাক্তন সঙ্গীর প্রতি রাগ ক্ষোভ চলে যাবে। নতুন করে দিন শুরু করতে পারবেন।

Forgive and Forget

কাউকে ভোলার সবচেয়ে দারুণ উপায় তাকে ক্ষমা করে দেওয়া। অভিমান কিংবা রাগ খুবই খারাপ জিনিস। যতদিন পর্যন্ত কারও প্রতি অভিমান বা রাগ পুষে রাখবেন, আপনাআপনি তাকে ভুলতে পারবেন না। এবং সেটা আপনাকে শান্তিতে থাকতেও দিবে না।

তাই ক্ষমা করে দিন। ক্ষমা করে দেওয়ার মানে তাকে জীবনে আবার জড়ানো না। বরং ক্ষমা করে দেবার মানে সেও যাতে আপনাকে ভুলে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারে তার পথ করে দেওয়া।

ব্রেকআপ জীবনের একটি পার্ট। জীবনের এক একটা রুম এক একজনের জন্য বরাদ্দ থাকে। যে চলে গেছে, তার রুম অন্য কেউ দখলদারি করতে পারে না। যে নতুন আসবে তাকে অন্য খালি রুম ছেড়ে দিবেন না, তাও চলবে না।

বহু বছর পর তালা দেওয়া রুম আপনার পুরনো স্মৃতির কোন একটা গল্প হয়ে উঠবে। সেদিন আপনিও বলতে পারবেন, “একটা প্রেম ছিল, সেটা চুকে গেছে”। উপভোগ করুন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে।

ই-হারমোনি এবং বাজফিড অবলম্বনে


More news