দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য ফেসবুক আনছে নতুন ব্যবস্থা



সারাবিশ্ব যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে রসিকতা করছে, ফেসবুকে ছবি পোস্ট করছে, গিফ(GIF) বানাচ্ছে, তখন কিং সেসব দেখতে পারছেন না! নতুন ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দেবার জন্য বা গ্রহণ করার জন্য তাকে নির্ভর করতে হয় অন্যের উপর! ফেসবুকে ছোট একটা ছবি পোস্ট করতে সকালে তার চার ঘণ্টা সময় চলে যায়!

ম্যাট কিং এর কথা বলছি। তিনি ওয়ার্ল্ডক্লাস সাইক্লিস্ট হিসেবে পরিচিত। তিনি একজন ইঞ্জিনিয়ারও বটে। ইউনিভার্সিটিতে থাকাকালীন তিনি তার দৃষ্টিশক্তি হারান! তারপর এক বিষাদময় অন্ধকার জীবনের সঙ্গে কাটাচ্ছেন কয়েক দশক ধরে!

তার এই বিষাদময় অন্ধকার জীবনে ‘ফেসবুক’ আরেক বিপর্যয়ের নাম! বিপর্যয় বলছি এজন্য যে, অন্য দশজন লোক কত সহজে কত কম সময়ে ফেসবুকিং করতে পারেন! উপভোগ করতে পারেন নতুন কোন জিনিস! সেখানে কিং এর জীবন বঞ্চিত হচ্ছে নীল-সাদা দুনিয়ার সমস্ত আনন্দ থেকে!

তাই ফেসবুককে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিদের জন্য সহজলভ্য করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন ম্যাট কিং। চেষ্টা করে যাচ্ছেন “Automatic Alternative Text” এর ব্যবস্থা করতে।

World Health Organization এর তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর সংখ্যা প্রায় ৩৯ মিলিয়ন। এই বিশাল সংখ্যার জনগোষ্ঠী ফেসবুক মাধ্যম থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। কারণ তাদের ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠেনি ফেসবুক।

যারা দেখতে পায় আর যারা দেখতে পায় না, তাদের মধ্যে মূল তফাৎটা কি জানেন? যারা দেখতে পাচ্ছেন তারা তাদের চারপাশের বিভিন্ন তথ্য দেখতে পাচ্ছেন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে পারছেন। যারা দেখতে পাচ্ছেননা তারা মূলত এই তথ্যগুলো পাচ্ছে না। তাই সহজে তারা কাজও করতে পারছেন না।

কোনভাবে আমাদের চারপাশের তথ্য যদি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের দেওয়া যেত তাহলে তারাও খুব সহজে কাজগুলো করতে পারতেন!

মূলত কোন ওয়েবসাইট পড়ার জন্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা নির্ভর করে “Screen reader” টুলসের উপরে। এই ব্যবস্থার সাহায্য ওয়েবসাইটের সমস্ত তথ্য বর্ণনা করা হয় ব্রেইল পদ্ধতিতে। এতে খুব সহজে দৃষ্টিহীন মানুষ বুঝতে সমর্থ হয়।

তারা মাউসের বদলে কীবোর্ড শর্টকাট ব্যবহার করে থাকেন ওয়েবপেইজ উঠানো এবং নামানোর ক্ষেত্রে। প্রত্যেকটা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের জন্য নির্দিষ্ট স্ক্রিন রিডার থাকে এবং কোড অনুযায়ী সেই রিডারসমূহ কাজ করে।

বেশ কিছুদিন আগেও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের কাছে ইন্টারনেট সহজ বিষয় ছিল। কারণ প্রায় ডকুমেন্ট ছিল টেক্সট। তাই স্ক্রিন রিডারের সাহায্যে তারা খুব দারুণভাবে সেসব পড়ে ফেলত। কিন্তু বর্তমানে ইন্টারনেটে টেক্সটের চাইতে ইমেজের আধিপত্য বেশি।

বিশেষত ফেসবুকে কোন পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় ছবি দিয়েই। তাছাড়া ফেসবুকভিত্তিক সংবাদসমূহে লেখার চাইতে ছবির পরিমাণ বেশি থাকে। এই জন্য ফেসবুক আনছে “Automatic Alternative Text” ব্যবস্থা।

এই “Automatic Alternative Text” এর অধীনে কোন ছবির সাথে প্রকাশিত হবে ছবির তথ্য। যেমন কোন সমুদ্রে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই পুরো বিষয়টা তথ্যের মাধ্যমে চলে যাবে দৃষ্টিহীন মানুষের কাছে।

তথ্য হবে বিস্তৃত যাতে দৃষ্টিহীন মানুষ একজন দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন মানুষের মতই তথ্য পায়! এই সিস্টেম তৈরি করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের এলগরিদম।

ফেসবুকসহ বিশ্বের বিভিন্ন বৃহৎ টেক কোম্পানি সর্ব সাধারণের ব্যবহারযোগ্য টেক বানানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ব্লাইন্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড্যানিয়েলসেনের মতে, “এসব টেকনোলজি  দৃষ্টিহীনদের জীবন সহজ করার জন্য বানানো হচ্ছে না! বরং কিভাবে একবিংশ শতাব্দীতে এসে তাদের জীবন কেমন হতে পারে তার ব্যবস্থা করবে এই টেকগুলো।”

ম্যাট কিংয়ের মত হাজার হাজার দৃষ্টিহীন মানুষ আশা করছে, ফেসবুকের আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স শুধু তাদের ছবি সম্পর্কে তথ্য দিয়ে ক্ষান্ত হবেনা, ছবিতে কে কে আছে তাও তাদেরকে জানাবে! ফেসবুকের নীল সাদা দুনিয়ায় আর দশটা মানুষের মতই তারা স্বাভাবিকভাবে বিচরণ করবে!

ইন্ডিপেনডেন্ট ডটকো ডট ইউকে অবলম্বনে


More news