NSU’র লাবিবা: আমার নিজের একটি ম্যাগাজিন থাকবে



আমাদের সমাজটা অনেক এগিয়ে গেলেও এখনো পুরুষবান্ধব তকমাটা ঝেড়ে ফেলতে পারেনি। তাই ছেলেরাই এখনো যেকোন ধরনের দৌড়ঝাঁপ আর নানামুখি কাজে এগিয়ে।

তবে ব্যতিক্রমও কিন্তু কম নেই। ঐ যে বললাম সমাজটা অনেকটাই এগিয়ে গেছে। তাই এখন শুধু ছেলেরা নয়, একটা মেয়েও চাইলে অনেক কিছুই করতে পারে। মেয়েরাও মাল্টিট্যালেন্টেড হতে পারে তার কর্মগুণে। একি সাথে আবার হতে পারে সুশীলা ও সুন্দর। তেমনি একজন হচ্ছেন ‘লাবিবা মুস্তাবিনা’।


বিডি ইয়ুথ আজ আড্ডা দেবে এমনই একজন মাল্টিট্যালেন্টেড ক্যাম্পাস ট্যালেন্ট মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে লাবিবা মুস্তাবিনার সাথে। লাবিবা, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাচেলর অব বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী। চতুর্থ বর্ষের প্রায় শেষ প্রান্তে বললেই চলে। সর্বগুণ সম্পন্না এই মিষ্টি মেয়েটির জীবনের প্রধান লক্ষ্য, “নিজে খুশি থাকা তবে আশপাশের সবাইকে খুশি রেখে।”

পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিনতম কাজগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে, সবসময় খুশি থাকতে পারা এবং একই সাথে সবাইকে খুশি রাখা। ‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়’ একথা বিশ্বাস করা লাবিবার কাছে তাই এ বিষয়টা তেমন কঠিন কিছু নয়! কথা না বাড়িয়ে চলুন তার কাজ আর স্বপ্নগুলো সম্পর্কে তার কাছ থেকেই শুনে নেই।


কি কি করতে পারেন লাবিবা? মাল্টিট্যালেন্টেড তকমা এতই কি সহজ!? ভুলই হবে, যদি বলি কি কি পারেন তিনি? বলা দরকার কি কি পারেন না তিনি!! ছাত্রজীবনের প্রধান কাজ পড়াশোনা। যেটাতে খুবই সাফল্যের সাথে এগুচ্ছেন লাবিবা।

খুব ভালো ছবি আঁকেন, ভাল নাচতে পারেন, গান গাইতে পারেন, যেকোন ধরনের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে পারেন, ভিডিওগ্রাফির কাজ করতে পারেন, গ্রাফিক্স ডিজাইনও করতে পারেন খুব ভালো। এখানেই শেষ নয়, তার আরেকটি সহজাত প্রতিভা আছে। তা হলো লিখালিখি করা। আড্ডার মূল বিষয়বস্তু ছিল এটা।


লিখালিখির কাজটা লাবিবা করতেন খুব ছোটবেলা থেকেই, পরে মায়ের উৎসাহে সেটা আরো বেশি পূর্ণতা পায়। লাবিবার মা একজন বিজ্ঞানী, বর্তমানে আই.সি.ডি.ডি.আর.বি’তে কর্মরত আছেন। লিখালিখি করতেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। তবে বেশি পছন্দ করতেন ইয়ুথদের নিয়ে লিখতে।

পরে মায়ের পরামর্শ অনুযায়ী লাবিবা শুরু করেন বিজ্ঞান বিষয়ক লিখালিখি। সর্বপ্রথম লিখা পাঠান মায়ের অফিসেই। ওটা ছাপা হলে তার আত্মবিশ্বাস আরোও বেড়ে যায়। তারপর আবেদন করে ফেললেন ডেইলি স্টার এর সাউট(SHOUT) ম্যাগাজিনে।


তারপর আর কি, যথার্থই ডাকা হলো ইন্টারভিউ এর জন্য। কিন্তু মজার বিষয় হলো, লাবিবা পর পর দুইবার ইন্টারভিউ মিস করেন। কারণ তখন তিনি পরিবারের সাথে সিলেটে অবস্থান করছিলেন। তখন অবশ্য লাবিবার অনেক মন খারাপ হয়েছিল এবং ভয়ও পেয়েছিলেন। কারণ এ রকম একটা সুযোগ সবার জীবনে বারবার তো আসে না।

যাই হোক, অবশেষে তৃতীয়বারের ইন্টারভিউতে তার ডাক পড়লো। এবার উপস্থিত থাকতে পারলেন এবং ডেইলি স্টার এর ম্যাগাজিন সাউট লাবিবাকে লিখালিখির জন্য গ্রিন সিগনাল দিলেন।


প্রথমেই লিখা শুরু করেছিলেন ইয়ুথদের নিয়ে, সাথে আর্ট এবং ক্রাফট ছিলো তার পছন্দের বিষয়। এরপরে এক বছর টানা অক্লান্ত ভাবে লিখার পর নিজের একটা কলাম পান লাবিবা। যার নাম হচ্ছে ট্র্যাশ টু ট্রেজার। যেখানে এখন লাবিবা নিয়মিত লিখছেন।

শুধু তাই নয় বর্তমানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ ক্লাবের সেক্রেটারি (পাবলিকেশন্স) পদেও আছেন সম্মানের সাথে। এই ক্লাবের যত ধরনের গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ভিডিও বানানো হয় সবই করেন নিজে নিজেই। যদিও এই কাজগুলো শিখতে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।

যারা অভিজ্ঞ ছিলেন তাদেরকে বার বার বিরক্ত করে ইউটিউব এ বিভিন্ন টিউটরিয়াল দেখে শিখেছেন। এখন এই কাজে তাকে এক্সপার্ট বললে ভুল হবে না। অবশ্য অদম্য ইচ্ছে থাকলে কোন কাজই অসম্ভব কিংবা কষ্টের কিছু নয়, সেটাই তিনি প্রমাণ করেছেন।

লাবিবার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় কোটেশন হচ্ছে “Be the change you want to see”লাবিবার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনেক বড়। নিজের একটা ম্যাগাজিন বের করতে চান। সেটা যে বিষয়কই হোক না কেন তার সাথে পরিবেশ অবশ্যই সম্পর্কিত থাকবে।


তারপর যে কাজগুলো এতবছর ধরে শিখেছেন সেগুলোকে কাজে লাগাতে চান। আর যেহেতু পড়াশোনা করছেন মাইক্রোবায়োলজিতে সেটা নিয়েও আরো পড়াশোনা করার ইচ্ছা আছে। বড় কিছু একটা করতে চান তার ফিল্ডে।

আজ এখানেই শেষ করি। সকলেই দোয়া করবেন যাতে আমি আমার চারপাশের সকলকে নিয়ে ভালো থাকতে পারি।” বলেই মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে আড্ডা শেষ করলেন লাবিবা।

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

 

More news