পাইলটের সেই অসামান্য ছয়!!



তামিম ইকবালের ছয় দেখে আজ আমরা আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠি। মুস্তাফিজুর রহমানের কাটারে বিভ্রান্ত হয়ে কোন ব্যাটসম্যান আউট হলে লাফিয়ে চিৎকার করে উঠি। রুবেল হোসেনের গতির তোড়ে ব্যাটসম্যানের স্ট্যাম্প উপড়ে গেলে মনের অজান্তেই বলে উঠি সাবাশ বাংলাদেশ।

কিন্তু একটা ছয় না হলে হয়তো আজকের এই দৃশ্যগুলো দেখাই হতো না। বাংলাদেশ ক্রিকেটের একনিষ্ঠ সমর্থক মাত্রই বুঝে ফেলার কথা, কোন ছয়টির কথা বলা হচ্ছে! হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা, খালেদ মাসুদ পাইলটের আইসিসি ট্রফির সেই ছয়টির কথাই বলা হচ্ছে।

১৯৯৭ সালের ১৩ এপ্রিল। কুয়ালালামপুরের টেনাগা ন্যাশনাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স এ আইসিসি ট্রফির ফাইনালে লড়ছে কেনিয়া ও বাংলাদেশ। টসে জিতে কেনিয়াকে ব্যাটিংয়ে পাঠালেন অধিনায়ক আকরাম খান। স্টিভ টিকোলোর ১৪৭ রানের অসাধারণ এক ইনিংসের উপর ভর করে বাংলাদেশের সামনে ২৪২ রানের টার্গেট দাঁড় করায় কেনিয়া।

তখনকার দিনে ফাইনালে ২৪৩ রান তাড়া করা বেশ কঠিনই ছিল। তার উপর মার্টিন সুজি, থমাস ওদোয়ো, স্টিভ টিকোলোদের নিয়ে গড়া কেনিয়ান বোলিং লাইন আপও ছিল যথেষ্ট শক্তিশালী। বৃষ্টির কারণে ‘রিজার্ভ ডে’তে গড়ানো ম্যাচে, বাংলাদেশের সামনে ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে পরিবর্তিত টার্গেট দাঁড়ায় ২৫ ওভারে ১৬৬ রানের।

আস্কিং রান রেট ৬.৬৪! টি-২০ এর এই যুগে হয়তো এটা কোন ব্যাপারই না, কিন্তু ১৯ বছর আগে এটা দারুণ কঠিন এক কাজ ছিল। শুরুটা অবশ্য মনে রাখার মতো হয়নি, প্রথম বলেই মার্টিন সুজির বলে আউট নাইমুর রহমান! মোহাম্মদ রফিককে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।

আস্কিং রান রেটের সাথে পাল্লা দিয়ে ১৫ বলে ২৬ করে রফিক আউট হলেও নান্নু, আকরাম খান আর আমিনুল ইসলাম বুলবুলদের মাঝারি কিন্তু কার্যকরী ইনিংসে ভালই জবাব দিতে থাকে বাংলাদেশ।

সেমি ফাইনালে স্ক্যটল্যান্ডকে হারিয়ে আগেই বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত হয়েছিল। তারপরেও এটা ছিল স্নায়ু চাপের খেলা। প্রথম কোন ফাইনালে জয়লাভ, ভাল কিছুরই আভাস দেয়। মনোবল বাড়িয়ে দেয়। জয়টা এজন্যই প্রয়োজন ছিল। জয় বা হার যাই হোক এতে হারানোর কিছু ছিল না।

শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ১১ রান, হাতে মাত্র ২ উইকেট। স্ট্রাইকে উইকেট-কিপার ব্যাটসম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট। একটু ভরসা ছিল কারণ এর আগেই তিনি একটা ছয় হাঁকিয়েছিলেন। আশাও ছিল এ ওভারে যদি এরকম কিছু হয়। বলতে না বলতেই ব্যাট হাতে প্রথম বলেই বোলারের মাথার উপর দিয়ে আকাশে ওড়ালেন বল, মারলেন স্মরণীয় সেই ছয়।

পরের পাঁচ বলে পাঁচ রান নিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। সেখানেও কম সাসপেন্স ছিল না। একেবারে শেষ বলে এক রান দরকার ছিল। ব্যাটেও লাগেনি বলটি, লেগেছিল শান্তর প্যাডে। আবেদনও হয়েছিল। কিন্তু সেদিকে না তাকিয়ে শান্ত দৌড় দিয়েছিলেন। আর তাতেই এসেছিল সেই অবিশ্বাস্য জয়। তবে তার জন্য পাইলটের পাইলটিং ছিল মূল চালিকা শক্তি।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যুক্ত হবে আরও অজস্র পালক। কিন্তু সব অর্জনের ভিড়েও নিজ মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে ৭ বলে ১৫ রানের পাইলটের এই অসামান্য ইনিংসটি!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত

More news